খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু, আরো ১০১ জন হাসপাতালে ভর্তি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু, আরো ১০১ জন হাসপাতালে ভর্তি

হামের প্রকোপের মধ্যে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে ডেঙ্গু জ্বর। দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় জেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০১ জন। তবে এই সময়ে নতুন করে কারও মৃত্যু হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ছয়জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২০ জন রয়েছেন।

এই সময়ে ১২৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৩ জন।

চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৬০০ জন। এর মধ্যে ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ ও ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ নারী। এই বছর সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতি বছর বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ওই বছর দেশে তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে ঢাকায় এক লাখ ১০ হাজার ৮ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তিন লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯ জন। মশাবাহিত এই রোগে মারা যান এক হাজার ৭০৫ জন, যা দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

৩২ হাজার টাকা আয় করলে কি মধ্যবিত্ত বলা যায়, প্রশ্ন রুমিন ফারহানার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
৩২ হাজার টাকা আয় করলে কি মধ্যবিত্ত বলা যায়, প্রশ্ন রুমিন ফারহানার

বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে মাসে ৩২ হাজার টাকা আয়কারী একজন মানুষকে মধ্যবিত্ত বলা যায় কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনেরর সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাস্তবে এই সীমা এখনও অনেক সাধারণ আয়ের মানুষকে করের আওতায় নিয়ে আসছে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এই প্রশ্ন তুলেন। তিনি বলেন, সরকার করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করেছে। এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তা যথেষ্ট নয়।

রমিন বলেন, ‘যার মাসিক আয় ৩২ হাজার টাকা, তার বার্ষিক আয় দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ তিনিও করযোগ্য আয়ের আওতায় চলে আসেন। প্রশ্ন হলো, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে ৩২ হাজার টাকা মাসিক আয়কারী একজন মানুষকে কি মধ্যবিত্তও বলা যায়?’

রুমিন ফারহানা বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আয় বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন বলেন, দেশের মোট সম্পদের ৫৮ শতাংশ রয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের হাতে। অন্যদিকে শীর্ষ ১ শতাংশ মানুষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মোট সম্পদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

কর ব্যবস্থার ফাঁক-ফোকর নিয়ে রুমিন ফারাহানা বলেন, কর ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে সেইসব মানুষের ওপর, যাদের আয় সহজে শনাক্ত করা যায় এবং যারা নিয়মিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মধ্যে থাকে। কিন্তু যাদের প্রকৃত আয় অনেক বেশি, তাদের একটি বড় অংশ এখনও কার্যকরভাবে করের আওতায় আসছে না। তিনি বলেন, আয়করের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে সেইসব মানুষের ওপর, যাদের আয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সহজে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু যাদের প্রকৃত আয় কর ব্যবস্থার বাইরে থেকে যায়, তাদের বড় অংশ এখনও কার্যত করের আওতার বাইরে।

কর কাঠামোর সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও প্রত্যক্ষ করের তুলনায় পরোক্ষ করের ওপর বেশি নির্ভরতা বজায় রাখা হয়েছে। বাজেটে প্রত্যক্ষ করের অংশ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হলেও পরোক্ষ করের অংশ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।

তার মতে, পরোক্ষ কর ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার ওপর সমান প্রভাব ফেলে, যা কর ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো সাধারণত প্রত্যক্ষ করের ভিত্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সঙ্গত করার চেষ্টা করে।

বাজেট আলোচনায় রুমিন সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং কমে আসা প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সূচক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে না।

তবে বক্তব্যের শুরুতে রুমিন কৃষিপণ্যের উৎসে কর কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তার মতে, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে এই উদ্যোগ কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

করমুক্ত আয়সীমা ও কর কাঠামো নিয়ে বক্তব্যের মাধ্যমে রুমিন ফারহানা মূলত মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর করের প্রভাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ভিএফজিবি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
জামায়াত আমিরের সঙ্গে ভিএফজিবি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছে ‘ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ’ (ভিএফজিবি) প্রতিনিধি দল। বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধী দলীয় নেতার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

ভিএফজিবির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. হাসানাত এম. হুসাইন, এমবিই-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি বৈঠকে অংশ নেয়।

প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ভিএফজিবি’র আইনবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক ও ট্রাইব্যুনাল জজ ব্যারিস্টার নজরুল খাসরু (লন্ডন), অস্ট্রেলিয়ার নির্বাহী পরিচালক ড. হুমায়ের চৌধুরী (সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়), নির্বাহী সদস্য হুমায়ুন পাটোয়ারী (অটোয়া), শাহিদা এইচ. হুসাইন (লন্ডন), ড. শওকত আলী (নিউইয়র্ক) এবং বাংলাদেশ সমন্বয়ক ড. হান্নান মির্জা (ঢাকা)।

বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রতিনিধি দল প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আসন্ন জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানায় এবং এ বিষয়ে বিরোধী দলের সহযোগিতা কামনা করে।

এছাড়া প্রবাসীদের জন্য সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি প্রবাসীদের কল্যাণ, অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আশ্বাস দেন।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপিও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

২২ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল, ৫০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
২২ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল, ৫০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা: মাহদী আমিন

প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে এবার সারা দেশের ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। আগামী ২০ জুন জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার(১৮ জুন) প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এসব তথ্য জানান।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী পাঠ্যক্রমের বাইরেও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটে—এমন বহুমুখী কর্মকাণ্ড শুরু করা হয়েছে। গত ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া আড়াই মাসব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশ নিয়েছে। তৃণমূল তথা গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা এখন ঢাকার চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে। সরকারের লক্ষ্য, আগামীতে এই সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। শিশুদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত করতে সংবাদমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন সংস্কারের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘স্পোর্টস’ (ক্রীড়া) ও ‘কালচার’ (সংস্কৃতি) নামে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের মধ্যে টিম স্কিল, ডিসিপ্লিন ও ইন্টারপার্সোনাল স্কিল তৈরি করা।

এছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে, যেখানে পুথিগত বিদ্যার বাইরে শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশে শিখবে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সবার জন্য ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’ বা কারিগরি শিক্ষা তাত্ত্বিকভাবে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যা অষ্টম শ্রেণি থেকে ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবহারিক রূপ পাবে।

তিনি আরও জানান, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতায় ইতিমধ্যে ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী ও ২৪ হাজার শিক্ষকের সমন্বয়ে ১২ হাজার টিম অংশ নিয়েছে। এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী সেখানেও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেরা ১০০টি টিমকে মূল্যায়ন ও পুরস্কৃত করবেন। একই অনুষ্ঠানে একযোগে দেশের ২৯ হাজার ৬৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভার্চুয়ালি ও ফিজিক্যালি বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী চিন্তায় এবং বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী জাতি বিনির্মাণের ইতিবাচক উদ্যোগ যেমন—বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, গণশিক্ষা ও শিশু-কিশোরদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। সরকার সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নয়, বরং এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চায় যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক মূল্যবোধ, সামাজিকতা, নৈতিকতা ও বলিষ্ঠ চরিত্র গড়ে উঠবে। এই লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গার্লস গাইড, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিতর্ক, বিজ্ঞান উৎসব ও নতুন কুঁড়ির মতো দেশব্যাপী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমিয়ে আনতে দুই মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে।

কালের আলো/এসএকে