খুঁজুন
                               
, ,
           

সার্বভৌমত্ব ও বিচারিক মর্যাদা রক্ষায় দিল্লিকে ঢাকার কূটনৈতিক বার্তা

ড. মোঃ মিজানুর রহমান:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
সার্বভৌমত্ব ও বিচারিক মর্যাদা রক্ষায় দিল্লিকে ঢাকার কূটনৈতিক বার্তা

সম্প্রতি ভারতের প্রতি বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারত অবস্থানকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য এবং গণমাধ্যমে সরাসরি অংশগ্রহণ। বাংলাদেশের সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে বিচারাধীন; তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং কিছু মামলায় তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত। ফলে সরকার বিষয়টিকে কেবল একটি রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রের সার্বভৌম মর্যাদা, বিচারিক কর্তৃত্ব, জাতীয় সংবেদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থানরত একজন পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ঢাকা জানিয়েছে, এ ধরনের কর্মসূচি দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের চলমান প্রচেষ্টার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে—এ মর্মে ভারত সরকারকে আগেই উদ্বেগ জানানো হলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে বাংলাদেশ দুঃখ প্রকাশ করেছে।

কোনো রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি শুধু বন্ধুত্ব, বাণিজ্য কিংবা নিরাপত্তা সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সাংবিধানিক মর্যাদা, বিচারিক স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানেরও প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বীকৃত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র যদি মনে করে তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা বিচারিক প্রক্রিয়া অন্য একটি দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তবে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো শুধু তার বৈধ অধিকারই নয়, বরং রাষ্ট্রের দায়িত্বও। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান ঘটনাটি কেবল একটি তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক আস্থা, বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ পরিহার এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আচরণের মৌলিক নীতিগুলোকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তাই এই ঘটনাকে একটি বিচ্ছিন্ন কূটনৈতিক বিরোধ হিসেবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতির আলোকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

এ ঘটনাকে দলীয় রাজনীতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌম সমতা, অ-হস্তক্ষেপের নীতি এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের আলোকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কারণ টেকসই প্রতিবেশী সম্পর্কের ভিত্তি পারস্পরিক সম্মান, সংযম এবং একে অপরের সাংবিধানিক ও বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা। বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক যেমন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় সমৃদ্ধ, তেমনি সীমান্ত হত্যা, তিস্তার পানি বণ্টন, বাণিজ্য বৈষম্য ও রাজনৈতিক আস্থার মতো কিছু অমীমাংসিত প্রশ্নও বিদ্যমান। তাই সাম্প্রতিক ঘটনাকে আবেগের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক রীতির আলোকে বিচার করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত।

জাতিসংঘ সনদের ২(১) অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রের সার্বভৌম সমতা এবং ২(৭) অনুচ্ছেদ অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অ-হস্তক্ষেপের নীতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কেবল ভূখণ্ডের ওপর কর্তৃত্ব নয়; বিচারিক এখতিয়ার, আইন প্রয়োগ এবং স্বাধীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারও এর অন্তর্ভুক্ত। ফলে কোনো রাষ্ট্রের বিচারিক প্রক্রিয়া অন্য দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে প্রভাবিত হতে পারে—এমন আশঙ্কা কূটনৈতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করাই স্বাভাবিক।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক শুধু লিখিত আইনের ওপর নয়, কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সংযমের ওপরও নির্ভরশীল। এ কারণেই অধিকাংশ রাষ্ট্র তাদের ভূখণ্ডকে অন্য দেশের রাজনৈতিক সংঘাতের মঞ্চে পরিণত হতে দেয় না। রাজনৈতিক আশ্রয় আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত হলেও, আশ্রয় দেওয়া এবং আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিকে স্বাগতিক দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নিজ দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়া এক বিষয় নয়। দালাই লামার ক্ষেত্রে ভারতের সতর্ক অবস্থান এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে ভারতের অতীত উদ্বেগ—উভয়ই এ কূটনৈতিক বাস্তবতার পরিচায়ক।

বাংলাদেশের আপত্তিও আশ্রয় প্রদানের বিরুদ্ধে নয়; বরং বিচারাধীন, দণ্ডিত ও প্রত্যর্পণ-অনুরোধাধীন বলে বিবেচিত একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিরুদ্ধে। সরকার বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন হিসেবে নয়, পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় সম্মান ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের আলোকে ব্যাখ্যা করেছে। ২০১৩ সালের বাংলাদেশ–ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তি দুই দেশের বিচারিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। যদিও প্রত্যর্পণ স্বয়ংক্রিয় নয় এবং প্রতিটি আবেদন সংশ্লিষ্ট চুক্তি, জাতীয় আইন ও কূটনৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হয়, তবু বাংলাদেশ জানিয়েছে যে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার অনুরোধের এখনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি প্রত্যর্পণ সহযোগিতার কার্যকারিতাকেও সামনে এনেছে।

এ আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের রাজনৈতিক সংকট। বিভিন্ন পক্ষের ব্যাখ্যা ভিন্ন হলেও সহিংসতা, প্রাণহানি ও গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়টি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহির আহ্বান জানিয়েছে। পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারের একাধিক সাবেক মন্ত্রী ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী বিচার দেশের প্রচলিত আইনেই চলছে, যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষ এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য বাংলাদেশের কাছে বিশেষ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।
২০২৪-পরবর্তী বাস্তবতায় বাংলাদেশ একদিকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করছে, অন্যদিকে বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্মান প্রত্যাশা করছে। তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রতিবাদকে কেবল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা, বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি রাষ্ট্রীয় অবস্থান এবং দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।

বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকার ভিত্তিতে গত পাঁচ দশকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা গড়ে উঠেছে। ২০১৫ সালের স্থলসীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন এ সম্পর্কের একটি বড় সাফল্য। বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশ ২,৫০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ আমদানি করে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৪–১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উদ্বেগ। অন্যদিকে তিস্তার পানি বণ্টন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়া এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু। বাংলাদেশ প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়ে এসেছে, আর ভারত সীমান্ত অপরাধ, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশকে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরে। ফলে সীমান্ত প্রশ্ন এখনো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল বিষয়।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও মতপার্থক্য রয়েছে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল, ভারত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে কৌশলগত সমর্থন দিয়েছে। ভারত অবশ্য ধারাবাহিকভাবে বলেছে, তারা বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখায় এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে না। এই ভিন্ন বয়ান জনপরিসরে পারস্পরিক আস্থাকে প্রভাবিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রতিবাদকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না। এটি সীমান্ত, বিচারিক সহযোগিতা, রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা এবং দীর্ঘদিনের আস্থার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর বাস্তবতার অংশ।

দুই দেশের সম্পর্ক ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগও আলোচিত হয়ে আসছে। এর কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে স্থান পেলেও কিছু বিষয়ে দুই দেশের সরকারি অবস্থান ভিন্ন এবং কিছু অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই এসব বিষয় বিশ্লেষণে প্রতিষ্ঠিত তথ্য, রাজনৈতিক বক্তব্য ও জনমতের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।

সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অধিকারসহ বিভিন্ন সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশ সরকারও প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী অধিকাংশ ঘটনাকে সীমান্ত অপরাধ, চোরাচালান বা আত্মরক্ষার প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করেছে। একইভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশ, কথিত ‘পুশ-ইন’, মাদক ও অস্ত্র পাচার নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে এসবের মধ্যেও সীমান্ত সম্মেলন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি ইতিবাচক ভিত্তি।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকের অভিযোগ, ভারত অতীতে তৎকালীন সরকারকে কূটনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে ভারত বরাবরই বলে এসেছে, তারা বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই কাজ করে। এই রাজনৈতিক বিতর্ক দুই দেশের পারস্পরিক আস্থাকে প্রভাবিত করেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি উঠেছে যে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদকে বৃহত্তর কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা যায়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিচারিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছ থেকে অধিকতর সংযম, পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা প্রত্যাশা করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক এতটাই বিস্তৃত যে কোনো একক ঘটনা দিয়ে তাকে মূল্যায়ন করা যায় না; দীর্ঘমেয়াদে পারস্পরিক আস্থা, নিয়মিত সংলাপ ও আন্তর্জাতিক রীতিনীতিই সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কে প্রতিটি রাষ্ট্রই তার সার্বভৌমত্ব, বিচারিক কর্তৃত্ব ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় সংবেদনশীল। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ একটি স্বাভাবিক ও স্বীকৃত পদক্ষেপ। সরকারের অবস্থান অনুযায়ী শেখ হাসিনা বিচারাধীন, বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও কিছু ক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত; একই সঙ্গে তার প্রত্যর্পণও চাওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের রাজনীতি ও বিচারিক বিষয় নিয়ে তার প্রকাশ্য বক্তব্যকে বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করতেই পারে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সম্ভাব্য কূটনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে ভারতকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল। যদি তা হয়ে থাকে, তবে সেই উদ্বেগ উপেক্ষিত হওয়াকে ঢাকা কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার ঘাটতি হিসেবে দেখতেই পারে।

তবে বাংলাদেশের প্রতিবাদে ভারতবিরোধী অবস্থান নেওয়ার আহ্বান নেই; বরং সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান, অ-হস্তক্ষেপ এবং গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রত্যাশাই পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ভারত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা নিজস্ব আইনি কাঠামোর যুক্তি উপস্থাপন করতে পারে, কিন্তু সে কারণে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বেগকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির দৃষ্টিতে অস্বাভাবিক বলা কঠিন।

বিষয়টি ভারতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। ‘Neighbourhood First’ নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বাংলাদেশ আঞ্চলিক নিরাপত্তা, উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ, বঙ্গোপসাগর, জ্বালানি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বহন করে। গত এক দশকের সহযোগিতার অর্জন টিকিয়ে রাখতে পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা অপরিহার্য। আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ভারতের জন্যও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সার্বভৌম উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সংবেদনশীল বিষয়ে কূটনৈতিক সংযম প্রদর্শন তার গ্রহণযোগ্যতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রতিবাদকে কেবল একটি তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করা যাবে না। বিষয়টি রাষ্ট্রের সার্বভৌম মর্যাদা, বিচারিক কর্তৃত্ব, কূটনৈতিক শিষ্টাচার, পারস্পরিক আস্থা এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জাতিসংঘ সনদে বর্ণিত সার্বভৌম সমতা ও অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অ-হস্তক্ষেপের নীতিও এ ধরনের অবস্থানের আন্তর্জাতিক ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে। ফলে এ ধরনের ইস্যুতে উভয় পক্ষেরই সংযম, পরিমিতি ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয়; তবে সেসবের সমাধান হওয়া উচিত আন্তরিক সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতির আলোকে। ভৌগোলিক নৈকট্য, অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি বা সরকার পরিবর্তিত হলেও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থায়ী থাকে। তাই সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র-রাষ্ট্র সম্পর্ক, সার্বভৌম সমতা, বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা এবং গঠনমূলক ভবিষ্যতমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করাই হবে অধিকতর বিচক্ষণ ও দূরদর্শী পদক্ষেপ।

লেখক: অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট।
Mizan12bd@yahoo.com

দুই মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর দখলমুক্ত করার আশ্বাস নৌমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
দুই মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর দখলমুক্ত করার আশ্বাস নৌমন্ত্রীর

চট্টগ্রাম বন্দরের যেসব জায়গা বিগত সরকারের সময়ে অবৈধভাবে লিজ দেওয়া হয়েছিল, সেসব লিজ বাতিল করে আগামী দুই মাসের মধ্যে বন্দর এলাকার সব জায়গা দখলমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশ্বাস দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি অবৈধ লিজ বাতিল করা হয়েছে এবং দুটি জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একটি জায়গা নিয়ে মামলা চলমান থাকায় সেটি উদ্ধারে আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কিছু জায়গার মালিকানা নিয়ে যে জটিলতা রয়েছে, তা আরবিট্রেশনের মাধ্যমে আগামী দুই মাসের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান কার্যক্রম তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বন্দরে জাহাজকে এখন দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। বর্তমানে ‘জিরো আওয়ার’ ওয়েটিং টাইমে জাহাজ পরিচালনা এবং প্রায় দুই দিনের মধ্যে পণ্য লোড-আনলোডের কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে।

তিনি জানান, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি লালদিয়ায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে ‘গ্রিন টার্মিনাল’ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। এতে প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসবে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া গত ছয় মাসে মোংলা বন্দরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২৫ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে বলেও সংসদকে জানান নৌপরিবহনমন্ত্রী।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের ঝঙ্কার: স্বাধীন দেশে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর দৌরাত্ম্য আর কতকাল?

এম মহাসিন মিয়া:
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের ঝঙ্কার: স্বাধীন দেশে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর দৌরাত্ম্য আর কতকাল?

প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য ও সৌন্দর্যের লীলাভূমি স্বাধীন বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম আজ আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর লাগামহীন দৌরাত্ম্যে বিভীষিকাময় এক জনপদে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এই ভূখণ্ডের একটি বিশেষ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ আজও শান্তির বদলে প্রতিনিয়ত গানপাউডার আর বারুদের গন্ধ শুঁকে দিনাতিপাত করছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের অনবদ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ঢেকে দিয়েছে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া, আধিপত্য বিস্তারের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণকে জিম্মি করে রাখার অপকৌশল। পাহাড়ে শান্তিশৃঙ্খলা ও দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে যুগে যুগে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হলেও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অনড় অবস্থান, অপতৎপরতা এবং সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা কায়েমের অশুভ আকাঙ্ক্ষার কারণে প্রত্যাশিত স্থায়িত্ব লাভ করেনি পার্বত্য অঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশ। ফলে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সার্বভৌম ভূখণ্ডে এমন সশস্ত্র নৈরাজ্য আর কতকাল বহাল থাকবে, তা আজ গোটা জাতির কাছে এক মস্ত বড় প্রশ্ন ও চরম উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎সম্প্রতি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়িতে ঘটে যাওয়া এক রক্তক্ষয়ী ঘটনা পাহাড়ে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর উগ্রতা ও আধিপত্য বিস্তারের চিত্রকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গি ইউনিয়নের তারাবন এলাকায় গত ৫ সেপ্টেম্বর- ২০২৬ তারিখে পাহাড়ি দুটি প্রধান আঞ্চলিক দল, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-মূল) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-মূল) এর মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। সকালের দিকে জেএসএস ক্যাডারদের মহড়া ও ফাঁকা গুলির পর বিকেলে তা রূপ নেয় মুখোমুখি এক রক্তক্ষয়ী গোলাগুলিতে। বিবর্ণ চাকমার নেতৃত্বাধীন ২৫-৩০ জনের জেএসএস দল এবং সুমেন চাকমার পরিচালনায় ৩৫-৪০ জনের সুসজ্জিত ইউপিডিএফ বাহিনীর মধ্যে একটানা আড়াই ঘণ্টাব্যাপী আক্ষরিক অর্থেই যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই দুই পক্ষের মধ্যকার প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রাউন্ড অনবরত গুলিবিনিময়ের ফলে পুরো তারাবন ও জগা পাড়া এলাকা মুহূর্তে এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কোনো প্রাণহানি নিশ্চিত না হলেও অনবরত বিকট গুলির শব্দে অবরুদ্ধ সাধারণ মানুষের মনে এক বিভীষিকাময় ভীতি তৈরি হয়েছিল।

‎পানছড়ির উত্তাপ প্রশমিত হতে না হতেই ৬ সেপ্টেম্বর- ২০২৬ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটির সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় পর্যটন উপত্যকা সাজেকে ইউপিডিএফ (প্রসীত) ও জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের সশস্ত্র ক্যাডারদের বিপজ্জনক মহড়া ও মুখোমুখি অবস্থান পাহাড়ের পরিস্থিতিকে আরও থমথমে করে তোলে। দেশের শীর্ষতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেক উপত্যকার নোয়াপাড়া, ৮নং পাড়া, কিচিংপাড়া ও ব্রীজপাড়ার মতো স্পর্শকাতর ও ঘনবসতিপূর্ণ স্থানগুলোতে ইউপিডিএফের প্রায় নব্বইজন এবং জেএসএস গ্রুপের সত্তর-আশিজন ক্যাডার ভারি অস্ত্রশস্ত্রসহ কৌশলগত অবস্থান নেয়। ইউপিডিএফের পক্ষে সুমন চাকমা, কহেন চাকমা ও পরান্টু চাকমা এবং জেএসএসের পক্ষে বিক্রম চাকমা ও মুচং চাকমার মতো শীর্ষ সশস্ত্র কমান্ডারের সরাসরি নেতৃত্বে শতাধিক ক্যাডারের এমন মহড়া যে কোনো মুহূর্তে এক ভয়াবহ রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। একদিকে সাধারণ স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে জীবনভীতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন, অন্যদিকে সাজেকে বেড়াতে আসা অগণিত পর্যটকদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল। মূলত পাহাড়ে পর্যটন শিল্পকে ধ্বংস করা এবং সাধারণ মানুষকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবেই সাজেকের মতো জায়গায় সশস্ত্র ক্যাডাররা এই অবস্থান নিয়েছিল।

‎পাহাড়জুড়ে কায়েম করা এই নৈরাজ্যের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সুপরিচিত পর্যটন এলাকা রিসাং ঝর্ণা সংলগ্ন অঞ্চলে ইউপিডিএফ (প্রসীত) বাহিনীর অতর্কিত গুলিবর্ষণে। গভীর রাতে নিরবতা ভঙ্গ করে সেনাবাহিনীর মাটিরাঙ্গা জোনের অন্তর্ভুক্ত সাপমারা আর্মি ক্যাম্পের কয়েক কিলোমিটার উত্তরে এই সশস্ত্র দলটি প্রথম দফায় ১০-১২ রাউন্ড এবং পরবর্তী দফায় গভীর রাত ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে আরও প্রায় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে গা ঢাকা দেয়। সর্বমোট ৪০-৪২ রাউন্ড ভারী অস্ত্রের গুলি চালিয়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন এবং পর্যটন খাতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মূল উদ্দেশ্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রিসাং ঝর্ণার মতো জায়গায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের মনে এই জাতীয় রাতের আঁধারে গুলিবর্ষণ গভীর আতঙ্কের জন্ম দেয়। শান্ত জনপদ মাটিরাঙ্গায় এমন প্রকাশ্য অস্ত্রের ঝঙ্কার প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের জীবন বা এলাকার অর্থনৈতিক অগ্রগতির তোয়াক্কা না করে এই সশস্ত্র দলগুলো কেবল নিজেদের কায়েমী স্বার্থ হাসিল এবং সাধারণ মানুষকে সার্বক্ষণিক ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বন্দি করে রাখতে চায়।

‎সাম্প্রতিক পার্বত্য চট্টগ্রামের এই তিনটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা কোনো আকস্মিক অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং এটি তাদের দীর্ঘদিনের সুপরিকল্পিত আধিপত্য বিস্তারের ছকেরই অংশ। জেএসএস-মূল, ইউপিডিএফ-মূল, ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক, জেএসএস-সংস্কার সহ বিভিন্ন উপশাখায় বিভক্ত এই সংগঠনগুলো মুখে তাঁদের জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ের কথা বললেও বাস্তবে তারা সন্ত্রাসী কার্যক্রমেই লিপ্ত। নিজেদের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক প্রভাববলয় বা ‘টার্ফ’ ধরে রাখা এবং চাঁদাবাজির রুট সচল রাখার জন্য তারা একে অপরের বিরুদ্ধে চরম শত্রুতায় লিপ্ত হয়। গোষ্ঠীগত এই দ্বন্দ্বের বলি হতে হয় নিরীহ পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীকে, যাদের দৈনন্দিন কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি কাজ হুমকির মুখে পড়ে। নিজেদের মধ্যে অঞ্চল ভাগাভাগি এবং আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে পুরো পাহাড়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভেস্তে যাচ্ছে। তথাকথিত অধিকার আদায়ের নামে নিজেদের জাতির মানুষের বুক খালি করা এবং সার্বিক জনজীবনকে অচল করে দেওয়া ছাড়া এই আঞ্চলিক দলগুলোর আর কোনো জনকল্যাণমুখী ভূমিকা সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না।

‎পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র দলগুলোর টিকে থাকার প্রধান রসদ এবং অর্থায়নের মূল উৎস হলো এক ভয়াবহ চাঁদা আদায় ও তোলাবাজি নেটওয়ার্ক। পাহাড়ের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে জেলা শহর পর্যন্ত প্রতিটি বাজার, যানবাহন, জুমচাষ, বাঁশ কাটা, ফল বিক্রি এমনকি সাধারণ চাকরিজীবীদের বেতন থেকেও নিয়মিত জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হয়। কোনো সাধারণ নাগরিক বা ব্যবসায়ী যদি এই অবৈধ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তার কপালে জোটে অমানসিক নির্যাতন, অপহরণ কিংবা নির্মম হত্যাকাণ্ড। শুধু চাঁদা আদায়ই নয়, পাহাড়ের গহীন অরণ্যকে ব্যবহার করে অবৈধ অস্ত্রের কারবার, মাদক চোরাচালান এবং সীমান্ত পারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে গোপন যোগসাজশের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করছে এই সংগঠনগুলো। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ কালো টাকা দিয়েই তারা আধুনিক ও ভারী সব অস্ত্রশস্ত্র ক্রয় করছে, যা দিয়ে দিন দিন তারা নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়িয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ জানানোর দুঃসাহস দেখাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ আজ নিজস্ব ভূখণ্ডে থেকেও এক প্রকার মুক্তিপণ দিয়ে জীবনযাপনের চরম অপমানজনক পরিস্থিতি সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছে।

‎গুম, খুন এবং অপহরণ পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর এক প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কোনো ব্যক্তি যদি এই সংগঠনগুলোর মতাদর্শের বাইরে গিয়ে স্বাধীন মতামত প্রকাশ করে কিংবা তাদের চাঁদা দাবির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, তাকে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে যাওয়া এখন পাহাড়ে নিত্যদিনের ঘটনা। অসংখ্য পাহাড়ি তরুণকে জোরপূর্বক ক্যাডার দলে রিক্রুট করা হচ্ছে এবং তা না মানলে পুরো পরিবারকে ভিটেমাটি ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়। মানবাধিকারের বুলি ছড়ানো দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিও সংস্থা পাহাড়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে সোচ্চার হলেও, আঞ্চলিক সন্ত্রাসী দলগুলোর হাতে অগণিত নিরীহ মানুষের এই নির্মম গুম ও খুনের ঘটনায় অদ্ভুত নীরবতা পালন করে। এই সন্ত্রাসী দলগুলো সাধারণ পাহাড়িদের ভয় দেখিয়ে এমন এক স্তব্ধতার সংস্কৃতি তৈরি করেছে, যেখানে প্রতিবাদের কোনো ভাষা অবশিষ্ট থাকে না। স্বজনহারা পরিবারগুলোর আর্তনাদ পাহাড়ের উপত্যকাগুলোতে প্রতিধ্বনি হলেও সন্ত্রাসী ক্যাডারদের রক্তচক্ষু ও প্রতিশোধের ভয়ে কেউ পুলিশ বা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সাহস পর্যন্ত পায় না।

‎বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পার্বত্য অঞ্চলের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনাময় ভূমিকা, বিশেষ করে পর্যটন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারে। কিন্তু সাজেক, রিসাং ঝর্ণা, পানছড়ি বা বান্দরবানের মতো আকর্ষণীয় এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়ত সশস্ত্র সংঘাত ও গোলাগুলির খবর ছড়িয়ে পড়ায় পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা যখন পাহাড়ে নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার হুমকি অনুভব করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তারা এসব স্থান ভ্রমণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। ফলে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, হোটেল-রিসোর্ট শিল্প এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রুটি-রুজির ওপর নেমে আসে চরম বিপর্যয়। শুধু পর্যটনই নয়, এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে পাহাড়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যেমন, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণের কাজ বারবার থমকে যায়। ঠিকাদারদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে নির্মাণকাজে নিয়োজিত কর্মীদের অপহরণ বা হত্যা করার মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের উন্নয়ন থমকে দেওয়ার অপচেষ্টা করে চলেছে এই গোষ্ঠীগুলো। ফলে পার্বত্য অঞ্চলকে মূল অর্থনীতির ধারার সাথে যুক্ত করা চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

‎স্বাধীন বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কোনো অবস্থাতেই নিজের ভূখণ্ডের একটি নির্দিষ্ট অংশে সমান্তরাল সশস্ত্র শাসন বা সন্ত্রাসী ক্যাডারদের রাজত্ব মেনে নিতে পারে না। পাহাড়ের অখণ্ডতা রক্ষা, সাধারণ জনগণের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে এখনই এই আঞ্চলিক দলগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির শর্তাবলি যারা বছরের পর বছর ধরে লঙ্ঘন করে আসছে এবং অবৈধ অস্ত্র সমর্পণ না করে উল্টো তা দিয়ে রাষ্ট্রকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। পাহাড়ে আস্তানা গড়া প্রতিটি অবৈধ অস্ত্রের জোগানদাতা ও ক্যাডারদের চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে। সার্বভৌম রাষ্ট্রে কোনো বিশেষ অঞ্চলকে অপরাধীদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হতে দেওয়া যায় না, এবং এ বিষয়ে কোনো প্রকার শিথিলতা বা আপসকামিতা মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই।

‎সবমিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় ও উপত্যকাগুলোতে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও প্রগতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে হলে সশস্ত্র দলগুলোর দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করতে হবে। পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ি ও বাঙালি, উভয় জনগোষ্ঠীর শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ আজ সশস্ত্র দলগুলোর হাত থেকে মুক্তি পেতে ব্যাকুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের উচিত অবিলম্বে পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করা, সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত যৌথ অভিযান জোরদার করা এবং চাঁদাবাজি-অস্ত্র ব্যবসা বন্ধে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো। একই সাথে পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ যুবসমাজকে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রলোভন ও ভয়ভীতি থেকে মুক্ত করে মূলধারার শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। রাষ্ট্রকে পরিষ্কার বার্তা দিতে হবে যে, সার্বভৌম বাংলাদেশে ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ ও সংবিধান, কোনো অবৈধ অস্ত্রের নলের মুখ নয়। সরকারের সমউপযোগী, কঠোর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই কেবল পারে পার্বত্য অঞ্চল থেকে সশস্ত্র সহিংসতার কালো ছায়া দূর করে দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এবং পাহাড়িদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

‎লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক।
‎ইমেইল: mmohasinmiah013@gmail.com

ক্ষুদ্র উদ্যোগে ২২ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
ক্ষুদ্র উদ্যোগে ২২ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের

ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্পের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে কাজে লাগিয়ে দেশে মোট ২২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন কর্মসূচির আওতায় আরও ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংকের উদ্যোগে ‘ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন তহবিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে আরও ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হলে মোট ২২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বড় শিল্প ও বড় প্রকল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্প এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের অনেক পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই ধরনের ব্যবসা বা পেশার সঙ্গে যুক্ত। তাদের প্রয়োজনীয় অর্থ, প্রযুক্তি ও বাজারসংযোগের সুযোগ দেওয়া গেলে ছোট উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে বড় ব্যবসায় পরিণত হতে পারে।

আমির খসরু বলেন, সৃজনশীল খাতের বিকাশে শুধু ঋণ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনেও সহায়তা দিতে হবে। এতে একটি পণ্যের মূল্য ও বাজার সম্ভাবনা আরও বাড়ানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক মানের পণ্য তৈরি করা গেলে অ্যামাজন, আলিবাবাসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেগুলো বিশ্ববাজারে বিক্রি করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি