খুঁজুন
                               
, ,
           

আড়াল থেকে কি ফের সংগঠিত হচ্ছেন নাথান বম?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
আড়াল থেকে কি ফের সংগঠিত হচ্ছেন নাথান বম?

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) প্রধান নাথান বমকে ঘিরে আবারও বাড়ছে আলোচনা। সংগঠনটির ইউনিফর্ম তৈরির কাজে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একই সময়ে পার্বত্য অঞ্চলে কেএনএফের তৎপরতা বাড়ার তথ্য পাওয়ায় নতুন করে সতর্ক হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নাথান বম দেশের বাইরে অবস্থান করেও সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন কি না, অর্থের জোগান সচল করার চেষ্টা চলছে কি না এবং এর পেছনে অন্য কোনো পক্ষের ভূমিকা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্ন এখন তদন্তের কেন্দ্রে।

  • পার্বত্য অঞ্চলে কেএনএফের তৎপরতা বাড়ার তথ্য
  • নতুন করে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টার অভিযোগ
  • সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

গত ৮ অক্টোবর নাথান বমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে সিআইডি। মামলার এজাহার অনুযায়ী, কেএনএফের ৪০ হাজার সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম তৈরির কাপড় ও সেলাইয়ের কাজে প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মামলায় নাথান বমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে অর্থের উৎস, ব্যবহার এবং সম্ভাব্য যোগসাজশের তথ্য অনুসন্ধান করছেন।

পোশাক তৈরির সূত্র ধরে আর্থিক তদন্ত
কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরির বিষয়টি সামনে আসে ২০২৫ সালের ১৮ মে। ওই রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি বিশেষ দল বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে পোশাক তৈরির কাজে জড়িত একজনকে আটক করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহরের ছোটপুল এলাকার দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

পরবর্তী সময়ে তাঁদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার একটি গোডাউন ও একটি পোশাক কারখানা থেকে ২০ হাজার ৩০০ সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে গোডাউন থেকে ১১ হাজার ২০০ সেট এবং কারখানা থেকে ৯ হাজার ১০০ সেট পোশাক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ড অনুসন্ধানে নামে সিআইডি।

এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যাংক হিসাব, চেক, নগদ অর্থ প্রদান, ক্রয়াদেশ, ব্যবসায়িক পরিচয় এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে লেনদেনের যোগসূত্র খোঁজা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মংহলাসিন মারমা ওরফে মং, নিয়াজ হায়দার, গোলাম আজম, সাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, জামালুল ইসলাম, মতিউর রহমান ও তৌহিদুল ইসলাম।

মিজোরামে অবস্থান, যোগাযোগ নিয়ে সন্দেহ
পুলিশ সূত্রের দাবি, নাথান বম বর্তমানে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের আইজলে অবস্থান করছেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি আত্মগোপনে যান। প্রথমে মিয়ানমারের মংডুতে অবস্থান করলেও পরে মিজোরামে চলে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সেখানে তাঁর উপদেষ্টা পিংলিয়ান জুং বমও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশঙ্কা, দেশের বাইরে থেকেও নাথান বম কেএনএফের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন। সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় কিংবা অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাঁর কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার ইডেনপাড়ার বাসিন্দা নাথান বম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে ২০০৮ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। একই বছর তিনি কুকি-চিন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন নামে একটি উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। পরে কেএনএফের নেতৃত্বে আসেন। ২০১৮ সালে বান্দরবান আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নেন তিনি। ২০২২ সালের মে মাস থেকে কেএনএফের কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসতে শুরু করলে সংগঠনটিকে ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ে।

পাহাড়ে নজরদারি, অর্থের উৎস নিয়ে উদ্বেগ
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত এলাকায় কেএনএফের তৎপরতা নিয়ে সম্প্রতি নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে সংগঠনটি যেন নতুন করে সংগঠিত হতে না পারে, সে জন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বান্দরবানের রুমা উপজেলায়।

সংগঠনটির অর্থ সংগ্রহের সম্ভাব্য পথ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। পুলিশের দাবি, অতীতে বিভিন্ন এনজিও ও সমর্থক গোষ্ঠীর কাছ থেকে রসিদের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে আবারও অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে তথ্য পেয়েছে তারা।

ইন্টারপোলের রেড নোটিসের উদ্যোগ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাথান বমকে গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগ আগে থেকেই ছিল। নতুন করে তাঁকে ঘিরে আলোচনা শুরু হওয়ায় রেড নোটিস জারির বিষয়টি আবার বিবেচনা করা হচ্ছে।বান্দরবানের পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানিয়েছেন, কেএনএফের বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। সংগঠনটির মুখপাত্র লালজানের বম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কালের আলো/আরআই/এমকে

অস্ত্র হাতে অভিযানের ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক, বললেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
অস্ত্র হাতে অভিযানের ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক, বললেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল মাদকের সরবরাহ নেটওয়ার্ক বন্ধ করা। চাঁদা আদায় নয়, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতেই তিনি ওই অভিযানে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সদ্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করা এই সংসদ সদস্য। এদিন দুপুর আড়াইটায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, মাদকের সরবরাহ নেটওয়ার্ক বন্ধ করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘ওই দিন চাঁদা তুলতে যাইনি। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম। তবে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গেন্ডারিয়ায় ওই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করা। তবে অস্ত্র হাতে তাঁর অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে ইশরাক বলেন, তাঁর কারণে প্রধানমন্ত্রী কিংবা দল যেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে বিবেচনা থেকেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। ইশরাক বলেন, সংসদীয় আসনসহ গুরুত্বপূর্ণ সব কাজ তিনি চালিয়ে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, ভুল করে থাকলে বা কাউকে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, তাঁর বিশ্বাস অনুযায়ী তিনি কোনো ভুল করেননি। অভিযানের সময় অস্ত্র হাতে রাখার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় তাঁর হাতে অস্ত্র ছিল। তাঁর এই বক্তব্যে অভিযানে অস্ত্র বহনের কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। এর আগে ১৭ অক্টোবর রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। এরপর ইশরাক হোসেনের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় আসে। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এর কারণ ব্যাখ্যা করেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

প্রীতমের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নীরবতা ভেঙে নতুন ছবিতে শেহতাজ

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
প্রীতমের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নীরবতা ভেঙে নতুন ছবিতে শেহতাজ

ব্যক্তিগত জীবনের আলোচিত অধ্যায় থেকে আপাতত দূরে থেকে নিজের মতো সময় কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী শেহতাজ মনিরা হাশেম। সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসানের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার ঘোষণা দেওয়ার পর বেশ কিছুদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নীরব ছিলেন তিনি। এবার প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো কয়েকটি মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে আবারও আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। তবে নতুন ছবিগুলোর সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

প্রকৃতির মাঝে শেহতাজের নতুন ছবি


সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবিগুলো প্রকাশ করেন শেহতাজ। খোলা প্রান্তর ও প্রকৃতির আবহে তোলা ছবিগুলোতে তাঁকে ভিন্ন এক পরিবেশে দেখা গেছে। ছবির সঙ্গে আবহসংগীত হিসেবে যুক্ত করেছেন সেন্ট অ্যাভানজেলিনের ‘লিলিল’ গানটি। বিচ্ছেদের ঘোষণার পর থেকেই শেহতাজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সেই আগ্রহের মধ্যেই তাঁর নতুন পোস্টটি নজর কেড়েছে। কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবি প্রকাশের মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে এতে প্রায় ৪১ হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এখনো নীরব অভিনেত্রী


নতুন ছবিগুলোর মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাননি শেহতাজ। বিচ্ছেদ নিয়েও নতুন কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। ফলে ছবিগুলোকে কেন্দ্র করে অনুসারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হলেও তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মুহূর্তগুলো ভাগ করে নিলেও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নীরব থাকছেন অভিনেত্রী। তাঁর নতুন পোস্টে প্রকৃতির আবহ ও ছবিগুলোই এখন অনুসারীদের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে।

দশ বছরের সম্পর্কের পর বিচ্ছেদের ঘোষণা


দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২২ সালে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মনিরা হাশেম। প্রেম থেকে দাম্পত্য—তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ ছিল বরাবরই। তবে গত ৪ অক্টোবর যৌথ বিবৃতিতে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্তের কথা জানান তাঁরা।

বিবৃতিতে এই দম্পতি জানান, দীর্ঘ দশ বছরের পথচলার পর পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একসঙ্গে কাটানো সময়, স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি একে অপরের প্রতি সম্মান ও শুভকামনা অটুট থাকার কথাও উল্লেখ করেন তাঁরা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পারস্পরিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে কিছু বড় পার্থক্য থাকায় আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়াই দুজনের জন্য ভালো হবে বলে তাঁরা মনে করেছেন।

দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত, জানালেন প্রীতম


বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রীতম হাসান জানিয়েছিলেন, এটি হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা এবং পরিবারের সমর্থন ও সম্মতি নিয়েই তাঁরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। বর্তমানে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। জীবনের নতুন অধ্যায়ে দুজন আলাদাভাবে এগিয়ে যেতে চান উল্লেখ করে বন্ধু, সহকর্মী ও গণমাধ্যমের কাছে তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসর, গোপনীয়তা ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ জানান এই সংগীতশিল্পী। বিচ্ছেদের ঘোষণার পর শেহতাজের নতুন ছবিগুলো প্রকাশ্যে আসায় তাঁকে ঘিরে আগ্রহ আবারও বেড়েছে। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো বক্তব্য না দেওয়ায় তাঁর নতুন পোস্টের সঙ্গে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

কালের আলো/জেএন/এসএ

 

নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ণ
নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সন্তানদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে শুধু নিজের বাড়ি বা এলাকার পরিচ্ছন্নতা নয়, পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করতে হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’ তারেক রহমান বলেন, কেউই চান না তাঁর সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে উঠুক। একটি শিশু শুধু নিজের বাড়ি বা এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাকে স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। তাই সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পুরো ঢাকা শহরের পরিবেশ ভালো রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।’

ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ সমস্যা এক দিন বা সাত দিনের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা সম্ভব। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সমস্যার সমাধানের সঙ্গে যুক্ত। পরিবর্তন আনতে সময় লাগতে পারে, কিন্তু চেষ্টা অব্যাহত রাখলে ফল পাওয়া যাবে। এ জন্য নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও কাজ করার ইচ্ছা থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমস্যার সমাধানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সদিচ্ছা। সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, তিনি বিভিন্ন জায়গায় গেলে সেখানকার সমস্যা খেয়াল করেন এবং পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করে বিষয়গুলো জানান। একইভাবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও নগরীর সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগ নিতে পারেন। তিনি মনে করেন, সমস্যা শনাক্ত করার পর তা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে শহরের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসবে। এ জন্য শুধু দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, নিজের অবস্থান থেকে উদ্যোগী হওয়ার মানসিকতাও প্রয়োজন।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির উন্নয়নের প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক জায়গাতেও ময়লা-আবর্জনার সমস্যা ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে সেখানকার পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। তাই ঢাকার সমস্যার কথা বলে হতাশ হয়ে বসে না থেকে প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার তাগিদ দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, পরিকল্পিত উদ্যোগ, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা সম্ভব। ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি আগের তুলনায় শহরের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে বোঝা যায় পরিবর্তন সম্ভব। সবাই মিলে চেষ্টা করলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি করা যাবে।নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের খোঁজখবর রাখছেন বলেও জানান তিনি। কোথাও সড়ক বিভাজক নতুন করে তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মোপলব্ধির আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, অন্যের সমালোচনা করার পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজের কাজের মূল্যায়নও করতে হবে। নিজের দায়িত্ব কতটা সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে এবং সমস্যা সমাধানে কতটা চেষ্টা করা হচ্ছে, তা ভেবে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, নগরীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সবাই নিজের কাজের প্রতি যত্নবান হলে সম্মিলিতভাবে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

মতবিনিময় সভার আগে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন।এসব তথ্য কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে কীভাবে জানা যায়, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি। এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও চিত্রও দেখেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি