খুঁজুন
                               
, ,
           

গৌরবময় ৪০ বছরে এসএসএফ, ‘চেইন অব কমান্ডের’ বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলায় গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
গৌরবময় ৪০ বছরে এসএসএফ, ‘চেইন অব কমান্ডের’ বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলায় গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে হিসেব কষলে কেটে গেছে ৩৯টি বছর। পদ্মা-মেঘনা-যমুনায় জল গড়িয়েছে অনেক। দীর্ঘ সময়ে ভারী হয়েছে স্মৃতির মলাট। রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং ভিভিআইপি বিদেশি সম্মানিত অতিথিদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকারী স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) পা রেখেছে গৌরবময় ৪০ বছরে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উদযাপিত হয়েছে কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও আনুগত্যের মাপকাঠিতে বারবার কঠিন সব চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ আধুনিক ও সুসজ্জিত এই নিরাপত্তা বাহিনীটির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দরবার’ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানান এসএসএফ-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ সদস্যদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার বার্তা দেন। জানিয়ে দেন, একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফের পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। এসএসএফ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতারও ভূয়সী প্রশংসা করেন সরকারপ্রধান। তিনি এই বাহিনীটির সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের কথা মনে করিয়ে দেন। সেই বিষয়ে লক্ষ্য রাখতেও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, উন্নত বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য এসএসএফের প্রতি আহ্বান জানাই।’ এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ডের’ বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • অনুকরণীয় দায়িত্বশীলতায় এসএসএফ-এর প্রতিটি সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ
  • তারুণ্যেই নিবিড়ভাবে পরিচিত এসএসএফ-এর কর্মতৎপরতা ও দক্ষতার সঙ্গে
  • দক্ষতা এবং সুনিপুণ নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে এসএসএফকে
  • এসএসএফের ফায়ারিং রেঞ্জে নিশানা পরীক্ষা ও চমৎকার মহড়া উপভোগ
  • সময় ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ও বুদ্ধিমত্তা দীপ্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্ব
  • এসএসএফ-কে আরও চটপটে ও কর্মক্ষম করতে আধুনিক লজিস্টিকস সহায়তার প্রতিশ্রুতি

প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (পিএসএফ) হিসেবে ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরু করে এই বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট। ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পরিবর্তন হয় নাম। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) হিসেবে এই বিশেষায়িত বাহিনীর নতুন যাত্রা শুরু হয়। বিস্তৃত হয় দায়িত্বের পরিধি ও কার্যক্রমও। রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং ভিভিআইপি বিদেশি সম্মানিত অতিথিদের নিরাপত্তার দায়িত্ব দিয়ে নামকরণ হওয়া ‘এসএসএফ’ বর্তমান ডিজি মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরীর দক্ষ নেতৃত্বে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়েই নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। বিদেশি অতিথিরাও এসএসএফের আন্তরিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার প্রশংসা করেছেন বিভিন্ন সময়। ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দরবার’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং গভীর দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এসএসএফ সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুকরণীয় দায়িত্বশীলতায় এসএসএফ-এর প্রতিটি সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে নিজের বক্তব্যের শুরুতেই অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মেয়াদে সরকারপ্রধান থাকাকালে এবং সর্বশেষ তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে যখন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছিল। শুধু তাই নয়, তাঁর ইন্তেকালের পর বাংলাদেশের—এমনকি বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। এই অনুকরণীয় দায়িত্বশীলতার জন্য আমি এসএসএফ-এর প্রতিটি সদস্যকে আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

তারুণ্যেই নিবিড়ভাবে পরিচিত এসএসএফ-এর কর্মতৎপরতা ও দক্ষতার সঙ্গে
সরকারপ্রধান হিসেবে বর্তমানে প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ আমি এসএসএফ-এর কার্যক্রম অত্যন্ত কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করছি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবে এসএসএফ-এর কার্যক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বয়স থেকেই আমি এসএসএফ-এর কর্মতৎপরতা ও দক্ষতার সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত। এসএসএফ যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই সময়ের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বর্তমান সময়ের অনেক পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নিত্যনতুন ও বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এইসব আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়মিত ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখা অপরিহার্য। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, কর্মদক্ষতা, আধুনিক কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।’

দক্ষতা এবং সুনিপুণ নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে এসএসএফকে
সরকারপ্রধান তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা জানেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সেবায় দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী সরকারপ্রধান হিসেবে এসএসএফ আমার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে এবং সড়কে সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে আমি আমার গাড়িবহরের আকার অনেকটাই সীমিত করেছি। ফলে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে এসএসএফ-কে হয়তো দক্ষতা এবং সুনিপুণ নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে। আপনারা এই সীমিত পরিসরেও যেভাবে চমৎকারভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, সে জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমাকে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়শই জনসভা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়। এই ধরনের জনবহুল অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বভাবতই কিছুটা জটিল ও চ্যালেঞ্জিং। এমন পরিস্থিতিতে একদিকে সরকারপ্রধানের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখা, অন্যদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা—এই দুটির মধ্যে একটি নিখুঁত ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফ-কে তাদের নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়। আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু এবং সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই এসএসএফ-এর প্রকৃত কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্ব ফুটে ওঠে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকের এই বিশেষ দিনে আমি আমার একটি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। তা হলো—সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপরই আমার সবচেয়ে বড় নির্ভরতা। সুতরাং, নিরাপত্তার কঠোর ঘেরাটোপ যাতে সরকারপ্রধানকে সাধারণ জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি পরিশীলিত বা সপিসটিকেটেড ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে সেদিকে আপনাদের বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এসএসএফের ফায়ারিং রেঞ্জে নিশানা পরীক্ষা ও চমৎকার মহড়া উপভোগ
স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় এই ফায়ারিং রেঞ্জে নিজের নিশানা পরীক্ষা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই নিশানা পরীক্ষার পর অনুষ্ঠানে বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগেই আমি এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জটি উদ্বোধন করেছি এবং আপনাদের একটি চমৎকার মহড়াও প্রত্যক্ষ করেছি। পেশাগত কর্মদক্ষতা ও নিশানা নিখুঁত করতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমি আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল সুদৃঢ় করতে আপনারা এই আধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।’

সময় ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ও বুদ্ধিমত্তা দীপ্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্ব
সময়ের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পর (২০০২ সালের পর) এসএসএফ-এর ’রেড বুক’ পুনরায় সংশোধন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই আধুনিক ‘রেড বুক’ এসএসএফ-এর কার্যপদ্ধতি ও কর্মপন্থার সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আপনাদের আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে। আপনাদের জন্য ‘রেড বুকে’ উল্লেখিত নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। তবে আমি মনে করি, ‘রেড বুকে’র ধরাবাঁধা নির্দেশনার পাশাপাশি সময় ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ও বুদ্ধিমত্তা দীপ্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগও আপনাদের রয়েছে। এসএসএফ-এর মতো একটি বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের ব্যক্তিগত সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য। রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং দেশি-বিদেশি রাষ্ট্রঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিভিআইপি) নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে দেশের অন্যান্য সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে সুসমন্বয় বজায় রাখা জরুরি। সমন্বয় যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে করা যাবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত বেশি সুচারু ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

এসএসএফ-কে আরও চটপটে ও কর্মক্ষম করতে আধুনিক লজিস্টিকস সহায়তার প্রতিশ্রুতি
দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর মধ্য থেকে অত্যন্ত দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের বাছাই করেই এসএসএফ গঠন করা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরপর আপনাদেরকে দেশ-বিদেশে উন্নত মানের বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফ-কে আরও চটপটে ও কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা ও আধুনিক লজিস্টিকস সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’ বক্তব্যের শেষে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি এসএসএফ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারেক রহমান বলেন, ‘দায়িত্ব পালনকালে অবশ্যই আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন; কিন্তু তা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই দুর্ব্যবহার বা হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে কঠোরভাবে সতর্ক থাকবেন। জনগণের সেবক হিসেবে আমাদের প্রতিটি আচরণে যেন তাদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা প্রকাশ পায়।’

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক, সেনাবাহিনীর চীফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান, বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

লেবু চাষে সাফল্যের গল্প, মানিকগঞ্জের বৈলতলা এখন ‘লেবুর গ্রাম’

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
লেবু চাষে সাফল্যের গল্প, মানিকগঞ্জের বৈলতলা এখন ‘লেবুর গ্রাম’

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বৈলতলা গ্রাম। একসময় এ এলাকায় আখের চাষ হতো। কিন্তু প্রায় ৩০ বছর ধরে ধীরে ধীরে বদলে গেছে গ্রামের কৃষিচিত্র। এখন যেদিকে চোখ যায়, দেখা মেলে সারি সারি লেবুর বাগান। কাগজি, এলাচি ও কলম্বোসহ বিভিন্ন জাতের লেবু চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা করছেন এখানকার কৃষকেরা। ব্যাপকভাবে লেবুর আবাদ হওয়ায় স্থানীয়ভাবে গ্রামটি এখন পরিচিত ‘লেবুর গ্রাম’ নামে। গ্রামের কৃষকদের কাছে লেবু চাষ এখন অন্যতম প্রধান পছন্দ। সবুজ পাতার আড়ালে ঝুলে থাকা লেবুতে ভরে আছে বাগানগুলো। সামনে রমজান মাসকে ঘিরে বাগান পরিচর্যা, সার প্রয়োগ, লেবু সংগ্রহ ও বাজারজাত করার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

৯০ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ
সরেজমিনে বৈলতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে লেবুর বাগান। কোথাও শ্রমিকেরা গাছ থেকে লেবু তুলছেন, কোথাও ঝুড়িতে করে বাগান থেকে লেবু এনে রাস্তার পাশে স্তূপ করা হচ্ছে। আবার কেউ ছোট-বড় ও পাকা লেবু বাছাই করছেন। বিক্রির জন্য খাঁচিতে ভরে গাড়িতে তোলা হচ্ছে লেবু।

সাটুরিয়ার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুর রাজ্জাক জানান, চলতি মৌসুমে সাটুরিয়া উপজেলায় ১১০ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বৈলতলা গ্রামেই রয়েছে ৯০ হেক্টর জমির লেবুর বাগান। তিনি বলেন, বৈলতলা লেবু চাষের জন্য বিখ্যাত। এখানকার কৃষকেরা সারা বছরই বাগান থেকে লেবু সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। এ অঞ্চলের লেবুর চাহিদা দেশের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে।

বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু, এখন বিস্তীর্ণ বাগান
বৈলতলা গ্রামের লেবুচাষি আবদুল মালেকের বয়স ৭৬ বছর। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে লেবু চাষ করছেন। বর্তমানে তাঁর পৌনে দুই বিঘা জমিতে লেবুর বাগান রয়েছে। আবদুল মালেক বলেন, একসময় গ্রামের বাড়ির আঙিনা থেকেই লেবু চাষের সূচনা হয়েছিল। ধীরে ধীরে চাষের পরিধি বাড়তে থাকে। প্রায় ৩০ বছরের ব্যবধানে বৈলতলা পুরোপুরি লেবুর গ্রামে পরিণত হয়েছে। গ্রামের আরেক চাষি শাহ আলম (৫০) জানান, তিনি ২৫ বছর ধরে লেবু চাষ করছেন। তাঁর সাড়ে তিন বিঘা জমিতে লেবুর বাগান রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একবার লেবুর চারা রোপণের পর যথাযথ পরিচর্যা করলে ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বছরে চারবার ব্যাপকভাবে লেবু সংগ্রহ করা সম্ভব। এ ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়েও বাগান থেকে কমবেশি লেবু তুলে বিক্রি করা যায়।

লেবু যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে
বৈলতলার লেবু শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই। এখানকার উৎপাদিত লেবু কুমিল্লার নিমসার ও রাজধানীর কারওয়ান বাজারের আড়তসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে পাঠানো হয়। প্রতিদিন লেবুভর্তি গাড়ি গ্রামের বিভিন্ন বাগান থেকে দেশের নানা গন্তব্যে রওনা হয়। গ্রামে প্রথম দিকে লেবু চাষ শুরু করা কৃষকদের একজন খোরশেদ আলম (৬৮)। তিনি জানান, একসময় তাঁদের এলাকায় আখের চাষ হতো। প্রায় ৩০ বছর আগে তাঁরা লেবু চাষ শুরু করেন। অন্য ফসলের তুলনায় লেবু চাষে লাভ বেশি হওয়ায় পরে গ্রামের অন্য কৃষকেরাও এ চাষে আগ্রহী হন। এভাবেই বৈলতলার পরিচিতি হয়ে ওঠে ‘লেবুর গ্রাম’।

বাগান কিনেও লাভের আশা
বৈলতলার লেবুর পাইকার আজাহারের (৫৬) মতে, লেবু চাষ ও ব্যবসায় লাভের সম্ভাবনা থাকলেও তা অনেকটাই বাজারদরের ওপর নির্ভরশীল। এ বছর তিনি এক বছরের জন্য ছয় বিঘা জমির লেবুর বাগান দুই লাখ ২০ হাজার টাকায় কিনেছেন।

আজাহার জানান, শ্রমিকের মজুরি, সার ও সেচের খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশা করছেন। প্রতিবছরই তিনি লেবুর বাগান কিনে পরিচর্যা করেন এবং উৎপাদিত লেবু সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। বাজারে লেবুর দাম বেশি থাকলে লাভ বাড়ে, আর দাম কমে গেলে লাভও কমে যায়।

গ্রামের অধিকাংশ মানুষ জড়িত লেবু চাষে
সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন পিন্টুর বাড়িও বৈলতলা গ্রামে। তিনি নিজেও নয় বিঘা জমিতে লেবুর আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, বৈলতলা গ্রামের প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে লেবু চাষের সঙ্গে জড়িত। প্রায় ৩০ বছর আগে নিজাম উদ্দিন নামের এক সবজি ব্যবসায়ী প্রথম এ গ্রামে লেবু চাষ শুরু করেন। পরে চাষটি লাভজনক হওয়ায় অন্যরাও ধীরে ধীরে এতে যুক্ত হন। এখন প্রতিদিন গ্রাম থেকে লেবুভর্তি গাড়ি দেশের বিভিন্ন বাজারে যায়।

বিভিন্ন জাতের লেবু চাষে বাড়ছে আগ্রহ
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তানিয়া তাবাসসুম বলেন, উপজেলার মধ্যে বৈলতলা গ্রামেই সবচেয়ে বেশি লেবুর বাগান রয়েছে। এ গ্রামের উৎপাদিত লেবুর চাহিদা দেশের বিভিন্ন এলাকায়। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ অঞ্চলে লেবু চাষের প্রসার ঘটছে।

তিনি জানান, বৈলতলার কৃষকেরা এলাচি, সিডলেস, কলম্বো, কাগজি ও স্থানীয় জাতের লেবু চাষ করেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, নিয়মিত পরিচর্যা এবং বাজারে চাহিদার কারণে লেবু চাষকে ঘিরে গড়ে উঠেছে গ্রামের কৃষি অর্থনীতি। একসময় আখের ক্ষেত আর বাড়ির আঙিনায় সীমিত থাকা লেবু চাষ এখন বৈলতলার বিস্তীর্ণ জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। কৃষকদের পরিশ্রম ও লাভের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই চাষই গ্রামটির নতুন পরিচয় তৈরি করেছে—‘লেবুর গ্রাম’ বৈলতলা

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

রেল সচিবের সরকারি সফর, সঙ্গে স্ত্রী; সফরসূচি ঘিরে নানা প্রশ্ন

পাবনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
রেল সচিবের সরকারি সফর, সঙ্গে স্ত্রী; সফরসূচি ঘিরে নানা প্রশ্ন

সরকারি সফরের সূচি অনুযায়ী পাবনা ও কুষ্টিয়ায় রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনে গিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে রাখার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। সরকারি সফরের নামে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ভ্রমণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সচিবের দাবি, তিনি সরকারি সফরের অংশ হিসেবেই রেলওয়ের স্থাপনা পরিদর্শন করছেন। সরকারি সফরে সপরিবারে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যদিও সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি সচিব।

২২ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি সফর
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জারি করা সফরসূচি অনুযায়ী, সচিব ফাহিমুল ইসলাম ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা সফর করছেন। গত ১৭ অক্টোবর সচিবের একান্ত সচিব ও উপসচিব মো. শামীমুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সফরকে সরকারি সফর হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সফরসূচিতে ঢাকা, পাবনা ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপককে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে পাকশী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান সচিব। পরে পাকশী রেলওয়ের ভিআইপি রেস্টহাউসে অবস্থান ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেলে রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা এবং ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তাহমিনা হোসেনসহ কয়েকজন ছিলেন।

সফরসূচিতে নাম থাকলেও উপস্থিত ছিলেন না কয়েকজন কর্মকর্তা
পরিদর্শনকালে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার এবং বিভাগীয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট রেজওয়ান উর রহমানসহ রেলওয়ের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে সফরসূচিতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম, সচিবের একান্ত সচিব মো. শামীমুর রহমান এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তাঁদের কাউকে সেখানে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম জানান, সচিব নিজেই নিজের মতো করে সবকিছু ঘুরে দেখতে চেয়েছেন। এ কারণে তাঁরা সফরে যোগ দেননি। সচিবের একান্ত সচিব শামীমুর রহমানও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

সরকারি পদ ও সম্পদের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে রাখার বিষয়টি সামনে আসার পর এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, সরকারি সফরের আড়ালে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি পদমর্যাদা ও সম্পদ ব্যবহার করা হলে তা অনিয়ম এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের শামিল হতে পারে। তবে এ ঘটনায় সরকারি অর্থ ব্যয়, সফরসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন কিংবা সরকারি সুবিধার অপব্যবহার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা তদন্তের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

সচিবের বক্তব্য কী
অভিযোগের বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারি সফরের অংশ হিসেবেই তিনি রেলওয়ের স্থাপনা পরিদর্শনে এসেছেন। সরকারি সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিলেও তাঁর দাবি, এ ধরনের সফরে সপরিবারে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সচিব জানান, আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে ঢাকা-পাবনা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। ট্রেনটির ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কুষ্টিয়ায় পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফেরার সূচি
ঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে পাকশী রেলওয়ে রেস্টহাউসে অবস্থানের পর শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা সচিবের। সেদিন বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশন এলাকা এবং বিকেলে কুষ্টিয়া রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনের সূচি রয়েছে।

কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে রাত যাপনের পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি সফরে পরিবারের সদস্যকে সঙ্গে নেওয়ার বিষয়টি ঘিরে তৈরি হওয়া প্রশ্নের জবাবে সচিবের বক্তব্য থাকলেও, সফরের ব্যয় ও সরকারি সুবিধা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অন্ধকারে নিকলীর শতাধিক সৌরবাতি

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অন্ধকারে নিকলীর শতাধিক সৌরবাতি

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা অধিকাংশ সৌরবিদ্যুতের ল্যাম্পপোস্ট অকেজো হয়ে পড়েছে। কোথাও বাতি নেই, কোথাও উধাও সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি। আবার কোথাও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও চুরির কারণে সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।

গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) ও রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় কয়েক ধাপে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব সৌরল্যাম্প স্থাপন করা হয়। হাওরাঞ্চলের সড়কে রাতে আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপদ চলাচলের সুবিধা দেওয়াই ছিল এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌরল্যাম্প স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের তিন বছরের চুক্তি ছিল। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক বাতি ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও বাতি চুরি হওয়ায় একসময় আলোকিত গ্রামীণ সড়কগুলো আবারও অন্ধকারে ডুবে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নিকলী-করিমগঞ্জ সড়কে থাকা প্রায় শতাধিক ল্যাম্পপোস্টের একটিও সচল নেই। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। বাতি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ না থাকায় প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।

রাতে সড়কে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন এলাকা নিকলীর বেড়িবাঁধ ও নতুন সড়কে সৌরল্যাম্প অকেজো থাকায় রাতে চলাচলে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বাইরে থেকে আসা পর্যটকেরা।

তবে পুরো উপজেলায় কতটি সৌরচালিত স্ট্রিট ল্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল, এর মধ্যে কতটি অকেজো এবং কতটি থেকে যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় থেকে। ফলে প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট চিত্রও স্পষ্ট নয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী তন্ময় সাহা বলেন, সৌরল্যাম্প স্থাপনের পর নিয়মিত মেরামত ও সংস্কারের ব্যবস্থা থাকলে মানুষ এর সুফল পেত। কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে দ্রুত তা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সরকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন সেই উদ্যোগের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।নিকলী উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুদ হেলালী বলেন, নিকলী বেড়িবাঁধ ও নতুন সড়কের অধিকাংশ সৌরল্যাম্প নষ্ট থাকায় বাইরে থেকে আসা পর্যটকেরা রাতে চলাচল করতে ভয় পান। জনসাধারণের নিরাপত্তা ও পর্যটকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্রুত বাতিগুলো মেরামত করা জরুরি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তিন বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে ল্যাম্পপোস্টগুলো মেরামত করা হচ্ছে না। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা কারিগরি অর্থও বরাদ্দ নেই। তবে বাতিগুলো মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি