খুঁজুন
                               
, ,
           

কক্সবাজারে একের পর এক উন্নয়ন ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার কড়া জবাব

বিশেষ সংবাদদাতা/কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারে একের পর এক উন্নয়ন ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার কড়া জবাব

‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ স্লোগানে স্লোগানে দিনমান মুখর ছিল গোটা কক্সবাজার। শনিবার (১৩ জুন) বিমানবন্দরে অবতরণের পর থেকে সড়ক পথে নিজেই গাড়ি চালিয়ে একেকটি কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পথে পথে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল, আনন্দ আর উদ্দীপনা। বাবার দেখানো পথেই ৪৮ বছর পর কোদাল দিয়ে ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন থেকে শুরু করে ব্যস্ত কর্মসূচিতে ছিল ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন, মাছুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া উপজেলায় ২০২৪ সালের জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ মো. ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎসহ পথসভা ও জনসভা। জনসভাগুলোতে নানা বয়সী হাজারো মানুষের ভিড়। মিছিল আর জনস্রোতে কানায় কানায় পূর্ণ জনসভা। একের পর এক উন্নয়ন ঘোষণায় উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা কক্সবাজারবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন পূরণের বার্তা হিসেবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধী দলের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন। দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিরোধী দল বলছে যে এই গণবিরোধী বাজেট তারা মানে না। উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?’ সন্ধ্যায় সরকারপ্রধান স্থানীয় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৪ লেন থেকে ৬ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কক্সবাজার সফর
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কক্সবাজার সফর করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিন পর তার এই সফর ঘিরে চকরিয়া-পেকুয়া ও কক্সবাজার জুড়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে বৃষ্টিস্নাত কক্সবাজারে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল থেকেই মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছিল জেলাজুড়ে। সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাশে বসিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এমন ব্যতিক্রমী উপস্থিতি বিমানবন্দর ও আশপাশে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। গাড়িতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

পথে পথে নেতাকর্মীদের ঢল, বাবার স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল নামে। কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। দীর্ঘ দুই দশক পর তারেক রহমানের এই সফর ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এক পলক দেখার জন্য ভোর থেকেই বৃষ্টিস্নাত বিমানবন্দরের অবস্থান নেয় নেতাকর্মীরা। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কক্সবাজার বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা।

সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে সড়কপথে তিনি সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন। বৃষ্টির মধ্যেই কোদাল দিয়ে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজ শুরু করেন। পরে তিনি খালের পাড়ে একটি খেজুরগাছের চারা লাগান। পুনঃখনন উপলক্ষে খালের পাড়ে পাতলী গ্রামবাসীরা জড়ো হন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখতে সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যেই অপেক্ষায় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এসে পৌঁছালে খালের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামবাসী তাঁকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তাঁরা ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ বলে স্লোগান দেন।

খাল খননের সময় উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

পাতলী খাল ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পিএমখালীতে এসে ৪৮ বছর আগে ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে কোদাল দিয়ে পাতলী খাল খননকাজের সূচনা করেছিলেন। সেই সময়ে রাষ্ট্রপতি খালের পারে একটি খেজুরগাছও রোপণ করেন। গাছটি এখনো আছে। এই খাল পুনঃখননে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে বলে জানান পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় প্রকৌশলীরা।

বিরোধী দলের উদ্দেশ্য দেশের মধ্যে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা
‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য। সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’ এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে দেশের জন্য কাজ করব— এমন প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। পাতলী খাল পুনঃখনন শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।’

প্রধানমন্ত্রীর দাবি, খালটি পুনঃখনন হলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তারেক রহমান উল্লেখ করেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের নগদ আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে। ‘বিএনপির রাজনীতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে’, যোগ করেন তিনি।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, নারী শিক্ষার প্রসারে উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরাও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি মন্তব্য করেন, ‘গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে সহজে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেজন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।’

এবারের বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি
পথসভায় প্রধানমন্ত্রী জানান, হার্টের রিং এবং কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও ওষুধের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খবরের কাগজগুলোয় দেখলাম, এবারের বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি। কারণ, চাল, ডাল, তেল, নুনসহ সকল প্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর যে ট্যাক্স ছিল, বর্তমান সরকার ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে তা তুলে নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একটাই, দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, দেশের মধ্যে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’ এ দেশ আমাদের সবার মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা। এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। সে জন্যই আমরা বলি এই দেশকে গড়লে আমরাই ভালো থাকব, আমাদের সন্তানেরা শান্তিতে থাকতে পারবে।’ বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। বিএনপি সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়।

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মাবুদ। এতে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল।

আরেকটি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ, স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরে দেখেন সাফারি পার্ক
এরপর সেখান থেকে আবারও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় পুরো সড়কজুড়ে হাজার হাজার স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। সাফারি পার্কের মূল ফটকের সামনে মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি নাগলিঙ্গম গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি সাফারি পার্কের স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্যে দিয়ে আরেকটি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের দ্বার উন্মোচন করেন। একইসঙ্গে স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও। স্ত্রীকে নিয়ে সাফারি পার্ক ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য মন্ত্রী-সংসদ সদস্যরা ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।

দুপুর দেড়টায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘২৫ বছর পূর্বে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া পেকুয়া উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আজ তারই দল বিএনপি সরকার ফের এই পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে একটি কথা বারবার প্রমাণিত হয় যে বিএনপি যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে, তখন জনগণের জন্য কাজ করে, দেশের কল্যাণে কাজ করে।’ প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকুক আর নাই থাকুক, বিএনপির প্রধান বিষয় দেশ ও মানুষের স্বার্থ। আর এটিই বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য ও প্রতিজ্ঞা।’ এ সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ ওয়াসিমের গ্রামের বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী, ২০ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র প্রদান
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন মো. ওয়াসিম। তিনি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন। ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম। পাঁচ সন্তানের মধ্যে ওয়াসিম ছিল দ্বিতীয়। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রথম শহীদ মো. ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন বিকেলে নিজে গাড়ি চালিয়ে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় শহীদ মো. ওয়াসিমের গ্রামের বাড়িতে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও তার সহধর্মিণী হাসিনা আহমেদ। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, কবর জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী শহীদ ওয়াসিমের বাবা-মা ও ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানান। পরে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৪ লেন থেকে ৬ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৪ লেন থেকে ৬ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে লবণচাষিদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার শিগগিরই একটি নির্ধারিত মূল্য ঘোষণা করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তারেক রহমান বলেছেন, ‘২৫ বছর আগে আমি যে কক্সবাজার দেখে গিয়েছিলাম, আজও সেই সড়কের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। অথচ কক্সবাজারের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হবে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে এই অঞ্চল। তাই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে অন্তত ৬ লেনে উন্নীত করা সময়ের দাবি।’

তিনি জানান, ‘মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে পর্যটন, বাণিজ্য ও শিল্প খাতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।’ লবণচাষিদের দুর্দশার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘বছরের পর বছর পরিশ্রম করেও অনেক সময় লবণচাষিরা ন্যায্য দাম পান না। খুব শিগগিরই একটি মূল্য নির্ধারণ করে দেব, যাতে কোনো কৃষক লোকসানের শিকার না হন।’

‘দেশের উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কৃষি ও লবণ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে’, যোগ করেন তিনি। সম্প্রতি ঘোষিত জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘দুই দিন আগে আমরা যে বাজেট উত্থাপন করেছি, তা দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিশেষ উদ্যোগ রাখা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যারা এই বাজেটের বিরোধিতা করছে, তারা মূলত বেকারদের কর্মসংস্থানের বিরোধিতা করছে। যারা সিগারেট ও মদের ওপর কর বৃদ্ধিরও বিরোধিতা করে, তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না।’ তারেক রহমানের ভাষায়, এটি জনগণের বাজেট, উন্নয়নের বাজেট এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দায়িত্বশীল বাজেট।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী আরও ঘোষণা দেন, আগামী বাজেটে দেশের ৪২ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। তার মতে, কৃষক, শ্রমিক, নিম্নআয়ের মানুষ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আমরা চাই রাষ্ট্রের সুবিধা সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাক। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসা সুবিধা পাবে। জেলা শহরের হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তারেক রহমান বললেন, এসব উদ্যোগ কোনো বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নয়। এগুলো আমাদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ। আমি বলেছিলাম—‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। আজ আমরা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। সভায় বক্তব্য দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করা ছিল নির্বাচনী অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণায় কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথ সুগম হলো।’ চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এমপি বক্তব্য দেন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এক নজরে দেখার জন্য কক্সবাজারের রামুর প্রত্যন্ত গ্রাম গর্জনিয়া থেকে অনেক দূরের চকরিয়ায় এসে বৃষ্টি-গরম উপেক্ষা করে সকাল থেকেই অপেক্ষা করছিলেন বৃদ্ধ আবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘ছোট বেলায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দেখেছি। তিনি দেশের জন্য অনেক কিছু করেছিলেন। এরপর তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলও পেয়েছি। এখন তাদের ছেলে তারেক রহমান সরকার প্রধান। আমরা চাই, বাবা-মায়ের দেখানো পথে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাক প্রধানমন্ত্রী।’ শুধু আবুল হোসেনই নয়, শনিবার (১৩ জুন) চকরিয়ার বাস টার্মিনাল এলাকায় উপজেলা বিএনপি আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী জনসভায় ভিড় জমানো নানা বয়সের হাজারো মানুষের প্রত্যাশাও ছিল এক এবং অভিন্ন।

কালের আলো/জেএন/এমকে

ব্যাংকের প্রযুক্তি বদল, ভোগান্তির ঝুঁকিতে কোটি গ্রাহক

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
ব্যাংকের প্রযুক্তি বদল, ভোগান্তির ঝুঁকিতে কোটি গ্রাহক

একসঙ্গে দেশের ৩০টি ব্যাংকের প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ—আর তাতেই ছয় দিনের জন্য সীমিত হচ্ছে কার্ড, এটিএম, পণ্য বিক্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বন্ধ বা সীমিত থাকছে। ব্যাংকগুলোর দাবি, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা স্থানান্তরসহ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়াতেই এই উদ্যোগ। কিন্তু এত বড় পরিসরে গ্রাহকসেবা ব্যাহত হওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে না জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়েছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ফলে প্রযুক্তি আধুনিকায়নের প্রয়োজনের পাশাপাশি সামনে এসেছে ব্যাংকগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশ্ন।

  • একসঙ্গে ৩০ ব্যাংকের সেবা সীমিত
  • নিরাপত্তার উদ্যোগে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ
  • আগাম না জানানোয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষোভ

একসঙ্গে অর্ধেক ব্যাংক
দেশে ৬০টির বেশি ব্যাংকের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৩০টি ব্যাংক এবার প্রযুক্তি ব্যবস্থা উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে গেছে। অগ্রণী, জনতা, সোনালী, রূপালী, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বেসিক, ব্যাংক এশিয়া, আইএফআইসি, যমুনা, মেঘনা, মার্কেন্টাইল, এনসিসি, ন্যাশনাল, ট্রাস্ট, উত্তরাসহ বিভিন্ন ব্যাংক রয়েছে এই তালিকায়। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের বিজ্ঞপ্তি ও মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে সাময়িক সেবা বিঘ্নের তথ্য জানিয়েছে। তবে সব ব্যাংকে একই ধরনের সেবা বন্ধ থাকছে না।

একসঙ্গে দেশের ৩০টি ব্যাংকের প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ—আর তাতেই ছয় দিনের জন্য সীমিত হচ্ছে কার্ড, এটিএম, পণ্য বিক্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বন্ধ বা সীমিত থাকছে। ব্যাংকগুলোর দাবি, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা স্থানান্তরসহ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়াতেই এই উদ্যোগ। কিন্তু এত বড় পরিসরে গ্রাহকসেবা ব্যাহত হওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে না জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়েছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ফলে প্রযুক্তি আধুনিকায়নের প্রয়োজনের পাশাপাশি সামনে এসেছে ব্যাংকগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশ্ন।

একসঙ্গে অর্ধেক ব্যাংক
দেশে ৬০টির বেশি ব্যাংকের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৩০টি ব্যাংক এবার প্রযুক্তি ব্যবস্থা উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে গেছে। অগ্রণী, জনতা, সোনালী, রূপালী, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বেসিক, ব্যাংক এশিয়া, আইএফআইসি, যমুনা, মেঘনা, মার্কেন্টাইল, এনসিসি, ন্যাশনাল, ট্রাস্ট, উত্তরাসহ বিভিন্ন ব্যাংক রয়েছে এই তালিকায়। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের বিজ্ঞপ্তি ও মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে সাময়িক সেবা বিঘ্নের তথ্য জানিয়েছে। তবে সব ব্যাংকে একই ধরনের সেবা বন্ধ থাকছে না।

সব সেবা কি বন্ধ?
কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা স্থানান্তরের কারণে কোনো কোনো ব্যাংকের ঋণ কার্ড, হিসাব কার্ড ও আগাম পরিশোধ কার্ড, এটিএম, নগদ পুনর্ব্যবহার যন্ত্র, পণ্য বিক্রয়কেন্দ্র, আন্তঃব্যাংক তহবিল স্থানান্তর ও কিউআর লেনদেন সাময়িক বন্ধ রয়েছে। মধুমতি ব্যাংক জানিয়েছে, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট সেবা বন্ধ থাকলেও হিসাব কার্ড, অন্য ব্যাংকের এটিএম ও পণ্য বিক্রয়কেন্দ্র, বাংলা কিউআর এবং বিকাশ, নগদ ও উপায়ের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর চালু থাকবে। ফলে গ্রাহকদের নিজ নিজ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি দেখে বিকল্প লেনদেনের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রযুক্তি নিরাপদ করতেই রক্ষণাবেক্ষণ
ব্যাংকারদের মতে, ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়ায় প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিয়মিত বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। ব্যাংকের মূল লেনদেন ব্যবস্থা, কার্ড নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমের আধুনিকায়ন এখন ব্যাংকিং কার্যক্রমেরই অংশ।
তাদের ভাষ্য, কয়েক দিনের সাময়িক অসুবিধার বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। তবে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক ব্যাংকের সেবা সীমিত হওয়ায় গ্রাহক ভোগান্তির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

ক্ষোভের কেন্দ্রে সমন্বয়

প্রযুক্তি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপত্তি নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের। আপত্তি সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা স্থানান্তরের প্রভাবে ৩০টি ব্যাংকের কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলো নিজেদের উদ্যোগে নিয়েছে। বিষয়টি আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানো হয়নি।

এতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। আরিফ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, এত গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে এককভাবে নেওয়াকে গভর্নর গর্হিত হিসেবে দেখছেন।

নিরাপত্তা বাড়াতে গিয়ে ভোগান্তি

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিস্তারের সঙ্গে প্রযুক্তি অবকাঠামো আধুনিকায়ন অপরিহার্য। কিন্তু একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের সেবা সীমিত হলে এটিএম, কার্ড ও পণ্য বিক্রয়কেন্দ্রনির্ভর গ্রাহক এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লেনদেনে চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে করা, আগাম গ্রাহককে জানানো এবং বিকল্প লেনদেনব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আগে থেকেই অবহিত করলে সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এর প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া সম্ভব।

প্রযুক্তির পাশাপাশি দরকার সমন্বয়

ব্যাংকিং খাত যত বেশি ডিজিটাল হবে, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন ততই বাড়বে। তাই রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। বরং প্রশ্ন হলো—কীভাবে এমন কাজ করা যায়, যাতে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহকের দৈনন্দিন লেনদেনও যতটা সম্ভব সচল থাকে। এবারের ঘটনা সেই জায়গাতেই বড় প্রশ্ন তুলেছে।

কালের আলো/এএএন/এমকে

মাটির পুতুলে প্রাণ, পালপাড়ায় উৎসবের আমেজ

গাইবান্ধা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
মাটির পুতুলে প্রাণ, পালপাড়ায় উৎসবের আমেজ

শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, নদীর পাড়ে কাশফুলের দোলা। এরই মধ্যে শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে গাইবান্ধার গ্রাম-গঞ্জে। জেলার সাত উপজেলায় এবার ৬২৯টি মন্দির ও মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। মহালয়ার পর থেকেই মণ্ডপগুলো ঘিরে শুরু হয়েছে মেলার প্রস্তুতি। আর এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ তৈরি করতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন বাদিয়াখালী ইউনিয়নের পালপাড়া ও শহরের কুমারপাড়ার মৃৎশিল্পীরা।

পালপাড়ায় ঢুকতেই পাওয়া যায় কাঁচা মাটির সোঁদা গন্ধ। উঠোনজুড়ে সারি সারি হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, পাখি ও পুতুল রোদে শুকানো হচ্ছে। কারিগরদের নিপুণ হাতে রূপহীন মাটির পিণ্ড ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে রঙিন খেলনায়।

উৎসবের কয়েক মাস আগে থেকেই নদী ও বিলের তলদেশ থেকে সংগ্রহ করা হয় বিশেষ এঁটেল মাটি। শুকিয়ে গুঁড়ো করে পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর পা দিয়ে ছেনে নরম ও মসৃণ করা হয়। এরপর ছাঁচে ফেলে তৈরি করা হয় নানা ধরনের পণ্য। রোদে শুকানোর পর ইট ও তুষ দিয়ে তৈরি ভাটায় উচ্চ তাপে পোড়ানো হয় সেগুলো।

সবশেষে শুরু হয় রং করার কাজ। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ ও সাদা রঙের তুলির আঁচড়ে মাটির তৈরি খেলনায় প্রাণ সঞ্চার করেন কারিগর ও তাঁদের পরিবারের নারীরা।

এবার গাইবান্ধার মৃৎশিল্পীরা প্রায় ৫০ ধরনের পণ্য তৈরি করছেন। এর মধ্যে রয়েছে মাটির ব্যাংক, হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, হাতি, ঘোড়া, পাখি, ময়ূর, বাঘ এবং বিভিন্ন ফলের প্রতিকৃতি।

বাদিয়াখালী পালপাড়ার কারিগর যোগেন পাল প্রায় ৪০ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। তার পূর্বপুরুষরা শত বছর ধরে মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত। ছোটবেলা থেকেই বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছেন তিনি। এখন স্ত্রী সবিতা পালকে সঙ্গে নিয়ে দিনরাত পণ্য পোড়ানো ও রং করার কাজে ব্যস্ত।

সবিতা পাল বলেন, উৎসবের সময় কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। মণ্ডপসংলগ্ন মেলায় পসরা সাজাতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ পণ্য তৈরি করতে হয়। ফলে পূজার আগে দম ফেলারও সময় থাকে না।

পূজার মৌসুমটি এসব প্রান্তিক শিল্পীর কাছে বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। উৎসবের আগেই বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতা ও পাইকাররা পালপাড়ায় এসে পণ্যের বায়না দেন। একসঙ্গে বড় পরিমাণ পণ্য বিক্রি হওয়ায় এ সময় কিছুটা এককালীন আয় হয়। তবে অনেকে মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে নিজেরাই মেলায় অস্থায়ী দোকান দিয়ে পণ্য বিক্রি করেন।

যোগেন পাল জানান, খুচরা বিক্রি করেও প্রতি পিস খেলনায় গড়ে প্রায় দুই টাকা লাভ থাকে। বছরের অন্য সময়ে তারা দইয়ের সরা, পাতিল, ফুলের টবসহ বিভিন্ন মাটির পণ্য তৈরি করে সংসার চালান। দুর্গাপূজা ও কালীপূজার মৌসুমে বাড়তি যে আয় হয়, তা দিয়ে বছরের পরবর্তী কয়েক মাসের খরচ মেটাতে হয়।

তবে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প এখন নানা সংকটে। বাজারে প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের সস্তা ও টেকসই খেলনার দাপটে মাটির খেলনার চাহিদা কমেছে। শিশুদের মধ্যেও প্লাস্টিকের খেলনার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। এর সঙ্গে মাটি, তুষ, কাঠ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বাড়েনি পণ্যের দাম।

ন্যায্য পারিশ্রমিক না পাওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে যাচ্ছেন। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের পালপাড়াতেও দেখা গেছে একই চিত্র। পুরুষরা পর্যাপ্ত মুনাফা না পেয়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় নারীরাই কোনোভাবে এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

গাইবান্ধা জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজন প্রসাদ বলেন, মৃৎশিল্প গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বৈশাখী মেলা, দুর্গোৎসবসহ বিভিন্ন পার্বণে মাটির তৈরি পণ্যের আবেদন এখনো রয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষক তপন রায় বলেন, মেলায় আধুনিক পণ্য ও প্লাস্টিকের খেলনার পাশাপাশি মাটির খেলনার স্টলও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। এসব খেলনার মাধ্যমে শিশুরা দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হয়। একই সঙ্গে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে মাটির পণ্য পরিবেশবান্ধব।

শত বছরের পুরোনো এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সহজ শর্তে স্বল্প সুদের ঋণ, আধুনিক নকশা তৈরির প্রশিক্ষণ, উন্নত বিপণনব্যবস্থা এবং জাতীয় পর্যায়ের মেলা ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সরাসরি বিক্রির সুযোগ তৈরি করা গেলে কারিগররা লাভবান হতে পারেন।

বিসিক গাইবান্ধার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রান্তিক মৃৎশিল্পীরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আবেদন করলে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী খেলনার সঙ্গে টেরাকোটা, পোড়ামাটির গয়না ও গৃহসজ্জার সামগ্রী তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে নতুন বাজার তৈরি হতে পারে।

মণ্ডপে দেবীর প্রতিমা আর মেলার মাঠে রঙিন খেলনার সারিতে মিশে আছে গাইবান্ধার পালপাড়ার মানুষের শ্রম ও স্বপ্ন। যোগেন, সবিতা ও তাঁদের মতো কারিগরদের হাত ধরে টিকে থাকা এই লোকঐতিহ্য সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ফিরে পেতে পারে হারানো গৌরব। মাটির এই শিল্প বাঁচানো মানে শুধু কিছু কারিগরের জীবিকা রক্ষা নয়, বাংলার শত বছরের সংস্কৃতিকেও বাঁচিয়ে রাখা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শিক্ষা ক্যাডারে বদলি-পদায়ন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
শিক্ষা ক্যাডারে বদলি-পদায়ন স্থগিত

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত নতুন কোনো কার্যক্রম আপাতত পরিচালিত হবে না।

সোমবার (৫ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি বা নতুন কর্মস্থলে পদায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

কবে শুরু হবে, জানানো হবে পরে

বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম পুনরায় কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা জারি করার পরই এ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে বর্তমানে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম স্থগিত থাকার মেয়াদ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা মানার আহ্বান

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিদ্ধান্তটি কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বদলি ও পদায়ন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্তের কারণে আপাতত সেই প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিরতি তৈরি হলো। তবে ঠিক কী কারণে এই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

পরবর্তী নির্দেশনায় বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

কালের আলো/এসএ