খুঁজুন
                               
, ,
           

ফ্রিজে খাবার রাখছেন, কিন্তু কোন খাবার কত দিন নিরাপদ জানেন কি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
ফ্রিজে খাবার রাখছেন, কিন্তু কোন খাবার কত দিন নিরাপদ জানেন কি?

ফ্রিজে খাবার রাখলেই যে তা দীর্ঘদিন নিরাপদ থাকবে—এমনটা নয়। বরং কোন খাবার কত দিন সংরক্ষণ করা যাবে, তা জানা না থাকলে ফ্রিজে রাখা খাবার থেকেও তৈরি হতে পারে খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম তাপমাত্রায় ফ্রিজ রাখা এবং খাবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেয়ে ফেলা গুরুত্বপূর্ণ।

ভাত, তরকারি, মাংস বা অন্য রান্না করা খাবারের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম হলো—৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলা। বড় পরিমাণ গরম খাবার একসঙ্গে না রেখে অল্প অল্প করে অগভীর পাত্রে ভাগ করে দ্রুত ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখা ভালো। সুপ ও স্টু: ৩-৪ দিন, রান্না করা মাংস: ৩-৪ দিন, রান্না করা মুরগি: ৩-৪ দিন, রান্না করা মাছ: ৩-৪ দিন।

কাঁচা খাবারের ক্ষেত্রে সময় আরও কম। কাঁচা মুরগি: ১-২ দিন, কিমা বা গ্রাউন্ড মাংস: ১-২ দিন, কাঁচা মাছ ও সামুদ্রিক খাবার: ১-২ দিন, গরু, খাসি বা অন্যান্য লাল মাংসের স্টেক/চপ/রোস্ট: ৩-৫ দিন।

তাই বাজার থেকে কাঁচা মাংস বা মাছ এনে কয়েক দিন ফ্রিজে ফেলে রাখার বদলে দ্রুত রান্না করা অথবা দীর্ঘদিন রাখতে হলে ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা নিরাপদ।

কাঁচা খোসাসহ ডিম সাধারণত ফ্রিজে ৩-৫ সপ্তাহ রাখা যায়। তবে সেদ্ধ ডিমের ক্ষেত্রে সময় অনেক কম-এক সপ্তাহের মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত। রান্না করা ডিমের পদ ৩-৪ দিনের মধ্যে শেষ করা ভালো।

খোলা হট ডগ বা অনুরূপ খাবার সাধারণত এক সপ্তাহ পর্যন্ত, আর খোলা লাঞ্চ মিট ৩-৫ দিন ফ্রিজে রাখা যায়। তবে প্যাকেটের সংরক্ষণ নির্দেশনা থাকলে সেটিই আগে অনুসরণ করতে হবে।

রান্না করা বা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাযুক্ত খাবার ঘরের তাপমাত্রায় দুই ঘণ্টার বেশি রাখা উচিত নয়। তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে সময়টি কমে এক ঘণ্টা হয়। এরপর খাবার ফ্রিজে রাখলেও জীবাণুর ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না।

আর ফ্রিজের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে এবং ফ্রিজারের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে রাখা উচিত।

খাবার দেখতে বা গন্ধে স্বাভাবিক মনে হলেও তাতে ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। তাই সন্দেহ হলে ‘খেয়ে দেখে’ পরীক্ষা করা উচিত নয়। নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে খাবারটি ফেলে দেওয়াই ভালো।

সহজ নিয়ম: রান্না করা খাবার ৩-৪ দিনের মধ্যে, কাঁচা মাংস-মাছ ১-২ দিনের মধ্যে, আর ফ্রিজে রাখা খাবার সবসময় ঢাকনাযুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ করুন। এতে খাবার যেমন ভালো থাকবে, তেমনি খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকিও কমবে।

তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ ও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন

কালের আলো/এসএ

 

এআই ক্যামেরায় নজরদারি, ১৮ আগস্ট থেকে অটো ফাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
এআই ক্যামেরায় নজরদারি, ১৮ আগস্ট থেকে অটো ফাইন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ঠেকাতে আগামী ১৮ আগস্ট থেকে চালু হচ্ছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’। এআই প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, অবৈধ পার্কিং, উল্টোপথে চলাচলসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এআই ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে।

মামলার তথ্য পাওয়ার পর নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

পুলিশের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত ও তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী জরিমানা আদায় করা সম্ভব হবে। এতে জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।

হাইওয়ে পুলিশের আশা, অটো ফাইন সিস্টেম চালুর ফলে মহাসড়কে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে, যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে যাত্রী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

খালেদা জিয়ার জন্মদিনে তার সমাধিতে ডিএনসিসি প্রশাসকের শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
খালেদা জিয়ার জন্মদিনে তার সমাধিতে ডিএনসিসি প্রশাসকের শ্রদ্ধা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

শ্রদ্ধা নিবেদন পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রশাসক। এরপর মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এসময় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ ডিএনসিসির কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গত ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। পরে ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাত্র ২০ বছরেই বাংলা কবিতায় অমর সুকান্ত

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
মাত্র ২০ বছরেই বাংলা কবিতায় অমর সুকান্ত

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এমন কিছু কবি আছেন, যাঁদের জীবনকাল দীর্ঘ না হলেও তাঁদের সৃষ্টি সময়কে অতিক্রম করেছে। সুকান্ত ভট্টাচার্য তাঁদেরই একজন। মাত্র ২০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেও ক্ষুধা, শোষণ, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, বৈষম্য ও মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে কবিতার শক্তিশালী ভাষায় তুলে ধরে তিনি বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

সুকান্ত ভট্টাচার্য জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় তাঁর মাতুলালয়ে। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালীপাড়ায়। তাঁর বাবা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় বইয়ের ব্যবসা করতেন। ফলে জন্মস্থান ও পৈতৃক নিবাস নিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তি দেখা যায়।

কলকাতাতেই তাঁর শৈশব ও শিক্ষাজীবনের বড় অংশ কাটে। কমলা বিদ্যামন্দিরের পর তিনি বেলেঘাটা দেশবন্ধু হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৪৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এরই মধ্যে ছাত্র আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে পড়ায় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনেরও সমাপ্তি ঘটে।

কৈশোর থেকেই সাহিত্যচর্চায় যুক্ত সুকান্ত পরবর্তী সময়ে মার্কসবাদী আদর্শে গভীরভাবে প্রভাবিত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মতো সময়ের সংকট তাঁর লেখায় সরাসরি প্রতিফলিত হয়। ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন। পরের বছর কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন।

তাঁর কবিতার কেন্দ্রে ছিল সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ক্ষুধা, বঞ্চনা ও শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন। এই কারণেই তাঁর কবিতায় রোমান্টিকতার চেয়ে বাস্তবতা এবং প্রতিবাদের স্বর অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল।

সুকান্তের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ছাড়পত্র’, ‘পূর্বাভাস’, ‘মিঠেকড়া’, ‘অভিযান’, ‘ঘুম নেই’, ‘হরতাল’ ও ‘গীতিগুচ্ছ’। এর মধ্যে ‘ছাড়পত্র’ তাঁর জীবদ্দশায় ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত হয়; অন্য বেশ কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর মৃত্যুর পর।

তাঁর কবিতার ভাষা ছিল সহজ, সরাসরি এবং তীক্ষ্ণ। ক্ষুধার্ত মানুষের বাস্তবতা বোঝাতে তাঁর বহুল উদ্ধৃত পঙ্‌ক্তি—‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়ঃ / পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’—বাংলা কবিতায় এক অনন্য উপমা হয়ে আছে।

অল্প বয়সেই সুকান্ত যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ১৯৪৭ সালের ১৩ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর বয়স হয়েছিল ২০ বছর ৯ মাসেরও কম।

জীবন ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু সাহিত্যকর্ম ছিল বিস্ময়করভাবে পরিণত। তাই সুকান্তকে শুধু ‘কিশোর কবি’ হিসেবে দেখলে তাঁর সাহিত্যিক গুরুত্বকে ছোট করে দেখা হয়। তিনি ছিলেন এমন এক কবি, যিনি নিজের সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে কবিতার ভাষায় ধারণ করেছিলেন।

সুকান্তের জন্মদিন ১৫ আগস্ট। তাই প্রতিবছর এই দিনে তাঁর জন্মস্মরণে ফিরে আসে সেই অকালপ্রয়াত কবির কথা—যিনি মাত্র দুই দশকের জীবনে বাংলা কবিতায় এমন এক স্বর তৈরি করেছিলেন, যা আজও ক্ষুধার্ত ও বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কথা বলে।

কালের আলো/এসএ