খুঁজুন
                               
, ,
           

বিজিবির হেফাজত থেকে ভারতীয় চোরাকারবারী, ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার নেপথ্যে কারা?

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
বিজিবির হেফাজত থেকে ভারতীয় চোরাকারবারী, ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার নেপথ্যে কারা?

রাঙামাটির রাজস্থলীর দমদমিয়া এলাকায় সীমান্ত চেকপোস্টে বিজিবির হেফাজত থেকে দুই ভারতীয় চোরাকারবারীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় শুরু হয়েছে তোলপাড়। একই সঙ্গে এই ঘটনাটি সামনে এনেছে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন। বিজিবির হেফাজতে থাকা বিদেশি নাগরিককে স্থানীয় পাহাড়ি গোষ্ঠী কি নিজেদের ইচ্ছামাফিক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে? কারা তাদের হেফাজত থেকে সরিয়ে নিতে সেখানে জড়ো হয়েছিল? কেনই বা থানায় নেওয়ার সময় পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠল? আর ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন ছড়িয়ে পড়ল একপাক্ষিক ভিডিও ও বয়ান?

  • রাজস্থলীর ঘটনায় উত্তেজনা
  • প্রশ্ন উঠছে আটক ব্যক্তিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একপাক্ষিক বয়ান ছড়ানো নিয়ে

গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ৪১ বিজিবির কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের একটি চেকপোস্টে দুই ভারতীয় চোরাকারবারীকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভারতীয় প্রসাধনী, শাড়িসহ বিভিন্ন চোরাই পণ্য, নেশাজাতীয় দ্রব্য এবং ভারতীয় আধার কার্ড উদ্ধারের কথা জানানো হয়। পরে তাদের রাজস্থলী থানায় নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু থানায় পৌঁছানোর আগেই তৈরি হয় চরম উত্তেজনা।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, একপর্যায়ে পাহাড়ি কুচক্রী মহলের অঙ্গুলী হেলনে নারীসহ স্থানীয় কয়েকজন বিজিবির হেফাজত থেকে আটক ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এ প্রসঙ্গে প্রশ্নটি সরাসরি আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত—কোনো বাহিনীর হেফাজতে থাকা ব্যক্তিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অধিকার কি স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রয়েছে? আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের চোরাচালানে জড়িত থাকা অথবা আটকের প্রক্রিয়ায় কোনো আইনগত ত্রুটি ছিল কি না—এসব প্রশ্নের নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আদালত রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে, প্রশাসন রয়েছে। অভিযোগ থাকলে সেসব জায়গায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

কিন্তু কোনো অভিযোগের সমাধান হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে থাকা ব্যক্তিকে দলবদ্ধভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সেটিকে কোনোভাবেই সাধারণ প্রতিবাদ বলা যাবে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কেউ কি নিজের হাতে বিচার বা হেফাজতের দায়িত্ব তুলে নিতে পারে? বিশেষ করে এখানে আটক ব্যক্তিরা যদি ভারতীয় চোরাকারবারী হন, তাহলে বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিদেশি নাগরিক বা চোরাকারবারী আটক হওয়ার ঘটনা শুধু স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এর সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তাও যুক্ত। পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হচ্ছে—সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা আদালতের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা যেত। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা কাউকে দলবদ্ধভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকলে সেটিও আইনশৃঙ্খলার জন্য গুরুতর বিষয়। এখানে কোনো রকম ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নতুন করে আরেক বিতর্ক তৈরি করেছে। যেখানে এই ঘটনাকে পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু ভিডিওটি ঠিক কোন মুহূর্ত থেকে শুরু হয়েছে? তার আগে কী ঘটেছিল? কারা প্রথম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল? আটক ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কেন করা হয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর না জেনে কয়েক সেকেন্ডের একটি দৃশ্যকে পুরো ঘটনার প্রতিচ্ছবি হিসেবে উপস্থাপন করা কতটা যৌক্তিক, এই প্রশ্নও মোটা দাগে সামনে এসেছে। এছাড়াও নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত বল প্রয়োগ পরিস্থিতির তুলনায় যথাযথ ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়া সম্ভব। নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেই আটক ব্যক্তিকে হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কখনও বৈধ হতে পারে না বলে একমত সবাই।

এখানে আরেকটি বিষয় বেশ প্রাসঙ্গিক। প্রতিবাদ আর হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া কি এক? কেউ যদি মনে করেন দুই ভারতীয় চোরাকারবারীকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে, তার প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। অভিযোগ জানানোর অধিকার রয়েছে। আইনগত প্রতিকার চাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু প্রতিবাদের সীমা কোথায় শেষ এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোথা থেকে শুরু—এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আটক ব্যক্তিকে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকলে সেটিকে নিছক পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া’ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং এর সঙ্গে জড়িত স্থানীয় পাহাড়ি কুচক্রী মহলকেও সনাক্ত করতে হবে। কারণ, আজ যদি কোনো আটক ব্যক্তিকে দলবদ্ধভাবে একটি বাহিনীর হেফাজত থেকে সরিয়ে নেওয়া স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে আগামী দিনে যেকোনো আইনগত পদক্ষেপই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে।

রাজস্থলীর ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর আরও একটি হলো—ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর প্রবণতা লক্ষণীয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, একটি খণ্ডিত ভিডিও, কয়েকটি পোস্ট কিংবা এক পক্ষের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে পুরো ঘটনাকে নিরাপত্তা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা প্রশ্নবোধক। তবে ঘটনাটির একটি দিক স্পষ্টভাবে আলোচনার দাবি রাখে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোনো ঘটনার আদালত নয়।

সেখানে সবচেয়ে আগে ছড়িয়ে পড়া বয়ানটিই সত্য, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছে, সেটিই আসল। কে কী বলেছে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—প্রমাণ কী বলছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সীমান্তবর্তী একটি সংবেদনশীল এলাকায় এমন ঘটনা যদি যাচাই-বাছাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একপাক্ষিক বয়ান তৈরির উপকরণে পরিণত হয়, তাহলে তা স্থানীয় জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে অবিশ্বাস আরও বাড়াতে পারে। অতীতেও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের বিভিন্ন ঘটনা জনপরিসরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছে। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাটিকেও আবেগ বা পরিচয়ভিত্তিক অবস্থানের পরিবর্তে তথ্য, প্রমাণ ও আইনগত প্রক্রিয়ার আলোকে দেখা জরুরি।

রাজস্থলীর এই ঘটনা তাই কয়েকটি সরল প্রশ্নের মধ্যে আটকে নেই। এর পেছনে আরও বড় প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় একটি ঘটনার প্রভাব ঘটনাস্থলেই থেমে থাকে না। একটি সংঘর্ষ থেকে তৈরি হতে পারে অবিশ্বাস, একটি খণ্ডিত ভিডিও থেকে তৈরি হতে পারে একপাক্ষিক জনমত, আর একটি ভুল বয়ান থেকে বাড়তে পারে নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের দূরত্ব। তাই রাজস্থলীর ঘটনায় এখন সবচেয়ে প্রয়োজন কোনো পক্ষের পক্ষে-বিপক্ষে দাঁড়ানো নয়; বরং পুরো ঘটনাটির প্রতিটি ধাপ খুঁজে দেখা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যেমন জবাবদিহি প্রয়োজন, তেমনি তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাও কোনোভাবেই উৎসাহিত করা উচিত নয়। একটি ঘটনার আংশিক দৃশ্য দিয়ে পুরো ঘটনার বিচার না করে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, কেন উত্তেজনা সৃষ্টি হলো এবং পরবর্তীতে কীভাবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থাপিত হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থার প্রয়োজন। সেই আস্থাকে দুর্বল করে এমন কোনো ঘটনাই—তা নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণ হোক কিংবা স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া—উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

কালের আলো/এমএএএমকে

জামায়াতের বলয় ছেড়ে হেফাজতের নতুন ঐক্যে মামুনুল হকের দল?

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
জামায়াতের বলয় ছেড়ে হেফাজতের নতুন ঐক্যে মামুনুল হকের দল?

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যে নতুন করে টানাপোড়েনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই জোট থেকে বেরিয়ে আসতে পারে—রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন আলোচনা জোরালো হয়েছে। কওমি ধারার সাতটি ইসলামি দলকে নিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি করতেই দলটি জোট ছাড়ার কথা ভাবছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

দলটির অভ্যন্তরীণ আলোচনা সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো বলছে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে আর না থাকার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিগগির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে এখনো প্রকাশ্যে এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। বরং ১১ দলীয় ঐক্যের আসন্ন লংমার্চ কর্মসূচির প্রস্তুতিতেও দলটির অংশগ্রহণ রয়েছে।

  • সাত ইসলামি দলের প্ল্যাটফর্মে যোগ দিতে বিদ্যমান জোট ছাড়ার শর্ত বড় হয়ে উঠেছে
  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অবস্থান বদলালে কওমি রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনা

এদিকে, জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা হামিদুর রহমান আযাদ ১১ দলীয় ঐক্যে ভাঙনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ঐক্য ভাঙার খবর প্রচারণা ছাড়া কিছু নয়; গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ চলমান আন্দোলনেও দলগুলো একসঙ্গে থাকবে।

দুই পক্ষের এই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কি সত্যিই জোট ছাড়তে যাচ্ছে, নাকি নতুন ইসলামি রাজনৈতিক ঐক্যে অংশ নেওয়ার শর্ত ঘিরে দর-কষাকষি চলছে? এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিষয়টি নিশ্চিত নয়। তবে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য ও নতুন প্ল্যাটফর্মের শর্ত মিলিয়ে কওমি ধারার দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তনের সম্ভাবনা সামনে এসেছে।

নতুন সাত দলের ঐক্যই কি জোট ছাড়ার মূল কারণ?
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ‘সমমনা ইসলামি দল’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দেওয়া হয়। কওমি ধারার সাতটি ইসলামি দলকে নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার এই উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। নতুন প্ল্যাটফর্মে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—এর অন্তর্ভুক্ত কোনো দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন বা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিদ্যমান জোটে থাকতে পারবে না। অর্থাৎ সাত দলের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দলকে আগে তার বর্তমান জোটগত অবস্থান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এই শর্তের কারণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দলটি বর্তমানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অংশ হওয়ায় নতুন প্ল্যাটফর্মে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। এখন তারা জোট ছাড়লে সাত দলের ঐক্যপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার পথ সহজ হতে পারে।

রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এখানে শুধু একটি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রশ্ন নেই; বরং কওমি ধারার দলগুলোকে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিসরে সংগঠিত করার উদ্যোগও রয়েছে। নতুন প্ল্যাটফর্ম কার্যকর হলে ইসলামি রাজনীতিতে বিদ্যমান জোটকেন্দ্রিক হিসাব-নিকাশ বদলে যেতে পারে।

দলটির ভেতরে মতপার্থক্য, গুরুত্ব পাচ্ছে কওমি অঙ্গনের সমীকরণ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জোটগত অবস্থান নিয়ে দলের ভেতরে মতপার্থক্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের দাবি, কওমি অঙ্গনের আলেম-উলামার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে দলটির অবস্থান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন।

অন্যদিকে, কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং এই পরিসরে নিজেদের সাংগঠনিক প্রভাব বজায় রাখার বিষয়টিও দলটির নেতাদের একাংশের বিবেচনায় রয়েছে। হেফাজতের উদ্যোগে গড়ে ওঠা নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে পারলে কওমি অঙ্গনে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত হতে পারে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

তবে জোট ছাড়ার সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের পেছনে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নতুন প্ল্যাটফর্মের শর্ত, দলীয় মতপার্থক্য কিংবা কওমি অঙ্গনে রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার হিসাব—এসবের মধ্যে কোনটি প্রধান ভূমিকা রেখেছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দলের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ শীর্ষ নেতারা বর্তমানে মালয়েশিয়া সফরে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁরা দেশে ফিরলে জোটে থাকা না-থাকার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। সে পর্যন্ত দলটির অবস্থান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

সাত দলের ঐক্য গড়ার দীর্ঘ আলোচনা
নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগটি হঠাৎ করে সামনে আসেনি। গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং সাত দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে নীতিগত সম্মতির কথা জানানো হয়। পাশাপাশি এক মাসের মধ্যে ঐক্যের একটি রূপরেখা জমা দিতে দলগুলোকে বলা হয়।

এরপর সংশ্লিষ্ট দলগুলো নিজেদের প্রস্তাব জমা দেয়। গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর মাখজানুল উলুম মাদরাসায় সেসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর বাবুনগর মাদরাসায় আরেক দফা বৈঠকে হেফাজতের পক্ষ থেকে ঐক্যের সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মপদ্ধতির প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। তবে কয়েকটি শর্ত নিয়ে আপত্তি থাকায় সেদিনও পূর্ণাঙ্গ ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এই ধারাবাহিক বৈঠক থেকে বোঝা যায়, সাত দলের ঐক্য গড়ার ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা নয়, বরং পারস্পরিক সম্পর্ক, জোটগত স্বাধীনতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়েও দর-কষাকষি চলছে। নতুন প্ল্যাটফর্মের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করবে এসব মতপার্থক্য কীভাবে মেটানো হয়, তার ওপর।

নতুন ঐক্যের শর্ত কতটা কঠোর?
প্রস্তাবিত কাঠামোতে সাত দলের কোনোটি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য কোনো ইসলামি বা অনৈসলামিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করতে পারবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে অন্য কোনো দলের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজন হলে সাত দলের মজলিসে শুরা ও উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন নিতে হবে।

এ ছাড়া আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদার বিরোধী বা ভ্রান্ত বলে বিবেচিত কোনো দলের সভা-সমাবেশে সাত দলের নেতারা অংশ নিতে পারবেন না—এমন শর্তও প্রস্তাবিত কাঠামোতে রাখা হয়েছে। এই বিধানগুলো বাস্তবায়িত হলে সদস্য দলগুলোর জোট গঠন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার স্বাধীনতা একটি যৌথ কাঠামোর অধীনে আসবে। ফলে নতুন প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়া দলগুলোর জন্য শুধু একটি রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণই নয়, ভবিষ্যৎ জোটনীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও সমঝোতায় পৌঁছানো জরুরি হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ক্ষেত্রে এই শর্ত আরও তাৎপর্যপূর্ণ। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থেকে নতুন সাত দলের ঐক্যে যুক্ত হওয়া সম্ভব না হলে দলটিকে দুই রাজনৈতিক পরিসরের মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। ফলে সম্ভাব্য জোটত্যাগকে কেবল তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যাবে না; এর সঙ্গে ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক অবস্থানও জড়িত।

শুধু খেলাফত মজলিস নয়, নজরে জমিয়তও
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কওমি ধারার অন্য দলগুলোর অবস্থান নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশও বিএনপির সঙ্গে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে। একই সঙ্গে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা কওমি মাদরাসাভিত্তিক কয়েকটি ছোট দলের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

তবে এসব সম্ভাবনার পক্ষে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে কোনো দল নিশ্চিতভাবে জোট পরিবর্তন করতে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তারপরও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সম্ভাব্য অবস্থান পরিবর্তন একটি বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে এনেছে: কওমি ধারার ইসলামি দলগুলো কি বিদ্যমান বড় রাজনৈতিক জোটের ভেতরে থেকেই নিজেদের প্রভাব বজায় রাখবে, নাকি আলাদা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তুলতে চাইবে?

১১ দলীয় ঐক্য বলছে, ভাঙনের খবর ‘প্রোপাগান্ডা’
সম্ভাব্য জোটত্যাগের আলোচনা চললেও ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ভাঙনের খবর প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের মিন্টো রোডের বাসভবনে ঐক্যের বৈঠক শেষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যে ভাঙনের কোনো বিষয় নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ-সংক্রান্ত প্রচারকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ চলমান আন্দোলনের কর্মসূচিতে জোটের সব দল ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

ইসলামি রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সত্যিই জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে সাত দলের নতুন প্ল্যাটফর্মে যোগ দিলে তা হবে ইসলামি দলগুলোর জোটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এর প্রভাব শুধু ১১ দলীয় ঐক্যের সাংগঠনিক শক্তিতে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; কওমি ধারার অন্য দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণেও নতুন হিসাব তৈরি হতে পারে।

তবে নতুন প্ল্যাটফর্মের ঘোষণাই চূড়ান্ত রাজনৈতিক ঐক্যের নিশ্চয়তা নয়। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত একাধিক বৈঠকেও সাংগঠনিক কাঠামো ও শর্ত নিয়ে মতভেদ পুরোপুরি কাটেনি। ফলে সাত দল নিজেদের মধ্যে কতটা কার্যকর সমন্বয় গড়তে পারে, যৌথ সিদ্ধান্ত কতটা মানতে পারে এবং নির্বাচনী বা আন্দোলনভিত্তিক রাজনীতিতে কী ভূমিকা নেবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো বাকি। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সম্ভাব্য এই পরিবর্তন ইসলামি রাজনীতিতে জোটের পরিচয় ও কৌশল পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য নিজেদের অটুট থাকার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে হেফাজতের উদ্যোগে সাত দলের আলাদা প্ল্যাটফর্ম নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসএএকে

তরুণদের সুস্থ রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
তরুণদের সুস্থ রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

মাদকাসক্তি, মোবাইলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ও হতাশা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে খেলাধুলার মাঠে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সুস্থ জাতি গঠন এবং তরুণদের নেতিবাচক আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ জন্য তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাথলেটিক্সকে ক্রীড়ার জননী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আর কত দিন আমরা আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের দিকে তাকিয়ে থাকব? আমাদের নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং নিজেদের দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল করে তুলতে হবে।’

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির সরকারি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাঠগুলো অবৈধ দখলমুক্ত রেখে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি নতুন খেলার মাঠ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি দ্রুত স্কুল পর্যায়ে ‘ইন্টার স্কুল স্পোর্টস কম্পিটিশন’ চালুর আহ্বান জানান। বিশ্বমানের অ্যাথলেট গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি ব্যাংক, বীমা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর অবদান স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে, বিশেষ করে ক্রিকেটের উন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের ক্রীড়ানুরাগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উৎসাহ ও সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের, সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপনসহ ক্রীড়া সংগঠকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ মোস্তাক ও সুমিতা রানী প্রতিযোগিতার মশাল প্রজ্বলন করেন। পরে খেলোয়াড় ও বিচারকদের শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণে শুরু হয় এবারের প্রতিযোগিতা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মো. রাসেল (২৩) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাসেলের বাড়ি নাটোর সদর উপজেলায়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে রাসেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরদিন শুক্রবার সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন করে ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫১ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি