খুঁজুন
                               
, ,
           

গৌরবময় ৪০ বছরে এসএসএফ, ‘চেইন অব কমান্ডের’ বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলায় গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
গৌরবময় ৪০ বছরে এসএসএফ, ‘চেইন অব কমান্ডের’ বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলায় গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে হিসেব কষলে কেটে গেছে ৩৯টি বছর। পদ্মা-মেঘনা-যমুনায় জল গড়িয়েছে অনেক। দীর্ঘ সময়ে ভারী হয়েছে স্মৃতির মলাট। রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং ভিভিআইপি বিদেশি সম্মানিত অতিথিদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকারী স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) পা রেখেছে গৌরবময় ৪০ বছরে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উদযাপিত হয়েছে কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও আনুগত্যের মাপকাঠিতে বারবার কঠিন সব চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ আধুনিক ও সুসজ্জিত এই নিরাপত্তা বাহিনীটির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দরবার’ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানান এসএসএফ-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ সদস্যদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার বার্তা দেন। জানিয়ে দেন, একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফের পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। এসএসএফ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতারও ভূয়সী প্রশংসা করেন সরকারপ্রধান। তিনি এই বাহিনীটির সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের কথা মনে করিয়ে দেন। সেই বিষয়ে লক্ষ্য রাখতেও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, উন্নত বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য এসএসএফের প্রতি আহ্বান জানাই।’ এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ডের’ বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • অনুকরণীয় দায়িত্বশীলতায় এসএসএফ-এর প্রতিটি সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ
  • তারুণ্যেই নিবিড়ভাবে পরিচিত এসএসএফ-এর কর্মতৎপরতা ও দক্ষতার সঙ্গে
  • দক্ষতা এবং সুনিপুণ নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে এসএসএফকে
  • এসএসএফের ফায়ারিং রেঞ্জে নিশানা পরীক্ষা ও চমৎকার মহড়া উপভোগ
  • সময় ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ও বুদ্ধিমত্তা দীপ্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্ব
  • এসএসএফ-কে আরও চটপটে ও কর্মক্ষম করতে আধুনিক লজিস্টিকস সহায়তার প্রতিশ্রুতি

প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (পিএসএফ) হিসেবে ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরু করে এই বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট। ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পরিবর্তন হয় নাম। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) হিসেবে এই বিশেষায়িত বাহিনীর নতুন যাত্রা শুরু হয়। বিস্তৃত হয় দায়িত্বের পরিধি ও কার্যক্রমও। রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং ভিভিআইপি বিদেশি সম্মানিত অতিথিদের নিরাপত্তার দায়িত্ব দিয়ে নামকরণ হওয়া ‘এসএসএফ’ বর্তমান ডিজি মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরীর দক্ষ নেতৃত্বে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়েই নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। বিদেশি অতিথিরাও এসএসএফের আন্তরিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার প্রশংসা করেছেন বিভিন্ন সময়। ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দরবার’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং গভীর দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এসএসএফ সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুকরণীয় দায়িত্বশীলতায় এসএসএফ-এর প্রতিটি সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে নিজের বক্তব্যের শুরুতেই অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মেয়াদে সরকারপ্রধান থাকাকালে এবং সর্বশেষ তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে যখন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছিল। শুধু তাই নয়, তাঁর ইন্তেকালের পর বাংলাদেশের—এমনকি বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। এই অনুকরণীয় দায়িত্বশীলতার জন্য আমি এসএসএফ-এর প্রতিটি সদস্যকে আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

তারুণ্যেই নিবিড়ভাবে পরিচিত এসএসএফ-এর কর্মতৎপরতা ও দক্ষতার সঙ্গে
সরকারপ্রধান হিসেবে বর্তমানে প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ আমি এসএসএফ-এর কার্যক্রম অত্যন্ত কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করছি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবে এসএসএফ-এর কার্যক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বয়স থেকেই আমি এসএসএফ-এর কর্মতৎপরতা ও দক্ষতার সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত। এসএসএফ যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই সময়ের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বর্তমান সময়ের অনেক পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নিত্যনতুন ও বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এইসব আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়মিত ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখা অপরিহার্য। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, কর্মদক্ষতা, আধুনিক কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।’

দক্ষতা এবং সুনিপুণ নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে এসএসএফকে
সরকারপ্রধান তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা জানেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সেবায় দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী সরকারপ্রধান হিসেবে এসএসএফ আমার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে এবং সড়কে সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে আমি আমার গাড়িবহরের আকার অনেকটাই সীমিত করেছি। ফলে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে এসএসএফ-কে হয়তো দক্ষতা এবং সুনিপুণ নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে। আপনারা এই সীমিত পরিসরেও যেভাবে চমৎকারভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, সে জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমাকে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়শই জনসভা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়। এই ধরনের জনবহুল অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বভাবতই কিছুটা জটিল ও চ্যালেঞ্জিং। এমন পরিস্থিতিতে একদিকে সরকারপ্রধানের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখা, অন্যদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা—এই দুটির মধ্যে একটি নিখুঁত ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফ-কে তাদের নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়। আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু এবং সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই এসএসএফ-এর প্রকৃত কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্ব ফুটে ওঠে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকের এই বিশেষ দিনে আমি আমার একটি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। তা হলো—সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপরই আমার সবচেয়ে বড় নির্ভরতা। সুতরাং, নিরাপত্তার কঠোর ঘেরাটোপ যাতে সরকারপ্রধানকে সাধারণ জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি পরিশীলিত বা সপিসটিকেটেড ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে সেদিকে আপনাদের বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এসএসএফের ফায়ারিং রেঞ্জে নিশানা পরীক্ষা ও চমৎকার মহড়া উপভোগ
স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় এই ফায়ারিং রেঞ্জে নিজের নিশানা পরীক্ষা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই নিশানা পরীক্ষার পর অনুষ্ঠানে বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগেই আমি এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জটি উদ্বোধন করেছি এবং আপনাদের একটি চমৎকার মহড়াও প্রত্যক্ষ করেছি। পেশাগত কর্মদক্ষতা ও নিশানা নিখুঁত করতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমি আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল সুদৃঢ় করতে আপনারা এই আধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।’

সময় ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ও বুদ্ধিমত্তা দীপ্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্ব
সময়ের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পর (২০০২ সালের পর) এসএসএফ-এর ’রেড বুক’ পুনরায় সংশোধন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই আধুনিক ‘রেড বুক’ এসএসএফ-এর কার্যপদ্ধতি ও কর্মপন্থার সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আপনাদের আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে। আপনাদের জন্য ‘রেড বুকে’ উল্লেখিত নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। তবে আমি মনে করি, ‘রেড বুকে’র ধরাবাঁধা নির্দেশনার পাশাপাশি সময় ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ও বুদ্ধিমত্তা দীপ্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগও আপনাদের রয়েছে। এসএসএফ-এর মতো একটি বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের ব্যক্তিগত সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য। রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং দেশি-বিদেশি রাষ্ট্রঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিভিআইপি) নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে দেশের অন্যান্য সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে সুসমন্বয় বজায় রাখা জরুরি। সমন্বয় যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে করা যাবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত বেশি সুচারু ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

এসএসএফ-কে আরও চটপটে ও কর্মক্ষম করতে আধুনিক লজিস্টিকস সহায়তার প্রতিশ্রুতি
দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর মধ্য থেকে অত্যন্ত দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের বাছাই করেই এসএসএফ গঠন করা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরপর আপনাদেরকে দেশ-বিদেশে উন্নত মানের বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফ-কে আরও চটপটে ও কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা ও আধুনিক লজিস্টিকস সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’ বক্তব্যের শেষে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি এসএসএফ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারেক রহমান বলেন, ‘দায়িত্ব পালনকালে অবশ্যই আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন; কিন্তু তা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই দুর্ব্যবহার বা হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে কঠোরভাবে সতর্ক থাকবেন। জনগণের সেবক হিসেবে আমাদের প্রতিটি আচরণে যেন তাদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা প্রকাশ পায়।’

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক, সেনাবাহিনীর চীফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান, বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে পড়েও ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে তারা।

ইংল্যান্ডের কাছে গোল হজমের পর একাধিক সুযোগ নষ্ট হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে এনজো করেন সমতা ফেরানো গোল। তারপর ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করলেন। ৯২ মিনিটে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

৬৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বদলি নেমেই ম্যাচে ছাপ রাখেন গঞ্জালেজ। পরের মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি লম্বা বল হেড করেছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ড বিপদমুক্ত করে।

৬৯ মিনিটে ডানদিক থেকে মেসির ক্রসে দারুণ এক হেড করেছিলেন গঞ্জালেজ। কিন্তু পিকফোর্ড নিচু ডাইভে অবিশ্বাস্য সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন।

৭২ মিনিটে আর্জেন্টিনা তিনটি পরিবর্তন আনে। সিমিওনে,  মলিনা ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে উঠিয়ে দে পল, মোন্তিয়েল ও ওতামেন্দিকে নামান স্কালোনি।

চার মিনিট পর দে পলের বাড়ানো ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটে গঞ্জালেজের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। লাইন্সম্যান ততক্ষণে অফসাইডের পতাকা ওড়ান।

৮৪ মিনিটে এনজোর শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান পিকফোর্ড। পরের মিনিটে কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বলে ২৫ গজ দূর থেকে শট নেন তিনি। বল পিকফোর্ডের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়।

কালের আলো/এম/এএইচ

২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:০২ পূর্বাহ্ণ
২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা

অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের দেখা মিলেছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিতে ৫৫ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোলটি করেন অ্যান্থনি গর্ডন। তবে ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। তার পর ৯০+২ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের গোলে স্কোর ২-১ করেছে আর্জেন্টিনা।

দলীয় আক্রমণের মাধ্যমে যার সূচনা করেন হ্যারি কেইন। মাঝমাঠে নেমে মরগান রজার্সকে বল বাড়ানোর চেষ্টা করলেও দুর্দান্ত অ্যাক্রোবেটিক ক্লিয়ারেন্সে তা প্রতিহত করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে বিপদ কাটাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফিরতি বল কুড়িয়ে নিয়ে ডেকলান রাইস সেটি বাড়ান রজার্সের কাছে। ইংলিশ উইঙ্গারের নিখুঁত ক্রসে বক্সে দারুণভাবে জায়গা করে নেন অ্যান্থনি গর্ডন। এরপর এক ছোঁয়ায় এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জড়িয়ে দেন জালে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টিনা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল করেছে ইংল্যান্ডই।

প্রথমার্ধ গোলশূন্যতে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৪৭ মিনিটে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের লম্বা ক্লিয়ারেন্স থেকে দুর্দান্তভাবে বল নামিয়ে দেন জুলিয়ানো সিমিওনে। সেখান থেকে বল পেয়ে ডিজেড স্পেন্সকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন হুলিয়ান আলভারেজ।

তার জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তবে বিপদ তখনও কাটেনি। ফিরতি বল আবারও পেয়ে যান আলভারেজ। কিন্তু তার দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ইংল্যান্ডের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায় থ্রি লায়ন্স।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ইংল্যান্ডকে গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইংল্যান্ডকে গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা

স্রেফ মারামারির একটি খেলা প্রত্যক্ষ করছে ফুটবল সমর্থকরা। যে ম্যাচে প্রথমার্ধে কোনো গোল হলো না। তবে দ্বিতীয়ার্দের ১০ মিনিট যেতে না যেতেই আর্জেন্টিনার জালে বল প্রবশে করালো ইংল্যান্ড। ডানপ্রান্ত থেকে মরগ্যান রজার্সের দারুণ একটি ক্রস বাম কোন দিয়ে আলতো টোকায় আর্জেন্টিনার জালে জড়ান অ্যান্থোনি গর্ডন।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রত্যাশিতভাবেই জমে উঠেছে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার মহারণ। তবে গোলের দেখা মেলেনি প্রথম ৪৫ মিনিটে। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গোলশূন্য প্রথমার্ধে দুই দলই একে অপরকে চাপে রাখলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ভাঙতে পারেনি কেউ।

বরং প্রথমার্ধজুড়ে আলোচনায় ছিল একের পর এক শক্ত ট্যাকল, উত্তেজনা, হলুদ কার্ড এবং লিওনেল মেসিকে ঘিরে ইংল্যান্ডের কড়া মার্কিং।

খেলা শুরুর পর থেকেই দুই দল শারীরিক লড়াইয়ে নেমে পড়ে। মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই জুদ বেলিংহ্যামকে ট্যাকল করে ফাউল করেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। এরপর মেসি, বেলিংহ্যাম, অ্যান্ডারসন ও এনজো ফার্নান্দেজকে ঘিরে মাঝমাঠে কয়েকবার উত্তেজনা তৈরি হয়।

 

প্রথম ১০ মিনিটেই আর্জেন্টিনা চারটি ফাউল করে, যা চলতি বিশ্বকাপে কোনো দলের প্রথম ১০ মিনিটে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ফাউলের রেকর্ড।

প্রথমার্ধের বড় একটি সময় দুই দলই একে অপরকে আটকে রাখে মাঝমাঠে। ২০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও কোনো দলই উল্লেখযোগ্য শট নিতে পারেনি।

 

ইংল্যান্ড কিছুটা বেশি সংগঠিত ফুটবল খেললেও হ্যারি কেইন কার্যত ম্যাচের বাইরে ছিলেন। প্রথম ২৮ মিনিটে ইংলিশ অধিনায়কের বল স্পর্শের সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি, যা মাঠের সব খেলোয়াড়ের মধ্যে সবচেয়ে কম।

ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন পুরো প্রথমার্ধে মেসিকে ছায়ার মতো অনুসরণ করেন। কয়েকবার বল কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি শক্ত ট্যাকলও করেন তিনি।

৩৭ মিনিটে মেসি ড্রিবল করে কয়েকজনকে কাটিয়ে এগোতেই অ্যান্ডারসনের করা ট্যাকলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। সঙ্গে সঙ্গে দুই দলের খেলোয়াড়রা রেফারিকে ঘিরে ধরেন। কিছুক্ষণ উত্তেজনা চললেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন রেফারি ইসমাইল এলফাথ। এই ফাউলের জন্য ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন অ্যান্ডারসন।

৩২ মিনিটে জুদ বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত দৌড়ে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে ইংল্যান্ড প্রায় এগিয়েই গিয়েছিল। ডেকলান রাইসের দারুণ ভাসানো বলে জন স্টোনস লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে হেড করেন। তবে বল জালের পাশ ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

অন্যদিকে ৩৯ মিনিটে আর্জেন্টিনার সেরা সুযোগ আসে মেসির বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিক থেকে। ছোট পাসে খেলা শুরু করে পারেদেসের কাছ থেকে বল ফেরত পান মেসি। তার শট হ্যারি কেইনের গায়ে লেগে ফিরে আসে এনজো ফার্নান্দেজের কাছে। দূরপাল্লার জোরালো শটে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান তিনি, কিন্তু বল অল্পের জন্য পোস্টের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৪২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠতে থাকা মর্গান রজার্সকে টেনে থামিয়ে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। এতে ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে হলুদ কার্ড দেখেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার।

প্রথমার্ধে গোল না হলেও উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না। দুই দলই রক্ষণে ছিল দারুণ শৃঙ্খলাবদ্ধ, তবে আক্রমণে শেষ মুহূর্তের ধারালো স্পর্শের অভাব ছিল স্পষ্ট। রেফারি তিন মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করলেও সেই সময়েও গোলের দেখা মেলেনি। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই বিশ্বশক্তি।

এখন দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোলই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য, আর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারে যে কোনো দল।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি