খুঁজুন
                               
, ,
           

ড. নাসিমুল গনিকে আরও এক বছরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
ড. নাসিমুল গনিকে আরও এক বছরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিয়োগ

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী ড. নাসিমুল গনিকে পূর্বের চুক্তির ধারাবাহিকতায় এক বছরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে পুনঃচুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাকে অন্য যেকোনো পেশা এবং সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নিয়োগের অন্যান্য শর্ত আগের চুক্তির মতোই বহাল থাকবে।

ড. নাসিমুল গনি দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বিভাগের সিনিয়র সচিব পদে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয় এবং ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন।

নাসিমুল গনি বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। ওই ব্যাচের ১৪২ জনের মেধাতালিকায় তার অবস্থান ছিল চতুর্থ। দীর্ঘ প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

নারীবান্ধব গণপরিবহনের পথে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
নারীবান্ধব গণপরিবহনের পথে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা

দক্ষিণ এশিয়ার মেগাসিটিগুলোর নগর-জীবনের সবচেয়ে বড় এবং সুদূরপ্রসারী চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো নারীবান্ধব ও নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, যা বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা এবং জনসংখ্যার ঘনত্বের নিরিখে অন্যতম ব্যস্ত এক প্রান্তর, সেখানে নারীদের জন্য প্রতিদিনের গণপরিবহন ব্যবহার যেন এক নিরন্তর সংগ্রাম। কর্মক্ষেত্রে নারীদের বিপুল অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তাদের চালিকাশক্তি হওয়ার সত্ত্বেও, সড়কে তাদের যাতায়াতের বাস্তবতা বহু বছর ধরেই চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভোগান্তিতে আচ্ছন্ন। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে, নবনির্বাচিত বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) রাজধানীতে চালু করতে যাচ্ছে নারীদের জন্য বিশেষ ‘পিংক বাস সার্ভিস’। নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর দ্বারা পরিচালিত এই উদ্যোগটি আপাতদৃষ্টিতে একটি যুগান্তকারী সামাজিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে নীতি-বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক নগর-পরিবহন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতার আলোকে প্রশ্ন থেকে যায়—এই ‘গোলাপি বাস’ কি ঢাকার পরিবহন খাতের গভীরে গেড়ে বসা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ও নিরাপত্তা সংকটের একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান, নাকি নিছকই একটি প্রতীকী সংস্কার?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের একটি ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে। ১৬ আগস্ট পাঠানো বিআরটিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট তেজগাঁওয়ের বিআরটিসি ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করবেন। এই অনুষ্ঠানে সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতিও স্পষ্ট করে যে, নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের নারী ক্ষমতায়ন ও নিরাপদ যাতায়াতের প্রতিশ্রুতি দ্রুত দৃশ্যমান করতে আগ্রহী।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কৌশলগত। ইশতেহারের একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতিকে ক্ষমতার সূচনালগ্নেই নীতিগত পদক্ষেপে রূপান্তর করা জনমনে ইতিবাচক বার্তা পাঠায়। তদুপরি, এই সার্ভিসে চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারীদের পদায়ন কেবল নারীদের জন্য পৃথক আসন নিশ্চিত করছে না, বরং পরিবহন খাতের ঐতিহ্যগত পুরুষকেন্দ্রিক শ্রমবাজারে নারীদের সরাসরি অন্তর্ভুক্তির এক বলিষ্ঠ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

একটি নিরাপদ শহর গড়ে তোলার প্রধান শর্ত হলো এর গণপরিবহনে নারীদের অবাধ ও হয়রানিমুক্ত চলাচলের স্বাধীনতা। তবে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক গবেষণা চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার গণপরিবহনে যাতায়াতকারী নারীদের ৮৫ থেকে৯০ শতাংশের বেশি জীবনে কোনো না কোনো সময় শারীরিক বা মৌখিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। ভিড়ের সুযোগে স্পর্শকাতর আচরণ, অশালীন মন্তব্য এবং চালক বা সহকারী দ্বারা নিগ্রহের ভয় প্রতিনিয়ত নারী যাত্রীদের তাড়া করে ফেরে।

সাধারণ বাসগুলোতে নারীদের জন্য মাত্র কয়েকটি সংরক্ষিত আসন থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরুষ যাত্রীরা বাসের অনভিপ্রেত ভিড়ের মধ্যে এসব আসন দখল করে রাখেন অথবা সেখানে বসতে চাওয়া নারীদের মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়।

চলাচলের অনিরাপত্তা নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণের সুযোগকে সীমিত করে দেয়। অনেক নারী নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভালো কর্মসংস্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন অথবা যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে সিএনজি অটোরিকশা বা রাইড-শেয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হন।

এই জটিল বাস্তবতায় নারীবান্ধব ‘পিংক বাস সার্ভিস’ চালু হওয়া অবশ্যই একটি স্বস্তির নিঃশ্বাস। সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত বাস সার্ভিস নারীদের জন্য এমন একটি ‘সেফ স্পেস’ বা নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করবে, যেখানে অন্তত বাস ভ্রমণের পুরো সময়টাতে তাদের কোনো যৌন হয়রানি বা সামাজিক হেনস্তার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন থাকতে হবে না।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধান শহরগুলোতে নারীদের জন্য পৃথক পরিবহন সার্ভিস চালুর সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। মেক্সিকো সিটি, টোকিও, কায়রো, জাকার্তা এবং পার্শ্ববর্তী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নারীদের জন্য বিশেষ বাস বা ট্রেন কোচ চালু করা হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করলে দুটি স্পষ্ট ধারা দেখা যায়:

১.স্বল্পমেয়াদে, নারীদের জন্য তৈরি এই ধরনের বিচ্ছিন্ন বা পৃথক ব্যবস্থা দারুণ ইতিবাচক ফল দেয়। নারী যাত্রীরা মানসিকভাবে নিরাপদ বোধ করেন এবং তাদের ওপর যৌন হয়রানির হার তাৎক্ষণিকভাবে কমে যায়। বিশেষ করে নারী চালক ও কন্ডাক্টর থাকার ফলে কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

২.আন্তর্জাতিক নগর-বিজ্ঞানী ও জেন্ডার গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, কেবল ‘পিংক বাস’ বা ‘অনলি উইমেন’ সার্ভিস দিয়ে পুরো শহরের নিরাপত্তা সংকট দূর করা সম্ভব নয়। যদি সাধারণ ও মূলধারার গণপরিবহনে পুরুষদের মানসিকতা এবং আইনি প্রয়োগ ব্যবস্থা উন্নত না হয়, তবে এই বিশেষ সার্ভিস উল্টো নারীদের ‘বিচ্ছিন্ন’ করে ফেলার ঝুঁকি তৈরি করে। মূলধারার বাসগুলো পুরুষদের একচেটিয়া অধিকারে পরিণত হতে পারে এবং সেখানে নারীদের যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এদিকে ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় বিআরটিসির অতীতের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এ ধরনের বিশেষ বা ছকভাঙা উদ্যোগ সূচনাতেই থেমে যাওয়ার এক ধরনের ঝোঁক থাকে। ইতোপূর্বেও নারীদের জন্য ‘লেডিস বাস’ চালু হয়েছিল, কিন্তু পর্যাপ্ত বাস না থাকা, নির্দিষ্ট রুটে সময়সূচি বজায় রাখতে না পারা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়ে। সুতরাং এই নতুন পিংক বাস সার্ভিসের সাফল্য নির্ভর করবে কয়েকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলার ওপর:

১.সীমিত সংখ্যক বাস ও রুট দিয়ে বিশাল ঢাকার নারী জনসংখ্যার চাহিদা মেটানো অসম্ভব।
পর্যাপ্ত বাস বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং প্রধান প্রধান কর্মজীবী রুটে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো।
২.ভারী যানবাহন চালনায় নারী চালকের স্বল্পতা এবং তাদের পেশাগত নিরাপত্তা। বিআরটিসির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও উন্নত ট্রেনিং একাডেমি গড়ে তোলা এবং তাদের বিশেষ ভাতা নিশ্চিত করা।
৩.ঢাকার তীব্র যানজটে বাসের নির্দিষ্ট শিডিউল ধরে রাখা কঠিন। ডেডিকেটেড বাস লেইন (BRT) বা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।
৪.কারিগরি ত্রুটি ও বিআরটিসির প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক ধীরগতি। আধুনিক ডিপো সুবিধা এবং নিয়মিত গণতদারকির মাধ্যমে বাসের গুণমান ধরে রাখা।

আমি মনে করি,পিংক বাস সার্ভিসকে নিছক একটি প্রতীকী রাজনৈতিক সাফল্য থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই নীতি সংস্কারে রূপান্তর করতে হলে সরকারকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে:

পিংক বাসকে মূলধারার গণপরিবহন ব্যবস্থার একটি সহায়ক শাখা হিসেবে দেখতে হবে, একমাত্র সমাধান হিসেবে নয়। মূলধারার সাধারণ বাসগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, চালক ও কন্ডাক্টরদের জন্য নারীবান্ধব আচরণের ওপর বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ এবং যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা (যেমন: মোবাইল কোর্ট বা জরুরি হেল্পলাইন ৯৯৯-এর দ্রুত কার্যকারিতা) সুনিশ্চিত করতে হবে। কেবল বাস নারীবান্ধব হলেই চলবে না; বাস স্টপেজ, ফুটপাত এবং বাস সংযোগস্থলগুলোকে পর্যাপ্ত আলো, নিরাপত্তা কর্মী ও সিসিটিভির আওতায় এনে সার্বিকভাবে নিরাপদ করে তুলতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই,সরকারের এই নতুন উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং ইতিবাচক এক দিকনির্দেশনা। তবে এটি যেন কেবল উদ্বোধনী বিজ্ঞাপনের চাকচিক্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর তদারকি এবং অবকাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে এই ‘পিংক বাস সার্ভিস’ যদি ঢাকার বুকে সফলভাবে সচল রাখা যায়, তবেই তা বাংলাদেশের পরিবহন ইতিহাসে জেন্ডার সমতা ও নাগরিক নিরাপত্তার এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা করবে ইনশাল্লাহ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com

জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে : নজরুল ইসলাম খান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে : নজরুল ইসলাম খান

জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টার কোনও ত্রুটি নেই।

সোমবার (১৭ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের জ্বালানি আমদানি নির্ভর। খনিজ সম্পদ উন্নয়নে বাপেক্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। কিন্তু বিগত ১০-১৫ বছরে এ প্রতিষ্ঠানটিকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে। জ্বালানি সমস্যা সমাধান সহজে শেষ করা যায় না। তারপরও সরকার পাইপলাইন হয়ে জ্বালানি আনার চেষ্টা করছে। এমনকি মিয়ানমারের সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। এ খাতে সরকার ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছে; যা আমাদের দেশের জন্য অনেক বড় ব্যাপার।

বিএনপির এই নেতা বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের যে ডকুমেন্টস রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া হয়েছিল। আমরা মনে করি, প্রতিটি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সংবিধান সংস্কারের জন্য সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এখন সংশোধন শব্দটি মানা হচ্ছে না। তিনি বলেন, জুলাই সনদে বলা হয়েছে, যারাই ক্ষমতায় যাবে, তারাই নিজেদের নোট অব ডিসেন্টের বিষয়টি নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। সে অনুযায়ী, জনগণ যাদের রায় দেবে, তারা তাদের মতো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। এরপরও প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, এ ক্ষেত্রে যদি বড় ধরনের সিদ্ধান্ত হয়, সেটাতো আলোচনা করা হবে। আমরা মনে করি গণতন্ত্রে আলোচনার কোনও বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, বর্তমান একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা। তাই সরকার নির্বাচনি ইশতেহার ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীরকে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের প্রতি কূটনীতিক তৎপরতা চলছে। তিনি যাতে সেখানে আউনি সুবিধা না পান, সেভাবে দেশটির সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বলতে চাই সরকার তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ৬ মাসে যা করতে পেরেছেন, তা হয়তো খুব বেশি কিছু নয়। তবে তা একেবারেই কমও নয়। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সরকারকে সহযোগিতা করেছেন। যারা বিরোধিতা করেছেন, তারা হয়তো সহযোগিতার অংশ হিসেবেই করেছেন।

আরও উপস্থিত ছিলন, রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পপ্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সরকারের ১৮০ দিন

সংস্কার, স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের পথে নতুন বাংলাদেশ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
সংস্কার, স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের পথে নতুন বাংলাদেশ

টানা দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী ও একদলীয় শাসনের অবসানের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনেই ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, দলীয়করণমুক্ত প্রশাসন, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিচারব্যবস্থার সংস্কারে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লক্ষ্য—একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশ নির্মাণ। ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ থেকে বেরিয়ে ‘সহনশীলতা ও জবাবদিহিতার রাজনীতি’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে নির্বাচনী ইশতেহারের ৩১ দফাকে সামনে রেখে গত ছয় মাসে নেওয়া হয়েছে বহুমাত্রিক সংস্কার কর্মসূচি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। সভায় ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক একটি ই-বুকের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও অর্জনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।

ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান, প্রশাসনে স্বচ্ছতার বার্তা
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অন্যতম দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে। ব্যক্তিপূজার অবসানে সরকারি-বেসরকারি ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি টানানোর দীর্ঘদিনের সংস্কৃতিও বন্ধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও প্রটোকলের আনুষ্ঠানিকতা কমিয়ে সাধারণ নাগরিকের মতো ট্রাফিক আইন মেনে চলার নজির স্থাপন করেছেন। ছয়জন ছাড়া অন্য সব মন্ত্রী ও উপদেষ্টার পুলিশি প্রটোকল বাতিল করা হয়েছে। ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তার মাসিক মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সরকারি গাড়ি কেনা, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর ও আপ্যায়ন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিতে ‘৩-আর’ কৌশল, বাজেটে মানুষের জীবনবাস্তবতা
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সরকার গ্রহণ করেছে ‘৩-আর’—রিকভারি, রিস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন কৌশল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ‘জীবনবাস্তব’ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, যার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। ১২ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে। পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে ১৩টি দেশে পাঠানো হয়েছে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর)।

নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা হয়েছে। ‘ব্লু ইকোনমি’ কাজে লাগিয়ে ১ বিলিয়ন ডলারের মৎস্য রপ্তানির লক্ষ্য সামনে রেখে দেওয়া হয়েছে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ। একই সঙ্গে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৪ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুতের রেকর্ড গড়েছে সরকার।

‘ফ্যামিলি কার্ডে’ প্রান্তিক মানুষের ক্ষমতায়ন
সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে চালু হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘প্রবাসী কার্ড’। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারের নারী প্রধানের ব্যাংক হিসাবে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ১৮০ দিনে ৭০ হাজার ৮৬১টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সার ও বীজ সহায়তা হিসেবে ২০ হাজার ৪৮৩ জন কৃষককে দেওয়া হয়েছে ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: মানবসম্পদে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত
মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ২ শতাংশ বা ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক দুটি করে মোট ৬০০টি সরকারি আবাসিক মডেল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ দর্শনকে গুরুত্ব দিয়ে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। পাশাপাশি ৫ হাজার নতুন এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগ এবং নাগরিকদের জন্য ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। এর অন্যতম লক্ষ্য বিদেশে চিকিৎসার পেছনে বছরে ব্যয় হওয়া বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমানো।

সবুজ বাংলাদেশ ও অবকাঠামোয় গতি
পরিবেশ রক্ষায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রথম ১৮০ দিনেই ২ কোটি ২২ লাখ চারা রোপণ করা হয়েছে। কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে মাত্র ১৫ দিনে দেশজুড়ে ২ হাজার ১৬৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সড়ক ও সেতুতে সমন্বিত ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য রেলে ২৫ শতাংশ ছাড়ও কার্যকর করা হয়েছে।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’: ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে সরকার অনুসরণ করছে ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি। দীর্ঘ চার দশক পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের দায়িত্ব পেয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রথম নারী মহাসচিব আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং চীন সফরে ২১টির বেশি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও বিচারব্যবস্থায় সংস্কার
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণে গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তর করা হয়েছে। ‘জুলাই শহীদ ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে শহীদদের আইনি সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহীদ পরিবারগুলোকে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ৪৬ লাখ মামলার জট নিরসনের লক্ষ্যে ‘ই-জুডিশিয়ারি’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নীতিমালা প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে।

সামনে আরও বড় পথ
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সামাজিক সুরক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, অবকাঠামো এবং বিচারিক সংস্কারের যে রূপরেখা উঠে এসেছে, তা আগামী দিনের বাংলাদেশ নির্মাণের ভিত্তি হিসেবে দেখছে সরকার। সংস্কারের এই যাত্রা কতটা টেকসই ও জনকল্যাণমুখী হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে আগামী দিনের সাফল্য। তবে প্রথম ১৮০ দিনের উদ্যোগগুলো স্পষ্ট করেছে—উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামোর নির্মাণে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনমান, অধিকার, মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার সঙ্গে যুক্ত করাই সরকারের ঘোষিত অগ্রাধিকার।

কালের আলো/এম/এএইচ