খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

পরীমনির সঙ্গে ‘অবৈধ সম্পর্ক’, এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
পরীমনির সঙ্গে ‘অবৈধ সম্পর্ক’, এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাধ্যতামূলক অবসরের কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনের সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. গোলাম সাকলায়েন, ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সাবেক এডিসি ডিবি গুলশান বিভাগে কর্মকালীন বাংলাদেশ পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সরকারি দায়িত্বের বাইরে জনৈক চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতা বহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন।

তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, তার সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন ও নিজের সরকারি বাসভবনে নিজ স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর মতো ঘটনা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

এতে আরও বলা হয়, সে পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এডিসি গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি মোতাবেক ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজুপূর্বক অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী প্রেরণ করে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়।

২০২৩ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগনামার জবাব প্রদানপূর্বক ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন সাকলায়েন এবং একই মাসের ২৮ তারিখে তার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কারণ দর্শানোর জবাব, ব্যক্তিগত শুনানি এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি পর্যালোচনায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুদণ্ড আরোপের সম্ভাবনা থাকায় আনীত অভিযোগগুলো তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৭(২)(ঘ) মোতাবেক ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

এডিসি সাকলায়েনের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা মতামত দেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে, এডিসি সাকলায়েনের ওপর গুরুদণ্ড আরোপের পর্যাপ্ত ভিত্তি থাকায় সরকারি কর্মচারী বিধিমালা বিধি মোতাবেক ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয় এবং এডিসি সাকলায়েন ২০২৪ সালের ১০ মার্চ দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি পর্যালোচনায় এডিসি সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী বিধিমালা মোতাবেক তাকে চাকুরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ সূচক গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সে পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনশ মোতাবেক গুরুদণ্ড প্রদানের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে অনুরোধ জানানো হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান সূচক গুরুদণ্ড আরোপ করা যায় বলে পরামর্শ প্রদান করে।

এরপর তাকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান সূচক গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি চলতি বছরের ১৭ জুন সানুগ্রহ অনুমোদন করেন।

এডিসি গোলাম সাকলায়েনকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ এর দায়ে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলায় প্রমাণিত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় একই বিধিমালার ৪ (৩) (খ) বিধি মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ সূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হলো।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ) সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহদাত হোসেন স্বাধীন এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৈঠকের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৬-২০২৭ সেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।

বৈঠকে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে উল্লেখ করে স্বাধীন। তিনি বলেন, বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সংসদে ঋণ খেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারলে আর কোথায় বলব?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদে ঋণ খেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারলে আর কোথায় বলব?

বৃহস্পতিবার (১৮জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেছেন।

বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি আমার প্রথম অধিবেশনের বক্তব্যে এখানে অনেক সম্মানিত সংসদ সদস্য তাদের কত কত ঋণখেলাপি রয়েছে, সে সংখ্যাও উল্লেখ করেছি। তাদের সম্মানের নাম প্রকাশ করিনি।

এখন যেই দল ঋণ খেলাপিদের নমিনেশন দিয়ে তাদেরকে সংসদে নিয়ে আসে, এটা তো তাদের দায়িত্ব, তাদের উপরে দায় চাপায়, এখন যদি সংসদে এতগুলো ঋণখেলাপি থাকে, তাহলে এই সংসদকে তো ঋণ খেলাফীদের সংসদ বলবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারদলীয় লোকেরা যারা মেজরিটি টু থার্ড মেজরিটি করেছে,  তারা ঋণ খেলাফীদের সংসদ নিয়ে এসেছে, এটা সাধারণ মানুষ এটা স্বাভাবিকভাবেই বলবে। আর আমরা সংসদকে সার্বভৌম বলতেছি। এখন এই সংসদে যদি আমরা ঋণ খেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে না পারি, এই সংসদে তাহলে স্পিকার আমরা আর কোথায় বলব?

তার আগে গাজীপুর ৫ আসনের সংসদ সদস্য  ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সবাই বলছেন যে এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে, একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে।

এর মাধ্যমে দেশে-বিদেশে আমরা সম্মানিত হয়েছি, দেশবাসীও সম্মানিত হয়েছে। বিগত অনেক বছর ‘ভোটারবিহীন’ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদকে কলুষিত করা হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে এই সংসদের মর্যাদা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক উচ্চে বলে আমরা মনে করি।’

নিজের ভাবমূর্তি নিজেরা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা বক্তব্য রাখার সময় হয়তো খেয়াল করি না, কিন্তু অবচেতন বা সচেতন মনে এমন কিছু কথা সংসদে উচ্চারণ করি, যা আমাদের নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, মর্যাদাকে খাট করে। আজকের বক্তব্য চলাকালীন বলা হয়েছে– ‘ঋণ খেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে’।

এর প্রেক্ষিতে ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘কথাটি যেই বলুক, বাংলা ভাষায় একটি কথা আছে— ‘বেড়ায় যদি ক্ষেত খায়, সেই ক্ষেত টিকানো যায় না’। এই সংসদে নির্বাচিত হয়ে নিজেদের মর্যাদা নিজেরা হানি করার জন্য যদি আত্মঘাতী কথা বলি, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

একজন ঋণখেলাপি কখনোই সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। সেখানে এটিকে ‘ঋণ খেলাপিদের সংসদ’ কী করে বলা হয়?’

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

হত্যা মামলায় ‘দেশ টিভি’র সাবেক এমডি আরিফ হাসানকে গ্রেফতার আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
হত্যা মামলায় ‘দেশ টিভি’র সাবেক এমডি আরিফ হাসানকে গ্রেফতার আদেশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় দায়ের হওয়া প্রাইভেটকার চালক বাবুল হত্যা মামলায় দেশ টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আরিফ হাসানকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু সাঈদের আবেদনের পর এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, মো. আরিফ হাসান এরই মধ্যে একাধিক মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, তিনি এই হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় ‘মূল অর্থ জোগানদাতা’ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন এবং তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ গ্রেফতার দেখানোর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাহমিনা সুলতানা আবেদনটির বিরোধিতা করে বলেন, আরিফ হাসান একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং তিনি কখনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে নয়টি মামলা থাকলেও তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত এবং হার্টে রিং পরানো রয়েছে। একই দিনে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগও বাস্তবসম্মত নয় বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ জুলাই উত্তরা এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন প্রাইভেটকার চালক বাবুল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উত্তরা উইমেন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ২২ জুলাই নিহত বাবুলের স্ত্রী বিমানবন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ