খুঁজুন
                               
, ,
           

তারেক রহমানের কাছে সম্পাদকদের প্রত্যাশা যেসব বিষয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের কাছে সম্পাদকদের প্রত্যাশা যেসব বিষয়ে

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:

রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে জাতীয় সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদ সংস্থা এবং অনলাইন মিডিয়ার সম্পাদক এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠানে প্রাঞ্জল ও যুক্তিনির্ভর বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। অনুষ্ঠানে সম্পাদকরা তার কাছে গণতন্ত্র, স্বাধীন সাংবাদিকতাসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাট বন্ধ হওয়া, বাজারে দ্রব্যমূল্য যেন মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে এবং পুলিশ বাহিনীকে নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তারেক রহমানকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুভেচ্ছা জানান ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন। ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে এসেছেন এমন মন্তব্য ছিল দৈনিক মানব জমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর। তিনি বলেছেন, সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ- এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে সম্মিলিতভাবে করতে হবে।

বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশে আসায় বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী সময় এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ের জার্নালিজমের ট্র্যাকগুলো ভালোভাবে স্মরণ রাখতে হবে। বিগত ১৮ বছর জার্নালিজম করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। বিদেশে চলে গিয়ে জার্নালিজম করা আর বন্ধুকে নলের মুখে জার্নালিজম করা কঠিন। দৈনিক ইনকিলাবের ওপর ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব বন্ধ হয়েছিল। আমাদের অফিস থেকে নিউজ এডিটর, চিফ রিপোর্টারসহ ৬ জনকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। আমি পলাতক ছিলাম। আমার বাসা অফিস সব জায়গায় তল্লাশি করা হয়েছে। এরকম অনেক ঘটনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাহমুদুর রহমান, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, শফিক রেহমান, আবুল আসাদসহ সবার উপর যে অন্যায় হয়েছে, সেসব নিউজ দৈনিক ইনকিলাবে ছাপা হয়েছে। ছাপা হয় নাই, এই কথা ঠিক না। তারা বিদেশে ছিলেন বা জেলে ছিলেন, তাই দেখতে পারেন নাই। এই বিষয়গুলো বিএনপিকে স্মরণ রাখতে হবে। এখন এই পরিবেশে যে জার্নালিজম, সেটা তখন সম্ভবকর ছিলো না। ওর মধ্যেও গুরুত্ব সহকারে নিউজগুলো ছাপানো হয়েছে। তারেক রহমানের যে বিশাল ব্যক্তিত্ব এখন তৈরি হয়েছে, সেটা কিন্তু ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী জার্নালিজমের কারণেই হয়েছে।’ ইনকিলাব সম্পাদক বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, আশা এবং যতগুলো সার্ভে আছে; সে অনুযায়ী তারেক রহমানই আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী। আগাম শুভেচ্ছা থাকলো। আমরা আশা করি তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে খুব দ্রুতই সাংবাদিকদের সাথে আরও ‘ইফেক্টিভ ওয়ে’তে কাজ করবেন।’

অনুষ্ঠানে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত ছিলেন না। তিনি জানতেন না মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে হয়েছে এবং তিনি ফিরে এসেও জানার চেষ্টা করেন নাই মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে হয়েছে। তাকে আওয়ামী লীগের লোকজন যা বলেছে এবং ভারতীয় পক্ষ যা বলেছে, সেটাকেই তিনি ধরে নিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন এটাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। এজন্যই তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। তারেক রহমানের উদ্দেশে মাহমুদুর রহমান বলেন- তারেক রহমান, আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। আপনি জানেন না এখানে কী হয়েছে। আপনার লোকজন আপনাকে যা বলেছে সেটাই আপনি শুনেছেন। এখন যারা মিডিয়ার নতুন বন্ধুরা আপনাকে যেটা বলছে, সেটাই আপনি শুনছেন। আপনি মনে করছেন, এটাই বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস। বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস এটা না। সেই ইতিহাস আমি বর্ণনা করব। ভবিষ্যতে যদি আপনি এরকম কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সেখানে।

লিখতে চান ও বলতে চান জানিয়ে দৈনিক মানব জমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘মিডিয়া ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর অনেকটাই স্বাধীন। অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। নিয়ন্ত্রিত এই কারণে বলছি- মব ভায়োলেন্সের কারণে আমরা সাহসী হতে পারছি না। আমাদের হাত-পা বাঁধা হয়ে যাচ্ছে। মিডিয়া অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়, সংবাদপত্র অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়, তখন আমার ভাবতে কষ্ট লাগে যে আমরা জাহান্নামে আছি না বেহেশতে আছি।’

তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে এসেছেন। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে সম্মিলিতভাবে করতে হবে। দলের মধ্যে থেকে যদি করার চেষ্টা করা হয় তাহলে অতীতের মতোই কিন্তু ভুল হবে। সেই ভুল থেকে এমন একটা অবস্থায় চলে যাব, যেখান থেকে আমাদের ফিরে আসা কঠিন হবে। দেশ অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন বলেন, যে উগ্রবাদ আমাদের গ্রাস করার চেষ্টা করছে, এই উগ্রবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে তারেক রহমান ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনো বিকল্প নেই।

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সুশাসন চাই। এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি এবং আপনাকেও (তারেক রহমান) নিশ্চয়ই অনেকে বলেছেন। তিনি আরও বলেন, একটি দু’টি বিষয়ে মনে হয় যথেষ্ট আলোচনা হচ্ছে না। সেটা হচ্ছে-বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো কী। আমি মনে করি, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্লাইমেট চেঞ্জ। এ নিয়ে কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো অত আলোচনা করছে না। বাংলাদেশ কিন্তু একদম ফ্রন্টলাইন দেশের মধ্যে কয়েকটা। ক্লাইমেট চেঞ্জের কী যে ইমপ্যাক্ট হবে-এটা অলরেডি কোস্টাল এরিয়াতে দেখতে পাচ্ছি।’

নিউজ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ‘এমন সময়ে সবাই সমবেত হয়েছি যখন একটা পুরনো স্বৈরতান্ত্রিক একটা ব্যবস্থা গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটেছে। যেই জন্যে মানুষের এত আত্মদান, সেই আত্মদানের ভিত্তিতে মানুষের আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ গড়ে উঠবার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি আমরা। কিন্তু সেটা এখনো গড়ে ওঠে নাই।’ তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে আমরা রাজনীতির সংস্কৃতির নানা ধরনের প্রবণতা দেখেছি। এটার মধ্যে ডান, বাম, মধ্যবর্তী সকল রাজনৈতিক ধারা সক্রিয় ছিল। আবার এগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন, সাধারণভাবে একটা শান্তিপূর্ণ সামাজিক রাজনৈতিক অবস্থা দেখতে চান- এমন লক্ষ লক্ষ মানুষ ছিল। তাদের আত্মদান আছে। এই সময়ে পরস্পরকে দোষারোপ না করে রাজনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দিকে এগোনোর আলোচনা হলে সময়ের প্রতি সুবিচার হবে।

নূরুল কবীর আরও বলেন, পৃথিবীতে এমন কোনো জায়গায় কখনোই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় নাই, যেখানে গণমাধ্যমের আইনগত, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছিল না। ফলে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম আর মিডিয়ার গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা এই দুইটা হাত ধরাধরি করে চলেছে। আমরা যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর চাই তাহলে অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পাশাপাশি একটা গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকতে হবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, ‘১৭ বছর টানা বিদেশে থাকাটা খুব কঠিন বিষয়। যখন আপনি নিশ্চিত করে জানেন যে, চাইলেও আপনি এক দিন বা দুদিনের জন্য দেশে ফিরতে পারবেন না। আমার কিছু দিন বিদেশে থাকার অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি জানতাম যে, আমি চাইলে দেশে যেতে পারব।’ প্রায় দেড় যুগের নির্বাসন কাটিয়ে গেল ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। সেদিন এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশ নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। তারেক রহমানের সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, “আপনি আসতে পেরেছেন; স্বপ্ন নিয়ে এসেছেন; একটা পরিকল্পনার কথা বলেছেন। পরিকল্পনা আছে আপনার। ‘আমি শুধু বলতে চাই যে, আপনার সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হোক, পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন হোক। আপনাকে শুভেচ্ছা জানাই, অভিনন্দন জানাই, ভালো থাকুন।’

কালের কণ্ঠর সম্পাদক হাসান হাফিজ বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে, গোয়েন্দা শাসিত মিডিয়া। সেই অবস্থার পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। আমরা সত্যিকারের মত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই, যেটা শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সময় আমরা পেয়েছি।’ তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে আসনে আসনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে করমর্দন ও কুশল বিনিময় করেন। কক্ষের একেবারে পেছনের সারিতে আলোকচিত্রীদের কাছে গিয়েও হাত মেলান তিনি।

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

 

চিকিৎসক-ওষুধ নেই, বন্ধের পথে অভয়নগরের ৮ পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র

যশোর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসক-ওষুধ নেই, বন্ধের পথে অভয়নগরের ৮ পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র

চিকিৎসক, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটে যশোরের অভয়নগর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেবা না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে প্রসূতি নারী, শিশু ও বয়স্কদের চিকিৎসা নিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে এসব কেন্দ্রে ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জনবলসংকটের কারণে সাধারণ রোগের চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও প্রসূতিদের প্রাথমিক সেবা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ায় প্রত্যন্ত এলাকায় অননুমোদিত চিকিৎসাকেন্দ্র ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠার অভিযোগও উঠেছে।

আটটি কেন্দ্রে নেই চিকিৎসক, ছয়টি পদ শূন্য

অভয়নগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে বর্তমানে কোনো চিকিৎসক নেই। এ ছাড়া এফডব্লিউবি পদে আটটি পদের বিপরীতে ছয়টি পদই শূন্য রয়েছে। মাত্র দুজন কর্মী দিয়ে আটটি ইউনিয়নের আটটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাবের পাশাপাশি ওষুধ এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে প্রসূতি মায়েদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া, ডায়রিয়া ও জ্বরের মতো সাধারণ রোগের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একসময় উপজেলার আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন শতাধিক প্রসূতি নারীসহ এক হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতেন। দীর্ঘদিন সেবা বন্ধ থাকায় কেন্দ্রগুলো এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও ভবনগুলো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি ও বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

তালাবদ্ধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জরাজীর্ণ ভবন

গত শনিবার উপজেলার একতারপুর গ্রামের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভবনের মূল ফটক খোলা থাকলেও ভেতরের গেট তালাবদ্ধ দেখা যায়। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রটির মূল ভবন ও আবাসিক কোয়ার্টারগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। পানির মোটর ও মূল ভবনের ফ্যানও চুরি হয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভবনটির রং করে বাইরের সৌন্দর্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও ভেতরের অবস্থা ও সেবার অনুপস্থিতি স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও চিকিৎসাসেবা চালু না হওয়ায় এলাকার মানুষ সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, এলাকার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বন্ধ থাকায় দরিদ্র মানুষকেও চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটতে হচ্ছে। আব্দুস সামাদ শেখ জানান, আগে এই কেন্দ্রে একজন পুরুষ ও একজন নারী চিকিৎসকসহ অন্য কর্মীরাও থাকতেন। সেখান থেকে ওষুধও দেওয়া হতো। এখন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এলাকার মানুষকে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত এটি চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

১৩–১৪ মাইল দূরে হাসপাতাল, দুর্ভোগে প্রসূতিরা

শুভরাড়া গ্রামের আকলিমা বেগম বলেন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে চিকিৎসা বন্ধ থাকায় তাঁদের ১৩ থেকে ১৪ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। প্রসূতি নারী, বয়স্ক ও শিশুদের নিয়ে এত দূরের পথ যাতায়াত করা অত্যন্ত কষ্টকর। এ কারণে অনেক সময় বাধ্য হয়ে পল্লিচিকিৎসকদের কাছে যেতে হয় তাঁদের।

সিদ্দিপাশা গ্রামের একলাস উদ্দিন বলেন, তাঁদের এলাকা থেকে উপজেলা হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ২২ থেকে ২৩ মাইল। নদী পার হয়ে প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি চালু করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ না থাকায় বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হয় পরিবারগুলোকে। যাতায়াতের সময় ও খরচ বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো চিকিৎসা পাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ওষুধ ও জনবলসংকটের কথা স্বীকার কর্তৃপক্ষের

অভয়নগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নেই, ওষুধ সরবরাহ বন্ধ এবং জনবলও প্রায় নেই বললেই চলে। এ কারণে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলিমুর রাজীব বলেন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলো নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। দ্রুতই এ সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা চালুর অপেক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা

অভয়নগরের আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের সেবা বন্ধ থাকায় প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রসূতি নারী ও শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কাছাকাছি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।  স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ, ওষুধ সরবরাহ পুনরায় চালু, চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত এবং জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা চালু হবে এবং গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাট সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাটে কলা চাষ করে এবার বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বৈরী আবহাওয়ায় জমিতে কলা নষ্ট হওয়া, অপরিপক্ব অবস্থায় ফল পেকে যাওয়া, গাছের পাতা মরে যাওয়া এবং কলায় কালো দাগ দেখা দেওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। অন্যদিকে উৎপাদিত কলা বিক্রি করতে গিয়েও মিলছে না প্রত্যাশিত দাম। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার বাজার দুর্গাদহ হাটে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়া ও যানজটের কারণে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

কৃষকদের অভিযোগ, কলা চাষে ক্ষতির মুখে পড়লেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা তাঁরা পাচ্ছেন না। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, নিরাপদ কলা উৎপাদন এবং রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাজার সম্প্রসারণ ও যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকছে কলা, গাছের পাতাও মরে যাচ্ছে

জয়পুরহাট সদর উপজেলার আউশগাড়া মহল্লার বাসিন্দা গোলাম ফারুক। পুলিশের চাকরি শেষ করে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলার আবাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বাগানে কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। পাশাপাশি গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

গোলাম ফারুক বলেন, এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলা চাষ করেছিলেন। কিন্তু কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন তিনি। একই এলাকার কৃষক সাজ্জাদ হোসেন ও আব্দুল হামিদ ধারদেনা করে কয়েক বিঘা জমিতে চিনি চম্পা জাতের কলা চাষ করেছেন। তাঁদের বাগানে ফলন ভালো হলেও কলায় কালো দাগ দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও কলাসহ গাছ ভেঙে পড়ায় আরও ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। এই দুই কৃষকের অভিযোগ, এবার কলা চাষ করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ না পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

দুর্গাদহ হাটে দুই ঘাউড় কলার দাম মাত্র ৬০০ টাকা

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের দুর্গাদহ বাজার উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার হাট হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, পাইকার ও ব্যবসায়ীরা এখানে কলা কেনাবেচা করতে আসেন। তবে এবার বাজারে প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় কলার দাম নিয়ে হতাশায় পড়েছেন চাষিরা।

ছাওয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন সাইকেলে করে দুই ঘাউড় কলা নিয়ে এসেছিলেন দুর্গাদহ বাজারে। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় তাঁর দুই ঘাউড় কলার দাম উঠেছে মাত্র ৬০০ টাকা। অথচ অন্য সময়ে একই পরিমাণ কলার দাম অন্তত এক হাজার টাকা হতো বলে জানান তিনি। মোজাম্মেল হোসেনের মতো বাজারে আসা অন্যান্য কলাচাষি, পাইকার, আড়তদার, ইজারাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, বাজারটি ছোট পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় দূরদূরান্তের জেলা থেকে আগের মতো পাইকাররা আসছেন না। ফলে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কলা বিক্রি করতেও সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা।

অপরিকল্পিত দোকানপাটে যানজট, সংকুচিত বাজারের পরিসর

দুর্গাদহ বাজারে বেচাকেনার সমস্যার পাশাপাশি যানজটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট গড়ে ওঠায় প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হয় এবং পণ্য আনা-নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারের পরিসর বাড়ানো গেলে দূরবর্তী এলাকা থেকে পাইকারদের আসা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে যানজট কমানো গেলে কলা পরিবহন ও কেনাবেচার পরিবেশও উন্নত হবে। বাজার সম্প্রসারণের অভাবে সম্ভাবনাময় এই হাটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

চলতি অর্থবছরে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৮১৭ হেক্টর

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজু আলম সরকার জানান, চলতি অর্থবছরে জেলায় ৮১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৭০৫ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে।

জেলার মধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৫১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়। এ ছাড়া পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে কলার আবাদ করা হয়ে থাকে। কৃষকরা যেন মানসম্মত ও নিরাপদ কলা উৎপাদন করতে পারেন, সে জন্য নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মনজু আলম সরকার। কলার অন্যতম ক্ষতিকর শত্রু ফ্রুট ফ্লাই বা পোকার আক্রমণ থেকে ফল রক্ষায় ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সিগাটোকা ও পানামা রোগের মতো ক্ষতিকর রোগবালাই থেকে বাগান সুরক্ষায় উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

দুর্গাদহ বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা প্রশাসনের

দুর্গাদহ বাজারের সমস্যা সমাধান ও পরিসর বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরিকল্পিত দোকানপাটের কারণে বাজারটিতে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি বাজারটিকে আরও আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন সাপেক্ষে স্থানীয় চান্দিনা ভিটি ও তোহা বাজার অক্ষুণ্ণ রেখে আশপাশের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে হাট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং বেচাকেনা আরও সহজ হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ৫৩.২৫ মেট্রিক টন

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটে প্রতি হেক্টর জমিতে কলার গড় ফলন প্রায় ৫৩ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কলা সরবরাহের মাধ্যমে এ ফসল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে। তবে জমিতে রোগবালাই ও আবহাওয়াজনিত ক্ষতি এবং বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার সমস্যা অব্যাহত থাকলে চাষিদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উৎপাদন পর্যায়ে কৃষি পরামর্শ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কলার বাজার সম্প্রসারণ, পরিবহনব্যবস্থা উন্নত করা এবং দূরবর্তী পাইকারদের আকৃষ্ট করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ১২৬টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি নতুন সময়সূচির অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি রুটের ৫৯টি এবং ট্রানজিট রুটের ৬৭টি ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইনসের পাশাপাশি সাতটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও এ পরিস্থিতির আওতায় পড়েছে। সৌদি আরবগামী সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্থগিত হয়েছে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। এ সংস্থার ১৯টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।

সরাসরি রুটের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাঁদের নির্দিষ্ট তারিখে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া, পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াত কিংবা অন্য কোনো জরুরি কাজ রয়েছে, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটও স্থগিত হয়েছে। বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিগোর ২৪টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে।

ট্রানজিট রুটে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যেসব যাত্রী অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। একটি ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তিত হলে পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটে পৌঁছানো নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে অনেক যাত্রীকে নতুন করে ভ্রমণসূচি নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতে পারে। সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের রুটেই ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী এ পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ফ্লাইট স্থগিত থাকায় যাত্রীরা কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ফ্লাইটের সময়সূচি, টিকিটের কার্যকারিতা এবং সংযোগকারী ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিয়েও তাঁদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে তথ্য জানতে হচ্ছে। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ সময়সূচি ও টিকিটের অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রানজিটে ভ্রমণকারীদের সংযোগকারী ফ্লাইটের সময়সূচি ও পরিবর্তিত বুকিংয়ের বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি