খুঁজুন
                               
, ,
           

মেধা এবং যোগ্যতাই হয়ে উঠুক একজন সেনা অফিসারের পদোন্নতি অর্জনের প্রধান মাপকাঠি: প্রধানমন্ত্রী

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
মেধা এবং যোগ্যতাই হয়ে উঠুক একজন সেনা অফিসারের পদোন্নতি অর্জনের প্রধান মাপকাঠি: প্রধানমন্ত্রী

মেধা এবং যোগ্যতাই হয়ে উঠুক একজন সেনা অফিসারের পদোন্নতি অর্জনের প্রধান মাপকাঠি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সময়ের চাহিদানুযায়ী আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, পদোন্নতি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করলে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘সেনাসদর সিলেকশন বোর্ড’ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।’ তিনি বলেন, পদোন্নতির জন্য একজন অফিসারের শারীরিক যোগ্যতা এবং ফিজিক্যাল এপিয়ারেন্স অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত।

রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি, সাইবার ও তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমসহ বহুমাত্রিক ও জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ফলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সহনশীলতাকে বিবেচনায় রেখে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই মডেল অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, প্রথম পর্বের এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল হতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান তাকে স্বাগত জানান। শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করায় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি কেবল সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতায় নয়
তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারপ্রধান এবং একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি কেবল সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতায় নয়, বরং সমগ্র জাতির ঐক্য, প্রস্তুতি ও সহনশীলতায় নিহিত।’ তিনি বলেন, ‘সে লক্ষ্যেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। যেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে| এই নীতিমালার উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়, বরং সম্ভাব্য যে কোনো সংকট, আগ্রাসন বা দুর্যোগ মোকাবিলায় সদাপ্রস্তুত, স্থিতিশীল এবং আত্মনির্ভরশীল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ সর্বতোভাবে সুরক্ষিত থাকে।’

সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চায়
উপস্থিত জেনারেলদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরণ বদলেছে। নিরাপত্তা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা। তাই ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চায়। তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য একটি রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন। যেখানে গুরুত্ব পাবে সংখ্যার পরিবর্তে সক্ষমতা, সম্প্রসারণের পাশাপাশি কার্যকারিতা, প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে যৌথতার ওপর গুরুত্বারোপ।

পদায়ন কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে
সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো হলো- সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠন, সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার, যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি ও কৌশল প্রণয়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়নে যথানিয়মে যোগ্যদের বাছাই করে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত এই সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমেই পদায়ন কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীতে আগামী দিনের দূরদর্শী এবং পেশাদার নেতৃত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হবে বলে বিশ্বাস করি।’

সেনাবাহিনীকে বরাবরই আমার বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলেই মনে করি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যে আমি একধরনের গৌরববোধ করি। আবার সেনাবাহিনীর কোনো নেতিবাচক খবরে অস্বস্তি অনুভব করি|’ তিনি বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট আমার গভীর আবেগ এবং স্মৃতিময় স্থান। আপনারা জানেন, ঘরে-বাইরে সেনা পরিবেশেই আমার কিশোর ও তারুণ্যের দিনগুলো কেটেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনীর নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং বিধিবিধান সম্পর্কেও আমি অনেকটা ওয়াকিবহাল। এসব কারণে সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর হই। সেনা পরিবেশে অনুসৃত শৃঙ্খলা এবং নিয়মতান্ত্রিক অনুশাসনের মধ্যেই আমি আমার বাবা-মা এবং একমাত্র ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বেড়ে উঠেছি। সেনাবাহিনীকে বরাবরই আমার বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলেই মনে করি।’

মেজর জিয়া সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসে পরিণত করেছেন
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়া সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসে পরিণত করেছেন| নিঃসন্দেহে দেশের সেনাবাহিনীর জন্য এটি একটি গৌরবময় অধ্যায়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার পরপরই সেনাবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট এবং সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টির একধরনের অপপ্রয়াস লক্ষ্যণীয় ছিল। সেই অস্থির সময়েও সাবেক সেনাপ্রধান শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমেই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছেন। পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলমান প্রায় ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বর্ডার রোড’ প্রকল্প শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।’ এছাড়া পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১২শ বর্গমিটার এলাকা মাইন ও বিস্ফোরকমুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে নিয়োজিত থেকে শাহাদতবরণকারী ২১৭ জন বীর সেনা সদস্যের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম আজ সুপ্রতিষ্ঠিত
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম আজ সুপ্রতিষ্ঠিত বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে বিশেষ গৌরব ও মর্যাদা অর্জন করেছে।’ তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ সুদান এবং মালিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সম্মান সমুন্নত রেখেছেন। তবে এই গৌরবময় অর্জনের পেছনে রয়েছে আত্মোৎসর্গের ইতিহাস। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানে সংঘটিত ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী সদস্য শহীদ হন। আমি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সহায়তা
তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনী যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, গণতন্ত্রকামী জনগণ সেটি ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সহায়তা ছিল মূলত গণতান্ত্রিক বিধি-বিধানের প্রতি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসের অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এছাড়াও ˆবৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সংকটময় পরিস্থিতিতেও তেল সংরক্ষণাগারগুলোতে দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান এবং জুলাই গণজাগরণ ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ যেকোনো জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনী সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের পেশাদারিত্ব হারিয়েছিল। সেনাবাহিনীকেও অনাকাঙ্ক্ষিত বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে সেনাবাহিনীকে পুনরায় নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব দিয়ে জনগণের আস্থায় থাকতে হবে।

সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই আপসের সুযোগ নেই
ফিজিক্যাল ফিটনেস তথা নিয়মিত শারীরিক কসরতের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করতে গিয়ে প্রয়াত মার্কিন জেনারেল ‘নরম্যান সোয়ার্জকফ’-এর একটি মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জেনারেল এইচ নরম্যান সোয়ার্জকফ বলেছিলেন ‘দ্য মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্য লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়্যার।’ তাই সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই আপসের সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন পর্ষদের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাফল্য, গৌরব ও পেশাদারিত্বের ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় করবেন। বর্তমান সরকারের দর্শন হচ্ছে, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

কালের আলো/এম/এএইচ

রন্ধনশিল্পী মাদিহাকে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফারুক হাসানের অভিনন্দন, আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ ফাইনালে দেখার প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
রন্ধনশিল্পী মাদিহাকে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফারুক হাসানের অভিনন্দন, আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ ফাইনালে দেখার প্রত্যাশা

আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’ প্রতিযোগিতার সেরা পাঁচ প্রতিযোগীর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন কানাডিয়ান-বাংলাদেশি সমসাময়িক রন্ধনশিল্পী শেফ মাদিহা তুরশীন। প্রকৃতি, টেকসই উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যনির্ভর আধুনিক রন্ধনশৈলীর জন্য তিনি এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। বিশ্বজুড়ে রন্ধনশিল্পের অসাধারণ প্রতিভাকে তুলে ধরার লক্ষে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সেমিফাইনালে উন্নীত হওয়ায় মাদিহা তুরশিনকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি হলেন ফারুক হাসান।

রোববার (২৬ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি রন্ধনশিল্পী শেফ মাদিহা তুরশীন এর অনন্য এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিষয় তুলে ধরেছেন। প্রতিটি বাঙালির হৃদয়-মস্তিষ্ককে নাড়িয়ে দিয়েছেন। ফাইনালে তাকে দেখার প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তাঁর জন্য ভোট প্রার্থনা করেছেন। মাহিদার পরিহিত শেফ-পোশাকটি বাংলাদেশে তৈরি এবং তাঁর বাবা এম এ মোত্তালিব খোকন এবং মা শামীমা নাসরিন চুমকি—উভয়েই দীর্ঘ সময় ধরে বিজিএমইএ-এর গর্বিত সদস্য বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মাদিহার জন্য প্রতিটি ভোট আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ খাদ্য ঐতিহ্য, প্রকৃতিনির্ভর সমসাময়িক রন্ধনশিল্প এবং টেকসই কুলিনারি দর্শনকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি হলেন ফারুক হাসান বলেন, ‘একজন আধুনিক ধারার শেফ, রন্ধন-অভিজ্ঞতা পরিকল্পনাকারী ও ফুড আর্টিস্ট হিসেবে মাদিহা ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। তাঁর এই অনন্য যাত্রার মাধ্যমে তিনি কেবল নিজের প্রতিভাই তুলে ধরছেন না, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও করছেন অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে। এই অর্জনের বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ তাঁর পরিহিত শেফ-পোশাকটি গর্বের সাথে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বা বাংলাদেশে তৈরি। এটি আমাদের দেশের বিশ্বখ্যাত পোশাক শিল্পের এক শক্তিশালী প্রতীক—যে শিল্প তার গুণমান, কারুকার্য, উদ্ভাবনী শক্তি এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকারের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।’

তিনি বলেন, ‘এই গর্বের মুহূর্তটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে এই বিষয়টি যে, মাদিহার বাবা এম এ মোত্তালিব খোকন এবং মা শামীমা নাসরিন চুমকি—উভয়েই দীর্ঘ সময় ধরে বিজিএমইএ-এর গর্বিত সদস্য। এটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সাথে তাঁদের গভীর সম্পৃক্ততারই প্রতিফলন—যে শিল্প বিশ্বজুড়ে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল করে চলেছে। আপনাদের অনেকের ভোটেই তিনি সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছেন। আজ মাদিহার আবারও আমাদের সমর্থন প্রয়োজন। আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি ভোট প্রদানের মাধ্যমে তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠতে সহায়তা করার জন্য। প্রতিটি ভোটই হলো বাংলাদেশের জন্য, আমাদের প্রতিভার জন্য এবং আমাদের গর্বের জন্য একটি ভোট।’

ভোটারদের উদ্দেশ্যে ফারুক হাসান আরও বলেন, ‘আপনাদের সমর্থনে তিনি (মাদিহা তুরশীন) নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে পারবেন। অন্যদের এমন উদ্যোগে অনুপ্রাণিত করতে পারবেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের দেশের সুনাম আরও সুদৃঢ় করতে পারবেন। আমি মাদিহা তুরশিনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। আসুন, আমরা সবাই মিলে তাঁর পাশে দাঁড়াই এবং এই বৈশ্বিক স্বীকৃতিকে বাংলাদেশে বয়ে আনতে সহায়তা করি।’

ভোট দেওয়ার নিয়মাবলী

• কিউআর (QR) কোডটি স্ক্যান করুন অথবা ভোটিং পেজটি ভিজিট করুন (favchef.com/2026/madiha-turshin)।
• কমলা রঙের ‘Vote’ বোতামটিতে ট্যাপ করুন।
• “1 Vote – Free” অপশনটি নির্বাচন করুন।
• ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার ভোটটি ভেরিফাই বা নিশ্চিত করুন—এতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগবে।
• প্রতি ২৪ ঘণ্টা পর পর ফিরে আসুন এবং আবারও বিনামূল্যে ভোট দিন।

কালের আলো/জেএন/এএইচ

নতুন কুঁড়ির প্রথম আসরের পর্দা নামছে সোমবার, পুরস্কার দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
নতুন কুঁড়ির প্রথম আসরের পর্দা নামছে সোমবার, পুরস্কার দেবেন প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ রোমাঞ্চকর পথচলা শেষে পর্দা নামতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬’-এর প্রথম আসরের। আগামীকাল সোমবার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দেশব্যাপী আয়োজিত এই বিশাল ক্রীড়া উৎসবের জাতীয় পর্বের গ্র্যান্ড ফাইনাল ও জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

সোমবার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হতে যাওয়া এই সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের খুদে ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করতে মাঠের কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিকেল ৪টায় ভেন্যুতে আগমনের পর প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মধ্যে অনুষ্ঠিত বালিকা বিভাগের ফুটবল ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধ উপভোগ করবেন। ফুটবল ম্যাচ শেষে অনুষ্ঠিত হবে বালক ও বালিকা বিভাগের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল।

খেলা শেষে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং থিম সং-এর সাথে শিশু শিল্পীদের মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনা উপভোগ করবেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। প্রধান অতিথির দিকনির্দেশনামূলক ভাষণের পর বিজয়ী খুদে অ্যাথলেটদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে এবং তাদের সাথে অফিশিয়াল ফটো সেশনে অংশ নেবেন অতিথিবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এই ক্রীড়া মেগার আঞ্চলিক পর্বের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের সকল উপজেলা ও জেলা থেকে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার শিশু-কিশোর ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টস—এই ৮টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়।

আঞ্চলিক পর্ব পেরিয়ে গত ২০ জুলাই ঢাকার বিভিন্ন ভেন্যুতে শুরু হওয়া জাতীয় পর্বে ১০টি অঞ্চলের প্রায় ১,৭০০ ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা অংশ নেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা খেলোয়াড়দের ইতোমধ্যে বিশেষ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাছাইকৃত এসব খুদে প্রতিভাকে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) বিভিন্ন শাখায় রেখে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

পাশাপাশি এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কোমলমতি শিশুদের ডিজিটাল গ্যাজেট আসক্তি থেকে মুক্ত করে পুনরায় খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনা।

কালের আলো/এসএকে

ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ৪৫৮

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ৪৫৮

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪৫৮ জন রোগী।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৮ জন।

রোববার (২৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৭২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৮ জন, খুলনা বিভাগে ৪৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৬ জন, রংপুর বিভাগে ১০ জন এবং বরিশালে বিভাগে ৯৯ জন রয়েছেন।

এদিকে চলতি বছরে মোট ১১ হাজার ৯৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এর আগে গত বছর দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং মারা গিয়েছিলেন মোট ৪১৩ জন।

কালের আলো/এমএসআইপি