খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রীও দিলেন ডিজিটাল হাজিরা, প্রশাসনে নতুন বার্তা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীও দিলেন ডিজিটাল হাজিরা, প্রশাসনে নতুন বার্তা

সরকারপ্রধান হয়েও দাফতরিক নিয়মের বাইরে থাকছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তিনিও এখন দিচ্ছেন ডিজিটাল হাজিরা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে নিজের দফতরে প্রবেশের আগে নির্ধারিত ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপস্থিতি নিবন্ধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অফিসে প্রবেশের পাশাপাশি কর্মদিবস শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত নিয়মে হাজিরা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন ব্যক্তি নিজেই ডিজিটাল হাজিরা দেওয়ায় বিষয়টিকে দাফতরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, সরকারপ্রধান যখন নিজেই নির্ধারিত উপস্থিতি ব্যবস্থার আওতায় থাকেন, তখন অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশাটিও আরও স্পষ্ট হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ডিজিটাল হাজিরা শুধু কর্মস্থলে উপস্থিতির হিসাব রাখার ব্যবস্থা নয়; এটি প্রশাসনে জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার একটি অংশ। প্রধানমন্ত্রীর নিজের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

দাফতরিক নথিতেও কমছে আনুষ্ঠানিকতা
ডিজিটাল হাজিরার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে সরকারি নথিপত্রের ভাষাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র পরিবর্তে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ডিজিটাল হাজিরা তার অন্যতম দৃশ্যমান উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি কাজে তার ছবি ব্যবহার না করা, প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমানো এবং চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের ট্রাফিক ব্যবস্থায় অযথা বাধা না দেওয়ার মতো কয়েকটি উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

অনেকেই মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর নিজের ডিজিটাল হাজিরা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার নতুন বার্তা হিসেবে সামনে এসেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

সবুজ-জলধারায় মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে শালিখা ইকোপার্ক

মাগুরা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সবুজ-জলধারায় মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে শালিখা ইকোপার্ক

ব্যস্ত জীবনের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে চাইলে মাগুরার শালিখা ইকোপার্ক হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য। শালিখা উপজেলার আড়পাড়া কানুদার খালের তীরে গড়ে ওঠা এ পার্কে সবুজ প্রকৃতি, খালের শান্ত জলধারা ও বিনোদনের নানা আয়োজন দর্শনার্থীদের টানছে।

পার্কে প্রবেশ করতেই এক পাশে চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ সবুজ ধানখেত, অন্য পাশে বয়ে চলেছে কানুদার খাল। চারপাশের বৃক্ষরাজি, খোলা আকাশ ও নির্মল বাতাসের সঙ্গে খালের পানিতে চলাচল করা নৌকা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মনোরম পরিবেশ। ফলে স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও জায়গাটি ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠছে।

শুধু বিনোদন নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও পার্কটির গুরুত্ব রয়েছে। পার্কজুড়ে বিভিন্ন বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। এতে একদিকে সবুজের পরিমাণ বেড়েছে, অন্যদিকে তৈরি হয়েছে পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য অনুকূল পরিবেশ।

কানুদার খাল ও আশপাশের এলাকায় খাল পুনঃখনন এবং মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা কাছ থেকে জলজ প্রকৃতি উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন।

দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য কানুদার খালে রয়েছে প্যাডেল বোট ও সাধারণ নৌকায় ভ্রমণের ব্যবস্থা। শান্ত জলে নৌকায় ঘুরে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখার সুযোগ ভ্রমণের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়।

পার্কের ভেতরে হাঁটার জন্য রয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য রয়েছে দুই কক্ষের একটি কটেজ।

শিশুদের জন্যও রয়েছে আলাদা বিনোদনের ব্যবস্থা। দোলনা, স্লাইডসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী ও রাইড থাকায় পরিবারের ছোট সদস্যরাও এখানে আনন্দ করার সুযোগ পাচ্ছে।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা পিকনিক আয়োজন—বিভিন্ন ধরনের অবসর বিনোদনের জন্য জায়গাটি উপযোগী। মাগুরা ও যশোরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আড়পাড়া বাজারে এসে রিকশা, অটোরিকশা কিংবা থ্রি-হুইলারে সহজেই পার্কে পৌঁছানো যায়।

প্রকৃতি, জলধারা ও বিনোদনের সমন্বয়ে শালিখা ইকোপার্ক ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে আকর্ষণীয় অবকাশকেন্দ্র হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে। সবুজ ধানখেত, কানুদার খাল, বৃক্ষরাজি, নৌভ্রমণ ও শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী পরিবেশ।

সঠিক পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন অব্যাহত রাখা গেলে ভবিষ্যতে শালিখা ইকোপার্ক মাগুরার একটি উল্লেখযোগ্য বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আরও পরিচিতি পেতে পারে। প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে কানুদার খালের তীরে গড়ে ওঠা এ সবুজ প্রাঙ্গণ হতে পারে সুন্দর একটি গন্তব্য।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জাল-প্লাস্টিকের ফাঁসে হুমকিতে লেম্বুরবনের জীববৈচিত্র্য

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
জাল-প্লাস্টিকের ফাঁসে হুমকিতে লেম্বুরবনের জীববৈচিত্র্য

কুয়াকাটার লেম্বুরবন সৈকতে সমুদ্রভাঙনের পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পরিত্যক্ত মাছ ধরার জালের দূষণ নতুন সংকট তৈরি করেছে। সৈকতের পাশে থাকা গাছগুলোর শিকড় ও কাণ্ডে জড়িয়ে আছে ছেঁড়া জাল ও নানা ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য। এতে একদিকে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে উপকূলীয় ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য।

সমুদ্রের ঢেউ ও স্রোতের টানে লেম্বুরবন সৈকতের বালু সরে যাওয়ায় অনেক গাছের শিকড় উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এসব শিকড়ের ফাঁকে আটকে থাকা প্লাস্টিক ও জালের স্তূপ এবং কাণ্ডে জড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত জাল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্থানীয় জেলে সোহেল মাঝি জানান, মাছ ধরার সময় জাল ছিঁড়ে গেলে বা হারিয়ে গেলে অনেক সময় তা সমুদ্রে থেকে যায়। আবার নৌকা থেকে ফেরার পর ছেঁড়া জাল সৈকত বা আশপাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে রাখার ঘটনাও ঘটে। নির্দিষ্ট স্থানে জাল ও জালের বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা থাকলে জেলেরা সেখানে এসব বর্জ্য জমা দিতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।

লেম্বুরবনের ব্যবসায়ী ফারুক বলেন, পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সৈকতে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যও জমছে। এর মধ্যে ছেঁড়া মাছ ধরার জালও দেখা যায়। এসব বর্জ্য সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি গাছপালা ও পরিবেশের ক্ষতি করছে।

পরিবেশকর্মী নজরুল ইসলাম বলেন, সৈকতে ছড়িয়ে থাকা জালের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও প্লাস্টিক ও নাইলনের জাল সহজে নষ্ট হয় না। এসব জালে বন্যপ্রাণী আটকে যেতে পারে এবং পর্যটকদের জন্যও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কুয়াকাটাকে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর বিচ ম্যানেজমেন্ট প্রয়োজন।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, পরিত্যক্ত, হারিয়ে যাওয়া বা ফেলে দেওয়া মাছ ধরার সরঞ্জামকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘অ্যাব্যান্ডন্ড, লস্ট অর ডিসকার্ডেড ফিশিং গিয়ার’ বা ‘ঘোস্ট গিয়ার’ বলা হয়। এসব জালে মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, কচ্ছপ, ডলফিন ও তিমিসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী আটকে মারা যেতে পারে।

তার ভাষ্য, সমুদ্রের তলদেশে আটকে থাকা জাল প্রবাল, সি-গ্রাসসহ বিভিন্ন জলজ আবাসস্থলের ক্ষতি করে। কৃত্রিম উপাদানে তৈরি জাল সহজে পচে না; বরং সময়ের সঙ্গে ভেঙে প্লাস্টিক দূষণ বাড়ায়। হারিয়ে যাওয়া জাল দীর্ঘদিন পানিতে থেকে মাছ ধরতে থাকলে তাকে ‘ঘোস্ট ফিশিং’ বলা হয়, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করে।

বখতিয়ার রহমান বলেন, শুধু সচেতনতা তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। জাল কেনা, ব্যবহার, হারিয়ে গেলে রিপোর্ট, উদ্ধার ও পুনর্ব্যবহার—পুরো প্রক্রিয়াকে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। জালে মালিক বা নৌকার পরিচয় নম্বর যুক্ত করা, পুরোনো জাল ফেরত দিলে প্রণোদনা দেওয়া এবং কুয়াকাটা, আলীপুর ও মহিপুরে জাল সংগ্রহকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

বন বিভাগের লেম্বুরবন বিট কর্মকর্তা আমির হামজা বলেন, উপকূলীয় গাছগুলো মাটি ও বালু ধরে রাখার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ঢেউ ও স্রোতের কারণে বালু সরে গিয়ে গাছের শিকড় উন্মুক্ত হওয়ায় সেগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে। এর সঙ্গে জাল জড়িয়ে থাকলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও টিকে থাকা আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই দ্রুত ও সতর্কতার সঙ্গে জাল অপসারণ প্রয়োজন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পরিদর্শক মো. নাজমুল হাসান বলেন, সাগরে মাছ ধরার সময় জাল টেনে তুলতে না পারলে অনেক জেলে তা কেটে দেন। জালে প্যাঁচ লাগলেও কখনো কখনো জাল কেটে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্রোতের সঙ্গে এসব জাল সৈকতে চলে আসে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি সৈকতের সৌন্দর্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি জানান, বিষয়টি মহিপুর ও আলীপুর মাছবাজারের গদি মালিকদের অবহিত করা হবে। একই সঙ্গে সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে পৌরসভাকে জানানো হবে। লেম্বুরবন, তিন নদীর মোহনা, কাউয়ারচর ও গঙ্গামতির চরে দায়িত্ব পালনের সময় জেলেদের পরিত্যক্ত জাল না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হবে। এরপরও কেউ শনাক্ত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, সৈকতে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য বর্জ্য পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং এসব জাল অপসারণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সৈকতে যাতে এ ধরনের বর্জ্য না ফেলা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা হবে।

সমুদ্রভাঙনে উন্মুক্ত হয়ে পড়া শিকড় আর তাতে জড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত জাল কুয়াকাটার উপকূলীয় বনাঞ্চলের নাজুক অবস্থারই জানান দিচ্ছে। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও পরিত্যক্ত মাছ ধরার জালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না করা গেলে এখানকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

মাঠজুড়ে গর্ত-জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির সংকটে শিক্ষার্থীরা

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
মাঠজুড়ে গর্ত-জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির সংকটে শিক্ষার্থীরা

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ইটালুকান্দা আদর্শগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে সীমানাপ্রাচীরের পাশের মাটি ধসে এ গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন মাঠ সংস্কার না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের একাংশ এখনো অসম্পূর্ণ। প্রাচীরের পাশে বৃষ্টির পানির প্রবাহে মাটি ধসে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্তে পানি জমে পুকুরের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে মাঠে শিক্ষার্থীদের চলাচল ও খেলাধুলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়ে প্রবেশের রাস্তাটিও বেহাল। স্থানীয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে নির্মিত রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে গেছে। গাইডওয়াল না থাকায় বৃষ্টির পানিতে রাস্তার পাশের মাটি ধসে পড়ছে। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল সরকার বলেন, ভবনের বড় কোনো সংকট না থাকলেও বিদ্যালয়ে বেশ কিছু অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে সীমানাপ্রাচীরের পাশে মাটি ধসে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সেখানে গাইডওয়াল নির্মাণ করে মাটি ভরাট করা হলে মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের শৌচাগারটিও ভগ্নদশায় রয়েছে। এর পাশাপাশি একমাত্র নলকূপটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকায় শিক্ষার্থীদের সুপেয় পানির সংকটে পড়তে হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

ইটালুকান্দা গ্রামের সমাজসেবক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠের বর্তমান অবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত মাঠ ভরাট এবং গাইডওয়াল নির্মাণ করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মাঠের গর্ত ভরাট, সীমানাপ্রাচীরের পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ, নষ্ট নলকূপ মেরামত এবং শৌচাগার সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

রৌমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিষয়টি জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি