খুঁজুন
                               
, ,
           

পাহাড়ে শান্তি, উন্নয়ন ও সম্প্রীতিই হোক সবার অঙ্গীকার

সিরাজুল ইসলাম:
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
পাহাড়ে শান্তি, উন্নয়ন ও সম্প্রীতিই হোক সবার অঙ্গীকার

প্রতি বছর ৯ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী প্রাচীন জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, জীবনধারা এবং অধিকার নিয়ে আলোচনা হয় এই দিনে। বাংলাদেশেও দিবসটি ঘিরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক সামনে আসে, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে।

বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এই দেশের সমাজ ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে নানা জনগোষ্ঠী, ভাষা, ঐতিহ্য ও জীবনধারার সমন্বয়ে। সমতলের মানুষের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরও রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসকারী চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বম, খুমি, খিয়াংসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীগুলোর পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ‘আদিবাসী’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। বাংলাদেশের সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, এসব জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ না বলে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সরকারের যুক্তি হলো, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আগমন, বসতি স্থাপন এবং ঐতিহাসিক বিকাশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের পরিচয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অনেকেই নিজেদের এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক অধিবাসী হিসেবে বিবেচনা করেন এবং ‘আদিবাসী’ পরিচয়কে তাদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক অস্তিত্বের অংশ হিসেবে দেখেন। এই পরিচয়ের প্রশ্নটি শুধু একটি শব্দের বিতর্ক নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, আবেগ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।

তবে পরিচয়ের এই বিতর্কের বাইরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য হলো- তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং উন্নয়নের অধিকার সমান। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা বুঝতে হলে শুধু পরিচয়ের বিষয়টি দেখলে হবে না; দেখতে হবে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনৈতিক সুযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্রও। পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আলাদা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা এবং প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে সেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

তারপরও গত কয়েক দশকে পার্বত্য অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ এবং বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন হয়েছে। তবে এই উন্নয়ন আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন, যাতে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষও দেশের অন্যান্য এলাকার মতো সমান সুযোগ ও সুবিধা পায়। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, উন্নয়ন শুধু রাস্তা, সেতু বা ভবন নির্মাণের নাম নয়। প্রকৃত উন্নয়ন হলো মানুষের আস্থা অর্জন, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, পোশাক, উৎসব ও ঐতিহ্য বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পদের অংশ। একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণের সুযোগ থাকা উচিত। একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় মূলধারার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা যায়, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলো নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখেও জাতীয় উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশেও এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, যেখানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব পরিচয় ও সংস্কৃতি বজায় রেখে দেশের অগ্রযাত্রার অংশীদার হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে কিছু কঠিন অধ্যায় রয়েছে। অতীতের সংঘাত, অবিশ্বাস এবং নিরাপত্তাজনিত সমস্যাগুলো এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে প্রভাবিত করেছে। কিন্তু কোনো দেশই অতীতের সমস্যাকে স্থায়ী বিভাজনের কারণ হতে দিতে পারে না। ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হলে প্রয়োজন পারস্পরিক আস্থা, সহনশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। এখানে রাষ্ট্রের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি দায়িত্ব রয়েছে সব পক্ষের। সরকারকে যেমন উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও দেশের সামগ্রিক স্বার্থ ও জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা কারও জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে না। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলে সরকার যেমন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবে, তেমনি স্থানীয় মানুষও অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।

প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে পাহাড়ি ও বাঙালি- সব সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বসবাস করবে। কারণ উন্নয়ন এবং সম্প্রীতি একে অপরের পরিপূরক। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীও বাংলাদেশের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের বিচ্ছিন্ন করে নয়, বরং সম্মানের সঙ্গে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

বিশ্ব আদিবাসী দিবসের আলোচনায় তাই শুধু পরিচয়ের বিতর্ক নয়, সামনে আসা উচিত আরও বড় একটি প্রশ্ন- কীভাবে পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে। পরিচয়ের ভিন্নতা যেন বিভেদের কারণ না হয়। বরং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে শক্তিতে পরিণত করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে শান্তি, উন্নয়ন ও সম্প্রীতির একটি উদাহরণ হিসেবে গড়ে তোলাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।

লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

দুই মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর দখলমুক্ত করার আশ্বাস নৌমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
দুই মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর দখলমুক্ত করার আশ্বাস নৌমন্ত্রীর

চট্টগ্রাম বন্দরের যেসব জায়গা বিগত সরকারের সময়ে অবৈধভাবে লিজ দেওয়া হয়েছিল, সেসব লিজ বাতিল করে আগামী দুই মাসের মধ্যে বন্দর এলাকার সব জায়গা দখলমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশ্বাস দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি অবৈধ লিজ বাতিল করা হয়েছে এবং দুটি জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একটি জায়গা নিয়ে মামলা চলমান থাকায় সেটি উদ্ধারে আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কিছু জায়গার মালিকানা নিয়ে যে জটিলতা রয়েছে, তা আরবিট্রেশনের মাধ্যমে আগামী দুই মাসের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান কার্যক্রম তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বন্দরে জাহাজকে এখন দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। বর্তমানে ‘জিরো আওয়ার’ ওয়েটিং টাইমে জাহাজ পরিচালনা এবং প্রায় দুই দিনের মধ্যে পণ্য লোড-আনলোডের কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে।

তিনি জানান, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি লালদিয়ায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে ‘গ্রিন টার্মিনাল’ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। এতে প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসবে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া গত ছয় মাসে মোংলা বন্দরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২৫ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে বলেও সংসদকে জানান নৌপরিবহনমন্ত্রী।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের ঝঙ্কার: স্বাধীন দেশে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর দৌরাত্ম্য আর কতকাল?

এম মহাসিন মিয়া:
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের ঝঙ্কার: স্বাধীন দেশে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর দৌরাত্ম্য আর কতকাল?

প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য ও সৌন্দর্যের লীলাভূমি স্বাধীন বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম আজ আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর লাগামহীন দৌরাত্ম্যে বিভীষিকাময় এক জনপদে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এই ভূখণ্ডের একটি বিশেষ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ আজও শান্তির বদলে প্রতিনিয়ত গানপাউডার আর বারুদের গন্ধ শুঁকে দিনাতিপাত করছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের অনবদ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ঢেকে দিয়েছে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া, আধিপত্য বিস্তারের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণকে জিম্মি করে রাখার অপকৌশল। পাহাড়ে শান্তিশৃঙ্খলা ও দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে যুগে যুগে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হলেও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অনড় অবস্থান, অপতৎপরতা এবং সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা কায়েমের অশুভ আকাঙ্ক্ষার কারণে প্রত্যাশিত স্থায়িত্ব লাভ করেনি পার্বত্য অঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশ। ফলে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সার্বভৌম ভূখণ্ডে এমন সশস্ত্র নৈরাজ্য আর কতকাল বহাল থাকবে, তা আজ গোটা জাতির কাছে এক মস্ত বড় প্রশ্ন ও চরম উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎সম্প্রতি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়িতে ঘটে যাওয়া এক রক্তক্ষয়ী ঘটনা পাহাড়ে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর উগ্রতা ও আধিপত্য বিস্তারের চিত্রকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গি ইউনিয়নের তারাবন এলাকায় গত ৫ সেপ্টেম্বর- ২০২৬ তারিখে পাহাড়ি দুটি প্রধান আঞ্চলিক দল, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-মূল) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-মূল) এর মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। সকালের দিকে জেএসএস ক্যাডারদের মহড়া ও ফাঁকা গুলির পর বিকেলে তা রূপ নেয় মুখোমুখি এক রক্তক্ষয়ী গোলাগুলিতে। বিবর্ণ চাকমার নেতৃত্বাধীন ২৫-৩০ জনের জেএসএস দল এবং সুমেন চাকমার পরিচালনায় ৩৫-৪০ জনের সুসজ্জিত ইউপিডিএফ বাহিনীর মধ্যে একটানা আড়াই ঘণ্টাব্যাপী আক্ষরিক অর্থেই যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই দুই পক্ষের মধ্যকার প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রাউন্ড অনবরত গুলিবিনিময়ের ফলে পুরো তারাবন ও জগা পাড়া এলাকা মুহূর্তে এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কোনো প্রাণহানি নিশ্চিত না হলেও অনবরত বিকট গুলির শব্দে অবরুদ্ধ সাধারণ মানুষের মনে এক বিভীষিকাময় ভীতি তৈরি হয়েছিল।

‎পানছড়ির উত্তাপ প্রশমিত হতে না হতেই ৬ সেপ্টেম্বর- ২০২৬ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটির সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় পর্যটন উপত্যকা সাজেকে ইউপিডিএফ (প্রসীত) ও জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের সশস্ত্র ক্যাডারদের বিপজ্জনক মহড়া ও মুখোমুখি অবস্থান পাহাড়ের পরিস্থিতিকে আরও থমথমে করে তোলে। দেশের শীর্ষতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেক উপত্যকার নোয়াপাড়া, ৮নং পাড়া, কিচিংপাড়া ও ব্রীজপাড়ার মতো স্পর্শকাতর ও ঘনবসতিপূর্ণ স্থানগুলোতে ইউপিডিএফের প্রায় নব্বইজন এবং জেএসএস গ্রুপের সত্তর-আশিজন ক্যাডার ভারি অস্ত্রশস্ত্রসহ কৌশলগত অবস্থান নেয়। ইউপিডিএফের পক্ষে সুমন চাকমা, কহেন চাকমা ও পরান্টু চাকমা এবং জেএসএসের পক্ষে বিক্রম চাকমা ও মুচং চাকমার মতো শীর্ষ সশস্ত্র কমান্ডারের সরাসরি নেতৃত্বে শতাধিক ক্যাডারের এমন মহড়া যে কোনো মুহূর্তে এক ভয়াবহ রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। একদিকে সাধারণ স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে জীবনভীতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন, অন্যদিকে সাজেকে বেড়াতে আসা অগণিত পর্যটকদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল। মূলত পাহাড়ে পর্যটন শিল্পকে ধ্বংস করা এবং সাধারণ মানুষকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবেই সাজেকের মতো জায়গায় সশস্ত্র ক্যাডাররা এই অবস্থান নিয়েছিল।

‎পাহাড়জুড়ে কায়েম করা এই নৈরাজ্যের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সুপরিচিত পর্যটন এলাকা রিসাং ঝর্ণা সংলগ্ন অঞ্চলে ইউপিডিএফ (প্রসীত) বাহিনীর অতর্কিত গুলিবর্ষণে। গভীর রাতে নিরবতা ভঙ্গ করে সেনাবাহিনীর মাটিরাঙ্গা জোনের অন্তর্ভুক্ত সাপমারা আর্মি ক্যাম্পের কয়েক কিলোমিটার উত্তরে এই সশস্ত্র দলটি প্রথম দফায় ১০-১২ রাউন্ড এবং পরবর্তী দফায় গভীর রাত ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে আরও প্রায় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে গা ঢাকা দেয়। সর্বমোট ৪০-৪২ রাউন্ড ভারী অস্ত্রের গুলি চালিয়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন এবং পর্যটন খাতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মূল উদ্দেশ্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রিসাং ঝর্ণার মতো জায়গায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের মনে এই জাতীয় রাতের আঁধারে গুলিবর্ষণ গভীর আতঙ্কের জন্ম দেয়। শান্ত জনপদ মাটিরাঙ্গায় এমন প্রকাশ্য অস্ত্রের ঝঙ্কার প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের জীবন বা এলাকার অর্থনৈতিক অগ্রগতির তোয়াক্কা না করে এই সশস্ত্র দলগুলো কেবল নিজেদের কায়েমী স্বার্থ হাসিল এবং সাধারণ মানুষকে সার্বক্ষণিক ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বন্দি করে রাখতে চায়।

‎সাম্প্রতিক পার্বত্য চট্টগ্রামের এই তিনটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা কোনো আকস্মিক অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং এটি তাদের দীর্ঘদিনের সুপরিকল্পিত আধিপত্য বিস্তারের ছকেরই অংশ। জেএসএস-মূল, ইউপিডিএফ-মূল, ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক, জেএসএস-সংস্কার সহ বিভিন্ন উপশাখায় বিভক্ত এই সংগঠনগুলো মুখে তাঁদের জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ের কথা বললেও বাস্তবে তারা সন্ত্রাসী কার্যক্রমেই লিপ্ত। নিজেদের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক প্রভাববলয় বা ‘টার্ফ’ ধরে রাখা এবং চাঁদাবাজির রুট সচল রাখার জন্য তারা একে অপরের বিরুদ্ধে চরম শত্রুতায় লিপ্ত হয়। গোষ্ঠীগত এই দ্বন্দ্বের বলি হতে হয় নিরীহ পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীকে, যাদের দৈনন্দিন কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি কাজ হুমকির মুখে পড়ে। নিজেদের মধ্যে অঞ্চল ভাগাভাগি এবং আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে পুরো পাহাড়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভেস্তে যাচ্ছে। তথাকথিত অধিকার আদায়ের নামে নিজেদের জাতির মানুষের বুক খালি করা এবং সার্বিক জনজীবনকে অচল করে দেওয়া ছাড়া এই আঞ্চলিক দলগুলোর আর কোনো জনকল্যাণমুখী ভূমিকা সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না।

‎পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র দলগুলোর টিকে থাকার প্রধান রসদ এবং অর্থায়নের মূল উৎস হলো এক ভয়াবহ চাঁদা আদায় ও তোলাবাজি নেটওয়ার্ক। পাহাড়ের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে জেলা শহর পর্যন্ত প্রতিটি বাজার, যানবাহন, জুমচাষ, বাঁশ কাটা, ফল বিক্রি এমনকি সাধারণ চাকরিজীবীদের বেতন থেকেও নিয়মিত জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হয়। কোনো সাধারণ নাগরিক বা ব্যবসায়ী যদি এই অবৈধ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তার কপালে জোটে অমানসিক নির্যাতন, অপহরণ কিংবা নির্মম হত্যাকাণ্ড। শুধু চাঁদা আদায়ই নয়, পাহাড়ের গহীন অরণ্যকে ব্যবহার করে অবৈধ অস্ত্রের কারবার, মাদক চোরাচালান এবং সীমান্ত পারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে গোপন যোগসাজশের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করছে এই সংগঠনগুলো। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ কালো টাকা দিয়েই তারা আধুনিক ও ভারী সব অস্ত্রশস্ত্র ক্রয় করছে, যা দিয়ে দিন দিন তারা নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়িয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ জানানোর দুঃসাহস দেখাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ আজ নিজস্ব ভূখণ্ডে থেকেও এক প্রকার মুক্তিপণ দিয়ে জীবনযাপনের চরম অপমানজনক পরিস্থিতি সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছে।

‎গুম, খুন এবং অপহরণ পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর এক প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কোনো ব্যক্তি যদি এই সংগঠনগুলোর মতাদর্শের বাইরে গিয়ে স্বাধীন মতামত প্রকাশ করে কিংবা তাদের চাঁদা দাবির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, তাকে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে যাওয়া এখন পাহাড়ে নিত্যদিনের ঘটনা। অসংখ্য পাহাড়ি তরুণকে জোরপূর্বক ক্যাডার দলে রিক্রুট করা হচ্ছে এবং তা না মানলে পুরো পরিবারকে ভিটেমাটি ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়। মানবাধিকারের বুলি ছড়ানো দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিও সংস্থা পাহাড়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে সোচ্চার হলেও, আঞ্চলিক সন্ত্রাসী দলগুলোর হাতে অগণিত নিরীহ মানুষের এই নির্মম গুম ও খুনের ঘটনায় অদ্ভুত নীরবতা পালন করে। এই সন্ত্রাসী দলগুলো সাধারণ পাহাড়িদের ভয় দেখিয়ে এমন এক স্তব্ধতার সংস্কৃতি তৈরি করেছে, যেখানে প্রতিবাদের কোনো ভাষা অবশিষ্ট থাকে না। স্বজনহারা পরিবারগুলোর আর্তনাদ পাহাড়ের উপত্যকাগুলোতে প্রতিধ্বনি হলেও সন্ত্রাসী ক্যাডারদের রক্তচক্ষু ও প্রতিশোধের ভয়ে কেউ পুলিশ বা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সাহস পর্যন্ত পায় না।

‎বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পার্বত্য অঞ্চলের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনাময় ভূমিকা, বিশেষ করে পর্যটন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারে। কিন্তু সাজেক, রিসাং ঝর্ণা, পানছড়ি বা বান্দরবানের মতো আকর্ষণীয় এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়ত সশস্ত্র সংঘাত ও গোলাগুলির খবর ছড়িয়ে পড়ায় পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা যখন পাহাড়ে নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার হুমকি অনুভব করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তারা এসব স্থান ভ্রমণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। ফলে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, হোটেল-রিসোর্ট শিল্প এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রুটি-রুজির ওপর নেমে আসে চরম বিপর্যয়। শুধু পর্যটনই নয়, এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে পাহাড়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যেমন, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণের কাজ বারবার থমকে যায়। ঠিকাদারদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে নির্মাণকাজে নিয়োজিত কর্মীদের অপহরণ বা হত্যা করার মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের উন্নয়ন থমকে দেওয়ার অপচেষ্টা করে চলেছে এই গোষ্ঠীগুলো। ফলে পার্বত্য অঞ্চলকে মূল অর্থনীতির ধারার সাথে যুক্ত করা চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

‎স্বাধীন বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কোনো অবস্থাতেই নিজের ভূখণ্ডের একটি নির্দিষ্ট অংশে সমান্তরাল সশস্ত্র শাসন বা সন্ত্রাসী ক্যাডারদের রাজত্ব মেনে নিতে পারে না। পাহাড়ের অখণ্ডতা রক্ষা, সাধারণ জনগণের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে এখনই এই আঞ্চলিক দলগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির শর্তাবলি যারা বছরের পর বছর ধরে লঙ্ঘন করে আসছে এবং অবৈধ অস্ত্র সমর্পণ না করে উল্টো তা দিয়ে রাষ্ট্রকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। পাহাড়ে আস্তানা গড়া প্রতিটি অবৈধ অস্ত্রের জোগানদাতা ও ক্যাডারদের চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে। সার্বভৌম রাষ্ট্রে কোনো বিশেষ অঞ্চলকে অপরাধীদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হতে দেওয়া যায় না, এবং এ বিষয়ে কোনো প্রকার শিথিলতা বা আপসকামিতা মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই।

‎সবমিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও প্রগতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে হলে সশস্ত্র দলগুলোর দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করতে হবে। পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ি ও বাঙালি, উভয় জনগোষ্ঠীর শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ আজ সশস্ত্র দলগুলোর হাত থেকে মুক্তি পেতে ব্যাকুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের উচিত অবিলম্বে পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করা, সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত যৌথ অভিযান জোরদার করা এবং চাঁদাবাজি-অস্ত্র ব্যবসা বন্ধে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো। একই সাথে পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ যুবসমাজকে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রলোভন ও ভয়ভীতি থেকে মুক্ত করে মূলধারার শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। রাষ্ট্রকে পরিষ্কার বার্তা দিতে হবে যে, সার্বভৌম বাংলাদেশে ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ ও সংবিধান, কোনো অবৈধ অস্ত্রের নলের মুখ নয়। সরকারের সমউপযোগী, কঠোর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই কেবল পারে পার্বত্য অঞ্চল থেকে সশস্ত্র সহিংসতার কালো ছায়া দূর করে দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এবং পাহাড়িদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

‎লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক।
‎ইমেইল: mmohasinmiah013@gmail.com

ক্ষুদ্র উদ্যোগে ২২ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
ক্ষুদ্র উদ্যোগে ২২ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের

ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্পের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে কাজে লাগিয়ে দেশে মোট ২২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন কর্মসূচির আওতায় আরও ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংকের উদ্যোগে ‘ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন তহবিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে আরও ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হলে মোট ২২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বড় শিল্প ও বড় প্রকল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্প এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের অনেক পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই ধরনের ব্যবসা বা পেশার সঙ্গে যুক্ত। তাদের প্রয়োজনীয় অর্থ, প্রযুক্তি ও বাজারসংযোগের সুযোগ দেওয়া গেলে ছোট উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে বড় ব্যবসায় পরিণত হতে পারে।

আমির খসরু বলেন, সৃজনশীল খাতের বিকাশে শুধু ঋণ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনেও সহায়তা দিতে হবে। এতে একটি পণ্যের মূল্য ও বাজার সম্ভাবনা আরও বাড়ানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক মানের পণ্য তৈরি করা গেলে অ্যামাজন, আলিবাবাসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেগুলো বিশ্ববাজারে বিক্রি করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি