খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রদান করা হচ্ছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য রপ্তানি নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯ হালনাগাদকরণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ডেড ও নন-বন্ডেড সব প্রতিষ্ঠানকে এফওসি ভিত্তিতে আমদানির সুযোগের আওতা আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সকল আমদানিকারকের জন্য মূল্যসীমা নির্বিশেষে এলসি ব্যতীত চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চুক্তি বাস্তবায়ন ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো—বিনিয়োগ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের একীভূতকরণ: বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা হ্রাস ও সেবার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ একীভূতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগকারীরা একটি একক প্ল্যাটফর্ম থেকে সমন্বিত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে নীতিগত অসামঞ্জস্য ও সেবার পুনরাবৃত্তি কমবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ হবে।

মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত ও নীতিগত সমন্বয়: বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যবসা পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং নীতিগত সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সরকার আন্তঃসংস্থা সমন্বয় জোরদার করেছে। এ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশেষ করে বিডা ও এনবিআরের মধ্যে মাসিক সভার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কর-সংক্রান্ত সমস্যা ও নীতিগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সমাধান গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ সভা ও মতবিনিময় কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে বেসরকারি খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং সুপারিশসমূহ সরাসরি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হচ্ছে।

মূলধন ও বিনিয়োগ প্রত্যাবর্তন, প্রক্রিয়া সহজীকরণ: বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে সরকার মূলধন ও বিনিয়োগ প্রত্যাবর্তন (Capital Repatriation) প্রক্রিয়া সহজীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে শেয়ার বিক্রয়, ব্যবসা হস্তান্তর বা ব্যবসা বন্ধ করার পর বিনিয়োগকৃত মূলধন ও অর্জিত অর্থ বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে অনেক বিনিয়োগকারী মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং অতিরিক্ত দলিলপত্রের প্রয়োজনীয়তার কারণে বিলম্ব ও অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হন।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত মূলধন প্রত্যাবর্তন-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি বিদ্যমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত সংস্কারের মাধ্যমে মূল্যায়ন, যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ, দ্রুত এবং পূর্বানুমানযোগ্য করা হবে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা ও কাগজপত্রের পরিমাণ হ্রাস করে বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থ প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়াকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করা হবে।

লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ: বিনিয়োগ কার্যক্রমের সূচনা আরও দ্রুত, সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য করতে সরকার লাইসেন্সিং ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর আওতায় বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সকল অনুমোদন, নিবন্ধন ও লাইসেন্স সেবাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল সিঙ্গেল-উইন্ডো প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হচ্ছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সকল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আন্তঃসংযুক্ত থাকবে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে গিয়ে অনেক উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী প্রায়ই জানতে পারেন না কোন সেবার জন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, কোথায় আবেদন করতে হবে কিংবা কীভাবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই তথ্যগত ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দূর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর সহযোগিতায় ‘বাংলাবিজ’ প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তারা বিভিন্ন সরকারি সেবা, অনুমোদন, নিবন্ধন, লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য একক ডিজিটাল মাধ্যমে জানতে ও আবেদন করতে পারেন।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া হ্রাস, শতভাগ অনলাইনভিত্তিক সেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিটি সেবার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, সেইসাথে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে লজিস্টিক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যয় ও সময় কমানোর লক্ষ্যে নতুন বন্দর অবকাঠামো নির্মাণ ও বিদ্যমান সুবিধার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। লালদিয়া টার্মিনাল চলতি বছর কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং বে-টার্মিনাল প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণকাজ অগ্রসর হচ্ছে, যা সম্পন্ন হলে বৃহৎ জাহাজ সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরে নোঙর করতে পারবে এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরান আলোচনায় খুব বেশি সময় নিচ্ছে, তাদের মূল্য দিতে হবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
ইরান আলোচনায় খুব বেশি সময় নিচ্ছে, তাদের মূল্য দিতে হবে: ট্রাম্প

চলমান সংঘাত নিরসনে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরান খুব বেশি সময় নষ্ট করে ফেলেছে এবং এর জন্য এখন দেশটিকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (১০ জুন) নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ‘পুরোপুরি বিশৃঙ্খল’ এবং দেশটির নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মতো তাদেরও এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই। তারা পুরোপুরি পরাজিত হয়েছে। ইরান শুধু কথাই বলে, কাজে কিছুই করে না। মধ্যপ্রাচ্যে তাদের গুণ্ডাগিরির দিন শেষ!!!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, ‘তারা (ইরান) এমন একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনায় খুব বেশি সময় নিয়েছে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হতে পারত। এখন তাদের মূল্য দিতে হবে।’

তবে ইরানকে ‘মূল্য দিতে হবে’ বলতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সুনির্দিষ্টভাবে কী ধরনের- অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক নাকি সামরিক পদক্ষেপের কথা বুঝিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

এদিকে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও সরাসরি হামলা পাল্টা হামলা চলছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার সাইটে যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর পরপরই ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বেশ কয়েকটি মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।

তবে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমে সমঝোতার প্রচেষ্টা এখনো চলমান রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা: মাহদী আমিন

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সকল শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার যেসব জায়গায় সংযোজন, বিয়োজন ও পরিমার্জন প্রয়োজন, আমরা তা বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে করব। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ থাকবে।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রীড়া বিষয়টি নতুন সাবজেক্ট হিসেবে চালু করা হবে। সংস্কৃতি বিষয়টিও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হবে। পাশাপাশি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি বিষয় থাকবে, যেখানে নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দায়িত্বশীলতা এবং একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার বিষয়গুলো শেখানো হবে।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু সনদ নির্ভর না হয়ে বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা, মননশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ ঘটবে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব, প্রযুক্তি ও কর্মদক্ষতায়ও সমানভাবে এগিয়ে যাক। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে নতুন পাঠ্যক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রীড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি নতুন বিষয়। এই বিষয়গুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক আচরণ ও বাস্তব জীবনের দক্ষতা গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হবে। বিদ্যমান শিক্ষাকাঠামোর মধ্যেই একটি বিস্তৃত অধ্যায়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা হবে। দীর্ঘ ১৬ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা একদিনে কিংবা এক বছরে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।

নতুন কারিকুলাম প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, সম্পূর্ণ নতুন পাঠ্যক্রম চালু করা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন বই প্রণয়ন ও ছাপানোর জন্য সরকারের হাতে মাত্র তিন থেকে চার মাস সময় ছিল। ফলে সব পরিবর্তন একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আগামী বছর আরও বিস্তৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বাস্তবতাকে মাথায় রেখে কাজ করছি। তিন-চার মাসে শতভাগ পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে আগামী বছর আরও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে এবং ধীরে ধীরে একটি আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা খাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুলসংখ্যক ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রায় ১৪ লাখ ট্যাব প্রয়োজন হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় প্রকল্প। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষার প্রসার নিয়ে তিনি বলেন, দেশে কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে স্কিলস কম্পিটিশন, ক্যারিয়ার ফেয়ার এবং সরাসরি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

মাহদী বলেন, আমরা চাই কারিগরি শিক্ষা একটি সম্মানজনক শিক্ষাধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই যেন শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, সেই ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।

এ সময় শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

বিশ্বকাপের আগে জাইমা রহমানের ব্রাজিলীয় সারপ্রাইজ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপের আগে জাইমা রহমানের ব্রাজিলীয় সারপ্রাইজ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি যখন বিশ্বজুড়ে জমে উঠছে, ঠিক তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্টোরিতে জাইমা শেয়ার করেছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের কিংবদন্তি রোনালদোর একটি ছবি। যেখানে দেখা যাচ্ছে, কিংবদন্তি রোনালদো উড়োজাহাজ থেকে নামছেন এবং হাতে ভিডিও ক্যামেরা ধরে রয়েছেন। ছবিতে জাইমা রহমান ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আপনারা কি রেডি?’। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সার্জিও মেন্ডেজ অ্যান্ড ব্রাজিল ’৬৬-এর সেই সাম্বা তালের গান, যা ব্রাজিলের উৎসবমুখর সংস্কৃতিকে তুলে ধরে।

পোস্টটি প্রকাশের পরপরই নেটদুনিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়। অনেকেই মনে করছেন, এটি জাইমা রহমানের ব্রাজিলের প্রতি গভীর সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ। বিশ্বকাপের বছরে এমন একটি পোস্ট ব্রাজিল ভক্তদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ জুগিয়েছে। বাংলাদেশে যেখানে ব্রাজিলকে ঘিরে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আবেগ অন্য মাত্রায়, সেখানে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের এই শুভেচ্ছা অনেকের কাছেই বিশেষ অর্থ বহন করছে।

ব্রাজিল ফুটবলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন নয়। পেলে, রোনালদো, নেইমারদের জাদুতে মুগ্ধ প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানে বড় হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও সেই সেলেসাওদের দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন লাখো সমর্থক। জাইমা রহমানের স্টোরিটি তাই অনেকের কাছে শুধু একটি পোস্ট নয়, বরং বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যোগ হওয়া এক আনন্দের বার্তা হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ