খুঁজুন
                               
, ,
           

নারীবান্ধব গণপরিবহনের পথে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
নারীবান্ধব গণপরিবহনের পথে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা

দক্ষিণ এশিয়ার মেগাসিটিগুলোর নগর-জীবনের সবচেয়ে বড় এবং সুদূরপ্রসারী চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো নারীবান্ধব ও নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, যা বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা এবং জনসংখ্যার ঘনত্বের নিরিখে অন্যতম ব্যস্ত এক প্রান্তর, সেখানে নারীদের জন্য প্রতিদিনের গণপরিবহন ব্যবহার যেন এক নিরন্তর সংগ্রাম। কর্মক্ষেত্রে নারীদের বিপুল অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তাদের চালিকাশক্তি হওয়ার সত্ত্বেও, সড়কে তাদের যাতায়াতের বাস্তবতা বহু বছর ধরেই চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভোগান্তিতে আচ্ছন্ন। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে, নবনির্বাচিত বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) রাজধানীতে চালু করতে যাচ্ছে নারীদের জন্য বিশেষ ‘পিংক বাস সার্ভিস’। নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর দ্বারা পরিচালিত এই উদ্যোগটি আপাতদৃষ্টিতে একটি যুগান্তকারী সামাজিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে নীতি-বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক নগর-পরিবহন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতার আলোকে প্রশ্ন থেকে যায়—এই ‘গোলাপি বাস’ কি ঢাকার পরিবহন খাতের গভীরে গেড়ে বসা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ও নিরাপত্তা সংকটের একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান, নাকি নিছকই একটি প্রতীকী সংস্কার?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের একটি ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে। ১৬ আগস্ট পাঠানো বিআরটিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট তেজগাঁওয়ের বিআরটিসি ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করবেন। এই অনুষ্ঠানে সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতিও স্পষ্ট করে যে, নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের নারী ক্ষমতায়ন ও নিরাপদ যাতায়াতের প্রতিশ্রুতি দ্রুত দৃশ্যমান করতে আগ্রহী।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কৌশলগত। ইশতেহারের একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতিকে ক্ষমতার সূচনালগ্নেই নীতিগত পদক্ষেপে রূপান্তর করা জনমনে ইতিবাচক বার্তা পাঠায়। তদুপরি, এই সার্ভিসে চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারীদের পদায়ন কেবল নারীদের জন্য পৃথক আসন নিশ্চিত করছে না, বরং পরিবহন খাতের ঐতিহ্যগত পুরুষকেন্দ্রিক শ্রমবাজারে নারীদের সরাসরি অন্তর্ভুক্তির এক বলিষ্ঠ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

একটি নিরাপদ শহর গড়ে তোলার প্রধান শর্ত হলো এর গণপরিবহনে নারীদের অবাধ ও হয়রানিমুক্ত চলাচলের স্বাধীনতা। তবে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক গবেষণা চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার গণপরিবহনে যাতায়াতকারী নারীদের ৮৫ থেকে৯০ শতাংশের বেশি জীবনে কোনো না কোনো সময় শারীরিক বা মৌখিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। ভিড়ের সুযোগে স্পর্শকাতর আচরণ, অশালীন মন্তব্য এবং চালক বা সহকারী দ্বারা নিগ্রহের ভয় প্রতিনিয়ত নারী যাত্রীদের তাড়া করে ফেরে।

সাধারণ বাসগুলোতে নারীদের জন্য মাত্র কয়েকটি সংরক্ষিত আসন থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরুষ যাত্রীরা বাসের অনভিপ্রেত ভিড়ের মধ্যে এসব আসন দখল করে রাখেন অথবা সেখানে বসতে চাওয়া নারীদের মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়।

চলাচলের অনিরাপত্তা নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণের সুযোগকে সীমিত করে দেয়। অনেক নারী নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভালো কর্মসংস্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন অথবা যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে সিএনজি অটোরিকশা বা রাইড-শেয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হন।

এই জটিল বাস্তবতায় নারীবান্ধব ‘পিংক বাস সার্ভিস’ চালু হওয়া অবশ্যই একটি স্বস্তির নিঃশ্বাস। সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত বাস সার্ভিস নারীদের জন্য এমন একটি ‘সেফ স্পেস’ বা নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করবে, যেখানে অন্তত বাস ভ্রমণের পুরো সময়টাতে তাদের কোনো যৌন হয়রানি বা সামাজিক হেনস্তার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন থাকতে হবে না।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধান শহরগুলোতে নারীদের জন্য পৃথক পরিবহন সার্ভিস চালুর সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। মেক্সিকো সিটি, টোকিও, কায়রো, জাকার্তা এবং পার্শ্ববর্তী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নারীদের জন্য বিশেষ বাস বা ট্রেন কোচ চালু করা হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করলে দুটি স্পষ্ট ধারা দেখা যায়:

১.স্বল্পমেয়াদে, নারীদের জন্য তৈরি এই ধরনের বিচ্ছিন্ন বা পৃথক ব্যবস্থা দারুণ ইতিবাচক ফল দেয়। নারী যাত্রীরা মানসিকভাবে নিরাপদ বোধ করেন এবং তাদের ওপর যৌন হয়রানির হার তাৎক্ষণিকভাবে কমে যায়। বিশেষ করে নারী চালক ও কন্ডাক্টর থাকার ফলে কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

২.আন্তর্জাতিক নগর-বিজ্ঞানী ও জেন্ডার গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, কেবল ‘পিংক বাস’ বা ‘অনলি উইমেন’ সার্ভিস দিয়ে পুরো শহরের নিরাপত্তা সংকট দূর করা সম্ভব নয়। যদি সাধারণ ও মূলধারার গণপরিবহনে পুরুষদের মানসিকতা এবং আইনি প্রয়োগ ব্যবস্থা উন্নত না হয়, তবে এই বিশেষ সার্ভিস উল্টো নারীদের ‘বিচ্ছিন্ন’ করে ফেলার ঝুঁকি তৈরি করে। মূলধারার বাসগুলো পুরুষদের একচেটিয়া অধিকারে পরিণত হতে পারে এবং সেখানে নারীদের যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এদিকে ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় বিআরটিসির অতীতের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এ ধরনের বিশেষ বা ছকভাঙা উদ্যোগ সূচনাতেই থেমে যাওয়ার এক ধরনের ঝোঁক থাকে। ইতোপূর্বেও নারীদের জন্য ‘লেডিস বাস’ চালু হয়েছিল, কিন্তু পর্যাপ্ত বাস না থাকা, নির্দিষ্ট রুটে সময়সূচি বজায় রাখতে না পারা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়ে। সুতরাং এই নতুন পিংক বাস সার্ভিসের সাফল্য নির্ভর করবে কয়েকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলার ওপর:

১.সীমিত সংখ্যক বাস ও রুট দিয়ে বিশাল ঢাকার নারী জনসংখ্যার চাহিদা মেটানো অসম্ভব।
পর্যাপ্ত বাস বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং প্রধান প্রধান কর্মজীবী রুটে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো।
২.ভারী যানবাহন চালনায় নারী চালকের স্বল্পতা এবং তাদের পেশাগত নিরাপত্তা। বিআরটিসির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও উন্নত ট্রেনিং একাডেমি গড়ে তোলা এবং তাদের বিশেষ ভাতা নিশ্চিত করা।
৩.ঢাকার তীব্র যানজটে বাসের নির্দিষ্ট শিডিউল ধরে রাখা কঠিন। ডেডিকেটেড বাস লেইন (BRT) বা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।
৪.কারিগরি ত্রুটি ও বিআরটিসির প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক ধীরগতি। আধুনিক ডিপো সুবিধা এবং নিয়মিত গণতদারকির মাধ্যমে বাসের গুণমান ধরে রাখা।

আমি মনে করি,পিংক বাস সার্ভিসকে নিছক একটি প্রতীকী রাজনৈতিক সাফল্য থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই নীতি সংস্কারে রূপান্তর করতে হলে সরকারকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে:

পিংক বাসকে মূলধারার গণপরিবহন ব্যবস্থার একটি সহায়ক শাখা হিসেবে দেখতে হবে, একমাত্র সমাধান হিসেবে নয়। মূলধারার সাধারণ বাসগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, চালক ও কন্ডাক্টরদের জন্য নারীবান্ধব আচরণের ওপর বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ এবং যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা (যেমন: মোবাইল কোর্ট বা জরুরি হেল্পলাইন ৯৯৯-এর দ্রুত কার্যকারিতা) সুনিশ্চিত করতে হবে। কেবল বাস নারীবান্ধব হলেই চলবে না; বাস স্টপেজ, ফুটপাত এবং বাস সংযোগস্থলগুলোকে পর্যাপ্ত আলো, নিরাপত্তা কর্মী ও সিসিটিভির আওতায় এনে সার্বিকভাবে নিরাপদ করে তুলতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই,সরকারের এই নতুন উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং ইতিবাচক এক দিকনির্দেশনা। তবে এটি যেন কেবল উদ্বোধনী বিজ্ঞাপনের চাকচিক্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর তদারকি এবং অবকাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে এই ‘পিংক বাস সার্ভিস’ যদি ঢাকার বুকে সফলভাবে সচল রাখা যায়, তবেই তা বাংলাদেশের পরিবহন ইতিহাসে জেন্ডার সমতা ও নাগরিক নিরাপত্তার এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা করবে ইনশাল্লাহ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com

‘বিদেশে কিছু পেলে শুধু ১০% দিয়েন’—দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
‘বিদেশে কিছু পেলে শুধু ১০% দিয়েন’—দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদ

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং ঢাকা ওয়াসা, এলজিইডি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডারে কমিশন নেওয়া এবং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এসব অভিযোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।

এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দুদকের অভিযোগকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বন্ধ ইউনিট চালু, জাতীয় গ্রিডে ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
বন্ধ ইউনিট চালু, জাতীয় গ্রিডে ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ

কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট ফের সচল হয়েছে। ফলে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটে নেওয়া হবে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে দুটি ইউনিট থেকে বাংলাদেশে ঘণ্টায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ কমে প্রায় ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

এর আগে কয়লা সরবরাহ সংকটের কারণেও গোড্ডা কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে গিয়েছিল। গত ৭ আগস্ট ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পরে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বাড়লে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়তে শুরু করে।

দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় ওই সময় দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল।

১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পিডিবি প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে। গোড্ডা কেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট ফের চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

যোগ্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
যোগ্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই: রাষ্ট্রপতি

দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে গণতন্ত্রের নিয়মিত চর্চা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি। দেশের মানুষ একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায়।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দুর্বল হলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

সাক্ষাৎকালে পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে জন্মাষ্টমী ও রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা, পুরোহিত ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন সন্তোষ শর্মা। এসব পদক্ষেপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সন্তুষ্টির বিষয়টি তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানান।

এ সময় পরিষদের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নাগরিকদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিনিধিদল আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি সাদরে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং যোগ্যতা, ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি