খুঁজুন
                               
, ,
           

খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মারতে ফুড পয়জনিং করা হয়েছিল: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মারতে ফুড পয়জনিং করা হয়েছিল: রিজভী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে ‘ফুড পয়জনিং’ করে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একটি ‘অতি জরুরি ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন’ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, যে মানুষটি প্রতিটি মুহূর্তে স্বদেশ এবং দেশের জনগণের স্বার্থ নিয়ে ভেবেছেন, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১৯৮১ সালে বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিটা ক্ষণ তিনি মানুষের পক্ষে কথা বলে গেছেন। আর এই জন্য তাকে সইতে হয়েছে অশেষ গঞ্জনা, অপপ্রচার এবং মিথ্যা কলঙ্কলেপন।

সাবেক সরকারের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তার অসুস্থতাকে ফ্যাসিবাদী সরকার গ্রাহ্য করেনি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় যারা নিজেরা বন্দি হয়ে অসুস্থতার অজুহাতে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বা বিদেশে গেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্যে সেই সুযোগটুকুও জোটেনি। তার উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাই তারা করেনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা বারবার বলেছি যে, উনাকে তিলে তিলে শেষ করার জন্য ফুড পয়জনিং করা হয়েছে এবং এটা আসলে সত্য। বর্তমান সরকারের এ বিষয়ে একটি অতি জরুরি ও হাই পাওয়ারফুল তদন্ত কমিটি করা দরকার।

কারাগারে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, যে মানুষটি হেঁটে কারাগারের ভেতরে গেলেন, সেই মানুষটি জরাজীর্ণ অবস্থায়, অসুস্থতায় ধুঁকতে ধুঁকতে বের হলেন। এবং এই রোগে ধুঁকতে ধুঁকতেই গত বছর ৩০ ডিসেম্বর তার জীবনাবসান হলো।

বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্বের প্রভাব উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তিনি ঘরে বসে থাকলেও আমরা তার বিরাট প্রভাব অনুভব করতাম। আমরা তখন তোয়াক্কা করতাম না— কে হাসিনা, কে তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কি তার নির্যাতন, গ্রেফতার, মামলা বা রিমান্ড! আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র ফেরানো এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। কারণ তার একমাত্র উৎস ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, তিনি বলেছিলেন এরশাদ একটি বেআইনি লোক, তার ক্ষমতা গ্রহণের কোনো অধিকার ছিল না। উনার মতো অনেকে বললেও পরে পালিয়ে গেছেন বা নির্বাচনে গেছেন; কিন্তু বেগম জিয়া যাননি। তিনি বলেছিলেন, এরশাদের অধীনে নির্বাচন হবে প্রতারণার নির্বাচন, যা প্রমাণিত হয়েছে। এই যে কথা এবং কাজের অসাধারণ মিল, এসব কারণেই জনগণ তাকে ভোলেনি এবং ১৯৯১ সালের অবাধ নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করেছে।

ফারাক্কা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে খালেদা জিয়ার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি ফারাক্কার পানির ন্যায্য পাওনার বিষয়টি জাতিসংঘে নিয়ে গেছেন। কার কত অ্যাটম বোম বা মিসাইল আছে তা তিনি পাত্তা দেননি। একইভাবে ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গাদের তাড়ানো হলে তিনি হোয়াইট হাউজে গিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরাম গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার প্রথম আমলে ২৯ শতাংশ নারী তৈরি পোশাক শিল্পে নিয়োজিত হয়। ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা তিনি শুরু করেছিলেন এবং বিএ পর্যন্ত করার কথা দিয়েছিলেন।

তারেক রহমানের ১৮০ দিন

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আজ তার সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন। তিনি মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। গত ১৮০ দিনে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডের ঘোষণা দিয়েছেন। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার খাল খনন এবং ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কাজ শুরু করেছেন।

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রদের ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা দেওয়া হচ্ছে। ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি এবং শিক্ষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে ট্যাব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার আইনি লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ম্যাডামকে আমরা বলতাম মাদরাসা কোর্ট একটি ক্যাঙ্গারু কোর্ট, আন্দোলনে যাই। কিন্তু তিনি বলতেন— আন্দোলন চলুক, তবে আমি আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত দেখে ছাড়ব। জেলখানাতেও তাকে টলানো যায়নি। তিনি বীরদর্পী হিসেবে হিমালয়ের মতো অটুট থেকেছেন, শেখ হাসিনাকে কোনো স্বীকৃতি দেননি।

সবশেষে নেতাকর্মীদের দুর্নীতির আশ্রয় না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন চেষ্টা করেও যাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে পারেনি, সেই দেশপ্রেমের পরাকাষ্ঠা অনুসরণ করলে আমরা সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী হতে পারব। আমরা যদি নির্ভয় গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে পারি, তবেই তাকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।

মিলাদ মাহফিলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী,  জাতীয়বাদী আইনজীবী সমিতির নেতা গাজী তৌহিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম সজলসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে বেগম খালেদা জিয়া তার পরিবারের মৃত ব্যক্তি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শহীদ নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণ বন্ধ বা উচ্ছেদ না করে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এনে সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সামাদ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম আবু বকর বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ বা উচ্ছেদের পরিবর্তে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ, বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, নির্ধারিত রুট ও সড়ক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একদিকে যাত্রী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে এ খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত চালক, মালিক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ও অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

১০ দফা দাবি

সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আধুনিকায়ন ও ফিটনেস সনদ প্রদান। পাশাপাশি বাণিজ্যিক লাইসেন্স ও জোনভিত্তিক রুট পারমিট চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

চালকদের ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি অটোরিকশা গ্যারেজে ডি-৩ ক্যাটাগরির বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া গ্যারেজ থেকে সরকারের প্রাপ্য বিদ্যুৎ বিল ও রাজস্ব যথাযথভাবে আদায়, সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কে অটোরিকশার জন্য পৃথক ‘লো-স্পিড লেন’ এবং জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ঢাকার প্রধান সড়কে পৃথক লেন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান ও ফিডার সড়ক বিবেচনায় বৈজ্ঞানিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ অটোরিকশার সিলিং নির্ধারণ, দেশের পরিবহন ব্যবস্থার আইনি কাঠামোর মধ্যে এ যানবাহনকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নীতিনির্ধারণে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তরের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, অটোরিকশা খাতের সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধু নিষেধাজ্ঞা বা উচ্ছেদের মাধ্যমে সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক, নিরাপদ, নিবন্ধিত ও আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে এ খাতকে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

তারা বলেন, অটোরিকশা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্রেকিং সিস্টেম ও অনিরাপদ বডি স্ট্রাকচারের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। এ কারণে বুয়েট অনুমোদিত আধুনিক ব্রেকিং সিস্টেম ও নিরাপদ ডিজাইনের ই-রিকশা দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদনের সুযোগ দিতে হবে।

একই সঙ্গে পুরোনো অটোরিকশাগুলো আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য তিন থেকে পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার দাবি জানান তারা।

নেতারা বলেন, ১০ দফা দাবি নিয়ে চালক-মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আইন মেনে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন ও শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

বিদেশে শাখা ক্যাম্পাস খুলতে পারবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়: ইউজিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বিদেশে শাখা ক্যাম্পাস খুলতে পারবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়: ইউজিসি

দেশের যোগ্য ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদেশে শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার সুযোগ দিতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ সুযোগ তৈরিসহ আন্তঃদেশীয় উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন নীতিমালা’ প্রণয়ন করছে সংস্থাটি। একই নীতিমালার আওতায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও মানসম্পন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও বাংলাদেশে শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধিদল ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এসব কথা জানান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ এবং বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ততা তৈরির লক্ষ্যেই ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন নীতিমালা করা হচ্ছে। এর আওতায় বাংলাদেশের যোগ্য ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কার্যক্রম দেশের বাইরে সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা হবে।

বাংলাদেশের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালয়েশিয়ায় শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের ক্ষেত্রে ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির সহযোগিতাও চান ইউজিসি চেয়ারম্যান।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারে, সে বিষয়ে ইউজিসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে চায়।’

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও মানসম্মত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাংলাদেশে শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার অনুমোদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার গুণগত মান, একাডেমিক পরিবেশ, সুশাসন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ শাখাকে মূল ক্যাম্পাসের মতোই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।

দেশের উচ্চশিক্ষায় ভবিষ্যৎমুখী জ্ঞান ও দক্ষতার চাহিদার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, আধুনিক ও চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে নতুন একাডেমিক প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, রোবোটিকস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ উদীয়মান খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

দেশের প্রয়োজন ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা বিবেচনায় যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিগগির পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে বলেও জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।

বিশ্বের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, স্কলারশিপ, ইন্টার্নশিপ, যৌথ গবেষণা, যৌথ ডিগ্রিসহ বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিমণ্ডলে আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে।

সাক্ষাতে ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ জন্য নতুন একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিচালনা এবং পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার অনুমতি চান তারা। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ, যৌথ ডিগ্রি ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার আগ্রহ জানান।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যৌক্তিক টিউশন ফি নির্ধারণ ও টিউশন ফি ওয়েভারের প্রস্তাবও দেয় ইউসিএসআই। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও ইউজিসির সহযোগিতা চায় প্রতিনিধিদলটি।

এ ছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষকদের জন্য ইউজিসির বিদেশি স্কলারশিপ কার্যক্রমের সঙ্গে ইউসিএসআইকে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এ কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষকদের টিউশন ফি ওয়েভারের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বৈঠকে আগামী ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমেরিটাস দাতুক ড. সিতি হামিসা বিনতে তাপসিরের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল সাক্ষাতে অংশ নেয়। এ সময় ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, আইসিসি বিভাগের পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া, ইনসাইট ইনস্টিটিউট অব লার্নিংয়ের চেয়ারম্যান ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আরিফুল বারী মজুমদার এবং শাখা ক্যাম্পাসটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কুশাইরি বিন মোহাম্মদ রাজউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকার বনানীতে প্রতিষ্ঠানটির একটি শাখা ক্যাম্পাস রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ-কামরুলের মাথায় আঘাত, দাবি পুলিশের

নিজস্ব/কুমিল্লা সংবাদদাতা:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ-কামরুলের মাথায় আঘাত, দাবি পুলিশের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

  • মোবাইল ছিনিয়ে নিতে নির্জন বনে ডেকে নেওয়া
  • ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে লাঠির আঘাত
  • তিনজন গ্রেপ্তার, আরও একজন আটক

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমকে হত্যার আগে তার মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তার সঙ্গে অভিযুক্তদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে সাইফুল ইসলাম তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিসিটিভিতে তুহিন, সেখান থেকেই তদন্তের সূত্র
পুলিশ সুপার জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে সাইফুল ইসলাম তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা একটি নির্জন জঙ্গলের দিকে যান। পরে ওই এলাকা থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তুহিনের তথ্যেই ফাহাদ, ফাহাদের পর কামরুল
পুলিশ জানায়, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ নামে একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানান। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, তুহিন প্রথমে তিনটি ভিন্ন স্থানে আইফোনটি থাকার কথা জানান। পরে সঠিক তথ্য দিলে তার বাসার তোশকের নিচ থেকে অপ্রতিমের মোবাইলফোনটি উদ্ধার করা হয়।

বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে হত্যাকাণ্ড
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতিমের মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় অপ্রতিম বাধা দিলে তুহিনের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। এরপর ফাহাদ ও কামরুলও তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই অপ্রতিমের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

লাশ ফেলে মোবাইল নিয়ে চলে যায় তিনজন
পুলিশের দাবি, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মোবাইলফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৫)। এ ছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

অন্য কেউ জড়িত কি না, তদন্ত চলছে
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এম/এএইচ