খুঁজুন
                               
, ,
           

অনুমোদন ছাড়াই পানি ও কেক উৎপাদন, রাজশাহীতে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
অনুমোদন ছাড়াই পানি ও কেক উৎপাদন, রাজশাহীতে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রাজশাহীতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন ও গুণগত মানসনদ না থাকায় খাবার পানি ও জন্মদিনের কেক উৎপাদনকারী দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মহানগরীতে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ জরিমানা করা হয়।

অভিযানে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় অবস্থিত ‘রোজ পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার’ প্রতিষ্ঠানকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআইয়ের গুণগত মানসনদ নবায়ন না করেই প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বিক্রি-বিতরণ করছিল। একই সঙ্গে পণ্যের লেবেলে অবৈধভাবে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ব্যবহার করার অভিযোগও পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, একই এলাকার ‘শোয়াইব সিফাত বেকারী’কে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআইয়ের গুণগত মানসনদ ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ডেকোরেটেড কেক বা জন্মদিনের কেক উৎপাদন ও বিক্রি-বিতরণ করছিল।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার ইসলাম নাসিফের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর সার্টিফিকেশন মার্কস উইংয়ের কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ।

অভিযানে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএসটিআই জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল প্রতিরোধ এবং ভোক্তাদের কাছে গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

কৃষি থেকে পর্যটন, মালাগার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
কৃষি থেকে পর্যটন, মালাগার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ

স্পেনের মালাগা শহরের সঙ্গে কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী বিনিময়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, স্পেনের মালাগা সিটি মেয়রের কার্যালয়ে শহরটির মেয়র ফ্রান্সিসকো দে লা তোরে প্রাদোসের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা
বৈঠকে কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং সৃজনশীল অর্থনীতির মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা করেন দুই পক্ষ। কৃষি খাতে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা বাড়ানোর মতো উদ্যোগ দুই পক্ষের সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। তবে এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প, বিনিয়োগের পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়নের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। বৈঠকে মূলত ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা ও ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সম্পর্কে মালাগার মেয়রকে অবহিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ প্রক্রিয়ায় স্পেনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে ভবিষ্যতে যোগাযোগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতার সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।

শিক্ষার্থী বিনিময় ও বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতায় আগ্রহ
কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও বৈঠকে উঠে আসে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক বিনিময়, পর্যটন ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে যোগাযোগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশ ও মালাগার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি হতে পারে।

রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার প্রশংসা মালাগার মেয়রের
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টির প্রশংসা করেন মালাগার মেয়র ফ্রান্সিসকো দে লা তোরে প্রাদোস। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এ সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।

ভবিষ্যৎ যোগাযোগ বাড়াতে দুই পক্ষের আগ্রহ
বৈঠকে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং মালাগার পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভবিষ্যতে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। কৃষি, প্রযুক্তি, শিক্ষা, বাণিজ্য, পর্যটন ও সংস্কৃতির মতো খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা এগিয়ে নিতে ভবিষ্যৎ যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আলোচনায় উঠে আসা উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা জানানো হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ঢাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৮১, উদ্ধার স্বর্ণালংকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৮১, উদ্ধার স্বর্ণালংকার

রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৫৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন অপরাধে ৪৮টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, চাকু, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে। এ বিভাগে ১৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৯০ জন, মতিঝিল বিভাগে ৮৯ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬৮ জন, গুলশান বিভাগে ৪২ জন, উত্তরা বিভাগে ৩৯ জন, রমনা বিভাগে ১৯ জন এবং লালবাগ বিভাগে ৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগ গ্রেপ্তার করেছে আরও চারজনকে।

সব মিলিয়ে ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগ ও গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫৮১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। একই সময়ে ৪৮টি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযানকালে ৯ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবা, ৫০ কেজি ৪৫০ গ্রাম গাঁজা এবং ২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি নয়টি মোবাইল ফোন, একটি মোটরসাইকেল ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ৬১ দশমিক ৮০ গ্রাম স্বর্ণালংকার এবং ৭ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযানে একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে বলে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উদ্ধার করা এসব আলামত সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায় বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে কোন আলামত কোন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ও উদ্ধারের এসব ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।রাজধানীতে অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক

পোশাক খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
পোশাক খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য জাপানের বিশ্বখ্যাত পোশাক প্রস্তুতকারক ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে ম্যান-মেড ফাইবার, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং টেকসই পোশাক উৎপাদন খাতে আরও বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তাদাশি ইয়ানাইয়ের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি ইউনিক্লোর আস্থা এবং ফাস্ট রিটেইলিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের তৈরি পোশাক খাতে প্রচলিত বিনিয়োগের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা ও পরিবেশবান্ধব শিল্পপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ম্যান-মেড ফাইবার ও টেকসই পোশাকে বিনিয়োগের আহ্বান
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি উচ্চমূল্য সংযোজিত ও প্রযুক্তিনির্ভর পোশাক উৎপাদনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে ম্যান-মেড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তু, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং টেকসই পোশাক উৎপাদন খাতে ইউনিক্লোর বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তৈরি পোশাক খাতে পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাত আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈঠকে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যে উদ্ভাবন, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় দুই পক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিনিয়োগে সহযোগিতার আশ্বাস সরকারের
বাংলাদেশে ইউনিক্লোর কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জমির ব্যবস্থা, বিনিয়োগ অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করা শিল্প খাতের সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে। ইউনিক্লোর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাড়লে তৈরি পোশাকশিল্পে প্রযুক্তি, উৎপাদনব্যবস্থা ও পণ্যের মান উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বৈঠকে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়ে আহ্বান ও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও নতুন বিনিয়োগের নির্দিষ্ট পরিমাণ, প্রকল্পের সময়সীমা কিংবা বাস্তবায়ন পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে গুরুত্ব
বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের গুরুত্বও পুনর্ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ। চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার হলে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়নে দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পথও সুগম হতে পারে।

বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবীর, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের প্রতিনিধিদলে ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক তাকেশি ওকাজাকি এবং প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ইয়োশিহিরো কুনিই অংশ নেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও সিইও তাদাশি ইয়ানাই। বাংলাদেশে ইউনিক্লোর বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আহ্বান এবং সরকারের সহযোগিতার আশ্বাসের মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি