খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার মেলবন্ধনে সেনাবাহিনীর অ্যাসল্ট কোর্স, সেরার মুকুট ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার মেলবন্ধনে সেনাবাহিনীর অ্যাসল্ট কোর্স, সেরার মুকুট ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের

যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নির্ভুলভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা অর্জনে শারীরিক দক্ষতার পাশাপাশি প্রয়োজন পেশাগত পারদর্শিতা, মানসিক দৃঢ়তা ও সমন্বিত প্রশিক্ষণ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বার্ষিক অ্যাসল্ট কোর্স প্রতিযোগিতা এসব সক্ষমতা যাচাই ও বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রামু সেনানিবাসে সম্পন্ন হয়েছে চলতি বছরের প্রতিযোগিতা। এতে ১৭টি দলের অংশগ্রহণে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ৬৬ পদাতিক ডিভিশন দল। রানারআপ হয়েছে প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড দল।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ১০ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান। তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। নিজের বক্তব্যে তিনি কার্যকর প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন।

  • কার্যকর প্রশিক্ষণে গুরুত্বারোপ সিজিএসের
  • ১৭ দলের প্রতিযোগিতায় রানারআপ প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড
  • শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় ১১ পদাতিক ডিভিশনের হাবিবুর রহমান

এ যেন যুদ্ধপ্রস্তুতি যাচাইয়েরও ক্ষেত্র
সেনাবাহিনীর অ্যাসল্ট কোর্স প্রতিযোগিতার গুরুত্ব কেবল বিজয়ী নির্ধারণ কিংবা ব্যক্তিগত কৃতিত্ব অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেনাসদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা, সহনশীলতা, দ্রুততা, মনোযোগ, শৃঙ্খলা এবং চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালনের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত সক্ষমতা যাচাই এবং দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করারও সুযোগ থাকে।

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতার গুরুত্ব বাড়লেও একজন সৈনিকের শারীরিক প্রস্তুতি, মানসিক দৃঢ়তা এবং তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি মোকাবিলার সামর্থ্য এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জটিল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণলব্ধ দক্ষতার বাস্তব প্রয়োগ বড় ভূমিকা রাখে। এ বিবেচনায় অ্যাসল্ট কোর্স প্রতিযোগিতা সেনাসদস্যদের পেশাগত উৎকর্ষ বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক যুদ্ধপ্রস্তুতির সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।

১৭ দলের লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন ৬৬ পদাতিক ডিভিশন
গত ১৪ অক্টোবর শুরু হওয়া এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ১৭টি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক পারদর্শিতা প্রদর্শন করে শীর্ষস্থান অর্জন করে ৬৬ পদাতিক ডিভিশন দল। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড দল।

ব্যক্তিগত পর্যায়েও বিশেষ দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন অংশগ্রহণকারীরা। ১১ পদাতিক ডিভিশন দলের ল্যান্স কর্পোরাল (ডিএমটি) হাবিবুর রহমান শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, ১০ পদাতিক ডিভিশন দলের সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম অর্জন করেছেন দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। দলগত ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে এই অর্জন প্রতিযোগিতার বহুমাত্রিক গুরুত্ব তুলে ধরে।

কার্যকর প্রশিক্ষণই অগ্রাধিকার
সমাপনী অনুষ্ঠানে সিজিএস লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমানের কার্যকর প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ সেনাবাহিনীর পেশাগত সক্ষমতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের কেন্দ্রীয় ভূমিকার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। প্রশিক্ষণের প্রকৃত সার্থকতা শুধু নির্ধারিত অনুশীলন সম্পন্ন করার মধ্যে নয়; বরং অর্জিত দক্ষতা বাস্তব দায়িত্ব পালনে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, তার মধ্যেই নিহিত। সেনাসদস্যদের জন্য নিয়মিত অনুশীলন, দক্ষতার ধারাবাহিক মূল্যায়ন, শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা এবং দলগত সমন্বয় উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। এ ধরনের প্রতিযোগিতা সেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা অর্জনের ক্ষেত্রও তৈরি হয়।

সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা ও দলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ
প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও বিশেষায়িত ইউনিটের অংশগ্রহণ সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য জোরদারের সুযোগ সৃষ্টি করে। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের পাশাপাশি অন্য দলের সক্ষমতা থেকে শেখার সুযোগও তৈরি হয়। সামরিক প্রতিষ্ঠানে দলগত সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ, দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। সে বিবেচনায় অ্যাসল্ট কোর্স প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্যকে একই ধারায় এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

ধারাবাহিক প্রশিক্ষণেই টেকসই সক্ষমতা
রামু সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতার সমাপ্তি শুধু একটি বার্ষিক আয়োজনের পরিসমাপ্তি নয়; বরং প্রশিক্ষণলব্ধ দক্ষতা ধরে রাখা ও আরও উন্নত করার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি উপলক্ষ। ১৭টি দলের অংশগ্রহণ এবং দলগত ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অর্জিত সাফল্য সেনাসদস্যদের সক্ষমতা বিকাশে প্রতিযোগিতামূলক প্রশিক্ষণের ভূমিকা তুলে ধরে। ধারাবাহিক অনুশীলন, দক্ষতার মূল্যায়ন এবং প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের প্রতিযোগিতা সেনাসদস্যদের পেশাগত উৎকর্ষ ও সামগ্রিক প্রস্তুতি বৃদ্ধিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে ১০ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম মাহিউদ্দিন আহমেদসহ সেনাসদর ও কক্সবাজার এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই, জাতীয় ঐক্যের প্রত্যয়—দুর্গাপূজার শিক্ষা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর কণ্ঠে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই, জাতীয় ঐক্যের প্রত্যয়—দুর্গাপূজার শিক্ষা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর কণ্ঠে

অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান—দুর্গাপূজার শিক্ষা থেকে এসব মূল্যবোধ ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়-অবিচার দূর করতে মানুষকে নিরন্তর সংগ্রাম করতে হয়। মা দুর্গার শিক্ষা থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রেরণা পাওয়া যায়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি আবাসন পূজা কমিটির আয়োজনে দুর্গাপূজা পরিদর্শন ও মহাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী শারদ সংকলন ‘সৌহার্দ-১৪৩৩’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন। মূলত দুর্গাপূজার শিক্ষা থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রেরণা নেওয়ার পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণের বিভেদ অতিক্রম করে জাতীয় ঐক্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

  • সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর সংগ্রামের আহ্বান ড. আবদুল মঈন খানের
  • ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে গুরুত্বারোপ

অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান, ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়
দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে মন্ত্রীর বক্তব্যে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘পৃথিবীতে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়-অবিচার দূর করতে মানুষকে নিরন্তর সংগ্রাম করতে হয়। মা দুর্গার শিক্ষা থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রেরণা পাওয়া যায়।’ তাঁর এই বক্তব্যে ধর্মীয় উৎসবের আধ্যাত্মিক তাৎপর্যের পাশাপাশি এর নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষার দিকটি সামনে এসেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা সমাজে দায়িত্বশীলতা ও ন্যায়বোধের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

‘আমরা সবাই বাংলাদেশি—এটাই আমাদের গর্বের পরিচয়’
বাংলাদেশের বহুধর্মীয় ও বহুজাতিক সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও নাগরিক পরিচয়ের গুরুত্ব রয়েছে। মন্ত্রী জাতীয় পরিচয়কে বিভেদ অতিক্রম করে ঐক্য গড়ে তোলার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলত ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয়ের ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে হবে। কে কোন ধর্মের বা কোন বর্ণের, তা বিবেচ্য বিষয় নয়; আমরা সবাই বাংলাদেশি—এটাই আমাদের গর্বের পরিচয়।’

সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চেতনায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড.আবদুল মঈন খান নিজের বক্তব্যে সামাজিক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার মধ্যে একটি যোগসূত্র তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ এগিয়ে যাবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে করে মন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন, সেই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চেতনাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশি পরিচয়ে গর্বিত হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থেকে দেশকে বিশ্বের বুকে শান্তির উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাবে এবং সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করবে—এটাই প্রত্যাশা। সম্মিলিতভাবে কাজ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে শান্তির উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

ঐতিহ্য সংরক্ষণে আধুনিকতার সঙ্গে সমন্বয় জরুরি
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে আধুনিকতার নানা উপাদান যুক্ত হলেও নিজস্ব ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সেই ঐতিহ্য চর্চা ও বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়। মন্ত্রী এই বিষয়টিকে সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দুর্গাপূজাকে বাংলার আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘দুর্গাপূজা বাংলার আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিকতার প্রবাহে এই অঞ্চলের দুর্গাপূজার ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্য যেন হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। পূজার আয়োজনের পাশাপাশি সংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।’

মন্ত্রীর বক্তব্যে সামনে এসেছে তিন বিষয়
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বক্তব্যের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করলে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে আসে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হওয়া এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যাশা। দুর্গাপূজার মতো উৎসব মানুষের মধ্যে মিলন, সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি করে। তবে এসব মূল্যবোধের স্থায়ী প্রতিফলন নির্ভর করে দৈনন্দিন জীবনে সেগুলোর চর্চার ওপর। অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান, ভিন্ন ধর্ম ও পরিচয়ের মানুষের প্রতি সম্মান এবং জাতীয় স্বার্থে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মানসিকতা সামাজিক সম্প্রীতিকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে।

আজিমপুর সরকারি আবাসন পূজা কমিটি-২০২৬-এর সভাপতি বিশ্বজিৎ বৈশ্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক সদস্য শ্রী সমর চন্দ্র পাল এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সারোয়ার ভূইয়া।

কালের আলো/এমএএএমকে

আগুনে পুড়লে প্রথম ২০ মিনিটেই নিতে হবে যে ব্যবস্থা

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
আগুনে পুড়লে প্রথম ২০ মিনিটেই নিতে হবে যে ব্যবস্থা

আগুনে দুর্ঘটনা ঘটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। রান্নাঘরের আগুন, ফুটন্ত তেল কিংবা গরম পানিতে দগ্ধ হওয়ার পর প্রথম পর্যায়ের সঠিক পরিচর্যা ক্ষতির মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে পোড়া স্থানে টুথপেস্ট, বরফ বা তেল লাগানোর মতো প্রচলিত ভুলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। চার দশকের অভিজ্ঞতার আলোকে দগ্ধ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরবর্তী পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আইয়ূব আলী।

তিনি মনে করেন, আগুনে পোড়ার পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, পোড়ার ক্ষতি কমাতে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি ভুল পদক্ষেপ এড়িয়ে চলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পোশাকে আগুন লাগলে দৌড়াবেন না
কোনো কারণে পোশাকে আগুন ধরে গেলে আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করা যাবে না। এতে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে শরীরের বেশি অংশ পুড়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে হবে। আশপাশে কেউ থাকলে নিরাপদ উপায়ে ভারী কম্বল দিয়ে আগুনের শিখা ঢেকে দিতে পারেন। আগুন নিভে যাওয়ার পর পোড়া স্থানে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা জরুরি। তবে গুরুতর দগ্ধ ব্যক্তিকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

পোড়া স্থানে অন্তত ২০ মিনিট পানি দিন
দগ্ধ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব পোড়া স্থানে স্বাভাবিক তাপমাত্রার প্রবাহিত পানি অন্তত ২০ মিনিট ধরে দিতে হবে। এতে ত্বকের তাপমাত্রা কমে এবং পোড়ার ক্ষতি আরও গভীর হওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।

পোড়া স্থানে আংটি, ঘড়ি ও অন্যান্য আঁটসাঁট অলংকার থাকলে ফুলে যাওয়ার আগেই খুলে ফেলতে হবে। তবে ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকা পোশাক জোর করে টেনে সরানো যাবে না। প্রাথমিক পরিচর্যার পর পরিষ্কার, শুকনা কাপড় বা জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং দিয়ে ক্ষতস্থান আলতোভাবে ঢেকে চিকিৎসা নিতে হবে।

টুথপেস্ট ও বরফ ব্যবহারে বাড়তে পারে বিপদ
পোড়া স্থানে টুথপেস্ট, ডিম, ঘি, তেল, গোবর কিংবা চুন লাগানোর প্রচলিত অভ্যাস বিপজ্জনক হতে পারে। এসব উপাদান ক্ষতস্থানে দূষণ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একইভাবে সরাসরি বরফ ব্যবহার করাও উচিত নয়।

পোড়া স্থানে ফোসকা দেখা দিলে তা ফাটানো যাবে না। ফোসকা ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এটি ফাটিয়ে ফেললে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাই ক্ষতস্থানে নিজে থেকে কোনো উপাদান প্রয়োগ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

যেসব লক্ষণে জরুরি হাসপাতালে নিতে হবে
দগ্ধ ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট হলে, মুখ বা গলা পুড়ে গেলে, ধোঁয়া শ্বাসনালিতে প্রবেশের আশঙ্কা থাকলে কিংবা ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়লে এক মুহূর্তও দেরি করা যাবে না। একইভাবে শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেলে বা ক্ষত গভীর হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দগ্ধ হওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও গুরুতর ক্ষতের ক্ষেত্রে হাসপাতালের চিকিৎসার বিকল্প নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী বার্ন ইউনিট বা প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

পুনর্বাসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আধুনিক চিকিৎসা
আগুনে পোড়ার ক্ষতি শুধু ত্বকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। গুরুতর দগ্ধ হলে অঙ্গের স্বাভাবিক নড়াচড়া ব্যাহত হতে পারে, ত্বকে স্থায়ী দাগ তৈরি হতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

অধ্যাপক ডা. মো. আইয়ূব আলী বলেন, সঠিক সময়ে স্কিন গ্রাফটিং ও পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার করা হলে দাগ, ত্বকের সংকোচন ও বিকৃতি কমানোর পাশাপাশি অঙ্গের কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা পাওয়া যায়। চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনও দগ্ধ ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতনতাই দুর্ঘটনায় ক্ষতি কমানোর প্রথম পদক্ষেপ
অগ্নিদুর্ঘটনার সময় আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ। কিন্তু আগুন লাগলে কী করতে হবে, কী করা যাবে না এবং কখন জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে—এসব বিষয়ে আগে থেকেই ধারণা থাকলে বিপদের মুহূর্তে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

ডা. মো. আইয়ূব আলীর মতে, পোড়ার ক্ষতি কমাতে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ভুল চিকিৎসা এড়িয়ে চলাও জরুরি। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া এবং প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

 

১৬ বছর আগের মামলায় বিপাকে বলিউড অভিনেত্রী রাখি

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
১৬ বছর আগের মামলায় বিপাকে বলিউড অভিনেত্রী রাখি

বলিউড অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের ঝাঁসির একটি আদালত। ২০১০ সালের একটি মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। একটি টেলিভিশন রিয়েলিটি শোতে এক যুবককে অপমান করার অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাখি সাওয়ান্তকে আদালতে হাজির হতে হবে।

যেভাবে মামলার সূত্রপাত
২০১০ সালে এই মামলার সূত্রপাত। ঝাঁসির প্রেম নগর এলাকার বাসিন্দা লক্ষ্মণ নামের এক ব্যক্তি পারিবারিক বিরোধের জেরে রাখি সাওয়ান্তের সঞ্চালনায় একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানে সবার সামনে লক্ষ্মণকে নিয়ে আপত্তিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করেন রাখি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অনুষ্ঠানটির পর ওই যুবক সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একই বছরের নভেম্বরে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে ওই মৃত্যুর সঙ্গে অনুষ্ঠানে করা মন্তব্যের সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

রাখিসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা
লক্ষ্মণের মৃত্যুর পর তাঁর মা রাখি সাওয়ান্তসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করার অভিযোগ আনা হয়।

মামলাটি তদন্তের পর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করতে হবে
ঝাঁসির জেলা সরকারি আইনজীবী মৃদুলকান্ত শ্রীবাস্তবের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাখি সাওয়ান্তকে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করতে হবে।

জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ফলে মামলাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে আদালতের পরবর্তী শুনানি, রাখির আদালতে হাজিরা এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, তা এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/জেএন/এসএ