খুঁজুন
                               
, ,
           

পুঁজিবাজারে সূচকের পতন, কমেছে লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
পুঁজিবাজারে সূচকের পতন, কমেছে লেনদেন

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (২৬ জুলাই) পুঁজিবাজারে সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।

এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ও অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন কমেছে।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, রোববার  ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

অন্য দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে যথাক্রমে ১১৭৭ ও ২১৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিন ডিএসইতে ৭৬৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে।

যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১৭৫ কোটি টাকার লেনদেন কমেছে। আগের দিন ডিএসইতে এক হাজার ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।

রোববার ডিএসইতে ৩৮৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৬টি কোম্পানির, কমেছে ২৪০টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর।

এদিন লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানগুলো, সামিট পোর্ট, এমএল ডায়িং, আইটি কনসালটেন্ট, আইপিডিসি, ড্রাগন সোয়েটার, বেক্সিমকো লিমিটেড,  লাভেলো আইসক্রিম, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, মালেক স্পিনিং ও টেকনো ড্রাগস।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪৮ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৪৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৫৭টির, কমেছে ১৩৪টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টির কোম্পানির শেয়ার দর।

রোববার সিএসইতে ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকার লেনদেন কমেছে। আগের দিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২০ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাতে ঘুমানোর আগে হঠাৎ পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
রাতে ঘুমানোর আগে হঠাৎ পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে কেন?

সারাদিনের ব্যস্ততায় কত কিছুই না ঘটে। কাজ, পড়াশোনা, ফোনকল, মানুষের সঙ্গে কথা বলা- সব মিলিয়ে মাথায় যেন চিন্তার ভিড় লেগেই থাকে। কিন্তু রাতে বিছানায় যাওয়ার পর যখন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে আসে, তখনই হঠাৎ মনে পড়ে যেতে পারে বহুদিন আগের কোনো ঘটনা, প্রিয় মানুষের কথা কিংবা জীবনের কোনো পুরোনো মুহূর্ত। কখনো আবার এমন স্মৃতিও ফিরে আসে, যেটি নিয়ে দিনের বেলায় একবারও ভাবা হয়নি।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা ও অভিজ্ঞতার স্মৃতিকে autobiographical memory বলা হয়। কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ মনে পড়ে যাওয়াকে বলা হয় involuntary retrieval-অর্থাৎ স্মৃতিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা না করলেও তা হঠাৎ চেতনায় চলে আসে।

রাতে কেন বেশি মনে হয়?

এর একটি বড় কারণ হতে পারে নিরিবিলি পরিবেশ। দিনের ব্যস্ত সময়ে বাইরের নানা উদ্দীপনা আমাদের মনোযোগ ধরে রাখে। কিন্তু রাতে কাজের চাপ ও চারপাশের ব্যস্ততা কমে গেলে নিজের চিন্তার দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ বাড়ে। তখন অবচেতনভাবে পুরোনো ঘটনা বা ব্যক্তিগত স্মৃতি মনে পড়ে যেতে পারে।

কোনো গন্ধ, গান, ছবি, জায়গা কিংবা কথাও আবার পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারে। মনোবিজ্ঞানে এমন অনিচ্ছাকৃত স্মৃতি ফিরে আসার ঘটনাকে ‘Proust phenomenon’-এর সঙ্গে ব্যাখ্যা করা হয়।

আবেগের সঙ্গে যুক্ত স্মৃতি বেশি ফিরে আসে

সব স্মৃতি সমানভাবে মনে থাকে না। কোনো ঘটনা যদি আমাদের কাছে আবেগপূর্ণ হয়- যেমন প্রথম প্রেম, বিচ্ছেদ, প্রিয় মানুষের সঙ্গে কাটানো সময়, অপমান, সাফল্য কিংবা কোনো বিশেষ দিনের ঘটনা- তাহলে সেটি দীর্ঘদিন মনে থাকার সম্ভাবনা থাকে।

ঘুমের সময় মস্তিষ্ক স্মৃতি সংরক্ষণ ও আবেগ প্রক্রিয়াজাত করার বিভিন্ন কাজ করে। বিশেষ করে NREM ও REM ঘুমের পর্যায় স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

‘অসমাপ্ত’ বিষয়ও মাথায় ঘুরতে পারে

কখনো কোনো পুরোনো ঘটনা মনে পড়ার পেছনে বর্তমান জীবনের কোনো অনুভূতিও কাজ করতে পারে। ধরুন, দিনের কোনো ঘটনা আপনাকে পুরোনো কোনো অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। ব্যস্ততার কারণে তখন সেটি নিয়ে ভাবার সুযোগ হয়নি। রাতে যখন চারপাশ শান্ত, তখন সেই চিন্তাটি আবার সামনে চলে আসতে পারে।

এ কারণেই অনেকের কাছে ঘুমানোর আগের সময়টা হয়ে ওঠে ‘নিজের সঙ্গে নিজের কথা বলার সময়’।

তাহলে কি এটা অস্বাভাবিক?

সবসময় নয়। মাঝেমধ্যে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়া মানুষের স্বাভাবিক মানসিক অভিজ্ঞতার অংশ। বরং স্মৃতি, আবেগ ও ঘুমের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

তবে যদি রাতে চিন্তা বা পুরোনো স্মৃতি এত বেশি ফিরে আসে যে নিয়মিত ঘুমাতে সমস্যা হয়, দীর্ঘসময় উদ্বেগ তৈরি করে বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ঘুমের আগে মনকে ধীরে ধীরে শান্ত করার জন্য কিছু সময় স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা, শিথিল হওয়ার অভ্যাস এবং মাথায় ঘুরতে থাকা বিষয়গুলো লিখে রাখা সহায়ক হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, রাতে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়া মানেই আপনি অতীতে আটকে আছেন-এমন নয়। দিনের কোলাহল থেমে গেলে মস্তিষ্কের ভেতরের গল্পগুলোই তখন একটু বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর সেই গল্পের পাতায় কখনো কখনো বহুদিন আগের কোনো মানুষ, কোনো বিকেল কিংবা ভুলে যাওয়া একটি মুহূর্ত আবার ফিরে আসে।

তথ্যসূত্রঃ আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ও স্লিপ ফাউন্ডেশন

কালের আলো/এসএ

গ্রামীণ জীবনের গল্পে কেন এতটা আপন হয়ে উঠেছিলেন ফারুক

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
গ্রামীণ জীবনের গল্পে কেন এতটা আপন হয়ে উঠেছিলেন ফারুক

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অনেক নায়ক এসেছেন, জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন। তবে গ্রামীণ মানুষের আবেগ, জেদ, প্রতিবাদ আর ভালোবাসাকে পর্দায় এতটা সহজ-স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন—এমন শিল্পীর সংখ্যা খুবই কম। তাঁদের মধ্যে আকবর হোসেন পাঠান ফারুক ছিলেন অন্যতম।

১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ফারুকের। তবে দর্শকের বড় পরিসরে পরিচিতি পান খান আতাউর রহমানের ‘সুজন সখী’ দিয়ে। ১৯৭৫ সালের এই সিনেমায় ‘সুজন’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়।

এরপর আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমনি’ সিনেমায় ‘নয়ন’ চরিত্রে অভিনয় করে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। গ্রামীণ এক তরুণের আবেগ, সরলতা ও প্রতিবাদী মানসিকতাকে এমনভাবে পর্দায় তুলে ধরেছিলেন, যা তাঁকে দর্শকের আরও কাছে নিয়ে যায়।

সত্তর ও আশির দশকে ফারুক অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা বাংলা চলচ্চিত্রে বিশেষ জায়গা করে নেয়। ‘লাঠিয়াল’, ‘নয়নমনি’, ‘সুজন সখী’, ‘সারেং বউ’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘লাল কাজল’-এসব সিনেমায় তাঁর চরিত্রগুলো মূলত গ্রামীণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের জীবনকে ঘিরে।

১৯৭৮ সালের ‘সারেং বউ’ সিনেমায় ‘কদম সারেং’ চরিত্রে তাঁর অভিনয়ও দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে। আর ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ সিনেমার শেষদিকে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত মিলনের যন্ত্রণা ফুটিয়ে তোলার দীর্ঘ দৃশ্যটি তাঁর অভিনয় প্রতিভার অন্যতম উদাহরণ হয়ে আছে।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষক ও নির্মাতা মতিন রহমানের মতে, ফারুক গ্রামীণ মানুষের জেদ, তাড়না ও প্রতিবাদের ভাষা খুব সহজাতভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। তাঁর অভিনয়ের এই স্বাভাবিক ভঙ্গিই তাঁকে সমসাময়িক অনেক শিল্পীর থেকে আলাদা করেছে।

ফারুক শুধু পর্দার নায়ক ছিলেন না, দর্শকের কাছে হয়ে উঠেছিলেন পরিবারের একজনের মতো। তাঁর আচরণ, কথা বলার ধরন ও চরিত্র ধারণের স্বাভাবিকতার কারণেই দর্শক তাঁকে ভালোবেসে ‘মিয়া ভাই’ নামে ডাকতে শুরু করেন।

চাষী নজরুল ইসলাম তাঁকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘মিয়া ভাই’ সিনেমা। সময়ের সঙ্গে ডাকনামটিও যেন তাঁর জনপ্রিয় পরিচয়ের অংশ হয়ে যায়।

মজার বিষয় হলো, ফারুকের জন্ম মানিকগঞ্জের ঘিওরের একটি গ্রামে হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা মূলত পুরান ঢাকায়। সেখানে নাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী-নির্মাতাদের সংস্পর্শে আসেন তিনি।

পুরান ঢাকার লালকুঠির সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা তাঁর অভিনয়জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন এলাকার মানুষের কথাবার্তা, আচরণ ও জীবনযাপন কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সিনেমার গ্রামীণ চরিত্রগুলোতে সেই অভিজ্ঞতার ছাপ দেখা যায়।

আশির দশকের শেষদিকে বাংলাদেশের সিনেমায় গ্রামীণ গল্পের সংখ্যা কমতে শুরু করে। ধীরে ধীরে শহুরে জীবন, চাকচিক্য ও আধুনিকতার গল্প জায়গা নেয় পর্দায়।

ফলে ফারুকের মতো শিল্পীদের জন্য যে ধরনের চরিত্র তৈরি হতো, সেসবও কমে যায়। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ গল্পের সংখ্যা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ধরনের স্বতন্ত্র নায়ক তৈরির সুযোগও কমেছে।

ফারুকের ক্যারিয়ারের বড় অংশজুড়ে থাকা গ্রামীণ চরিত্রগুলো তাই শুধু তাঁর অভিনয়জীবনের স্মৃতি নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ সময়েরও প্রতিচ্ছবি।

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ‘লাঠিয়াল’ সিনেমার জন্য ১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার পান ফারুক। পরে ২০১৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন এই অভিনেতা।

২০২৩ সালের ১৫ মে ৭৪ বছর বয়সে মারা যান ফারুক। কিন্তু তাঁর অভিনীত নয়ন, সুজন, কদম সারেং কিংবা মিলনের মতো চরিত্রগুলো এখনো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে জীবন্ত।

ফারুকের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো এখানেই—তিনি শুধু সিনেমায় গ্রামের মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেননি, বরং সেই মানুষগুলোর আবেগকে দর্শকের নিজের জীবনের গল্প করে তুলেছিলেন।

কালের আলো/এসএ

জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যকে ধারণ করে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সূচিপত্র প্রকাশিত মারুফ কামাল খানের লেখা ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘সমাজে নানা ধরনের চিন্তা, মত ও আদর্শের মানুষ থাকবে। পাহাড় ও সমতলে যেমন বৈচিত্র্য রয়েছে, তেমনি মানুষের চিন্তা ও আদর্শেও পার্থক্য থাকতে পারে। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা ‘ইউনিটি ইন ডাইভার্সিটি’ চাই। বাংলাকে আমাদের যাত্রাভূমি হিসেবে নিয়ে দেশকে বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলার ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরোনো। একসময় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ জ্ঞান, শিক্ষা ও সমৃদ্ধির সন্ধানে বাংলায় আসতেন। এই ভূখণ্ডের ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধি ছিল এমন যে, এখানে আসা মানুষ সহজে ফিরে যেতে চাইতেন না। ঐতিহাসিক নানা কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়লেও সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারলে এই বাংলাই সমকালীন পৃথিবীতে, অন্তত এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশে পরিণত হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ঐক্য ও বৈচিত্র্যকে ধারণ করেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে।’

মারুফ কামাল খানের সাহিত্য ও সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, মারুফ কামাল খান শুধু একজন কবি নন, তিনি কথাসাহিত্যিক ও চিন্তাশীল লেখক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তার লেখালেখির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইয়ে উঠে এসেছে। এ কারণেই বইটি পাঠকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, বইটি শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রহে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের বিভিন্ন পাঠাগারে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের সব লাইব্রেরিতে বইটি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা মারুফ কামাল খানের দীর্ঘ সাংবাদিকতা, সাহিত্যচর্চা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ