খুঁজুন
                               
, ,
           

সরকারকে অন্ধ সমর্থন বা অযৌক্তিক বিরোধিতা করবে না জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
সরকারকে অন্ধ সমর্থন বা অযৌক্তিক বিরোধিতা করবে না জামায়াত

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে অন্ধ সমর্থন, আবার তাদের অযৌক্তিক বিরোধিতাও জামায়াতে ইসলামী করবে না বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি এও জানিয়েছেন, তার দল (জামায়াত) সংসদে ‘যৌক্তিক ও গঠনমূলক বিরোধী দলের’ ভূমিকা পালন করবে। জনকল্যাণ, জবাবদিহিতা ও জাতীয় সংস্কারের প্রশ্নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংসদ বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরবে। তবে তা হবে সংসদীয় শালীনতা ও গঠনমূলক রাজনৈতিক আচরণের মধ্য দিয়ে। আমরা না হবো সরকারপন্থী অনুগত বিরোধী দল, না হবো অযৌক্তিকভাবে বাধাদানকারী বিরোধী দল। আমরা হবো যৌক্তিক ও বিবেকনির্ভর বিরোধী দল।’

তিনি বলেন, সংসদে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে কেন্দ্র করে। ইতোমধ্যে তারা সংসদে ভোটারদের সমর্থিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং খাতের সংকট, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা এবং সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করেছেন।

চলমান বাজেট অধিবেশনে আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা উন্নত করার লক্ষ্যে তাদের দল কিছু নির্দিষ্ট সুপারিশ উপস্থাপন করবে বলেও জানান জামায়াত আমির।

অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে উন্নয়ন ব্যয় সম্পন্ন করার প্রবণতার সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের বর্তমান জুলাই-জুন অর্থবছর পরিবর্তন করে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ক্যালেন্ডারভিত্তিক অর্থবছর চালুর প্রস্তাব দেন।

তার মতে, ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে অর্থবছর সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে শুষ্ক মৌসুমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে, পরিকল্পনা ও তদারকি আরও কার্যকর হবে এবং অর্থবছরের শেষ দিকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমে আসবে।

তিনি বলেন, ‘সরকারি ব্যয়ের একটি বড় অংশ অর্থবছরের শেষ কয়েক সপ্তাহে সম্পন্ন হয়। এতে কাজের মান, জবাবদিহিতা ও অর্থের যথাযথ ব্যবহার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

বিরোধী দলীয় নেতা সম্পূরক বাজেট অনুমোদনের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং সরকারি ব্যয়ে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদের উচিত জনগণের প্রত্যাশা ও ম্যান্ডেটের প্রতিফলন ঘটিয়ে অর্থবহ সাংবিধানিক সংস্কারে মনোনিবেশ করা, শুধু নিয়মিত সংশোধনীতে সীমাবদ্ধ না থাকা।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদকে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা ও জনমতের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে থাকতে হবে। সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা দলীয় নাটকীয়তায় জড়ানো নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি জনগণের কথা বলার জন্য। দেশ ও দেশের মানুষই আমাদের অগ্রাধিকার।’

তবে জামায়াত আমির সতর্ক করেন, জনগণের ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হলে সংসদের বাইরেও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে এসব দাবি আদায়ে তাদের দল কাজ করে যাবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সদস্য, সাংবাদিক ও নাগরিকদের মধ্যে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করবে এবং দেশের সুশাসন উন্নয়নে সহায়ক হবে।

মতবিনিময় সভায় বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া অন্য সংসদ সদ্যেদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এটিএম আজহারুল ইসলাম, সাইফুল আলম খান মিলন, শাহজাহান চৌধুরী, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান, গাজী নজরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী এবং ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানসহ অন্যরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আবাসন খাতকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ দফা প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
আবাসন খাতকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ দফা প্রস্তাব

দেশের আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছয় দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

আবাসন খাতকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নীতিগত সংস্কার, কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ খাতকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। এ সময় আবাসন খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, সরকার স্বীকৃত দেশের একমাত্র আবাসন খাতের বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে রিহ্যাব গত সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকারের উন্নয়ন-সহযোগী হিসেবে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এই খাতের ওপর নির্ভরশীল এবং জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদনে আবাসন খাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া সিমেন্ট, রড, ইট, সিরামিক, টাইলস, কাচ, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, স্যানিটারি, ফার্নিচার, পরিবহনসহ ৩০০টিরও বেশি সংযুক্ত শিল্প এ খাতকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।

রিহ্যাবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত ছয় দফা প্রস্তাব হলো—

১. জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন:

সীমিত ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২১০০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জনসংখ্যা, নগরায়ণ ও আবাসনের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সারা দেশের জমিকে কৃষি, বনাঞ্চল, জলাশয়, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্পাঞ্চল ও সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে শ্রেণিবিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিকল্পিত ও উলম্ব নগরায়ণ নিশ্চিত করতে বর্তমান ড্যাপ ও নির্মাণ বিধিমালা পুনর্মূল্যায়ন করে যুগোপযোগী সংস্কারের দাবি জানানো হয়।

২. নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য পিপিপিভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি:

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ফ্ল্যাট ও আবাসন নির্মাণ কর্মসূচি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। সরকারের জমি ও নীতিগত সহায়তার সঙ্গে বেসরকারি খাতের দক্ষতা ও বিনিয়োগ যুক্ত হলে নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করে রিহ্যাব।

৩. মধ্যবিত্তের জন্য এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু:

মধ্যবিত্ত পরিবারের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহজ শর্তে এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালুর আহ্বান জানানো হয়। এতে লাখো পরিবার স্থায়ী আবাসনের সুযোগ পাবে এবং আবাসন শিল্পেও নতুন গতি সৃষ্টি হবে বলে মত দেয় সংগঠনটি।

৪. নিবন্ধন ব্যয়, ভ্যাট ও কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ:

ফ্ল্যাট ও জমির নিবন্ধন ব্যয় ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে রিহ্যাব বলেছে, করব্যবস্থা বাস্তবসম্মত, বিনিয়োগবান্ধব, ন্যায়সংগত, ঝামেলামুক্ত এবং পুরোপুরি ডিজিটাল হওয়া প্রয়োজন। এতে প্রকৃত লেনদেনমূল্য নিবন্ধনে মানুষ উৎসাহিত হবে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে।

৫. জমির মালিকদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহার:

চলতি অর্থবছরে জমির মালিকদের ওপর ফ্ল্যাট নির্মাণে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। রিহ্যাবের মতে, এ করের কারণে ফ্ল্যাট নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত এর চাপ সাধারণ ক্রেতার ওপর পড়ছে।

৬. পরিকল্পনা অনুমোদন প্রক্রিয়ার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন:

বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার দাবি জানানো হয়। এতে দীর্ঘসূত্রতা, অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানি কমে সেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে বলে উল্লেখ করে রিহ্যাব।

ড. আলী আফজাল বলেন, রিহ্যাব সব সময় সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা অব্যাহত রাখতে চায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে আবাসন শিল্প আরও গতিশীল হবে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সহজ হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সদয় বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা কামনা করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, টেকসই এবং দুর্নীতিমুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নগরায়ণ শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চলবে না। দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি সংরক্ষণ করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজউক বা সরকার নিজে আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করুক, এমনটি তিনি চান না। বরং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও ছয় দফা প্রস্তাব শোনেন। তিনি উপস্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকাতউল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অর্থ) ড. মো. হারুন অর রশিদ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, ইউনাইটেড গ্রুপের ব্যবস্থাপক মুশফিকুল আলম খন্দকার, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খান, কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম মো. রেজাউল করিম, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জালাল ঘানি খান, স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. কাইয়ুম এবং সেঞ্চুরি গ্রুপের চেয়ারম্যান এমজিআর নাসির মজুমদারসহ আবাসনখাতেরশীর্ষউদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

তেলের সংকট নেই, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান পাম্প মালিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
তেলের সংকট নেই, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান পাম্প মালিকদের

দেশের কোথাও জ্বালানি তেলের সংকট নেই এবং সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। একইসঙ্গে গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত তেল ক্রয় না করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানান বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।

বার্তায় তিনি বলেন, দেশের সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিতভাবে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।

তিনি আরও বলেন, কিছু গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন, যা অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাধারণ ভোক্তাদের আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল সংগ্রহ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। তাই কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুদ করার প্রবণতা বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি করতে পারে এবং এতে জনভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ কাজ করছে এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। তাই আতঙ্ক বা গুজবের ভিত্তিতে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রয়োজন নেই।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছঃ রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছঃ রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করার প্রয়োজন নেই। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক তথ্য জেনে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল তিনটায় রাজশাহী  জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চতকরা, বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং গুজব প্রতিরোধে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, অযৌক্তিকভাবে জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করা হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সবুর আলী।

সভায় রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসএ শাখা) অভিজিত সরকার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত শাখা এবং ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখা) বোরহান উদ্দিন অন্তর, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পের মালিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করার প্রয়োজন নেই। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক তথ্য জেনে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় জ্বালানি তেলের বর্তমান সরবরাহব্যবস্থা, বাজার পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় পেট্রোল পাম্পের মালিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক তথ্য জানার এবং অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ না করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানানো হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি