খুঁজুন
                               
, ,
           

নয় বছরেও ঘরে ফেরা হয়নি, ‘হোপ ইজ হোম’ রোহিঙ্গাদের

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
নয় বছরেও ঘরে ফেরা হয়নি, ‘হোপ ইজ হোম’ রোহিঙ্গাদের

৯ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের কাছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের সেই ভয়াবহতা আজও অতীত নয়—বরং প্রতিদিনের বাস্তবতার অংশ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখো রোহিঙ্গা এখনও তাকিয়ে আছে নিজ মাতৃভূমির দিকে। গণহত্যা স্মরণ দিবসে তাদের কণ্ঠে তাই একটাই আকুতি—‘আমরা শরণার্থী হয়ে থাকতে চাই না, নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে চাই।’

‘নাইন ইয়ারস গন, থিংক টেন মিনিটস ফর রোহিঙ্গা’—নয় বছর চলে গেছে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে অন্তত ১০ মিনিট ভাবো—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কক্সবাজারের উখিয়ার ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বড় ধরনের সমাবেশ। রোহিঙ্গাদের নাগরিক সংগঠন ‘ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা’ (ইউসিআর) আয়োজিত কর্মসূচিতে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে শিশু, নারী, তরুণ ও প্রবীণসহ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অংশ নেন।

  • গণহত্যা স্মরণ দিবসে উখিয়া-টেকনাফে লাখো রোহিঙ্গার সমাবেশ
  • নিরাপদ প্রত্যাবাসন, নাগরিকত্ব ও হারানো ভিটেমাটি ফেরতের দাবি

বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকেই ক্যাম্পগুলোতে ছিল সরব উপস্থিতি। ‘হোপ ইজ হোম’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গারা গণহত্যার বিচার, নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের দাবি জানান। তাদের স্লোগানে বারবার উঠে আসে—গণহত্যা বন্ধ করতে হবে, অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে, নিজ দেশে ফেরার পথ খুলে দিতে হবে।

শরণার্থী জীবনের নয় বছর
২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা। মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ তাদের সীমান্ত খুলে দিলেও দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট এখন শুধু একটি মানবিক ইস্যু নয়; এটি বাংলাদেশের জন্য সামাজিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত চাপেরও বড় উৎস। উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে বর্তমানে ১১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৫২ রোহিঙ্গা বসবাস করছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। ভাসানচরের আশ্রয়ণ প্রকল্পে রয়েছে আরও ৩৩ হাজার ৮১৯ জন।

নতুন করে আসা ব্যক্তিদের ধরলে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখ ছাড়িয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। অর্থাৎ, নয় বছর আগে যে সংকটকে সাময়িক শরণার্থী পরিস্থিতি হিসেবে দেখা হয়েছিল, তা এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। একটি প্রজন্ম ইতোমধ্যে ক্যাম্পেই বেড়ে উঠছে। অনেক শিশু মিয়ানমারের মাটি চোখেই দেখেনি।

‘ক্যাম্পে জন্ম, ক্যাম্পেই ভবিষ্যৎ?’
রোহিঙ্গাদের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঘিরে। ক্যাম্প-৮-এর বাসিন্দা হাজেরা বেগমের কথায় সেই উৎকণ্ঠাই ফুটে ওঠে। তাঁর ভাষ্য, ক্যাম্পের আবদ্ধ পরিবেশে বেড়ে ওঠা সন্তানরা নিজ দেশের মাটিই দেখেনি। তাদের স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তিনি নিরাপদে স্বদেশে ফিরতে চান। ক্যাম্প-৬-এর বাসিন্দা ইব্রাহিম ও তরুণ মফিজের মতো অনেকেই মনে করেন, শুধু ত্রাণনির্ভর জীবন দিয়ে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ তৈরি করা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়িয়ে রাখাইনে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা নিরাপদে ফিরে যেতে পারে। এই বাস্তবতা দেখিয়ে দেয়, রোহিঙ্গা সংকট কেবল খাদ্য, আশ্রয় কিংবা ত্রাণের প্রশ্ন নয়। এটি এখন একটি প্রজন্মের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, পরিচয় ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন।

প্রত্যাবাসনই সমাধান, তবে কেমন প্রত্যাবাসন?
সমাবেশে রোহিঙ্গাদের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল—তারা মিয়ানমারে ফিরতে চান, কিন্তু যে কোনো মূল্যে নয়।।তাদের দাবি, প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে নাগরিকত্বের অধিকার, মৌলিক মানবাধিকার এবং নিরাপত্তা। ২০১৭ সালের সহিংসতায় হারানো সম্পদ ও বসতভিটা পুনরুদ্ধারের নিশ্চয়তাও তারা চান। এই দাবির গুরুত্ব এখানেই যে, অতীতের অভিজ্ঞতা রোহিঙ্গাদের আস্থাহীন করেছে। ২০১২, ২০১৭ এবং ২০২৪ সালে রাখাইনে ধারাবাহিক নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা তাদের নিরাপত্তাহীনতার স্মৃতি আরও গভীর করেছে। ফলে শুধু সীমান্ত পার করে ফেরত পাঠানোকে তারা প্রত্যাবাসনের সমাধান হিসেবে দেখছেন না; তারা চান এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ফিরে যাওয়ার পর আবারও নিপীড়নের শিকার হতে না হয়।

সংকটের কেন্দ্রে মিয়ানমার, সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ
রোহিঙ্গাদের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি হতাশাও স্পষ্ট। নয় বছর ধরে আশ্রয় দেওয়ার জন্য তারা বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেও একই সঙ্গে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী জীবন তাদের জন্য ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে। এখন প্রশ্ন—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে নিজেদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ রাখবে, নাকি সংকটের মূল কারণ সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা নেবে? রোহিঙ্গাদের দাবি, মিয়ানমারের ওপর দৃশ্যমান ও কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে। রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি না হলে প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না। একই সঙ্গে ২০১৭ সালের হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিও তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

নয় বছর পরও আশা হারায়নি
রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবসের কর্মসূচি তাই শুধু অতীতের শোক স্মরণের আয়োজন ছিল না। এর ভেতরে ছিল ভবিষ্যৎ ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও। সমাবেশ শেষে ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে নিহত রোহিঙ্গাদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। শোক, ক্ষোভ ও প্রত্যাবাসনের আকাঙ্ক্ষা মিলেমিশে সেখানে যেন একটি বার্তাই স্পষ্ট করেছে—রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে, কিন্তু তাদের চূড়ান্ত আকাঙ্ক্ষা আশ্রয় নয়; মর্যাদার সঙ্গে নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়া।

নয় বছর পরও তাই ‘হোপ ইজ হোম’—আশাই ঘর। সেই আশা বাস্তবে রূপ দিতে হলে শুধু রোহিঙ্গাদের অপেক্ষা নয়, প্রয়োজন মিয়ানমারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর, দীর্ঘমেয়াদি ও দৃশ্যমান উদ্যোগ। অন্যথায় আরও একটি প্রজন্ম ক্যাম্পের ভেতরেই বড় হবে, আর ২৫ আগস্টের স্মৃতি শুধু একটি গণহত্যা দিবস নয়—একটি অসমাপ্ত প্রত্যাবাসন সংকটের প্রতীক হয়ে থাকবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কেন্দুয়ায় প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নেএকোনা(কেন্দুয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কেন্দুয়ায় প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

‘রাখি চারপাশ পরিষ্কার, করি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিকার’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরীর নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে উদ্বোধনের পর সংসদ সদস্য নিজেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।

এ সময় ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপজেলা পরিষদ চত্বরের সড়ক ও আশপাশে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা স্থান এবং এডিস মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য উৎসগুলো পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা, কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূইয়া, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান এবং উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসনের এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে কেন্দুয়া পৌরসভা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন N1 Kendua। কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আমদানিতে বড় ছাড়, বাড়ছে নিয়মের শৃঙ্খলা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
আমদানিতে বড় ছাড়, বাড়ছে নিয়মের শৃঙ্খলা

ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ সহজ করা, আমদানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সামঞ্জস্য জোরদার করতে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯’ জারি করেছে সরকার। সোমবার (২৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা গেজেটে প্রকাশিত নতুন নীতিতে একদিকে আমদানিকারকদের জন্য বেশ কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে, অন্যদিকে পণ্যের উৎপত্তি, মান, পরীক্ষণ, সনদ ও বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পালনে আনা হয়েছে আরও কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা।

আমদানি ও রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫০-এর ৩(১) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ আদেশ ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নতুন নীতির সামগ্রিক কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের লক্ষ্য শুধু আমদানির বাধা কমানো নয়; বরং ব্যবসার পরিবেশকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানো।

মোটরসাইকেলে বড় পরিবর্তন
নতুন নীতির সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি মোটরসাইকেল আমদানিতে। এখন সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় সর্বোচ্চ ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানি করা যাবে। আগের ২০২১–২০২৪ সালের নীতিতে এ সীমা ছিল ১৬৫ সিসি। অর্থাৎ এক লাফে আমদানিযোগ্য মোটরসাইকেলের সিসি সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

এর ফলে দেশের মোটরসাইকেল বাজারে বড় ইঞ্জিনের মডেলের সরবরাহ বাড়তে পারে। ভোক্তাদের সামনে যেমন নতুন মডেলের বিকল্প তৈরি হবে, তেমনি আমদানিকারকদের জন্যও নতুন বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে এর প্রভাব শুধু বাজারে নতুন মডেল আসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বড় সিসির মোটরসাইকেলের আমদানি বাড়লে সংশ্লিষ্ট শুল্ক, রাজস্ব, বাজার প্রতিযোগিতা এবং স্থানীয় সংযোজন বা উৎপাদন খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এলসি ছাড়াই চুক্তিতে আমদানির সুযোগ
নতুন নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণ। এখন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা এলসি খোলার পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট মূল্যসীমা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন।

ব্যবসার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিটি লেনদেনের জন্য একই ধরনের অর্থায়ন কাঠামো কার্যকর নয়। কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহকারী ও ক্রেতার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক, চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ কিংবা বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।

মূল্যসীমা তুলে দেওয়ার ফলে এসব ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের নমনীয়তা বাড়বে। বিশেষ করে শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও নিয়মিত সরবরাহ প্রয়োজন এমন পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি প্রক্রিয়া দ্রুত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সুবিধার সঙ্গে বাড়ছে দায়ও
তবে নীতির এই শিথিলতাকে শুধু ‘আমদানিতে ছাড়’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। নতুন কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—ব্যবসা সহজ করার সঙ্গে সঙ্গে নথিপত্র ও তথ্যের দায়ও বাড়ানো হয়েছে। পণ্যের উৎপত্তি, মান, স্পেসিফিকেশন, পরীক্ষণ, পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট সনদের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে আমদানিকারকদের শুধু পণ্য আনার ব্যবস্থা করলেই হবে না; পণ্য কোথায় উৎপাদিত, কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হয়েছে এবং নির্ধারিত মান পূরণ করছে কি না—এসব তথ্যও যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করতে হবে।

এতে একদিকে ভুয়া উৎপত্তি, ভুল ঘোষণা বা নিম্নমানের পণ্য আমদানির ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে প্রস্তুতিমূলক কাগজপত্র ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাপনায় দুর্বল ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

‘পণ্যের দেশ’ এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি পণ্যের Country of Origin বা উৎপত্তির দেশ নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো পণ্য এক দেশে তৈরি হয়ে অন্য দেশে সংযোজন, প্রক্রিয়াজাত কিংবা পুনঃরপ্তানি হলে প্রকৃত উৎপত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। নতুন আমদানি নীতিতে এ বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের জন্য উৎপত্তি সনদ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের যথার্থতা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠবে।

এটি বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তি যাচাইয়ের প্রয়োজনও বাড়বে। সঠিক নথিপত্র না থাকলে বিশেষ শুল্ক সুবিধা কিংবা বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

মানের প্রশ্নে ছাড় নয়
আমদানির পরিমাণ বাড়ানো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, আমদানি করা পণ্যের মান নিশ্চিত করাও ততটাই জরুরি। নতুন নীতিতে পণ্যের স্পেসিফিকেশন, পরীক্ষণ ও পরিদর্শনের বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পাশাপাশি Technical Barriers to Trade (TBT), Codex Alimentarius এবং বিএসটিআই-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও রাখা হয়েছে। এর অর্থ হলো, বিশেষ করে খাদ্য, ভোগ্যপণ্য ও মাননিয়ন্ত্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের শুধু আমদানির অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি দেখলেই চলবে না; পণ্যের মান ও প্রয়োজনীয় সনদের বিষয়টিও আগেই নিশ্চিত করতে হবে।

ভোক্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ইতিবাচক হতে পারে। আমদানির প্রক্রিয়া সহজ হলেও মান নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে বাজারে নিম্নমানের বা অনিরাপদ পণ্যের প্রবেশের ঝুঁকি থাকে। নতুন নীতির কাঠামো সেই জায়গায় একটি ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছে।

বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা, তবে শর্তসাপেক্ষ
নতুন নীতিতে এফটিএ, সিইপিএ, ইপিএ, পিটিএ ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির মতো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তাও। কোনো বাণিজ্য চুক্তির আওতায় শুল্ক সুবিধা পাওয়া গেলে শুধু চুক্তি থাকলেই হবে না; পণ্যের উৎপত্তির নিয়ম, প্রয়োজনীয় সনদ এবং অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

অর্থাৎ নতুন নীতির বার্তা অনেকটা এমন—আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দরজা আরও খোলা হবে, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে প্রবেশের নিয়মও স্পষ্টভাবে মানতে হবে।

মুক্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা
নতুন আদেশে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমদানি সুবিধা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে আমদানিকে শুধু ভোগের সঙ্গে না দেখে উৎপাদন ও রপ্তানির সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য দ্রুত ও সহজে কাঁচামাল সংগ্রহ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় ও সময় ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ব্যবসায়ীদের জন্য আসল পরীক্ষা বাস্তবায়নে
নতুন আমদানি নীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন বাস্তবায়ন। কাগজে নিয়ম সহজ হলেও মাঠপর্যায়ে যদি একই ধরনের তথ্য বারবার চাওয়া হয়, অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা থাকে কিংবা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় দুর্বল হয়, তাহলে নীতির কাঙ্ক্ষিত সুফল ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি পাবেন না। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদেরও আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে কমপ্লায়েন্স, তথ্য সংরক্ষণ, উৎপত্তি সনদ, মান যাচাই ও সঠিক নথিপত্রে। অর্থাৎ নতুন নীতিতে ‘সহজ আমদানি’ মানেই ‘কম দায়িত্ব’ নয়।

সব মিলিয়ে আমদানি নীতি ২০২৬–২০২৯ বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মোটরসাইকেল আমদানির সীমা বাড়ানো কিংবা চুক্তিভিত্তিক আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণ ব্যবসায়ীদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি আনতে পারে। একই সঙ্গে উৎপত্তি, মান ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির শর্তকে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে আমদানি ব্যবস্থায় আরও শৃঙ্খলা আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। চ্যালেঞ্জ এখন একটাই—নীতির সুবিধা যেন কাগজে আটকে না থাকে। আমদানি প্রক্রিয়া সত্যিই দ্রুত, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য করা গেলে নতুন নীতি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। আর বাস্তবায়নে জটিলতা থেকেই গেলে নতুন নিয়মও পুরোনো আমলাতান্ত্রিক বাধার কাছে তার কাঙ্ক্ষিত কার্যকারিতা হারাতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রাথমিক শিক্ষায় ফলাফলভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে : ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক শিক্ষায় ফলাফলভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে : ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু রিপোর্ট ও কাগুজে তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীর প্রকৃত উপস্থিতি, শেখার অগ্রগতি ও বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা সরাসরি যাচাই করা হবে।

মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে দাপ্তরিক প্রতিবেদনের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করে শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হবে। কাগজে ভালো রিপোর্ট নয়, শিক্ষার্থীর বাস্তব শিখনফলই হবে প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্যের প্রধান মানদণ্ড।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজশাহীর পিটিআই অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক ও কার্যকর পরিবর্তন আনতে দেশব্যাপী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের আটটি বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খুলনা, রংপুর ও ঢাকা বিভাগেও এসব কর্মশালা সম্পন্ন করা হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, এসব কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান ও ভবিষ্যৎ সংস্কার সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবহিত করা এবং তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবভিত্তিক মতামত গ্রহণ করা।

তিনি বলেন, বিদ্যালয় মনিটরিং, শিক্ষক ও প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, কারিকুলাম সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার, শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য বাথরুম, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ও আসবাবসহ প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, দেশের সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে কাগুজে রিপোর্টের ওপর নির্ভর না করে বিদ্যালয়ের প্রকৃত অবস্থা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিখনফলকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে সংস্কার কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তিনি উল্লেখ বলেন, প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচি এবং সরকারের পাঁচ বছরের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

আমাদের লক্ষ্য প্রত্যেক শিশু বিদ্যালয়ে থাকবে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থী সঠিক শিক্ষা পাবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ