খুঁজুন
                               
, ,
           

দীর্ঘ অপেক্ষার পর পর্যটকদের জন্য খুলল চার পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র

বান্দরবন প্রতিবদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
দীর্ঘ অপেক্ষার পর পর্যটকদের জন্য খুলল চার পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার তিন্দু-নাফাকুমসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র সর্বসাধারণের জন্য খুলে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এতে দীর্ঘদিন পর এসব এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বান্দরবান পার্বত্য জেলার নির্ধারিত কয়েকটি সড়ক ও পর্যটন এলাকা সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খোলা পর্যটন এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে থানচি উপজেলার তমাতুঙ্গী থেকে ২৪ কিলোমিটার তিন্দু পর্যন্ত সড়ক ও পর্যটন এলাকা এবং তিন্দুমুখ থেকে নাফাকুম পর্যন্ত সড়ক ও পর্যটন এলাকা। এছাড়া রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পর্বত থেকে সুংসুংপাড়া পর্যন্ত এলাকা ও রিজুক ঝরনাও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে প্রশাসন। গণবিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও এলাকায় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, জনস্বার্থে উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক বিষয় বিবেচনায় রেখে পর্যটনকেন্দ্রগুলো পরিচালনা করা হবে।

দীর্ঘদিন পর পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ায় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী, গাইড, নৌকার মাঝি ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে থানচি ও রুমার পর্যটননির্ভর অর্থনীতিও আরও চাঙা হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

এর আগে টানা কয়েকদিনের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গত ৭ জুলাই থেকে তিন্দু-নাফাকুম পর্যটন রুট বন্ধ করে দিয়েছিল বান্দরবান জেলা প্রশাসন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে, হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে, হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।  ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আইআরজিসি-এর এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাকদি জানান, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার মূল উদ্দেশ্য হল যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএস-কে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, আমরা তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করব। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়তে হয় তা শেখার জন্য প্রকৃত অভিজ্ঞতা অর্জনের মতো কোনও বাস্তব যুদ্ধ আমরা এর আগে কখনও দেখিনি। এই পাঁচ মাসে আমরা শিখে গেছি কীভাবে লড়তে হয়।

ট্রাম্পের বিদায় পর্যন্ত যুদ্ধ গড়ানোই মূল লক্ষ্য কি না, এমন প্রশ্নে নাকদি বলেন, আমাদের এমন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে শত্রু আর আক্রমণের সাহস না পায়, আমরা যেন নিরাপদে থাকতে পারি।

এর একটি উপায় হল, এই যুদ্ধকে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন (২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি) পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা এবং প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলা, যাতে অন্য কেউ ইরানে হামলা করতে চাইলে বুঝতে পারে যে এর মূল্য দিতে হবে।

চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের কোনও সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে নাকদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক এক ভুল হবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা ফেলার পরদিন সকালেই বিশ্বজুড়ে তাদের সব সামরিক ঘাঁটি হাতছাড়া হয়ে যাবে। আজকের বিশ্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো নয়, মানুষ এখন সচেতন। এমন অপরাধ করাটা কেউ মেনে নেবে না। কারণ, এর পরবর্তী শিকার তারা নিজেরাও হতে পারে।

ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করছে কি না- সে প্রশ্নে তিনি জানান, তার কোনও প্রয়োজন নেই।

নাকদি বলেন, জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আমরা গোটা বিশ্বের মানুষের হৃদয় জয় করেছি, সেটাই আমাদের পারমাণবিক বোমা। ফলে অহেতুক ধ্বংসলীলা বা পারমাণবিক অস্ত্রের কোনও দরকারই আমাদের নেই।

ইরানের ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান নিয়ে মার্কিন রাজনীতিবিদদের সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের কোনও শত্রুতা নেই। এই স্লোগানের অর্থ হল আমেরিকার সেই নেতৃত্বের পতন, যারা পরাশক্তি হওয়ার পর থেকে অন্তত ৭০টিরও বেশি দেশে আক্রমণ চালিয়েছে বা নীতি লঙ্ঘন করেছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি, বসুন্ধরা থেকে ৫৩ জন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি, বসুন্ধরা থেকে ৫৩ জন গ্রেফতার

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১৫ আগস্ট শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি সভা চলাকালে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ২৮ নম্বর সড়কের এম ব্লকের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ভাটারা থানা পুলিশের বরাত দিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী জানান, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি সভা ও ঝটিকা মিছিল সফল করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা ওই ফ্ল্যাটে সমবেত হয়েছিলেন।

পুলিশের দাবি, এ সময় তারা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। পরে ভাটারা থানা পুলিশের অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে মোট ৫৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এডিসি নিয়াজ মেহেদী জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

‘হাসিনা-হাদীর আসামিদের ফেরত দিয়ে বন্ধুত্বের কথা বলুন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
‘হাসিনা-হাদীর আসামিদের ফেরত দিয়ে বন্ধুত্বের কথা বলুন’

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ভারত সরকার অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ভারতের এমন অবস্থান বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘ছায়াযুদ্ধ ঘোষণা করার মতো’।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন ছাড়া ওই আয়োজন সম্ভব ছিল না। তাঁর ভাষ্য, কোনো মামলায় আদালতের রায় হওয়ার পর সেই মামলার আসামিকে ভারতের মাটিতে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল।

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বন্ধুত্বের কথা বলার আগে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ও শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ফেরত পাঠানো, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের মীমাংসার বিষয় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে সমাধান না করে শুধু বন্ধুত্বের কথা বলা অর্থবহ হবে না।

এদিকে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের নতুন অনুরোধ ভারত প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করছে বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি