খুঁজুন
                               
, ,
           

বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রদান করা হচ্ছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য রপ্তানি নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯ হালনাগাদকরণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ডেড ও নন-বন্ডেড সব প্রতিষ্ঠানকে এফওসি ভিত্তিতে আমদানির সুযোগের আওতা আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সকল আমদানিকারকের জন্য মূল্যসীমা নির্বিশেষে এলসি ব্যতীত চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চুক্তি বাস্তবায়ন ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো—বিনিয়োগ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের একীভূতকরণ: বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা হ্রাস ও সেবার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ একীভূতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগকারীরা একটি একক প্ল্যাটফর্ম থেকে সমন্বিত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে নীতিগত অসামঞ্জস্য ও সেবার পুনরাবৃত্তি কমবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ হবে।

মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত ও নীতিগত সমন্বয়: বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যবসা পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং নীতিগত সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সরকার আন্তঃসংস্থা সমন্বয় জোরদার করেছে। এ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশেষ করে বিডা ও এনবিআরের মধ্যে মাসিক সভার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কর-সংক্রান্ত সমস্যা ও নীতিগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সমাধান গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ সভা ও মতবিনিময় কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে বেসরকারি খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং সুপারিশসমূহ সরাসরি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হচ্ছে।

মূলধন ও বিনিয়োগ প্রত্যাবর্তন, প্রক্রিয়া সহজীকরণ: বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে সরকার মূলধন ও বিনিয়োগ প্রত্যাবর্তন (Capital Repatriation) প্রক্রিয়া সহজীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে শেয়ার বিক্রয়, ব্যবসা হস্তান্তর বা ব্যবসা বন্ধ করার পর বিনিয়োগকৃত মূলধন ও অর্জিত অর্থ বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে অনেক বিনিয়োগকারী মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং অতিরিক্ত দলিলপত্রের প্রয়োজনীয়তার কারণে বিলম্ব ও অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হন।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত মূলধন প্রত্যাবর্তন-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি বিদ্যমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত সংস্কারের মাধ্যমে মূল্যায়ন, যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ, দ্রুত এবং পূর্বানুমানযোগ্য করা হবে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা ও কাগজপত্রের পরিমাণ হ্রাস করে বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থ প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়াকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করা হবে।

লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ: বিনিয়োগ কার্যক্রমের সূচনা আরও দ্রুত, সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য করতে সরকার লাইসেন্সিং ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর আওতায় বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সকল অনুমোদন, নিবন্ধন ও লাইসেন্স সেবাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল সিঙ্গেল-উইন্ডো প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হচ্ছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সকল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আন্তঃসংযুক্ত থাকবে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে গিয়ে অনেক উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী প্রায়ই জানতে পারেন না কোন সেবার জন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, কোথায় আবেদন করতে হবে কিংবা কীভাবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই তথ্যগত ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দূর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর সহযোগিতায় ‘বাংলাবিজ’ প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তারা বিভিন্ন সরকারি সেবা, অনুমোদন, নিবন্ধন, লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য একক ডিজিটাল মাধ্যমে জানতে ও আবেদন করতে পারেন।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া হ্রাস, শতভাগ অনলাইনভিত্তিক সেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিটি সেবার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, সেইসাথে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে লজিস্টিক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যয় ও সময় কমানোর লক্ষ্যে নতুন বন্দর অবকাঠামো নির্মাণ ও বিদ্যমান সুবিধার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। লালদিয়া টার্মিনাল চলতি বছর কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং বে-টার্মিনাল প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণকাজ অগ্রসর হচ্ছে, যা সম্পন্ন হলে বৃহৎ জাহাজ সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরে নোঙর করতে পারবে এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

হ্যাকিংয়ের আশঙ্কায় এনআইডি সার্ভার বন্ধ রাখল ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
হ্যাকিংয়ের আশঙ্কায় এনআইডি সার্ভার বন্ধ রাখল ইসি

বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার আশঙ্কায় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সার্ভার সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সার্ভারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সংস্থাটির কারিগরি দল।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইসির এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি জানান।

এনআইডি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের কারিগরি টিম কাজ করছে। কাজ শেষ হলে দ্রুতই সার্ভার চালু হয়ে যাবে।’

এদিকে, সরকারি তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কবার্তা জারি করেছে সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজের একদল গবেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় পিএইচপির প্রায় এক দশক পুরোনো একটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করেন। ত্রুটিটি সাইবার হামলার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়।

এরপর গত ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) জরুরি সতর্কতা জারি করে। এর পরপরই সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় উইকিমিডিয়া, যুক্তরাজ্য সরকার, ফ্রান্সের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান অরেঞ্জ এবং ফিনল্যান্ড সরকারসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে সেবা বন্ধ রাখে।

এনআইডি সার্ভার পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময় জানায়নি নির্বাচন কমিশন। তবে কারিগরি কাজ শেষ হলে দ্রুত সেবা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

কিউবা থেকে হলিউড, যেভাবে তারকা হলেন আনা দে আরমাস

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
কিউবা থেকে হলিউড, যেভাবে তারকা হলেন আনা দে আরমাস

হলিউডে নিজের সৌন্দর্য ও অভিনয়দক্ষতা দিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন কিউবান-স্প্যানিশ অভিনেত্রী আনা দে আরমাস। রহস্য, থ্রিলার থেকে শুরু করে জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয় ‘নাইভস আউট’ সিনেমায় অভিনয়ের পর। পর্দায় সাবলীল উপস্থিতি ও চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা তাকে হলিউডের আলোচিত অভিনেত্রীদের একজন করে তুলেছে।

কিউবা থেকে হলিউডের পথে
আনা দে আরমাসের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৩০ এপ্রিল কিউবার সান্তা ক্রুজ দেল নর্তে শহরে। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। সেই আগ্রহ থেকেই অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং অল্প বয়সেই অভিনয়জগতে পা রাখেন।

কিউবার চলচ্চিত্রে কাজের মধ্য দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু হলেও পরে স্পেনে পাড়ি জমান আনা। সেখানে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। এরপর হলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। নতুন ভাষা ও ভিন্ন সংস্কৃতির পরিবেশে কাজের চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজের জায়গা করে নেন তিনি।

‘নাইভস আউট’ থেকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি
আনা দে আরমাসের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া রহস্যধর্মী চলচ্চিত্র ‘নাইভস আউট’-এর মাধ্যমে। এতে মার্তা ক্যাব্রেরা চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রী—মিউজিক্যাল বা কমেডি বিভাগে মনোনয়নও পেয়েছিলেন।

এরপর একের পর এক বড় প্রযোজনার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আসে তার সামনে। ‘নো টাইম টু ডাই’ সিনেমায় প্যালোমা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন। অল্প সময়ের উপস্থিতিতেও তার প্রাণবন্ত অভিনয় চলচ্চিত্রটির উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

মেরিলিন মনরোর চরিত্রে অভিনয়
২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ব্লন্ড’ চলচ্চিত্রে হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর চরিত্রে অভিনয় করেন আনা। চরিত্রটির জন্য তাকে দীর্ঘ প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। মেরিলিনের ব্যক্তিত্ব, কণ্ঠস্বর ও জীবনের নানা দিক পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। সিনেমাটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হলেও আনার অভিনয় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়। এ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি অস্কারে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন পান।

এই অভিজ্ঞতা তার অভিনয়জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে। একই সঙ্গে প্রমাণিত হয়, শুধু সৌন্দর্যনির্ভর চরিত্র নয়, জটিল ও চ্যালেঞ্জিং ভূমিকাতেও নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহ
পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি আনা দে আরমাসের ব্যক্তিগত জীবনও প্রায়ই সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় আসে। বিশেষ করে হলিউডের পরিচিত তারকাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ রয়েছে। অভিনেতা টম ক্রুজের সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জনও একসময় আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেন না আনা।

তারকাখ্যাতির বাইরে অভিনয়কে গুরুত্ব দেওয়াই আনার ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজের আগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে ধারাবাহিক উপস্থিতি তাকে হলিউডের উল্লেখযোগ্য অভিনেত্রীদের কাতারে জায়গা করে দিয়েছে। সামনে আরও নতুন চরিত্রে তাকে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা।

কালের আলো/এএএন/জেএন

সাইবার হয়রানির অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
সাইবার হয়রানির অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

ফ্যাশন ডিজাইনার ও নারী উদ্যোক্তা সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরীর মানহানি, ভুল তথ্য প্রচার ও সাইবার হয়রানির অভিযোগে মডেল-অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে তিশার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সংশ্লিষ্ট ছবি ও লেখা দুই দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায়ের চেম্বার থেকে এ আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

ফেসবুক পোস্ট ঘিরে অভিযোগ
নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর তানজিন নাহার তিশা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সানায়া আনামের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে সানায়ার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত বছরের ৭ নভেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে সানায়াকে ভাইরাল করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিশার নামে উদ্ধৃত একটি বার্তায় বলা হয়, ‘ফেমাস হইলে হইলো, আমি তোমার ছবি আপলোড করে দিব নে’। পরবর্তী সময়ে সানায়ার ছবি ফেসবুকে প্রকাশের মাধ্যমে তার সম্মানহানি করা হয়েছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

পেশাগত পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তির অভিযোগ
আইনি নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তিশার ফেসবুক পোস্টে দুজনকে বোন হিসেবে উল্লেখ করার মধ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ও উপহাসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সানায়া আনাম একজন ফ্যাশন ডিজাইনার এবং নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত হলেও পোস্টে তাদের পেশাগত পরিচয় নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া ছবি প্রকাশের বিষয়টিকে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর লঙ্ঘন হিসেবে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই দিনের মধ্যে পোস্ট সরানোর নির্দেশ
নোটিশে তানজিন নাহার তিশাকে তা পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সানায়া আনামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ছবি ও লেখা সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে আর্থিক মানহানির অভিযোগে এবং সাইবার ট্রাইব্যুনালসহ দেশের প্রচলিত আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তানজিন নাহার তিশার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এএএন/জেএন