খুঁজুন
                               
, ,
           

বাড়ছে সনদ কমছে দক্ষতা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
বাড়ছে সনদ কমছে দক্ষতা

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর বের হচ্ছে লাখো তরুণ। হাতে সনদ, সামনে চাকরির বাজার। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে পা রাখতেই বড় ধাক্কা—ডিগ্রি আছে, দক্ষতা নেই। শিল্প-কারখানা, প্রযুক্তি, নির্মাণ কিংবা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার—সবখানেই কর্মীর চাহিদা বদলেছে। অথচ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও অনেকটাই আটকে আছে মুখস্থবিদ্যা, পরীক্ষা আর সার্টিফিকেটের বৃত্তে।

  • শিক্ষিত বেকারের মিছিল
  • কর্মমুখী দক্ষতার ঘাটতি
  • মুখস্থবিদ্যা ও সার্টিফিকেটনির্ভর ধারা
  • শিল্প-শিক্ষার সেতু গড়ার তাগিদ

ফলে একদিকে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা, অন্যদিকে বিদেশে যাচ্ছেন বিপুলসংখ্যক অদক্ষ ও স্বল্প দক্ষ শ্রমিক। দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তরুণ জনগোষ্ঠীই দক্ষতার ঘাটতিতে পরিণত হচ্ছে সম্ভাবনার বদলে বোঝায়।

ডিগ্রি আছে, কাজের দক্ষতা নেই
প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দেশে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটি। উচ্চশিক্ষায় রয়েছেন আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ লাখ। এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতেই পড়ছেন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ। সংখ্যার বিচারে উচ্চশিক্ষার বিস্তার বড় হলেও কর্মবাজারের সঙ্গে এর সংযোগ দুর্বল।

এইচএসসি ও সমমানের পর প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ নতুন করে চাকরির বাজারে ঢুকছেন। কিন্তু তাদের বড় অংশের হাতে নেই এমন কারিগরি বা ব্যবহারিক দক্ষতা, যা দিয়ে সরাসরি উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত হওয়া যায়। ফলে শিক্ষার পরের ধাপ হয়ে উঠছে অপেক্ষা—চাকরির অপেক্ষা, প্রশিক্ষণের অপেক্ষা, কিংবা আবারও একটি সনদ অর্জনের চেষ্টা।

কারিগরি শিক্ষা এখনও প্রান্তে
দেশে কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ ১৪ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে বলে বিভিন্ন হিসাবে উঠে এসেছে। অথচ শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ কর্মী তৈরিতে এ খাতের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।সমস্যা শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হওয়া নয়। সামাজিক মানসিকতাও বড় বাধা। অনেক পরিবার এখনও বিএ, এমএ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিকেই সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি মনে করে।

কারিগরি শিক্ষাকে তুলনামূলক কম মর্যাদার মনে করার প্রবণতায় শিক্ষার্থীদের বড় অংশ সাধারণ শিক্ষায় ঢুকে পড়ছে। পরে সেই ডিগ্রি নিয়েই তাদের ছুটতে হচ্ছে এমন চাকরির পেছনে, যেখানে নিয়োগদাতা প্রথমেই খুঁজছেন বাস্তব দক্ষতা।

শিল্প একদিকে, শিক্ষা আরেকদিকে
কর্মবাজার বদলে গেছে দ্রুত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, অটোমেশন, সাইবার নিরাপত্তা ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি এখন চাকরির ধরন পাল্টে দিচ্ছে। কিন্তু দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনও পুরোনো পাঠ্যক্রম, সীমিত ল্যাব এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার মধ্যে যোগাযোগও দুর্বল।

ফলে একজন শিক্ষার্থী বছরের পর বছর তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করেও বাস্তব কর্মপরিবেশে প্রবেশের আগে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন না। দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষক নেই। কোথাও আবার পুরোনো যন্ত্রপাতি ও পুরোনো কোর্স দিয়েই প্রশিক্ষণ চলছে।

বিদেশেও কম মজুরির ফাঁদ
দেশের দুর্বল দক্ষতা উন্নয়নের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতিফলন দেখা যায় বিদেশের শ্রমবাজারে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেলেও বড় অংশ অদক্ষ বা স্বল্প দক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আয়ে। কম দক্ষতার শ্রমিক কম মজুরির কাজে আটকে থাকেন। বিপরীতে দক্ষ টেকনিক্যাল কর্মীর মাসিক আয় অনেক ক্ষেত্রে এক লাখ থেকে তিন লাখ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। অর্থাৎ একই বিদেশযাত্রা একজনকে কম আয়ের শ্রমিক করে তুলছে, আবার অন্যজনকে উচ্চ আয়ের দক্ষ কর্মীতে পরিণত করছে—পার্থক্যটি মূলত দক্ষতার।

এশিয়া এগিয়েছে দক্ষতার হাত ধরে
জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক রূপান্তরের পেছনে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব দেশে শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ গড়ে তোলা হয়েছে। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও পাঠ্যক্রম তৈরি হয়েছে।চীনের উৎপাদনশিল্পের বিস্তারের সঙ্গে বড় কারিগরি শিক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়া প্রযুক্তিগত শিক্ষাকে শিল্পায়নের সঙ্গে যুক্ত করে ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর খাত সম্প্রসারণ করেছে।

জাপানও শিক্ষা ও শিল্পের সমন্বিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়েছে।বাংলাদেশের সামনে তাই প্রশ্নটি এখন আর শুধু ‘কতজন শিক্ষিত’—তা নয়। প্রশ্ন হলো, কতজনকে কাজে লাগানোর মতো দক্ষ করে তোলা যাচ্ছে।

উদ্ভাবনেও পিছিয়ে বাংলাদেশ
দক্ষতার ঘাটতির প্রভাব পড়ছে উদ্ভাবনেও। ২০২৪ সালের গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সে ১৩৩ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬। একই সূচকে ভারত ৩৮তম, চীন ১১তম এবং সিঙ্গাপুর চতুর্থ। অর্থাৎ বড় তরুণ জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে সেই জনশক্তিকে যথেষ্ট কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

শিক্ষিত বেকারই বড় সতর্কবার্তা
বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য এখানেই—শিক্ষার বিস্তার বাড়ছে, কিন্তু শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সেতু শক্তিশালী হচ্ছে না। রাশেদা কে চৌধুরীর মতে, বর্তমান শিক্ষাপদ্ধতি শিক্ষিত বেকার তৈরি করছে। কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব বাড়লেও তা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় কম। শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং কম বরাদ্দও এ খাতের বড় সমস্যা।

সনদ নয়, দক্ষতার হিসাব
বাংলাদেশের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ তরুণ জনগোষ্ঠীকে শুধু শিক্ষিত করা নয়, তাদের উৎপাদনশীল করে তোলা। এজন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই ব্যবহারিক শিক্ষা, মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি ও পেশাভিত্তিক দক্ষতার সুযোগ, উচ্চশিক্ষায় শিল্পের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে শিল্পের চাহিদা যুক্ত করা, প্রশিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো এবং বিদেশগামী কর্মীদের বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় সনদের সংখ্যা নয়, কাজ করার সক্ষমতাই নির্ধারণ করবে একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি।

বাংলাদেশের কোটি কোটি তরুণ সেই শক্তি হতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করছে শিক্ষা শেষ হওয়ার পর তারা শুধু একটি কাগজ পান, নাকি হাতে তুলে নিতে পারেন একটি কার্যকর দক্ষতা—তার ওপর।

কালের আলো/টিই/এমকে

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় গুরুত্ব আইনমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় গুরুত্ব আইনমন্ত্রীর

বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় জাতীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, মানুষের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় বিচারিক সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ কাজ করছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের উদ্যোগ

আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, সংস্কারের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং মামলাজট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর পাশাপাশি সময়োপযোগী ও ন্যায়সঙ্গত বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী।

প্রতি পাঁচ বছর পরপর ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর এ আন্তর্জাতিক কংগ্রেসের আয়োজন করে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

১৫ হাজারের সামনে বিরাট কোহলি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
১৫ হাজারের সামনে বিরাট কোহলি

আরও একটি বড় মাইলফলকের সামনে ভারতের তারকা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৫ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র ৫৯ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ আজ তিরুবনন্তপুরমে। ফলে আজকের ম্যাচেই এই মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ রয়েছে কোহলির সামনে।

ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ৩০২ ইনিংসে কোহলির রান ১৪ হাজার ৯৪১। তাঁর ব্যাটিং গড় ৫৮.৫৯। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৫৪টি সেঞ্চুরি ও ৭৯টি ফিফটি।

১৫ হাজার রান পূর্ণ করতে পারলে শচীন টেন্ডুলকারের পর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে এই কীর্তি গড়বেন কোহলি।

দ্রুততম ১৫ হাজারের রেকর্ডও সামনে

কোহলির সামনে শুধু ১৫ হাজার রান পূর্ণ করার সুযোগই নয়, রয়েছে আরও বড় একটি রেকর্ডের হাতছানি।

আর মাত্র ৫৯ রান করলে ৩০৩তম ইনিংসেই ১৫ হাজার ওয়ানডে রান পূর্ণ করবেন তিনি। সেটি হলে ওয়ানডেতে দ্রুততম ১৫ হাজার রানের রেকর্ডও নিজের করে নেবেন কোহলি।

শচীন টেন্ডুলকার ২০০৭ সালে ৩৭৭তম ইনিংসে ১৫ হাজার ওয়ানডে রান পূর্ণ করেছিলেন। অর্থাৎ কোহলি এই মাইলফলকে পৌঁছালে শচীনের চেয়ে ৭৪ ইনিংস কম খেলেই রেকর্ডটি গড়বেন।

আজকের ম্যাচে মাইলফলকটি না এলেও সুযোগ থাকছে সিরিজের পরের দুই ওয়ানডেতে। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেই কোহলির সামনে এই রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত কোহলি

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষেও কোহলির রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৪৩ ম্যাচের ৪১ ইনিংসে ব্যাট করে তিনি করেছেন ২ হাজার ২৬১ রান।

এই দলের বিপক্ষে তাঁর ব্যাটিং গড় ৬৬.৫০, যা তাঁর ক্যারিয়ার গড়ের চেয়েও বেশি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোহলির রয়েছে ৯টি সেঞ্চুরি ও ১১টি ফিফটি।

তাই আজকের ম্যাচে তাঁর ব্যাটে বড় ইনিংস দেখার অপেক্ষায় থাকবেন ভারতীয় সমর্থকেরা। ব্যক্তিগত মাইলফলকের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও সিরিজের শুরুটা জয় দিয়ে করতে চাইবে ভারত।

তিরুবনন্তপুরমেও সুখস্মৃতি

ভেন্যু হিসেবেও তিরুবনন্তপুরম কোহলির জন্য সুখের। এই মাঠে এখন পর্যন্ত দুটি ওয়ানডে খেলেছেন তিনি। আশ্চর্যের বিষয়, কোনো ম্যাচেই আউট হননি।

দুই ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ১৯৯ রান।

এর মধ্যে ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিলেন অপরাজিত ১৬৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজকের ম্যাচে মাঠে নামার সময় ভেন্যুটিও কোহলির আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে।

ঘরের মাঠে শচীনের আরেক রেকর্ড

১৫ হাজার ওয়ানডে রানের পাশাপাশি শচীন টেন্ডুলকারের আরও কয়েকটি রেকর্ডের কাছাকাছি রয়েছেন কোহলি।

ভারতের মাটিতে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড এখনো শচীনের দখলে। ঘরের মাঠে ১৬৪ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৬ হাজার ৯৭৬ রান।

কোহলির রান ৬ হাজার ৮৬৭। অর্থাৎ শচীনকে ছাড়িয়ে যেতে তাঁর প্রয়োজন আর ১১০ রান।

ভারতের মাটিতে এখন পর্যন্ত ১২৭ ইনিংসে ব্যাট করেছেন কোহলি। সেখানে তাঁর ব্যাটিং গড় ৬২.৪২। ঘরের মাঠে তাঁর রয়েছে ২৭টি সেঞ্চুরি ও ৩৬টি ফিফটি।

ঘরের মাঠে সেঞ্চুরিতেও শচীনের কাছে

ভারতের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির হিসাবেও শচীনের খুব কাছে কোহলি।

ঘরের মাঠে শচীনের সেঞ্চুরি ৪২টি। কোহলির রয়েছে ৪১টি। অর্থাৎ আরও দুটি সেঞ্চুরি করলে শচীনের এই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারবেন কোহলি।

তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট সেঞ্চুরির হিসাবে শচীনের ১০০ সেঞ্চুরির রেকর্ড এখনো কিছুটা দূরে। কোহলির আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি বর্তমানে ৮৫টি।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও শচীনের পাশে

শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই নয়, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও শচীনের আরেকটি রেকর্ডের কাছে পৌঁছে গেছেন কোহলি।

কোহলির লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরি এখন ৫৯টি। শচীন তাঁর ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ৬০টি লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরি নিয়ে।

অর্থাৎ আরও দুটি সেঞ্চুরি করলে কোহলি এই হিসাবেও শচীনকে ছাড়িয়ে যাবেন।

এক ম্যাচেই একাধিক মাইলফলকের হাতছানি

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজকের ওয়ানডে তাই বিরাট কোহলির জন্য কেবল একটি সাধারণ সিরিজের ম্যাচ নয়। মাত্র ৫৯ রান করলেই তিনি প্রবেশ করবেন ওয়ানডের ১৫ হাজার রানের বিশেষ ক্লাবে।

একই সঙ্গে ৩০৩তম ইনিংসে ১৫ হাজার রান পূর্ণ করতে পারলে দ্রুততম এই মাইলফলকের রেকর্ডও তাঁর হয়ে যাবে।

এর বাইরে ভারতের মাটিতে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড, ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি এবং লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সেঞ্চুরির মতো আরও কয়েকটি রেকর্ডও রয়েছে তাঁর নাগালের মধ্যে।

ফলে তিরুবনন্তপুরমে আজকের ম্যাচে কোহলির ব্যাটের দিকে নজর থাকবে শুধু ভারতীয় সমর্থকদের নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেরও। তাঁর সামনে একসঙ্গে অপেক্ষা করছে একাধিক ব্যক্তিগত মাইলফলক।

কালের আলো/এসএ

গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়: আটক ২৪৯ জন মুক্ত, হেফাজতে ২৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়: আটক ২৪৯ জন মুক্ত, হেফাজতে ২৯

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের পর আটক ২৭৮ জনের মধ্যে ২৪৯ জনকে যাচাই-বাছাই শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে থাকা ২৯ জনের পরিচয় যাচাই চলছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) সাকিবুল আলম ভূঁইয়া।

তিনি জানান, জাসদের নেতাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নেতা-কর্মীদের তালিকা নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় ২৪৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

পুলিশের হেফাজতে থাকা ২৯ জনের বিষয়ে এসি সাকিবুল আলম বলেন, তাদের পরিচয়ও যাচাই করা হচ্ছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাদের নিরাপদে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এ সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

এখনো মামলা হয়নি

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। জাসদ কার্যালয়ে কর্মসূচি পালনের জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাসদের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে সেখানে মিটিং করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

জাসদ কার্যালয় দখলের কোনো চেষ্টা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার্যালয় দখলের কোনো সুযোগ নেই। কার্যালয়টি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

যেভাবে অভিযান

এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড় এলাকায় জাসদের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। সেখানে আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠক চলছে—এমন অভিযোগ তুলে তারা পুলিশকে খবর দেন।

পরে পল্টন থানা পুলিশ জাসদ কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা লোকজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাসদ কার্যালয়ে একত্রিত হয়েছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

এর আগে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ জানিয়েছিলেন, জাসদ এবং তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে নাশকতা বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন—এমন তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি