খুঁজুন
                               
, ,
           

কেন তরুণরা আবার সাহিত্য উৎসবমুখী?

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
কেন তরুণরা আবার সাহিত্য উৎসবমুখী?

মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের দাপটে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে—এমন আলোচনা বহুদিনের। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু আয়োজন যেন সেই ধারণায় নতুন প্রশ্ন তুলছে। তরুণদের অংশগ্রহণে সাহিত্য উৎসব, লেখালেখির কর্মশালা, বই পড়ার কর্মসূচি ও ক্যাম্পাসভিত্তিক সাহিত্য আয়োজন বাড়ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—ডিজিটাল যুগে তরুণরা কি আবার সাহিত্য ও বইয়ের কাছে ফিরছে?

গত ৮ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হৃদয়ে সাহিত্য’-এর প্রথম বার্ষিক সাহিত্য উৎসব। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা, পাঠাভ্যাস, সৃজনশীলতা এবং নবীন লেখক তৈরির লক্ষ্যেই আয়োজনটি করা হয়।

শুধু এই একটি আয়োজন নয়, চলতি বছর তরুণদের কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বই পড়া ও সাহিত্যচর্চার নানা উদ্যোগ দেখা গেছে। জুনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের বছরব্যাপী বই পড়া কার্যক্রম শেষে ১৪৫ জন পাঠক-শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ছিলেন।

তরুণদের কাছে সাহিত্য উৎসব এখন কেবল বই কেনাবেচা বা কবিতা শোনার জায়গা নয়। লেখকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, কবিতা পাঠ, গল্প লেখা, আলোচনা, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে একটি সামাজিক অভিজ্ঞতা।

এই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহিত্যচর্চার সুযোগ থাকলেও সেখানে পাঠকের সঙ্গে লেখকের সম্পর্ক অনেক সময় ভার্চুয়াল পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে। সাহিত্য উৎসব সেই সম্পর্ককে নিয়ে আসে সামনাসামনি পরিসরে।

তরুণদের জন্য তাই একটি সাহিত্য উৎসব একই সঙ্গে বই, বন্ধুত্ব, সৃজনশীলতা ও নিজের ভাবনা প্রকাশের জায়গা হয়ে উঠছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অনেক সময় বই পড়ার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবতা কিছুটা ভিন্নও হতে পারে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব বা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বইয়ের আলোচনা, লেখকের সাক্ষাৎকার, কবিতা পাঠ কিংবা বইয়ের রিভিউ তরুণদের নতুন বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।

অর্থাৎ যে তরুণের হাতে সারাক্ষণ স্মার্টফোন, তিনিই আবার সেই ফোনের মাধ্যমে কোনো লেখক বা বই সম্পর্কে জানতে পেরে বই কিনতে পারেন, সাহিত্য অনুষ্ঠানে যেতে পারেন কিংবা নিজেই লিখতে শুরু করতে পারেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচিতেও বই পড়ার মাধ্যমে কিশোর-তরুণদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তরুণদের সাহিত্য উৎসবমুখী হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করতে পারে।

প্রথমত, নিজের কথা বলার জায়গার প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবাই কথা বললেও গভীরভাবে নিজের চিন্তা প্রকাশের সুযোগ সীমিত। সাহিত্য সেই জায়গাটি তৈরি করে।

দ্বিতীয়ত, মানসিক বিরতি।

সারাক্ষণ নোটিফিকেশন, ভিডিও ও দ্রুত বদলে যাওয়া কনটেন্টের মধ্যে বই পড়া অনেকের কাছে মনোযোগ ধরে রাখার আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

তৃতীয়ত, কমিউনিটি।

একই ধরনের বই পড়েন বা লেখালেখি করেন—এমন মানুষের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ তরুণদের সাহিত্য আয়োজনের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।

চতুর্থত, নতুন লেখক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা।

এখন প্রকাশের সুযোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লেখা প্রকাশের পাশাপাশি সাহিত্য উৎসব ও লেখালেখির কর্মশালা তরুণদের নিজেদের লেখাকে আরও পরিণত করার সুযোগ দিচ্ছে।

এর উদাহরণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্ক্রিপ্টোরিয়া ন্যাশনাল লিটারারি ফেস্ট’-এর কথাও বলা যায়। সেখানে প্রবন্ধ, গল্প ও গবেষণা প্রস্তাবনা নিয়ে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি কর্মশালা, প্যানেল আলোচনা ও সাহিত্যকেন্দ্রিক বিভিন্ন আয়োজন রাখা হয়েছিল।

এখানেই কিছুটা সতর্ক হওয়া দরকার। কয়েকটি সাহিত্য উৎসবে তরুণদের বড় উপস্থিতি দেখেই সার্বিকভাবে বলা যায় না যে দেশের তরুণদের বই পড়ার অভ্যাস ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।

বরং বলা যায়, সাহিত্যকে তরুণদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ধরন বদলাচ্ছে। বইয়ের পাশাপাশি আলোচনা, উৎসব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, লেখকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং সৃজনশীল কর্মশালা—সব মিলিয়ে সাহিত্যচর্চার নতুন পরিসর তৈরি হচ্ছে।

জুলাইয়ে শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত ‘বই পড়া উৎসব’-এর লক্ষ্যও ছিল মোবাইল ফোননির্ভর প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা।

সম্ভবত পুরো বিষয়টিকে এভাবেই দেখা যায়। আগে সাহিত্যচর্চাকে অনেক তরুণের কাছে একাকী বা একাডেমিক বিষয় মনে হতে পারে। এখন সেটিই উৎসব, আড্ডা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

ফলে বই শুধু তাকের ওপর রাখা একটি বস্তু নয়; সেটিকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে কমিউনিটি ও অভিজ্ঞতা।

ডিজিটাল বিনোদনের এই সময়ে তরুণরা হয়তো প্রযুক্তি থেকে দূরে সরে সাহিত্যে ফিরছে না। বরং প্রযুক্তিকে সঙ্গে নিয়েই সাহিত্যের কাছে নতুনভাবে ফিরছে।

আর সেই কারণেই সাহিত্য উৎসবের ভিড়কে শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের দর্শকসংখ্যা হিসেবে না দেখে, তরুণ প্রজন্মের চিন্তা, পরিচয় ও সৃজনশীলতার পরিবর্তিত অভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

কালের আলো/এসএ

অপরাধ তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা পেল এপিবিএন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
অপরাধ তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা পেল এপিবিএন

জাতীয় সংসদে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের পুরোনো অধ্যাদেশ বাতিল করে এপিবিএনের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা হলো। নতুন আইনে বাহিনীটির দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—প্রথমবারের মতো এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্পষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ন্যূনতম সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশনস অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালনা করতে পারবেন।

আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও মানব পাচার, ধর্ষণ, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ, গুম এবং জমি দখলের মতো গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে এপিবিএন সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের নির্ধারিত ভিআইপিদের নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বও বাহিনীটির ওপর থাকছে।

নতুন আইনে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন ও এয়ারপোর্ট ব্যাটালিয়নের মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে এপিবিএনের একক কাঠামোর অধীনে পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে।

তদন্তের প্রয়োজনে এপিবিএন নিজস্ব ডিটেনশন সেল, ব্যারাক ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে। পাশাপাশি বাহিনীর সদর দপ্তরে সাইবার সেল ও গবেষণা ইউনিট গড়ে তোলার বিধান রাখা হয়েছে।

এপিবিএন পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অ্যাডিশনাল আইজিপি) নেতৃত্বে পরিচালিত হবে এবং আইজিপির সার্বিক তদারকিতে থাকবে। প্রয়োজনে পুলিশ বাহিনীর বাইরে থেকেও আইনজীবী, মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও বিচারকদের মতো বিশেষজ্ঞদের চুক্তিভিত্তিক বা প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার পর সব সদস্যের জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এদিকে নতুন আইনে এপিবিএনের বিচারিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরোনো অধ্যাদেশের ‘পুলিশ-প্রধান আদালত’ ব্যবস্থার পরিবর্তে এপিবিএন বিশেষ ও আপিল আদালতে অসামরিক বিচার বিভাগের সদস্যদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত এপিবিএন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এবং বিশেষ এপিবিএন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আপিল আদালতে আবেদন করা যাবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

র‍্যাবের জায়গায় এসআরবি, সংসদে আইন পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
র‍্যাবের জায়গায় এসআরবি, সংসদে আইন পাস

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

বিলটির ওপর বিরোধী দল সাতটি আপত্তি জানায়। তাদের বক্তব্য, র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের আগে জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ পরামর্শ, স্বাধীন নজরদারি ও শক্তিশালী জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। র‍্যাবের জনবল, সম্পদ ও রেকর্ড সরাসরি এসআরবিতে হস্তান্তর, গ্রেপ্তার ও আটকের ক্ষমতা এবং অভিযোগ তদন্তের কাঠামো নিয়েও তারা আপত্তি তোলে।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন নামে একই ধরনের বাহিনী গঠন জনগণ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। তিনি বিলটি পাস না করার আহ্বান জানান।

পাস হওয়া আইনে জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য এসআরবি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। ইউনিটটির সদর দপ্তর হবে ঢাকায়। একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে এসআরবি।

আইনে এসআরবিকে বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক ও সাইবার অপরাধ দমন, গুম ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তও করতে পারবে ইউনিটটি।

এ ছাড়া এসআরবির সদস্যদের কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা থাকবে। তবে এসব ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োগ করতে হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও জব্দ করা আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানার হেফাজতে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।

শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি, পদোন্নতি বন্ধসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনো সদস্যকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। বিভাগীয় আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগও থাকবে।

আইনে সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত ও অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিরসনে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিটিতে এসআরবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, বিচার বিভাগ এবং মানবাধিকার বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব থাকবে।

আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে র‍্যাব গঠনসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিধান রহিত হবে। একই সঙ্গে র‍্যাবের জনবল, ক্ষমতা, সম্পদ, তহবিল, সম্পত্তি, নথিপত্র ও রেকর্ড এসআরবির অনুকূলে স্থানান্তর ও ন্যস্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

বিরোধী সদস্যরা অবশ্য র‍্যাবের পুরোনো নথি ও রেকর্ড হস্তান্তর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, গুমসহ গুরুতর অপরাধের মামলায় এসব নথি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হতে পারে। তাই হস্তান্তরের আগে নথি ও আলামতের তালিকা তৈরি এবং সেগুলো সংরক্ষণের পৃথক বিধানের দাবি জানান তারা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ক্যালিফোর্নিয়ায় ছিল রাশিয়ার উপনিবেশ, আজও দাঁড়িয়ে ফোর্ট রস

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
ক্যালিফোর্নিয়ায় ছিল রাশিয়ার উপনিবেশ, আজও দাঁড়িয়ে ফোর্ট রস

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে আজও দাঁড়িয়ে আছে রাশিয়ার এক বিস্মৃত উপনিবেশের স্মৃতি—ফোর্ট রস। ১৮১২ থেকে ১৮৪২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩০ বছর এই অঞ্চলের একটি অংশ রুশ সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। সেই সময় এটি ‘রাশিয়ান আমেরিকা’র অংশ হিসেবে পরিচালিত হতো। সোনোমা থেকে সান ফ্রান্সিসকোর দিকে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ এগোলেই দেখা মেলে ছোট্ট একটি অর্থোডক্স গির্জা ও কাঠের দুর্গসদৃশ স্থাপনার। রুশ ভাষায় যার নাম ‘ক্রেপস্ত রস’।

আলাস্কার খাদ্যসংকট থেকেই ক্যালিফোর্নিয়ায় রুশদের আগমন

১৬০০ ও ১৭০০-এর দশকে রুশ পশম ব্যবসায়ীরা সাইবেরিয়া পেরিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে পৌঁছান। পরে আলাস্কায় রুশ বসতি গড়ে ওঠে। তবে সেখানে কৃষিকাজ কঠিন হওয়ায় খাদ্যসংকট ছিল বড় সমস্যা। ১৮০৬ সালে রুশ-আমেরিকান কোম্পানির পরিচালক নিকোলাই রেজানোভ সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরে আসেন। আলাস্কার খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ক্যালিফোর্নিয়ার উষ্ণ ও কৃষির উপযোগী পরিবেশ তাঁকে আকৃষ্ট করে। এরপর উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা নেয় রুশরা। ১৮১২ সালে তৈরি হয় ফোর্ট রস। শুরুতে সেখানে ২৫ জন রুশ ও প্রায় ৮০ জন স্থানীয় আলাস্কান শিকারি ছিলেন।

বহুজাতিক জনপদে পরিণত হয়েছিল ফোর্ট রস

সময়ের সঙ্গে ফোর্ট রস শুধু সামরিক ঘাঁটি না থেকে বহুজাতিক বাণিজ্যিক ও উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৮৩০-এর দশকে সেখানে প্রায় ৪০০ মানুষ বসবাস করতেন। রুশ ও আলাস্কানদের পাশাপাশি স্থানীয় কাশায়া পোমো ও কোস্ট মিউক জনগোষ্ঠীর মানুষও সেখানে বসবাস করতেন। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিয়ে ও পারিবারিক সম্পর্কও গড়ে উঠেছিল। ফিনল্যান্ড ও হাওয়াই থেকেও দক্ষ কারিগরেরা সেখানে কাজ করতে আসতেন।

জাহাজ, কাচ ও ইট তৈরির কেন্দ্র

ফোর্ট রসে কৃষির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের উৎপাদন কর্মকাণ্ড চলত। এখানে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রথম সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মিত হয়। তৈরি করা হতো ইট ও কাচ। ছিল বাতাসচালিত কলও। ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়াইন শিল্পের ইতিহাসেও ফোর্ট রসের নাম রয়েছে। ১৮১৭ সালে বর্তমান সোনোমা কাউন্টিতে রুশরা প্রথম আঙুরগাছ রোপণ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় আঙুর দিয়ে তারা অল্প পরিমাণে ওয়াইনও তৈরি করত।

কেন টিকল না রুশ উপনিবেশ?

বাণিজ্যিক ও কৃষি কর্মকাণ্ড চললেও ফোর্ট রস শেষ পর্যন্ত রুশদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এটি যথেষ্ট লাভজনক হয়ে ওঠেনি এবং আলাস্কার বসতিগুলোতেও পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। অতিরিক্ত শিকারের কারণে সমুদ্রভোঁদড়ের সংখ্যা কমে যায়। পাশাপাশি উপকূলের কুয়াশা ও ইঁদুরের উপদ্রবে কৃষি উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হয়। ১৮৩৯ সালে হাডসনস বে কোম্পানি রুশ আলাস্কায় খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে রাজি হলে ক্যালিফোর্নিয়ায় রুশ কৃষি ও উৎপাদনকেন্দ্র রাখার প্রয়োজন আরও কমে যায়। ১৮৪১ সালে সুইস অভিবাসী জন সাটার রুশদের কাছ থেকে ফোর্ট রসের ভবন ও অন্যান্য সম্পদ কিনে নেন। এর মধ্য দিয়েই ক্যালিফোর্নিয়ায় রুশ উপনিবেশের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

ইতিহাসের পাতায় রয়ে গেছে রুশদের ছাপ

রুশরা চলে গেলেও ফোর্ট রস ও আশপাশের অঞ্চলে তাদের উপস্থিতির চিহ্ন রয়ে গেছে। সান ফ্রান্সিসকোর রুশ হিল, রুশ রিভার ও বডেগা বে—এসব নামেও সেই ইতিহাসের প্রতিফলন দেখা যায়। আজ ফোর্ট রস তুলনামূলক নির্জন হলেও কাঠের দুর্গ, অর্থোডক্স গির্জা ও পুরোনো স্থাপনাগুলো ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসের এক বিস্মৃত অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে আছে। প্রায় দুই শতাব্দী আগে ক্যালিফোর্নিয়ার এই উপকূলে রাশিয়ার যে ছোট্ট উপনিবেশ গড়ে উঠেছিল, তার গল্প আজও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে এক বিস্ময়কর অধ্যায়।

কালের আলো/এসএ