খুঁজুন
                               
, ,
           

মাধ্যমিকে ভর্তিতে থাকছে ১৩ শতাংশ কোটা

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
মাধ্যমিকে ভর্তিতে থাকছে ১৩ শতাংশ কোটা

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে কোটাধারীদের জন্য মোট ১৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালার খসড়ায় এ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। খসড়াটি যাচাই-বাছাই শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত কোটা পূরণ না হলে ওই আসনগুলো মেধাতালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করে পূরণ করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ০.৫ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আরও ০.৫ শতাংশ আসন রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।

যমজ ও সহোদরদের জন্যও কোটা

যমজ ভাইবোনদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর যমজ ভাই বা বোন আগে থেকেই পড়াশোনা করলে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে নতুন করে আবেদন করা যমজ ভাইবোনের ক্ষেত্রেও এ সুযোগ রাখা হবে।

এ ছাড়া সহোদরদের জন্য ৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। আবেদনকারীর ভাই বা বোন আগে থেকেই ওই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকলে অথবা নতুন করে আবেদন করলেও নির্ধারিত শর্তে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্যও ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে আলাদা সুযোগ

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শুধু ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোট আসনের ১০ শতাংশ এ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

অন্যদিকে বেসরকারি বিদ্যালয়ে উল্লিখিত ১৩ শতাংশ কোটার বাইরে আরও ১ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় সম্পৃক্ত করতে এ কোটা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা নিকটস্থ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

ঢাকার স্কুলে ক্যাচমেন্ট এলাকায় ৪০ শতাংশ

ঢাকা মহানগরীর সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলসংলগ্ন ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে।

একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই ক্যাচমেন্ট এলাকার অন্তর্ভুক্ত হলে ওই এলাকার শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যেকোনোটিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।

প্রথম থেকে পঞ্চমে লটারি, ষষ্ঠ থেকে নবমে পরীক্ষা

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে লটারির মাধ্যমে। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১০০ নম্বর থাকবে। এর মধ্যে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

এখনো চূড়ান্ত হয়নি নীতিমালা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) একাধিক বৈঠক করেছে। খসড়াটি যাচাই-বাছাই শেষে প্রস্তাবনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের বৈঠক ও পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে।

মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান জানিয়েছেন, সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছরই স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু কোটা রাখা হয়। গত কয়েক বছরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় শিক্ষার্থী পাওয়া না গেলেও বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার কারণে খসড়া নীতিমালায় এ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

চূড়ান্ত নীতিমালা জারির পরই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে কোন কোন প্রস্তাব কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ

এবার কার হাতে উঠছে শান্তির নোবেল?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
এবার কার হাতে উঠছে শান্তির নোবেল?

চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। আগামী ৯ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাজির বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নাম আলোচনায় থাকলেও অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআইও) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকোন জারলো মনে করেন, শান্তির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন আলোচনার বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন।

সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে জারলো বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার জনপ্রিয়তা বা তারকা খ্যাতির প্রতিযোগিতা নয়। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা করা আদালত, যুদ্ধাপরাধের তথ্য সংগ্রহকারী সাংবাদিক এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষকে সহায়তা করা মানবিক সংস্থাগুলো শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আলোচনায় ট্রাম্প-জেলেনস্কি

এবারের পুরস্কার নিয়ে আলোচনায় ট্রাম্প ও জেলেনস্কির নাম থাকলেও জারলো তাঁদের নিয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বকে শান্তি পুরস্কার দিলে পুরস্কারটি কোনো একটি পক্ষের প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে জেলেনস্কি একটি চলমান বড় যুদ্ধের দেশের কমান্ডার-ইন-চিফ হওয়ায় তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতের প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মত দিয়েছেন তিনি।

তবে এগুলো জারলোর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত নয়। নোবেল কমিটি স্বাধীনভাবে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করে এবং পুরস্কার ঘোষণার আগে কোনো প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয় না।

আদালত থেকে মানবিক সংগঠন—আলোচনায় যারা

জারলোর পছন্দের তালিকায় রয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক আইন শক্তিশালী করতে এবং বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্য—এই নীতি প্রতিষ্ঠায় দুটি আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া যুদ্ধের মধ্যে শিশুদের সুরক্ষায় কাজ করা সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউক্রেনে রাশিয়া ও অধিকৃত অঞ্চল থেকে শিশুদের ফিরিয়ে আনার কাজে যুক্ত মাইকোলাইলা কুলেবার নেতৃত্বাধীন সেভ ইউক্রেন এবং সুদানের যুদ্ধের মধ্যে খাবার ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমসের নামও তাঁর তালিকায় রয়েছে।

যুদ্ধের তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের ভূমিকা

শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন জারলো। যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য নথিভুক্ত করতে সাংবাদিকেরা অনেক সময় জীবন ঝুঁকিতে কাজ করেন।

এ কারণে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-কেও সম্ভাব্য শান্তি পুরস্কারপ্রাপক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। জারলোর নিবন্ধ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৩২ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হন, যা সিপিজের হিসাব অনুযায়ী তাদের নথিভুক্ত ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনও তালিকায়

অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বজায় রাখার উদাহরণ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) কথাও বলেছেন জারলো।

তাঁর মতে, পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও আইএসএসে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের শান্তিপূর্ণ সহযোগিতা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ২৫ বছরের বেশি সময়ের এই সহযোগিতাকে শান্তির প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

সংঘাতের সময়ে বাড়ছে শান্তি পুরস্কারের গুরুত্ব

জারলো তাঁর নিবন্ধে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে বিশ্বে ৬৫টি রাষ্ট্রভিত্তিক সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা ১৯৪৬ সালে তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ বলে পিআরআইওর গবেষণায় উঠে এসেছে। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাতের মাত্রা বাড়ার কারণে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বও বেড়েছে।

এদিকে বাজির বাজার পলিমার্কেটের তথ্য উদ্ধৃত করে জারলোর নিবন্ধে সেভ দ্য চিলড্রেন, সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের নাম সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বাজারের সম্ভাবনা কোনোভাবেই নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস নয়।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে আগামী ৯ অক্টোবর। সেদিনই জানা যাবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠছে।

কালের আলো/এসএ

উন্নয়ন সহযোগিতায় জাপানের সঙ্গে নতুন গতি চান এলজিআরডি মন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ
উন্নয়ন সহযোগিতায় জাপানের সঙ্গে নতুন গতি চান এলজিআরডি মন্ত্রী

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দীর্ঘদিনের অংশীদার জাপানের সঙ্গে সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়াতে চায় সরকার। পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, টেকসই সমাজ গঠন ও স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের অভিজ্ঞতা ও সহায়তাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণসহ পারস্পরিক স্বার্থের নতুন ক্ষেত্র খোঁজার কথাও উঠে এসেছে আলোচনায়।

  • পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেকসই সমাজে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র
  • রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এলজিআরডি মন্ত্রীর বৈঠক

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ প্রত্যাশার কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

‘জাপান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার’
বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার জন্য জাপানের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপান দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।’

তাঁর প্রত্যাশা, পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন অবকাঠামো ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জাপানের সহায়তা বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পানি-বর্জ্যে নতুন সহযোগিতার সুযোগ
বৈঠকে জাপানের সহায়তায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দ্রুত নগরায়ণের বাস্তবতায় নিরাপদ পানি এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে কী ধরনের সহযোগিতা নেওয়া যায়, তা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ। টেকসই সমাজ বিনির্মাণেও যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং নাগরিক সেবার মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়।

প্রকল্পের অগ্রগতি, সামনে নতুন ক্ষেত্র
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন মন্ত্রী। চলমান প্রকল্পের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাপানের কারিগরি ও উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন আরও গতিশীল করার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।

উন্নয়নের সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান
বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও নাগরিক সেবার মতো ক্ষেত্রগুলোতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

ছিলেন দুই দেশের কর্মকর্তারা
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব কোমিনে কেন ও দ্বিতীয় সচিব সোমা হানা উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত অংশীদারত্বকে নতুন প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করে সামনে এগিয়ে নেওয়াই এখন দুই দেশের উন্নয়ন সহযোগিতার পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

৪৯তম বিসিএস: শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পেলেন ৬১১ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
৪৯তম বিসিএস: শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পেলেন ৬১১ জন

৪৯তম বিসিএসে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের পর এ নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগদানে সম্মত নন বলে গণ্য হবেন এবং তার নিয়োগপত্র বাতিল হবে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রবেশ পদে ‘জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬’ অনুযায়ী ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা বেতনক্রমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার এ শিক্ষানবিশকাল আরও দুই বছর বাড়াতে পারবে।

শিক্ষানবিশকালে কোনো প্রার্থীকে চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বিবেচনা করা হলে কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারের ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে ১ হাজার ২১৯ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি