খুঁজুন
                               
, ,
           

কেন তরুণরা আবার সাহিত্য উৎসবমুখী?

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
কেন তরুণরা আবার সাহিত্য উৎসবমুখী?

মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের দাপটে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে—এমন আলোচনা বহুদিনের। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু আয়োজন যেন সেই ধারণায় নতুন প্রশ্ন তুলছে। তরুণদের অংশগ্রহণে সাহিত্য উৎসব, লেখালেখির কর্মশালা, বই পড়ার কর্মসূচি ও ক্যাম্পাসভিত্তিক সাহিত্য আয়োজন বাড়ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—ডিজিটাল যুগে তরুণরা কি আবার সাহিত্য ও বইয়ের কাছে ফিরছে?

গত ৮ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হৃদয়ে সাহিত্য’-এর প্রথম বার্ষিক সাহিত্য উৎসব। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা, পাঠাভ্যাস, সৃজনশীলতা এবং নবীন লেখক তৈরির লক্ষ্যেই আয়োজনটি করা হয়।

শুধু এই একটি আয়োজন নয়, চলতি বছর তরুণদের কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বই পড়া ও সাহিত্যচর্চার নানা উদ্যোগ দেখা গেছে। জুনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের বছরব্যাপী বই পড়া কার্যক্রম শেষে ১৪৫ জন পাঠক-শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ছিলেন।

তরুণদের কাছে সাহিত্য উৎসব এখন কেবল বই কেনাবেচা বা কবিতা শোনার জায়গা নয়। লেখকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, কবিতা পাঠ, গল্প লেখা, আলোচনা, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে একটি সামাজিক অভিজ্ঞতা।

এই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহিত্যচর্চার সুযোগ থাকলেও সেখানে পাঠকের সঙ্গে লেখকের সম্পর্ক অনেক সময় ভার্চুয়াল পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে। সাহিত্য উৎসব সেই সম্পর্ককে নিয়ে আসে সামনাসামনি পরিসরে।

তরুণদের জন্য তাই একটি সাহিত্য উৎসব একই সঙ্গে বই, বন্ধুত্ব, সৃজনশীলতা ও নিজের ভাবনা প্রকাশের জায়গা হয়ে উঠছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অনেক সময় বই পড়ার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবতা কিছুটা ভিন্নও হতে পারে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব বা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বইয়ের আলোচনা, লেখকের সাক্ষাৎকার, কবিতা পাঠ কিংবা বইয়ের রিভিউ তরুণদের নতুন বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।

অর্থাৎ যে তরুণের হাতে সারাক্ষণ স্মার্টফোন, তিনিই আবার সেই ফোনের মাধ্যমে কোনো লেখক বা বই সম্পর্কে জানতে পেরে বই কিনতে পারেন, সাহিত্য অনুষ্ঠানে যেতে পারেন কিংবা নিজেই লিখতে শুরু করতে পারেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচিতেও বই পড়ার মাধ্যমে কিশোর-তরুণদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তরুণদের সাহিত্য উৎসবমুখী হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করতে পারে।

প্রথমত, নিজের কথা বলার জায়গার প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবাই কথা বললেও গভীরভাবে নিজের চিন্তা প্রকাশের সুযোগ সীমিত। সাহিত্য সেই জায়গাটি তৈরি করে।

দ্বিতীয়ত, মানসিক বিরতি।

সারাক্ষণ নোটিফিকেশন, ভিডিও ও দ্রুত বদলে যাওয়া কনটেন্টের মধ্যে বই পড়া অনেকের কাছে মনোযোগ ধরে রাখার আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

তৃতীয়ত, কমিউনিটি।

একই ধরনের বই পড়েন বা লেখালেখি করেন—এমন মানুষের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ তরুণদের সাহিত্য আয়োজনের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।

চতুর্থত, নতুন লেখক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা।

এখন প্রকাশের সুযোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লেখা প্রকাশের পাশাপাশি সাহিত্য উৎসব ও লেখালেখির কর্মশালা তরুণদের নিজেদের লেখাকে আরও পরিণত করার সুযোগ দিচ্ছে।

এর উদাহরণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্ক্রিপ্টোরিয়া ন্যাশনাল লিটারারি ফেস্ট’-এর কথাও বলা যায়। সেখানে প্রবন্ধ, গল্প ও গবেষণা প্রস্তাবনা নিয়ে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি কর্মশালা, প্যানেল আলোচনা ও সাহিত্যকেন্দ্রিক বিভিন্ন আয়োজন রাখা হয়েছিল।

এখানেই কিছুটা সতর্ক হওয়া দরকার। কয়েকটি সাহিত্য উৎসবে তরুণদের বড় উপস্থিতি দেখেই সার্বিকভাবে বলা যায় না যে দেশের তরুণদের বই পড়ার অভ্যাস ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।

বরং বলা যায়, সাহিত্যকে তরুণদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ধরন বদলাচ্ছে। বইয়ের পাশাপাশি আলোচনা, উৎসব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, লেখকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং সৃজনশীল কর্মশালা—সব মিলিয়ে সাহিত্যচর্চার নতুন পরিসর তৈরি হচ্ছে।

জুলাইয়ে শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত ‘বই পড়া উৎসব’-এর লক্ষ্যও ছিল মোবাইল ফোননির্ভর প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা।

সম্ভবত পুরো বিষয়টিকে এভাবেই দেখা যায়। আগে সাহিত্যচর্চাকে অনেক তরুণের কাছে একাকী বা একাডেমিক বিষয় মনে হতে পারে। এখন সেটিই উৎসব, আড্ডা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

ফলে বই শুধু তাকের ওপর রাখা একটি বস্তু নয়; সেটিকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে কমিউনিটি ও অভিজ্ঞতা।

ডিজিটাল বিনোদনের এই সময়ে তরুণরা হয়তো প্রযুক্তি থেকে দূরে সরে সাহিত্যে ফিরছে না। বরং প্রযুক্তিকে সঙ্গে নিয়েই সাহিত্যের কাছে নতুনভাবে ফিরছে।

আর সেই কারণেই সাহিত্য উৎসবের ভিড়কে শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের দর্শকসংখ্যা হিসেবে না দেখে, তরুণ প্রজন্মের চিন্তা, পরিচয় ও সৃজনশীলতার পরিবর্তিত অভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

কালের আলো/এসএ

মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনাকে যেভাবে দেখেন তটিনী

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনাকে যেভাবে দেখেন তটিনী

ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী। অভিনয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করার পথে প্রায়ই তাঁকে শুনতে হয়, তিনি নাকি অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর মতো। এমন তুলনা একদিকে যেমন ভালো লাগে, অন্যদিকে নিজের পরিচয় ও স্বতন্ত্রতা নিয়েও সচেতন তটিনী। তাঁর স্পষ্ট কথা, শিল্পাঙ্গনে কেউ কারও জায়গা নিতে পারেন না।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে মেহজাবীনের সঙ্গে নিজের তুলনা প্রসঙ্গে কথা বলেন তটিনী। তিনি জানান, এমন মন্তব্যে অস্বস্তি বোধ করেন না। বরং গুণী একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনাকে নিজের জন্য প্রাপ্তি হিসেবেই দেখেন। তবে মেহজাবীনের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করার কথা ভাবেন না তিনি।

তুলনা ভালো লাগলেও নিজের পরিচয়েই এগোতে চান
মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনার বিষয়ে তটিনী বলেন, ‘অনেকেই বলেন—তুমি মেহজাবীনের মতো, মেহজাবীনের জায়গায় যাচ্ছ। আসলে কেউ কারও জায়গায় যেতে পারে না। আমি কারও সঙ্গে নিজেকে তুলনা করব না, কারও জায়গায় ভাবাটাও ঠিক না। শিল্প অঙ্গনে এই তুলনা হয় না।’

মেহজাবীনকে বড় ও গুণী শিল্পী উল্লেখ করে তটিনী আরও বলেন, ‘তবে, তুলনা করলে ভালো লাগে। তার মতো গুণী অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনাও তো বড় পাওয়া।’

তটিনীর বক্তব্যে উঠে এসেছে, অন্য একজন শিল্পীর সঙ্গে তুলনা তাঁর কাছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় নয়। বরং অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের কাজ থেকে শেখার সুযোগ হিসেবেই দেখেন তিনি।

নতুন প্রজন্মের জন্য মেহজাবীন উদাহরণ
তটিনীর মতে, মেহজাবীনের দীর্ঘ অভিনয়জীবন, কাজের প্রতি সততা ও পরিশ্রম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। শুধু অভিনয় নয়, ক্যারিয়ারে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেও অনেক কিছু শেখার রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তটিনী বলেন, ‘আমাদের জেনারেশন বা পরের জেনারেশনের জন্য মেহজাবীন আপু একটা উদাহরণ। তার ক্যারিয়ারে এগিয়ে চলা, কাজের প্রতি সততা, তার পরিশ্রম, তার অনেক অভিজ্ঞতা, তার কাছ থেকে আমাদের সবার শেখা উচিত।’

শুধু অভিনয় নয়, ব্যক্তিত্ব থেকেও শেখার আছে
অভিনয়জগতে প্রবেশের পর থেকেই মেহজাবীনকে অনুসরণ করার পরামর্শ পেয়েছেন তটিনী। তবে সেই অনুসরণ কেবল অভিনয় কিংবা ক্যারিয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। মেহজাবীনের ব্যক্তিত্ব ও আচরণও ছিল সেই পরামর্শের অংশ।

তটিনী বলেন, ‘আমি যখন অভিনয়ে আসি, তখনই অনেকে আমাকে একটা কথাই বলেছিলেন, যদি কারও মতো হতে চাও, তাহলে মেহজাবীনকে ফলো করো। আর শুধু ক্যারিয়ার নয়, সে মানুষ হিসেবে কেমন, তার আচার-আচরণ সবই ফলো করার কথা বলতেন। কারণ, সিনিয়রদের কাছ থেকেই আমাদের অনুপ্রেরণা নেওয়া উচিত।’

সব মিলিয়ে মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনাকে ইতিবাচকভাবে নিলেও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার দিকেই মনোযোগী তটিনী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অন্যের সাফল্যকে প্রতিযোগিতা হিসেবে না দেখে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়াই হতে পারে একজন শিল্পীর এগিয়ে যাওয়ার পথ।

কালের আলো/এমকেএম/জেএন

গোলাপি সাজে মুগ্ধতা ছড়ালেন জয়া আহসান

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
গোলাপি সাজে মুগ্ধতা ছড়ালেন জয়া আহসান

অভিনয়ে যেমন সাবলীল, ফ্যাশনেও তেমনি স্বতন্ত্র জয়া আহসান। কখনো ঐতিহ্যবাহী শাড়িতে, কখনো আধুনিক পশ্চিমা পোশাকে—নিজের রুচি ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে ভক্তদের নজর কাড়েন এই অভিনেত্রী। এবার শ্যাম্পেন পিংক রঙের স্যাটিন ম্যাক্সি গাউনে ধরা দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। আর সেই ছবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া ‘প্রেমে পড়া বারণ’ ক্যাপশনটি বাড়িয়েছে ভক্তদের কৌতূহল।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন জয়া আহসান। গোলাপি ও বেইজের মিশেলে তৈরি স্যাটিন গাউনে তাঁর সাজে ছিল আধুনিকতার ছাপ। ছবিগুলো প্রকাশের পরই অভিনেত্রীর রূপ ও ফ্যাশন নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেন ভক্তরা।

গোলাপি সাজে জয়ার নজরকাড়া উপস্থিতি
ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো প্রকাশ করে জয়া ক্যাপশনে লেখেন, ‘সেক্সি অ্যাজ পিংক’। অন্যদিকে, ফেসবুকে একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘প্রেমে পড়া বারণ’। আরেকটি ক্যাপশনে তাঁর মন্তব্য, ‘গোলাপির ছোঁয়া, ঝামেলার শেষ নেই।’

জয়ার এই ব্যতিক্রমী ক্যাপশন ও ফ্যাশনেবল উপস্থিতি অনুসারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তাঁর সৌন্দর্য ও সাজের প্রশংসা করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘ছবি যখন কথা বলে।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘আপনি দিন দিন আরও সুন্দর হয়ে যাচ্ছেন।’

দুই বাংলার পর্দায় জয়ার ব্যস্ততা
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রেও নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন জয়া আহসান। দুই বাংলার সিনেমায় বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে তাঁকে সবশেষ দেখা গেছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমায়। এটি ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার পরবর্তী অধ্যায়। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ছবিটিতে জয়ার সঙ্গে অভিনয় করেছেন কৌশিক সেন, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় ও অম্বরীশ ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে।

এবার নতুন ভূমিকায়
অভিনয়ের পাশাপাশি এবার রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সেরা রাঁধুনী’র বিচারকের আসনেও দেখা যাবে জয়া আহসানকে। এর আগে বিভিন্ন রিয়েলিটি শোতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করলেও রান্নাবিষয়ক এই অনুষ্ঠানে এবারই প্রথম বিচারক হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি।

একদিকে পর্দার কাজ, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ফ্যাশন ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ—সব মিলিয়ে নানা কারণে আলোচনায় থাকছেন জয়া আহসান। এবার গোলাপি গাউনের সঙ্গে ‘প্রেমে পড়া বারণ’ ক্যাপশনটি যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

কালের আলো/এএইচ/জেএন

জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন মানুষ চান সাফা কবির?

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন মানুষ চান সাফা কবির?

বিয়ে নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশা কিংবা মানুষের নানা প্রশ্ন—কোনোটিকেই নিজের জীবনের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলতে দিতে চান না ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। বিয়ে করা কিংবা একা থাকা, দুটিই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন তিনি। নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট এই অভিনেত্রী এবার জানিয়েছেন, জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন মানুষকে পছন্দ তাঁর।

সম্প্রতি এক আড্ডায় নিজের জীবনযাপন, অভিনয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন সাফা কবির। সেখানে উঠে আসে বিয়ে ও একক জীবন নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও। অভিনেত্রীর মতে, প্রত্যেক মানুষেরই নিজের মতো করে জীবন সাজানোর স্বাধীনতা থাকা উচিত।

নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট সাফা
সাফা কবিরের সমসাময়িক অনেক অভিনয়শিল্পী ইতোমধ্যে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন। কেউ কেউ সংসার সামলানোর পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সাফার বিয়ে নিয়ে প্রায়ই নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তবে এসব সামাজিক প্রত্যাশার চেয়ে নিজের ভালো থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

বিয়ে নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘নিজের জীবন নিয়ে আমি বেশ সন্তুষ্ট। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সুন্দর একটি জীবন কাটছে আমার।’ তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যের প্রত্যাশার চেয়ে নিজের পছন্দ ও মানসিক স্বস্তিকে প্রাধান্য দিতে চান তিনি।

যেমন জীবনসঙ্গী চান অভিনেত্রী
জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের কথাও জানিয়েছেন সাফা কবির। শিক্ষিত, রসবোধসম্পন্ন ও ভালো মনের একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চান তিনি। অর্থাৎ, তাঁর কাছে জীবনসঙ্গী নির্বাচনে শুধু বাহ্যিক পরিচয় নয়, ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতারও গুরুত্ব রয়েছে।

অভিনেত্রীর এই ভাবনার পাশাপাশি উঠে এসেছে বিয়ে নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, একজন মানুষ বিয়ে করবেন কি না, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে কাউকে অযথা প্রশ্নের মুখে ফেলা কিংবা সামাজিক চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

তারকারাও চান ব্যক্তিগত পরিসর
সাফা কবির মনে করেন, মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে মানুষের আরও সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। তারকারাও সাধারণ মানুষের মতোই ব্যক্তিগত জীবন, নিজস্ব সময় এবং নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখেন। তাঁদের জীবন নিয়েও অন্যদের এই বাস্তবতা বোঝা জরুরি।

অভিনয়জীবন নিয়েও নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন সাফা। তাঁর ভাষ্য, নিজের অভিনীত কাজ নিয়ে কখনোই শতভাগ সন্তুষ্ট হতে পারেন না তিনি। একজন শিল্পীর মধ্যে নিজের কাজ নিয়ে কিছুটা অতৃপ্তি থাকা প্রয়োজন বলেও মনে করেন এই অভিনেত্রী। কারণ, সেই অতৃপ্তিই আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

সব মিলিয়ে বিয়ে নিয়ে সামাজিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিজের পছন্দ, আত্মনির্ভরশীলতা ও মানসিক ভালো থাকাকে গুরুত্ব দিতে চান সাফা কবির। তাঁর মতে, জীবনের সিদ্ধান্ত প্রত্যেকের নিজের মতো করে নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন