খুঁজুন
                               
, ,
           

গ্রিন ফাইন্যান্সে বদলাচ্ছে অর্থনীতির বিনিয়োগচিত্র

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
গ্রিন ফাইন্যান্সে বদলাচ্ছে অর্থনীতির বিনিয়োগচিত্র

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার পাশাপাশি শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্ব বাড়ছে গ্রিন ফাইন্যান্সের। পরিবেশবান্ধব শিল্প, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও গ্রিন বিল্ডিংয়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে টেকসই করার চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন ও তহবিল এ পরিবর্তনে অর্থের জোগান বাড়াচ্ছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়া ৫ হাজার কোটি টাকার স্থানীয় মুদ্রার গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২৫টি ব্যাংকের মাধ্যমে ৯৬ গ্রাহককে ২ হাজার ৫২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা বিতরণ হয়েছে। একই সময়ে প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ১ হাজার কোটি টাকার টিডিএফ থেকে বিতরণ হয়েছে ১ হাজার ১০৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৩ হাজার ৩৯৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা সবুজ অর্থায়ন করেছে। অর্থের এই প্রবাহ দেখাচ্ছে, পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ এখন আর প্রান্তিক কোনো অর্থনৈতিক উদ্যোগ নয়; শিল্পের আধুনিকায়নের সঙ্গেও এর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য এর গুরুত্ব বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের চাহিদা বাড়ায় পোশাক, চামড়া, টেক্সটাইল ও সিরামিকসহ বিভিন্ন খাতকে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত মান নিশ্চিত করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের পোশাক খাতে ইতোমধ্যে ২৮৪টি লিড সার্টিফায়েড কারখানা থাকা এই পরিবর্তনের একটি বড় উদাহরণ।

তবে সবুজ শিল্পে রূপান্তর সহজ নয়। পরিবেশবান্ধব কারখানা নির্মাণে সাধারণ কারখানার তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি ব্যয় হতে পারে। বিনিয়োগের সুফলও তাৎক্ষণিক পাওয়া যায় না। ফলে উদ্যোক্তাদের জন্য কম সুদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন প্রযুক্তি ও দক্ষতার সক্ষমতা।

নতুন গ্রিন ফান্ডে পরিবেশবান্ধব শিল্প ও গ্রিন বিল্ডিংয়ে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের সুযোগ রাখা হয়েছে। সুদহার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ, মেয়াদ ৩ থেকে ১০ বছর এবং উদ্যোক্তার নিজস্ব অর্থায়ন থাকতে হবে অন্তত ৩০ শতাংশ। এসব সুবিধা বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে মূল বিষয়।

কারণ শুধু কোনো প্রকল্পে একটি পরিবেশবান্ধব উপাদান থাকলেই সেটিকে গ্রিন প্রকল্প বলা যায় না। জ্বালানি ও পানি ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্পের সামগ্রিক পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিতে হয়। তাই অর্থায়নের পাশাপাশি নজরদারি ও প্রকল্প মূল্যায়নের মানও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন অর্থনীতিতে রূপান্তরের দায়িত্ব শুধু ব্যাংকের নয়। সরকারের নীতি সহায়তা, ব্যাংকের অর্থায়ন, উদ্যোক্তার বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা—এই চারটি ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে এগোতে হবে। তবেই গ্রিন ফাইন্যান্স পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের শিল্প, রপ্তানি ও উৎপাদনশীলতার দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি শক্ত করতে পারবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কারখানার ভেতরে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি কাবার ভেতর থেকে পাঁচজনের ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি সিলিন্ডার ছিটকে পাশের একটি কাপড়ের দোকানে গিয়ে পড়ে। এতে জয়নাব বেগম নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুলাল নামে আরও এক আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কারখানার ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, একটি কভার্ড ভ্যানের ভেতরে থাকা সিএনজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানানো হয়।

নতুন দামে ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। সর্বশেষ বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা এবং অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

২০২৪ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় দেশে খুচরা জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, আমদানি ব্যয়, কর ও শুল্ক, বিনিময় হারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত এ দাম সমন্বয় করা হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি 

অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণ বন্ধ বা উচ্ছেদ না করে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এনে সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সামাদ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম আবু বকর বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ বা উচ্ছেদের পরিবর্তে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ, বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, নির্ধারিত রুট ও সড়ক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একদিকে যাত্রী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে এ খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত চালক, মালিক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ও অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

১০ দফা দাবি

সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আধুনিকায়ন ও ফিটনেস সনদ প্রদান। পাশাপাশি বাণিজ্যিক লাইসেন্স ও জোনভিত্তিক রুট পারমিট চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

চালকদের ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি অটোরিকশা গ্যারেজে ডি-৩ ক্যাটাগরির বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া গ্যারেজ থেকে সরকারের প্রাপ্য বিদ্যুৎ বিল ও রাজস্ব যথাযথভাবে আদায়, সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কে অটোরিকশার জন্য পৃথক ‘লো-স্পিড লেন’ এবং জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ঢাকার প্রধান সড়কে পৃথক লেন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান ও ফিডার সড়ক বিবেচনায় বৈজ্ঞানিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ অটোরিকশার সিলিং নির্ধারণ, দেশের পরিবহন ব্যবস্থার আইনি কাঠামোর মধ্যে এ যানবাহনকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নীতিনির্ধারণে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তরের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, অটোরিকশা খাতের সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধু নিষেধাজ্ঞা বা উচ্ছেদের মাধ্যমে সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক, নিরাপদ, নিবন্ধিত ও আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে এ খাতকে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

তারা বলেন, অটোরিকশা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্রেকিং সিস্টেম ও অনিরাপদ বডি স্ট্রাকচারের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। এ কারণে বুয়েট অনুমোদিত আধুনিক ব্রেকিং সিস্টেম ও নিরাপদ ডিজাইনের ই-রিকশা দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদনের সুযোগ দিতে হবে।

একই সঙ্গে পুরোনো অটোরিকশাগুলো আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য তিন থেকে পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার দাবি জানান তারা।

নেতারা বলেন, ১০ দফা দাবি নিয়ে চালক-মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আইন মেনে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন ও শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি