খুঁজুন
                               
, ,
           

কেন তরুণরা আবার সাহিত্য উৎসবমুখী?

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
কেন তরুণরা আবার সাহিত্য উৎসবমুখী?

মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের দাপটে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে—এমন আলোচনা বহুদিনের। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু আয়োজন যেন সেই ধারণায় নতুন প্রশ্ন তুলছে। তরুণদের অংশগ্রহণে সাহিত্য উৎসব, লেখালেখির কর্মশালা, বই পড়ার কর্মসূচি ও ক্যাম্পাসভিত্তিক সাহিত্য আয়োজন বাড়ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—ডিজিটাল যুগে তরুণরা কি আবার সাহিত্য ও বইয়ের কাছে ফিরছে?

গত ৮ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হৃদয়ে সাহিত্য’-এর প্রথম বার্ষিক সাহিত্য উৎসব। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা, পাঠাভ্যাস, সৃজনশীলতা এবং নবীন লেখক তৈরির লক্ষ্যেই আয়োজনটি করা হয়।

শুধু এই একটি আয়োজন নয়, চলতি বছর তরুণদের কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বই পড়া ও সাহিত্যচর্চার নানা উদ্যোগ দেখা গেছে। জুনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের বছরব্যাপী বই পড়া কার্যক্রম শেষে ১৪৫ জন পাঠক-শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ছিলেন।

তরুণদের কাছে সাহিত্য উৎসব এখন কেবল বই কেনাবেচা বা কবিতা শোনার জায়গা নয়। লেখকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, কবিতা পাঠ, গল্প লেখা, আলোচনা, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে একটি সামাজিক অভিজ্ঞতা।

এই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহিত্যচর্চার সুযোগ থাকলেও সেখানে পাঠকের সঙ্গে লেখকের সম্পর্ক অনেক সময় ভার্চুয়াল পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে। সাহিত্য উৎসব সেই সম্পর্ককে নিয়ে আসে সামনাসামনি পরিসরে।

তরুণদের জন্য তাই একটি সাহিত্য উৎসব একই সঙ্গে বই, বন্ধুত্ব, সৃজনশীলতা ও নিজের ভাবনা প্রকাশের জায়গা হয়ে উঠছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অনেক সময় বই পড়ার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবতা কিছুটা ভিন্নও হতে পারে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব বা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বইয়ের আলোচনা, লেখকের সাক্ষাৎকার, কবিতা পাঠ কিংবা বইয়ের রিভিউ তরুণদের নতুন বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।

অর্থাৎ যে তরুণের হাতে সারাক্ষণ স্মার্টফোন, তিনিই আবার সেই ফোনের মাধ্যমে কোনো লেখক বা বই সম্পর্কে জানতে পেরে বই কিনতে পারেন, সাহিত্য অনুষ্ঠানে যেতে পারেন কিংবা নিজেই লিখতে শুরু করতে পারেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচিতেও বই পড়ার মাধ্যমে কিশোর-তরুণদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তরুণদের সাহিত্য উৎসবমুখী হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করতে পারে।

প্রথমত, নিজের কথা বলার জায়গার প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবাই কথা বললেও গভীরভাবে নিজের চিন্তা প্রকাশের সুযোগ সীমিত। সাহিত্য সেই জায়গাটি তৈরি করে।

দ্বিতীয়ত, মানসিক বিরতি।

সারাক্ষণ নোটিফিকেশন, ভিডিও ও দ্রুত বদলে যাওয়া কনটেন্টের মধ্যে বই পড়া অনেকের কাছে মনোযোগ ধরে রাখার আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

তৃতীয়ত, কমিউনিটি।

একই ধরনের বই পড়েন বা লেখালেখি করেন—এমন মানুষের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ তরুণদের সাহিত্য আয়োজনের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।

চতুর্থত, নতুন লেখক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা।

এখন প্রকাশের সুযোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লেখা প্রকাশের পাশাপাশি সাহিত্য উৎসব ও লেখালেখির কর্মশালা তরুণদের নিজেদের লেখাকে আরও পরিণত করার সুযোগ দিচ্ছে।

এর উদাহরণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্ক্রিপ্টোরিয়া ন্যাশনাল লিটারারি ফেস্ট’-এর কথাও বলা যায়। সেখানে প্রবন্ধ, গল্প ও গবেষণা প্রস্তাবনা নিয়ে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি কর্মশালা, প্যানেল আলোচনা ও সাহিত্যকেন্দ্রিক বিভিন্ন আয়োজন রাখা হয়েছিল।

এখানেই কিছুটা সতর্ক হওয়া দরকার। কয়েকটি সাহিত্য উৎসবে তরুণদের বড় উপস্থিতি দেখেই সার্বিকভাবে বলা যায় না যে দেশের তরুণদের বই পড়ার অভ্যাস ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।

বরং বলা যায়, সাহিত্যকে তরুণদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ধরন বদলাচ্ছে। বইয়ের পাশাপাশি আলোচনা, উৎসব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, লেখকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং সৃজনশীল কর্মশালা—সব মিলিয়ে সাহিত্যচর্চার নতুন পরিসর তৈরি হচ্ছে।

জুলাইয়ে শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত ‘বই পড়া উৎসব’-এর লক্ষ্যও ছিল মোবাইল ফোননির্ভর প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা।

সম্ভবত পুরো বিষয়টিকে এভাবেই দেখা যায়। আগে সাহিত্যচর্চাকে অনেক তরুণের কাছে একাকী বা একাডেমিক বিষয় মনে হতে পারে। এখন সেটিই উৎসব, আড্ডা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

ফলে বই শুধু তাকের ওপর রাখা একটি বস্তু নয়; সেটিকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে কমিউনিটি ও অভিজ্ঞতা।

ডিজিটাল বিনোদনের এই সময়ে তরুণরা হয়তো প্রযুক্তি থেকে দূরে সরে সাহিত্যে ফিরছে না। বরং প্রযুক্তিকে সঙ্গে নিয়েই সাহিত্যের কাছে নতুনভাবে ফিরছে।

আর সেই কারণেই সাহিত্য উৎসবের ভিড়কে শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের দর্শকসংখ্যা হিসেবে না দেখে, তরুণ প্রজন্মের চিন্তা, পরিচয় ও সৃজনশীলতার পরিবর্তিত অভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

কালের আলো/এসএ

শিক্ষার পরিধি শ্রেণিকক্ষের বাইরেও বিস্তৃত: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
শিক্ষার পরিধি শ্রেণিকক্ষের বাইরেও বিস্তৃত: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষ বা একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিতর্ক, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ছাত্র আন্দোলনও শিক্ষার্থীদের শেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা কলেজের শহীদ আ ন ম নজিব উদ্দীন খুররম অডিটোরিয়ামে ঢাকা কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি (ডিসিডিএস) আয়োজিত পঞ্চম জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় শিক্ষা ও ছাত্র আন্দোলনকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। তবে শিক্ষাঙ্গনে যেকোনো ধরনের দখলদারিত্ব ও অন্যের অধিকার হরণের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান থাকতে হবে।

বিতর্কচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিতর্কের সময় কোনো বিষয়ে বিপক্ষ অবস্থান নেওয়ার অনুশীলন শিক্ষার্থীদের নিজেদের বিশ্বাস ও ধারণাকে প্রশ্ন করতে শেখায়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তিনির্ভর ও বিশ্লেষণাত্মকভাবে চিন্তা করার দক্ষতা তৈরি হয়, যা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনেও কাজে লাগে।

ঢাকা কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সার্বিক অগ্রগতির জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির ওপরও জোর দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা কলেজ দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রাজধানীর কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়া এবং তুলনামূলক ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তিনি বলেন, এই সুবিধাজনক অবস্থান ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা কলেজকে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

ঢাকা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের আবেগের কথা তুলে ধরে জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও গভীর আবেগ রয়েছে। দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে এসে বর্তমান অবকাঠামো দেখে কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। কলেজের অডিটোরিয়ামসহ পুরো ক্যাম্পাসের উন্নয়নে একটি মাস্টারপ্ল্যান করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদ ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা বিতার্কিকসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পাকিস্তানে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে গুলিবর্ষণে নিহত ৩, আহত ৯৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে গুলিবর্ষণে নিহত ৩, আহত ৯৪

পাকিস্তানের করাচি শহরে দেশটির ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় আনন্দ উল্লাসের নামে বেপরোয়া ফাঁকা গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ৩ জন নিহত এবং অন্তত ৯৪ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৪ শুক্রবার) করাচির পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সৈয়দ জানান, ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনায় করাচির পিআইবি কলোনির একজন পুরুষ ও এক শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়াও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরও একজন নারীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, যিনি পরে মারা যান।

তিনি আরও জানান, গুলিবিদ্ধ আরও ১৭ জনকে সিভিল হাসপাতালে, ২৪ জনকে আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে এবং ৫৩ জনকে জিন্নাহ পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল সেন্টারে ‍চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, লিয়ারি, সদর, কোরাঙ্গি, মালির, আজিজাবাদ, উত্তর নাজিমাবাদ, নাজিমাবাদ, গুলবাহার, গুলশান-ই-ইকবাল, ওরাঙ্গি টাউন, জামশেদ কোয়ার্টার্স এবং ডিফেন্সে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, করাচির পূর্ব জেলার পুলিশ স্বাধীনতা দিবসে ফাঁকা গুলিবর্ষণের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে। এসময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়ান্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

করাচির পশ্চিম জেলা পুলিশও একই অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

প্রসঙ্গত, কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস বা নতুন বছরের মতো উৎসবগুলোতে এই ধরণের ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনা একটি নিয়মিত ও বিপজ্জনক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে, যা প্রতি বছরই বহু মানুষের প্রাণহানি ও মারাত্মক জখমের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গত বছরও স্বাধীনতা দিবসের মধ্যরাতে করাচিতে উদযাপনের গোলাগুলিতে এক মেয়েশিশুসহ তিনজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন।

সূত্র: ডন

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে আরও ৫০০ শয্যার নতুন ভবন চালু হচ্ছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় ভবনটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অধিকাংশ চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ভবন চালু হলে হাসপাতালটির মোট শয্যা সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজারে। এতে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিশেষায়িত স্নায়ুরোগ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে হাসপাতালটির সক্ষমতা আরও বাড়বে।

১৫ তলা ভবনটির নিচের তিনটি তলা বেজমেন্ট হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখানে পার্কিং ও সার্ভিস সেকশনের ব্যবস্থা রয়েছে। ওপরের ১২ তলায় থাকছে ওয়ার্ড, অস্ত্রোপচার কক্ষ ও রোগ নির্ণয়কেন্দ্র। ভবনটিতে রয়েছে ৪০টি আইসিইউ শয্যা, ২৪টি অস্ত্রোপচার-পরবর্তী শয্যা এবং ১১২টি কেবিন।

নতুন ভবনে ১০০ শয্যার বিশেষায়িত ট্রমা ইউনিটও থাকছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের সুবিধা দেওয়া হবে। চারটি অস্ত্রোপচার কক্ষের মধ্যে দুটি মডুলার ওটি। এ ছাড়া রয়েছে ২০ শয্যার এইচডিইউ এবং ৬২টি ভেন্টিলেটর।

চিকিৎসা সুবিধা আরও বাড়াতে ভবনটিতে একটি ক্যাথল্যাব, দুটি এমআরআই ও দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার জন্য আধুনিক অটোক্লেভ, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সলিড ওয়েস্ট ডিসপোজাল সিস্টেম এবং পৃথক অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ভবনটি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। রোগী স্থানান্তরের সুবিধায় এক থেকে তিনতলা পর্যন্ত চলন্ত সিঁড়ির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, এখানে সবচেয়ে বেশি স্ট্রোকের রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগী, পারকিনসন্স, ডিমেনশিয়া, জিবিএস, মৃগী ও হাইড্রোকেফালাসসহ বিভিন্ন স্নায়ুরোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার নতুন ভবনটির উদ্বোধন করবেন। ভবনটি চালু হলে হাসপাতালে আরও ৫০০ শয্যা যুক্ত হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে শয্যাসংকটের কারণে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে ফিরিয়ে দিতে হয়। নতুন ভবন চালু হলে আরও বেশি রোগীকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া স্থাপন করেছিলেন বলেও জানান পরিচালক। তাঁর ভাষ্য, খালেদা জিয়ার জন্মদিনে তাঁর ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি