খুঁজুন
                               
, ,
           

পাহাড়ে শান্তি, উন্নয়ন ও সম্প্রীতিই হোক সবার অঙ্গীকার

সিরাজুল ইসলাম:
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
পাহাড়ে শান্তি, উন্নয়ন ও সম্প্রীতিই হোক সবার অঙ্গীকার

প্রতি বছর ৯ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী প্রাচীন জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, জীবনধারা এবং অধিকার নিয়ে আলোচনা হয় এই দিনে। বাংলাদেশেও দিবসটি ঘিরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক সামনে আসে, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে।

বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এই দেশের সমাজ ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে নানা জনগোষ্ঠী, ভাষা, ঐতিহ্য ও জীবনধারার সমন্বয়ে। সমতলের মানুষের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরও রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসকারী চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বম, খুমি, খিয়াংসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীগুলোর পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ‘আদিবাসী’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। বাংলাদেশের সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, এসব জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ না বলে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সরকারের যুক্তি হলো, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আগমন, বসতি স্থাপন এবং ঐতিহাসিক বিকাশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের পরিচয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অনেকেই নিজেদের এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক অধিবাসী হিসেবে বিবেচনা করেন এবং ‘আদিবাসী’ পরিচয়কে তাদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক অস্তিত্বের অংশ হিসেবে দেখেন। এই পরিচয়ের প্রশ্নটি শুধু একটি শব্দের বিতর্ক নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, আবেগ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।

তবে পরিচয়ের এই বিতর্কের বাইরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য হলো- তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং উন্নয়নের অধিকার সমান। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা বুঝতে হলে শুধু পরিচয়ের বিষয়টি দেখলে হবে না; দেখতে হবে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনৈতিক সুযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্রও। পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আলাদা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা এবং প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে সেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

তারপরও গত কয়েক দশকে পার্বত্য অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ এবং বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন হয়েছে। তবে এই উন্নয়ন আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন, যাতে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষও দেশের অন্যান্য এলাকার মতো সমান সুযোগ ও সুবিধা পায়। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, উন্নয়ন শুধু রাস্তা, সেতু বা ভবন নির্মাণের নাম নয়। প্রকৃত উন্নয়ন হলো মানুষের আস্থা অর্জন, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, পোশাক, উৎসব ও ঐতিহ্য বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পদের অংশ। একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণের সুযোগ থাকা উচিত। একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় মূলধারার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা যায়, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলো নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখেও জাতীয় উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশেও এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, যেখানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব পরিচয় ও সংস্কৃতি বজায় রেখে দেশের অগ্রযাত্রার অংশীদার হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে কিছু কঠিন অধ্যায় রয়েছে। অতীতের সংঘাত, অবিশ্বাস এবং নিরাপত্তাজনিত সমস্যাগুলো এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে প্রভাবিত করেছে। কিন্তু কোনো দেশই অতীতের সমস্যাকে স্থায়ী বিভাজনের কারণ হতে দিতে পারে না। ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হলে প্রয়োজন পারস্পরিক আস্থা, সহনশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। এখানে রাষ্ট্রের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি দায়িত্ব রয়েছে সব পক্ষের। সরকারকে যেমন উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও দেশের সামগ্রিক স্বার্থ ও জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা কারও জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে না। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলে সরকার যেমন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবে, তেমনি স্থানীয় মানুষও অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।

প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে পাহাড়ি ও বাঙালি- সব সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বসবাস করবে। কারণ উন্নয়ন এবং সম্প্রীতি একে অপরের পরিপূরক। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীও বাংলাদেশের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের বিচ্ছিন্ন করে নয়, বরং সম্মানের সঙ্গে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

বিশ্ব আদিবাসী দিবসের আলোচনায় তাই শুধু পরিচয়ের বিতর্ক নয়, সামনে আসা উচিত আরও বড় একটি প্রশ্ন- কীভাবে পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে। পরিচয়ের ভিন্নতা যেন বিভেদের কারণ না হয়। বরং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে শক্তিতে পরিণত করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে শান্তি, উন্নয়ন ও সম্প্রীতির একটি উদাহরণ হিসেবে গড়ে তোলাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।

লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে এক মঞ্চে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা, এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিকায়নের বার্তা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে এক মঞ্চে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা, এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিকায়নের বার্তা

একসময় বাংলাদেশের সিনেমা শুধু বিনোদন দেয়নি। কথা বলেছে সমাজের কথা। জায়গা করে নিয়েছে মানুষের হৃদয়ে। সেই ঐতিহ্যের স্মৃতিচারণ চলতি বছরের ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে’-এর মঞ্চে। চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কীভাবে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করা যায়, সে বিষয়েও মিলেছে স্পষ্ট বার্তা। একই মঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান এমপি, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

  • আধুনিক অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকারের 
  • মানসম্মত নির্মাণ থেকে পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন পরিকল্পনা—তিন নীতিনির্ধারকের বক্তব্যে অভিন্ন প্রত্যয়

তিন নীতিনির্ধারকের বক্তব্যে চলচ্চিত্র উন্নয়নের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। মানসম্মত ও অর্থবহ চলচ্চিত্র নির্মাণ, এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে পুরো শিল্পের উন্নয়ন এবং আধুনিক অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা—তাঁদের বক্তব্যের মূল সুর ছিল এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএফডিসি অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি আয়োজিত ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে মূলত দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুনভাবে বিকশিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সরকার।

একটি সময় সিনেমার বার্তা হৃদয়ে গেঁথে যেত
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘একটি সময় সিনেমা যে বার্তা দিতো, তা আমরা হয়তো চোখ দিয়ে দেখতাম কিন্তু তা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে যেত। প্রতিটি সিনেমায় নিজস্ব চরিত্র ও স্পষ্ট বার্তা থাকা উচিত। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনসহ গুণী নির্মাতাদের প্রতিটি সিনেমায় সামাজিক ও মানবিক বার্তা ছিল।’ আগামী দিনে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সবাই মিলে আগামীতে এমন কাজ করতে, যাতে আমাদের চলচ্চিত্রগুলো আবার কথা বলে।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজের বাস্তবতা বদলেছে। বর্তমানে বহু তরুণ মাদকের ভয়াবহতায় জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজের জন্য বিশাল ক্ষতি। এর পাশাপাশি সমাজে নানাবিধ বৈষম্য রয়েছে। এই সংকট থেকে সমাজকে পথ দেখাতে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাতারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।’ চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘আমরা সবাই একসাথে কাজ করলে বাংলাদেশের সিনেমাকে আবারো তার পুরোনো ও গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।’

চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুনভাবে বিকশিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে করণীয়, বাস্তবায়ন কৌশল এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতাসহ একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে উপস্থাপন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শুধু এফডিসির উন্নয়ন নয়, বরং সামগ্রিক চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অতীতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যেসব গুণী পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা ও অভিনেত্রী অসাধারণ কাজ করেছেন, সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে চলচ্চিত্রের মান ও শিল্পের সক্ষমতা আরও বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি, যার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করে চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরকে আরও কার্যকর করা যাবে। এফডিসিও এ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

চলচ্চিত্রের গুণীজনদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবেন এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ও গুণী ব্যক্তিরাই। সরকার তাদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।’ চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ থেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি অতীতেও এফডিসিতে এসেছেন এবং ভবিষ্যতেও চলচ্চিত্র শিল্পের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে ও তাদের পাশে থেকে কাজ করবেন।

আধুনিক অবকাঠামো ও পূর্ণাঙ্গ রূপরেখার প্রত্যয়
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী দেশের চলচ্চিত্রের স্বকীয়তা ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। চলচ্চিত্র খাতের বর্তমান সংকট কাটিয়ে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করা হবে। তিনি জানান, চলচ্চিত্র ও এফডিসির উন্নয়নে কী কী করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নের দিকে এগোনো হবে। নিজের চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহের কথাও জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, একসময় তিনিও ফিল্মমেকার হতে চেয়েছিলেন।

সম্মাননায় গুণীজন, গানে সাবিনা
‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ উপলক্ষে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনে অবদানের জন্য বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), প্রখ্যাত পরিচালক এ জে মিন্টু, প্রযোজক ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, পরিচালক ড. মতিন রহমান এবং মশিউদ্দীন শাকেরসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের গুণীজনদের সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ছোটবেলায় তিনি প্রতিদিন এফডিসিতে রেকর্ডিং করতেন। এই প্রাঙ্গণ থেকে হাজার হাজার কালজয়ী গান সৃষ্টি হয়েছে। চলচ্চিত্র পরিচালকদের কারণেই তিনি আজ সাবিনা ইয়াসমিন হতে পেরেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরে অতিথি ও দর্শকদের অনুরোধে গান পরিবেশন করেন বরেণ্য এই শিল্পী।

এর আগে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন। অনুষ্ঠানে সমিতির মহাসচিব শাহীন কবির টুটুল, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা তানিসহ চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

সরকারি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা বা ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে এ মসুর ডাল কেনা হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে রয়েছে টিসিবি।

টিসিবি ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করলে তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি দরপ্রস্তাবই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।

দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) সুপারিশ অনুযায়ী রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড, খুলনা থেকে মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৭৯ পয়সা দরে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ অর্থের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার গ্যারান্টি থাকবে।

প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে এ সার আমদানি করা হবে। আমদানির ব্যয় কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরকার ২০০৭ সাল থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে আসছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির সঙ্গে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন চুক্তির আওতায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত ৫ লাখ মেট্রিক টন আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় পঞ্চম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব করা হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম পড়বে ৩৯১ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলার।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের ফলে এখন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে এ লটের ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ