খুঁজুন
                               
, ,
           

খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মারতে ফুড পয়জনিং করা হয়েছিল: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মারতে ফুড পয়জনিং করা হয়েছিল: রিজভী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে ‘ফুড পয়জনিং’ করে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একটি ‘অতি জরুরি ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন’ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, যে মানুষটি প্রতিটি মুহূর্তে স্বদেশ এবং দেশের জনগণের স্বার্থ নিয়ে ভেবেছেন, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১৯৮১ সালে বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিটা ক্ষণ তিনি মানুষের পক্ষে কথা বলে গেছেন। আর এই জন্য তাকে সইতে হয়েছে অশেষ গঞ্জনা, অপপ্রচার এবং মিথ্যা কলঙ্কলেপন।

সাবেক সরকারের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তার অসুস্থতাকে ফ্যাসিবাদী সরকার গ্রাহ্য করেনি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় যারা নিজেরা বন্দি হয়ে অসুস্থতার অজুহাতে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বা বিদেশে গেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্যে সেই সুযোগটুকুও জোটেনি। তার উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাই তারা করেনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা বারবার বলেছি যে, উনাকে তিলে তিলে শেষ করার জন্য ফুড পয়জনিং করা হয়েছে এবং এটা আসলে সত্য। বর্তমান সরকারের এ বিষয়ে একটি অতি জরুরি ও হাই পাওয়ারফুল তদন্ত কমিটি করা দরকার।

কারাগারে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, যে মানুষটি হেঁটে কারাগারের ভেতরে গেলেন, সেই মানুষটি জরাজীর্ণ অবস্থায়, অসুস্থতায় ধুঁকতে ধুঁকতে বের হলেন। এবং এই রোগে ধুঁকতে ধুঁকতেই গত বছর ৩০ ডিসেম্বর তার জীবনাবসান হলো।

বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্বের প্রভাব উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তিনি ঘরে বসে থাকলেও আমরা তার বিরাট প্রভাব অনুভব করতাম। আমরা তখন তোয়াক্কা করতাম না— কে হাসিনা, কে তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কি তার নির্যাতন, গ্রেফতার, মামলা বা রিমান্ড! আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র ফেরানো এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। কারণ তার একমাত্র উৎস ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, তিনি বলেছিলেন এরশাদ একটি বেআইনি লোক, তার ক্ষমতা গ্রহণের কোনো অধিকার ছিল না। উনার মতো অনেকে বললেও পরে পালিয়ে গেছেন বা নির্বাচনে গেছেন; কিন্তু বেগম জিয়া যাননি। তিনি বলেছিলেন, এরশাদের অধীনে নির্বাচন হবে প্রতারণার নির্বাচন, যা প্রমাণিত হয়েছে। এই যে কথা এবং কাজের অসাধারণ মিল, এসব কারণেই জনগণ তাকে ভোলেনি এবং ১৯৯১ সালের অবাধ নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করেছে।

ফারাক্কা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে খালেদা জিয়ার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি ফারাক্কার পানির ন্যায্য পাওনার বিষয়টি জাতিসংঘে নিয়ে গেছেন। কার কত অ্যাটম বোম বা মিসাইল আছে তা তিনি পাত্তা দেননি। একইভাবে ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গাদের তাড়ানো হলে তিনি হোয়াইট হাউজে গিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরাম গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার প্রথম আমলে ২৯ শতাংশ নারী তৈরি পোশাক শিল্পে নিয়োজিত হয়। ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা তিনি শুরু করেছিলেন এবং বিএ পর্যন্ত করার কথা দিয়েছিলেন।

তারেক রহমানের ১৮০ দিন

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আজ তার সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন। তিনি মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। গত ১৮০ দিনে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডের ঘোষণা দিয়েছেন। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার খাল খনন এবং ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কাজ শুরু করেছেন।

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রদের ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা দেওয়া হচ্ছে। ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি এবং শিক্ষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে ট্যাব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার আইনি লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ম্যাডামকে আমরা বলতাম মাদরাসা কোর্ট একটি ক্যাঙ্গারু কোর্ট, আন্দোলনে যাই। কিন্তু তিনি বলতেন— আন্দোলন চলুক, তবে আমি আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত দেখে ছাড়ব। জেলখানাতেও তাকে টলানো যায়নি। তিনি বীরদর্পী হিসেবে হিমালয়ের মতো অটুট থেকেছেন, শেখ হাসিনাকে কোনো স্বীকৃতি দেননি।

সবশেষে নেতাকর্মীদের দুর্নীতির আশ্রয় না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন চেষ্টা করেও যাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে পারেনি, সেই দেশপ্রেমের পরাকাষ্ঠা অনুসরণ করলে আমরা সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী হতে পারব। আমরা যদি নির্ভয় গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে পারি, তবেই তাকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।

মিলাদ মাহফিলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী,  জাতীয়বাদী আইনজীবী সমিতির নেতা গাজী তৌহিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম সজলসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে বেগম খালেদা জিয়া তার পরিবারের মৃত ব্যক্তি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শহীদ নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে দুই বছর সময় লাগতে পারে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে দুই বছর সময় লাগতে পারে: অর্থমন্ত্রী

দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। গ্যাস অনুসন্ধান ও নতুন অবকাঠামো তৈরিতেও পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন। তাই দ্রুত সংকট সমাধানের কোনো ‘জাদুকরী’ সমাধান সরকারের হাতে নেই।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ‘নীতি সংস্কার ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে— ব্যবসায়ীদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের হাতে তো কোনো জাদু নেই যে, আমরা হঠাৎ করে গ্যাস ফিরিয়ে আনব।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় দেশে গ্যাস অনুসন্ধান করা হয়নি। এখন অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায়ও সর্বনিম্ন দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ছাড়া অর্থনীতি এগোতে পারে না। সম্ভাব্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া যায়, আমরা দ্রুত সেসব নিচ্ছি। আগামী দুই বছর আমাদের সাবধান থাকতে হবে।

এলএনজি টার্মিনাল, কয়লা ও সৌরবিদ্যুৎ

গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও স্থলভাগে গ্যাস সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এসব বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তৈরি করতেও দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে। ফলে চাইলেই রাতারাতি গ্যাসের সংকট দূর করা সম্ভব নয়।

জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে গ্যাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও কয়লা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান আমির খসরু। তিনি বলেন, দেশের কোথায় কী ধরনের জ্বালানি কত পরিমাণে প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফুলবাড়ীসহ অন্যান্য এলাকায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকলেও সঞ্চালনব্যবস্থা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যার সমাধানেও কাজ চলছে।

দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি নীতি

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় একটি পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করছে সরকার। আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে এই নীতি প্রকাশ করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, খণ্ড খণ্ড বা আংশিক তথ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই জ্বালানি খাতের সামগ্রিক পরিকল্পনা একটি পূর্ণাঙ্গ নীতির মাধ্যমে জানানো হবে। এতে কত সময় লাগবে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ স্পষ্ট ধারণা পাবেন।

জ্বালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাজস্ব আদায়ে পরিবর্তন

রাজস্ব খাতের সংস্কারের পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগ করার মাধ্যমে কর নীতি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের কাজ আলাদা করা হবে।

আমির খসরু বলেন, কর নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি গ্রুপের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে করব্যবস্থা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার দিকে এগোচ্ছে সরকার। এর ফলে কর রিটার্ন দাখিল, রিফান্ডসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট হারে কর আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য একটি তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল সভাপতিত্ব করেন। ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুৎ, রাজস্ব, ব্যাংক ও ব্যবসার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, শুধু চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করাই নয়, ব্যবসায়ীরা সমস্যার সমাধানের অংশ হতে চান। ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

১৭ বছরের আন্দোলনে যারা মাঠে ছিল না, তারাই এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
১৭ বছরের আন্দোলনে যারা মাঠে ছিল না, তারাই এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

দেশ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে ‘বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারীদের’ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যারা বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিল না, তারাই এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং সংস্কারের বড় বড় কথা বলছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ, মেধাবী শিক্ষার্থী, অসুস্থ, দুস্থ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রতিনিধিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারী আছে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে, তাদের ভূমিকা কী ছিল। ’৭১, ’৮৬ কিংবা ’৯৬ সালে তারা কী করেছে।

বিগত ১৭ বছরের জনগণের আন্দোলনে তাদের রাজপথে দেখা যায়নি। গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে বিএনপি ও তার মিত্ররা। আর এখন তারা সংস্কারের কথা বলছে। অথচ দেশে সবচেয়ে আগে সংস্কারের প্রস্তাব বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই ২০২২ সালে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় কান দেওয়া যাবে না। তারা বিভ্রান্ত করতে এলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, গ্রামের মানুষকে যাতে সামান্য অসুখেই জেলা শহর বা ঢাকায় ছুটতে না হয়, সেজন্য বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে-আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫৫৩টি উপজেলার প্রতিটি ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে।

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সিলেবাস এমনভাবে তৈরি করতে চাই, যেন একজন শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণি পাস করার পরই আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। পড়ালেখার পাশাপাশি তারা যেন দুটি বিদেশি ভাষায় কথা বলতে পারে এবং যেকোনো একটি খেলা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পারদর্শী হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ আমরা আবার শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য, ক্রীড়াও যাতে একটি পেশা হতে পারে, সেভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলা।

তিনি জানান, সম্প্রতি সরকারের আয়োজনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে দেশব্যাপী ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গত চার বছর ধরে (২০২২ সালের পর থেকে) ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক অবসর ভাতা পাচ্ছিলেন না। স্বৈরাচারের আমলে সেই টাকা নয়-ছয় করে আত্মসাৎ করা হয়েছিল। আপনাদের নির্বাচিত বিএনপি সরকার গতকালই সেই শিক্ষকদের পেনশনের ব্যবস্থা করেছে এবং ভাতার বড় অংশ তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াতে না পারে। আল্লাহর রহমতে, অতীতের মতো এবার বাজেট দেওয়ার পর জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। জনগণের স্বস্তির কথা মাথায় রেখেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কৃষকদের সেচ সুবিধা ও গ্রামীণ মানুষের পানিসংকট দূর করতে খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে আগামী ২০ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করতে চাই।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, চীনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রামে অনেক নতুন কলকারখানা তৈরি হবে। সেখানে দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিএনপির রাজনীতি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি-এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কয়েকটি রাস্তা বা বিল্ডিং তৈরি করে আমরা বলতে চাই না যে দেশ বানিয়ে ফেলেছি। আমাদের রাজনীতি দেশের মানুষকে ঘিরে। সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ-এটাই আমাদের লক্ষ্য।

কালের আলো/এসআর/এএএন

গত ১৭ বছরে চিকিৎসা খাতে চরম লুটপাট হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
গত ১৭ বছরে চিকিৎসা খাতে চরম লুটপাট হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে চিকিৎসা খাতকে চরম অবহেলা ও লুটপাট করা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আগামী ৩ বছরের মধ্যে দেশের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট করা হবে’ বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চিকিৎসক সংকট রোধে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্য খাতকে গতিশীল করতে দেশে নতুন করে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল ও উপজেলা কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোগীদের খোঁজ-খবর নেন ও একজন গরিব রোগীকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেন। সে সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলে সমস্যার কথা জানতে চান।

তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় জানান, গ্রামে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের জন্য সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়া হয়েছে। আমরা সারাদেশে সে লক্ষ্যে কাজ করছি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ