খুঁজুন
                               
, ,
           

অপরাধ তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা পেল এপিবিএন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
অপরাধ তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা পেল এপিবিএন

জাতীয় সংসদে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের পুরোনো অধ্যাদেশ বাতিল করে এপিবিএনের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা হলো। নতুন আইনে বাহিনীটির দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—প্রথমবারের মতো এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্পষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ন্যূনতম সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশনস অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালনা করতে পারবেন।

আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও মানব পাচার, ধর্ষণ, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ, গুম এবং জমি দখলের মতো গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে এপিবিএন সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের নির্ধারিত ভিআইপিদের নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বও বাহিনীটির ওপর থাকছে।

নতুন আইনে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন ও এয়ারপোর্ট ব্যাটালিয়নের মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে এপিবিএনের একক কাঠামোর অধীনে পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে।

তদন্তের প্রয়োজনে এপিবিএন নিজস্ব ডিটেনশন সেল, ব্যারাক ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে। পাশাপাশি বাহিনীর সদর দপ্তরে সাইবার সেল ও গবেষণা ইউনিট গড়ে তোলার বিধান রাখা হয়েছে।

এপিবিএন পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অ্যাডিশনাল আইজিপি) নেতৃত্বে পরিচালিত হবে এবং আইজিপির সার্বিক তদারকিতে থাকবে। প্রয়োজনে পুলিশ বাহিনীর বাইরে থেকেও আইনজীবী, মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও বিচারকদের মতো বিশেষজ্ঞদের চুক্তিভিত্তিক বা প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার পর সব সদস্যের জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এদিকে নতুন আইনে এপিবিএনের বিচারিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরোনো অধ্যাদেশের ‘পুলিশ-প্রধান আদালত’ ব্যবস্থার পরিবর্তে এপিবিএন বিশেষ ও আপিল আদালতে অসামরিক বিচার বিভাগের সদস্যদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত এপিবিএন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এবং বিশেষ এপিবিএন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আপিল আদালতে আবেদন করা যাবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

কালীগঞ্জের প্রকৃতিতে শীতের মিষ্টি আবেশ

গাজীপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
কালীগঞ্জের প্রকৃতিতে শীতের মিষ্টি আবেশ

ঋতু পরিবর্তনের স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় বদলে যেতে শুরু করেছে গাজীপুরের কালীগঞ্জের প্রকৃতি। ভোরের আকাশে হালকা কুয়াশা, ঘাসের ডগায় শিশিরবিন্দু আর ধানখেতের ওপর মায়াবী আবহ জানান দিচ্ছে হেমন্তের আগমনী বার্তা। সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর কুয়াশার উপস্থিতি এবং সকালে বাতাসের শীতল অনুভূতিতে গ্রামীণ জনপদে তৈরি হচ্ছে শীতের আবেশ। বাংলার প্রকৃতিতে ছয় ঋতুর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শরতের সাদা কাশফুল আর নীল আকাশের মুগ্ধতা পেরিয়ে এখন প্রকৃতি ধীরে ধীরে হেমন্তের দিকে এগোচ্ছে। কার্তিকের শুরুতেই কালীগঞ্জের মাঠঘাট, ফসলের খেত ও জনপদে দেখা যাচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের নানা চিহ্ন। ভোরের কুয়াশা সূর্যের আলোয় মিলিয়ে গেলেও দিনের শুরুতে তার উপস্থিতি প্রকৃতিকে করে তুলছে আরও স্নিগ্ধ।

ভোরের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে ভোরে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে রাতের মধ্যে বাতাসে কুয়াশার আস্তরণ তৈরি হচ্ছে, যা সকাল আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত কোথাও কোথাও স্থায়ী থাকছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে যাচ্ছে, উন্মোচিত হচ্ছে চারপাশের পরিচিত দৃশ্য।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ভাদার্তী এলাকার বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক কাজী কেরামত আলী জানান, তিনি প্রায়ই সকালে হাঁটতে বের হন। কয়েক দিন ধরে ভোরে কুয়াশা বেশি দেখা যাচ্ছে। তাঁর কাছে মনে হচ্ছে, শীত যেন আগেভাগেই জানান দিচ্ছে নিজের উপস্থিতি। শুধু কালীগঞ্জ নয়, রাজধানী ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরেও হেমন্তের আবহ অনুভূত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের বর্ণনায় উঠে এসেছে। ভোরের হালকা শীতল বাতাস আর কুয়াশার চাদর দিনের শুরুতে প্রকৃতিতে এনে দিচ্ছে ভিন্নমাত্রা।

শিশিরবিন্দুতে ঝলমল করে সকালের প্রকৃতি
হেমন্তের সকাল মানেই ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির, ফুলের পাপড়িতে বিন্দু বিন্দু জল আর সূর্যের আলোয় সেগুলোর ঝিকমিক করে ওঠা। কালীগঞ্জের গ্রামীণ পরিবেশেও দেখা মিলছে এমন দৃশ্যের। শিউলি ফুলের পাপড়িতে জমে থাকা শিশির আর ভোরের কোমল আলো মিলে প্রকৃতিতে তৈরি করছে স্নিগ্ধ সৌন্দর্য। গ্রামের পথ ধরে হাঁটলে কোথাও দেখা যায় কুয়াশায় আচ্ছন্ন গাছপালা, কোথাও বাতাসে দুলছে কাশফুল। পুকুরপাড় ও নদীর ঘাটে দিনের ব্যস্ততা শুরু হওয়ার আগেই প্রকৃতি যেন নিজের মতো করে জেগে ওঠে। পাখির ডাক, বাতাসের মৃদু প্রবাহ আর দূরের গ্রামীণ জনপদের পরিচিত শব্দে ভোরের পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

এ সময় প্রকৃতির পরিবর্তন শুধু চোখে দেখার বিষয় নয়; অনুভবেরও। সকালের বাতাসে শীতলতা, দুপুরে রোদের উষ্ণতা এবং সন্ধ্যার পর তুলনামূলক ঠান্ডা আবহ—সব মিলিয়ে হেমন্তের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠতে শুরু করে। হেমন্তের আগমনের সঙ্গে গ্রামীণ জীবনে বাড়ে কৃষিকাজের ব্যস্ততাও। মাঠে মাঠে আমন ধান পাকতে শুরু করার অপেক্ষা। কোথাও ধানের শিষে দানা পূর্ণ হচ্ছে, কোথাও কৃষকেরা পরবর্তী ফসলের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। ধানখেতের সবুজ ও সোনালি আভা গ্রামীণ প্রকৃতিকে দিয়েছে আলাদা রূপ।

ধানের মৌসুম ঘিরে কৃষকের প্রত্যাশাও তৈরি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমন ধান ঘরে তোলার সময় গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষকের পারিবারিক জীবনে আসে নতুন ব্যস্ততা। একই সময়ে বিভিন্ন জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতিও শুরু হচ্ছে। হেমন্ত তাই শুধু ঋতু পরিবর্তনের নাম নয়; কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গেও এই ঋতু গভীরভাবে জড়িত। ফসলের মাঠ, কৃষকের শ্রম এবং প্রকৃতির পরিবর্তন মিলিয়ে গ্রামবাংলায় তৈরি হয় এক পরিচিত মৌসুমি পরিবেশ।

শরৎ পেরিয়ে সেতুবন্ধনের ঋতু হেমন্ত
বাংলার ছয় ঋতুর ধারাবাহিকতায় হেমন্ত শরৎ ও শীতের মধ্যবর্তী সময়। শরতের উজ্জ্বল আকাশ, কাশফুল ও শিউলির সৌন্দর্যের পর হেমন্ত নিয়ে আসে পরিণত প্রকৃতির আবহ। মাঠে ফসলের রং বদলায়, ভোরের বাতাসে বাড়ে শীতলতা, আর রাতের পরিবেশে ধীরে ধীরে অনুভূত হয় শীতের উপস্থিতি। এই সময় প্রকৃতির রূপান্তর খুব ধীরে ঘটে। দিনের আলো ও রাতের আবহে ভিন্নতা তৈরি হয়। কুয়াশা, শিশির আর ফসলের মাঠ যেন জানান দেয়, বছর এগিয়ে যাচ্ছে নতুন এক ঋতুর দিকে। গ্রামীণ জীবনে এই পরিবর্তন মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ককে নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসে।

প্রকৃতির সৌন্দর্যে নতুন করে মুগ্ধ হওয়ার সময়
হেমন্তের স্নিগ্ধতা মানুষকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে আসে। ভোরের কুয়াশা, শিশিরভেজা ঘাস, ধানখেতের ওপর ছড়িয়ে থাকা আলো কিংবা বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল—এসব সাধারণ দৃশ্যও এ সময় হয়ে ওঠে বিশেষ আকর্ষণের। কালীগঞ্জের প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের এই দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির সৌন্দর্য প্রতিদিনের পরিচিত পরিবেশের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। একটু মনোযোগ দিয়ে তাকালেই ধরা পড়ে তার রং, গন্ধ ও অনুভূতির পরিবর্তন। শরতের বিদায়ের পর হেমন্তের এই কোমল আগমন প্রকৃতিকে নতুন রূপে সাজাচ্ছে। কুয়াশার পাতলা পর্দা আর শীতল বাতাসের ছোঁয়ায় কালীগঞ্জের জনপদে এখন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে শীতের আগাম অনুভূতি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

তিন দশকের বৃক্ষপ্রেমে বদলে গেছে নওগাঁর সড়ক

নওগাঁ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
তিন দশকের বৃক্ষপ্রেমে বদলে গেছে নওগাঁর সড়ক

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান। পেশাগত পরিচয়ের বাইরেও তিনি পরিচিত একজন বৃক্ষপ্রেমী মানুষ হিসেবে। পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে ছাত্রজীবনেই গাছ লাগানোর যে উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নিজের বেতনের একটি অংশ ব্যয় করে গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করছেন তিনি। এ পর্যন্ত দেশের ৩০টি জেলায় প্রায় ৬৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেছেন বলে জানিয়েছেন এই অধ্যক্ষ।

গাছ লাগানোকে কেবল ব্যক্তিগত শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি আরিফুর রহমান। রাস্তার দুই পাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগিয়ে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে তালগাছের সারি, ফুলের বাগান ও সবুজে ঘেরা নানা স্থান। এসব উদ্যোগ স্থানীয় পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পথচারী, কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ছায়া ও উপকার বয়ে আনছে। নওগাঁর বদলগাছী-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের সাতপ্রাম থেকে ডাবরকুড়ি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ চোখে পড়ে। প্রায় তিন দশক আগে রোপণ করা এসব গাছ এখন বেড়ে উঠে সড়কটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এলাকাটি ‘তালপার্ক’ নামেও পরিচিতি পেয়েছে।

সড়কটির দুই পাশে তালগাছ লাগানোর পেছনে রয়েছে অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের উদ্যোগ। ছাত্রজীবনে কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে তিনি তালবীজ রোপণ করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সেই বীজ থেকে জন্ম নেওয়া গাছগুলো বড় হয়েছে। এখন সড়কের পাশ দিয়ে চলাচলকারী মানুষ যেমন সবুজের সৌন্দর্য উপভোগ করেন, তেমনি মাঠে কাজ করা কৃষকেরাও গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে পারেন। ডাবরকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা বয়োজ্যেষ্ঠ লুৎফর রহমান জানান, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে বদলগাছী-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কটি প্রশস্ত করার সময় মাটি ফেলা হয়েছিল। সে সময় আরিফুর রহমান তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করেন। সেই উদ্যোগের ফল এখন সড়কজুড়ে দৃশ্যমান। লুৎফর রহমানের ভাষ্য, তালগাছগুলো এলাকার সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের বিশ্রামের জায়গা হিসেবে কাজে আসছে। ঝড়-বৃষ্টির সময়ও মানুষ এসব গাছের নিচে আশ্রয় নেয়।

অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের পেছনে রয়েছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমানোর চিন্তা। বিশেষ করে বজ্রপাতের ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি তালগাছের চারা রোপণ শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে তাঁর এই উদ্যোগে যুক্ত হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল ও বনজ গাছ। তবে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা, নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কতা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

আরিফুর রহমান শুধু নিজের উদ্যোগে গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন না; শিক্ষার্থী ও ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যেও গাছের চারা বিতরণ করেন। কোথাও ঘুরতে গেলেও সঙ্গে গাছের চারা রাখেন। তাঁর এই অভ্যাসের কারণে অনেকের কাছে তিনি ‘সবুজের ফেরিওয়ালা’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।

তালগাছের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, পলাশ, শিমুলসহ নানা প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ রোপণ করেছেন আরিফুর রহমান। এসব গাছের সমারোহে গড়ে ওঠা একটি স্থান ‘কৃষ্ণচূড়া ভ্যালি’ নামে পরিচিত। এ ছাড়া সান্তাহার রেলস্টেশন, নওগাঁর হাঁসাইগাড়ি বিল, পত্নীতলা উপজেলার নদীর পশ্চিম পাশ এবং সিলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও বনায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন স্থানে কৃষ্ণচূড়া চত্বর গড়ে তোলার মাধ্যমেও সবুজ পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

ফুলের গাছের সৌন্দর্য মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পাশাপাশি ফলজ ও বনজ গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রাকৃতিক সম্পদ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব বিবেচনায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করছেন এই বৃক্ষপ্রেমী। মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিজ উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করে আসছেন আরিফুর রহমান। তাঁর লক্ষ্য, গাছ লাগানোর কাজকে একটি নির্দিষ্ট এলাকা বা ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া।

প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে রোপণ করা গাছের পরিচর্যাও করেন তিনি। কারণ, শুধু চারা লাগালেই বনায়নের কাজ শেষ হয় না; গাছের বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন। এ কারণে চারা রোপণের পাশাপাশি গাছের যত্ন নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ স্থানীয় মানুষকে পরিবেশ সংরক্ষণে যুক্ত করতে পারে। আরিফুর রহমানের উদ্যোগে এসব কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটেছে। মাতাজি হাটের বাসিন্দা খালিদ হাসান বাবু বলেন, সড়কের দুই পাশে থাকা তালগাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায়নি; ফল ও ছায়া দিয়েও স্থানীয়দের উপকার করছে। তাল মৌসুমে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও তাল খাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। গাছের বিভিন্ন অংশ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করেন স্থানীয়রা।

তাঁর মতে, তালগাছের পাশাপাশি অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন। পরিবেশ রক্ষায় তাঁর এই উদ্যোগ মহাদেবপুর ছাড়িয়ে বিভিন্ন মানুষের প্রশংসা পাচ্ছে। গাছের ছায়া, ফল এবং অন্যান্য ব্যবহারিক সুবিধা স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে। দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে ওঠা গাছগুলো একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কও দৃঢ় করে। নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে পরিবেশকে রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী রেখে যাওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য। এ পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের ৩০টি জেলায় ৬৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছেন বলে জানান তিনি।

আরিফুর রহমানের স্বপ্ন, দেশের প্রতিটি জেলায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্রকৃতিকে সবুজে ভরিয়ে তোলা। তাঁর প্রত্যাশা, মানুষ গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও এগিয়ে আসবে। কারণ, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়। ছাত্রজীবনে বন্ধুদের নিয়ে শুরু করা বৃক্ষরোপণ আজ তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। নওগাঁর সড়কের পাশে তালগাছের সারি কিংবা বিভিন্ন স্থানে ফুলের গাছের সমারোহ—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে প্রকৃতিকে ভালোবাসার বার্তা। অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের এই উদ্যোগ অন্যদেরও গাছ লাগাতে এবং সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে উৎসাহিত করতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

সরকারি সৈকতকে ব্যক্তিগত দাবি রিসোর্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কক্সবাজার সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
সরকারি সৈকতকে ব্যক্তিগত দাবি রিসোর্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশ দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিরুদ্ধে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত সৈকতের এই অংশকে নিজেদের ‘প্রাইভেট বিচ’ বা ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে প্রচার করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ঘটনায় পরিবেশ সংরক্ষণ, সৈকতে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার এবং পর্যটকদের সঙ্গে প্রতারণার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে ইনানী সৈকতে এ কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৈকতের অংশবিশেষকে ব্যক্তিগত পরিচয়ে প্রচার করা এবং সেখানে পর্যটন ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

সৈকতে যাওয়ার জন্য তৈরি দুটি পথ
বুধবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টটির সামনের বালিয়াড়ি থেকে সৈকতে যাওয়ার জন্য অতিথিদের সুবিধার্থে দুটি পথ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সাজিয়ে জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাম্পান বিচ’।

রিসোর্টটির ফেসবুক পেজে ‘আওয়ার প্রাইভেট বিচ, আওয়ার স্কেপ’ শিরোনামে ওই স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাস্ট মালিহা থিং’ নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাঁর প্রচারমূলক ভিডিওতে জায়গাটিকে বেলাভূমির ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি রিসোর্টটির ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে। এভাবে সৈকতের একটি অংশকে ব্যক্তিগত হিসেবে উপস্থাপন করায় সেটির মালিকানা ও ব্যবহারের অধিকার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সৈকতটি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় সেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রেস্তোরাঁ থেকে রিসোর্ট, চলছে বিচ ক্যাম্পিংয়ের অভিযোগ
শুরুতে ওই স্থানে ‘স্যালমন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করা হয়। পরে এর পেছনে গড়ে তোলা হয় রিসোর্ট। গত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। অভিযোগ রয়েছে, ‘প্রাইভেট বিচ’ পরিচয় দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিচ ক্যাম্পিংয়ের নামে বালিয়াড়িতে তাঁবু স্থাপন করে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব কার্যক্রমের অনুমোদন ও বৈধতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নথিপত্রের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় অপরিকল্পিত স্থাপনা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে সৈকতের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণে নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন পরিবেশকর্মীরা।

পরিবেশকর্মীদের মামলা করার দাবি
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে সংকটাপন্ন এলাকাকে নিজেদের বলে চালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত। পরিবেশকর্মীদের মতে, সৈকত ও বালিয়াড়ি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই কোনো প্রতিষ্ঠান সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করলে প্রযোজ্য আইন ও অনুমোদনের শর্ত মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আল মারুফ বলেন, সৈকতকে কারও ব্যক্তিগত বা ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে প্রচার করার অর্থ ভোক্তাসাধারণের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করা হতে পারে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। পর্যটকেরা কোনো স্থানের প্রচার দেখে সেখানে গেলে বাস্তবে সেটির প্রবেশাধিকার, ব্যবহার ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সৈকতের মালিকানা বা ব্যবহারের অধিকার নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার থাকলে তা পর্যটকদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

অনুমোদনহীন স্থাপনা চিহ্নিত করছে কউক
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিনড্রাইভ এলাকায় যেসব অনুমোদনহীন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেগুলো ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠানোসহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রমও চলছে। কউকের এই কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা স্থাপনা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ইনানী সৈকতের আলোচিত অংশে কী ধরনের অনুমোদন রয়েছে এবং সেখানে পরিচালিত কার্যক্রম কোন বিধির আওতায় পড়ছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

এক বছরে ৫৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইন না মানায় গত এক বছরে কক্সবাজারের ৫৫টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন বলেন, নিয়ম না মেনে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ এবং সৈকত দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য করার তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় জরিমানা ও মামলা করা হয়। বিধিলঙ্ঘন দেখা গেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। ইনানীর অভিযোগের ক্ষেত্রেও অনুমোদন ও বিধি অনুসরণের বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।

অনুমোদনের জন্য আবেদন করার দাবি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের
হলিডে ট্যুরিজম লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি মাত্র কিছুদিন আগে সেখানে যোগ দিয়েছেন। সৈকতকে ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে প্রচারের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, রিসোর্টের অতিথিদের কেউ কেউ ভিডিওতে সামনের সৈকতকে ‘প্রাইভেট বিচ’ বলেন। সেটি তাঁদের ব্যাপার। রিসোর্টটির মালিকানা ও অনুমোদন সম্পর্কে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সৈকতের অধিকার ও পরিবেশ রক্ষায় নজরদারির দাবি
ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশকে ব্যক্তিগত হিসেবে প্রচার এবং সেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগের পর বিষয়টি পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকদের অধিকার—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে রয়েছে সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে পর্যটকদের কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপন ও আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ে অভিযোগের সত্যতা ও অনুমোদনের অবস্থা স্পষ্ট হলে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সৈকতের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থানে প্রবেশাধিকার ও ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি