খুঁজুন
                               
, ,
           

তারেক রহমানের কাছে সম্পাদকদের প্রত্যাশা যেসব বিষয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের কাছে সম্পাদকদের প্রত্যাশা যেসব বিষয়ে

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:

রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে জাতীয় সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদ সংস্থা এবং অনলাইন মিডিয়ার সম্পাদক এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠানে প্রাঞ্জল ও যুক্তিনির্ভর বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। অনুষ্ঠানে সম্পাদকরা তার কাছে গণতন্ত্র, স্বাধীন সাংবাদিকতাসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাট বন্ধ হওয়া, বাজারে দ্রব্যমূল্য যেন মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে এবং পুলিশ বাহিনীকে নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তারেক রহমানকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুভেচ্ছা জানান ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন। ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে এসেছেন এমন মন্তব্য ছিল দৈনিক মানব জমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর। তিনি বলেছেন, সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ- এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে সম্মিলিতভাবে করতে হবে।

বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশে আসায় বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী সময় এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ের জার্নালিজমের ট্র্যাকগুলো ভালোভাবে স্মরণ রাখতে হবে। বিগত ১৮ বছর জার্নালিজম করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। বিদেশে চলে গিয়ে জার্নালিজম করা আর বন্ধুকে নলের মুখে জার্নালিজম করা কঠিন। দৈনিক ইনকিলাবের ওপর ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব বন্ধ হয়েছিল। আমাদের অফিস থেকে নিউজ এডিটর, চিফ রিপোর্টারসহ ৬ জনকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। আমি পলাতক ছিলাম। আমার বাসা অফিস সব জায়গায় তল্লাশি করা হয়েছে। এরকম অনেক ঘটনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাহমুদুর রহমান, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, শফিক রেহমান, আবুল আসাদসহ সবার উপর যে অন্যায় হয়েছে, সেসব নিউজ দৈনিক ইনকিলাবে ছাপা হয়েছে। ছাপা হয় নাই, এই কথা ঠিক না। তারা বিদেশে ছিলেন বা জেলে ছিলেন, তাই দেখতে পারেন নাই। এই বিষয়গুলো বিএনপিকে স্মরণ রাখতে হবে। এখন এই পরিবেশে যে জার্নালিজম, সেটা তখন সম্ভবকর ছিলো না। ওর মধ্যেও গুরুত্ব সহকারে নিউজগুলো ছাপানো হয়েছে। তারেক রহমানের যে বিশাল ব্যক্তিত্ব এখন তৈরি হয়েছে, সেটা কিন্তু ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী জার্নালিজমের কারণেই হয়েছে।’ ইনকিলাব সম্পাদক বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, আশা এবং যতগুলো সার্ভে আছে; সে অনুযায়ী তারেক রহমানই আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী। আগাম শুভেচ্ছা থাকলো। আমরা আশা করি তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে খুব দ্রুতই সাংবাদিকদের সাথে আরও ‘ইফেক্টিভ ওয়ে’তে কাজ করবেন।’

অনুষ্ঠানে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত ছিলেন না। তিনি জানতেন না মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে হয়েছে এবং তিনি ফিরে এসেও জানার চেষ্টা করেন নাই মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে হয়েছে। তাকে আওয়ামী লীগের লোকজন যা বলেছে এবং ভারতীয় পক্ষ যা বলেছে, সেটাকেই তিনি ধরে নিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন এটাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। এজন্যই তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। তারেক রহমানের উদ্দেশে মাহমুদুর রহমান বলেন- তারেক রহমান, আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। আপনি জানেন না এখানে কী হয়েছে। আপনার লোকজন আপনাকে যা বলেছে সেটাই আপনি শুনেছেন। এখন যারা মিডিয়ার নতুন বন্ধুরা আপনাকে যেটা বলছে, সেটাই আপনি শুনছেন। আপনি মনে করছেন, এটাই বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস। বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস এটা না। সেই ইতিহাস আমি বর্ণনা করব। ভবিষ্যতে যদি আপনি এরকম কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সেখানে।

লিখতে চান ও বলতে চান জানিয়ে দৈনিক মানব জমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘মিডিয়া ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর অনেকটাই স্বাধীন। অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। নিয়ন্ত্রিত এই কারণে বলছি- মব ভায়োলেন্সের কারণে আমরা সাহসী হতে পারছি না। আমাদের হাত-পা বাঁধা হয়ে যাচ্ছে। মিডিয়া অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়, সংবাদপত্র অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়, তখন আমার ভাবতে কষ্ট লাগে যে আমরা জাহান্নামে আছি না বেহেশতে আছি।’

তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে এসেছেন। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে সম্মিলিতভাবে করতে হবে। দলের মধ্যে থেকে যদি করার চেষ্টা করা হয় তাহলে অতীতের মতোই কিন্তু ভুল হবে। সেই ভুল থেকে এমন একটা অবস্থায় চলে যাব, যেখান থেকে আমাদের ফিরে আসা কঠিন হবে। দেশ অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন বলেন, যে উগ্রবাদ আমাদের গ্রাস করার চেষ্টা করছে, এই উগ্রবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে তারেক রহমান ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনো বিকল্প নেই।

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সুশাসন চাই। এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি এবং আপনাকেও (তারেক রহমান) নিশ্চয়ই অনেকে বলেছেন। তিনি আরও বলেন, একটি দু’টি বিষয়ে মনে হয় যথেষ্ট আলোচনা হচ্ছে না। সেটা হচ্ছে-বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো কী। আমি মনে করি, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্লাইমেট চেঞ্জ। এ নিয়ে কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো অত আলোচনা করছে না। বাংলাদেশ কিন্তু একদম ফ্রন্টলাইন দেশের মধ্যে কয়েকটা। ক্লাইমেট চেঞ্জের কী যে ইমপ্যাক্ট হবে-এটা অলরেডি কোস্টাল এরিয়াতে দেখতে পাচ্ছি।’

নিউজ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ‘এমন সময়ে সবাই সমবেত হয়েছি যখন একটা পুরনো স্বৈরতান্ত্রিক একটা ব্যবস্থা গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটেছে। যেই জন্যে মানুষের এত আত্মদান, সেই আত্মদানের ভিত্তিতে মানুষের আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ গড়ে উঠবার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি আমরা। কিন্তু সেটা এখনো গড়ে ওঠে নাই।’ তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে আমরা রাজনীতির সংস্কৃতির নানা ধরনের প্রবণতা দেখেছি। এটার মধ্যে ডান, বাম, মধ্যবর্তী সকল রাজনৈতিক ধারা সক্রিয় ছিল। আবার এগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন, সাধারণভাবে একটা শান্তিপূর্ণ সামাজিক রাজনৈতিক অবস্থা দেখতে চান- এমন লক্ষ লক্ষ মানুষ ছিল। তাদের আত্মদান আছে। এই সময়ে পরস্পরকে দোষারোপ না করে রাজনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দিকে এগোনোর আলোচনা হলে সময়ের প্রতি সুবিচার হবে।

নূরুল কবীর আরও বলেন, পৃথিবীতে এমন কোনো জায়গায় কখনোই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় নাই, যেখানে গণমাধ্যমের আইনগত, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছিল না। ফলে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম আর মিডিয়ার গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা এই দুইটা হাত ধরাধরি করে চলেছে। আমরা যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর চাই তাহলে অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পাশাপাশি একটা গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকতে হবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, ‘১৭ বছর টানা বিদেশে থাকাটা খুব কঠিন বিষয়। যখন আপনি নিশ্চিত করে জানেন যে, চাইলেও আপনি এক দিন বা দুদিনের জন্য দেশে ফিরতে পারবেন না। আমার কিছু দিন বিদেশে থাকার অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি জানতাম যে, আমি চাইলে দেশে যেতে পারব।’ প্রায় দেড় যুগের নির্বাসন কাটিয়ে গেল ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। সেদিন এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশ নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। তারেক রহমানের সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, “আপনি আসতে পেরেছেন; স্বপ্ন নিয়ে এসেছেন; একটা পরিকল্পনার কথা বলেছেন। পরিকল্পনা আছে আপনার। ‘আমি শুধু বলতে চাই যে, আপনার সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হোক, পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন হোক। আপনাকে শুভেচ্ছা জানাই, অভিনন্দন জানাই, ভালো থাকুন।’

কালের কণ্ঠর সম্পাদক হাসান হাফিজ বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে, গোয়েন্দা শাসিত মিডিয়া। সেই অবস্থার পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। আমরা সত্যিকারের মত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই, যেটা শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সময় আমরা পেয়েছি।’ তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে আসনে আসনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে করমর্দন ও কুশল বিনিময় করেন। কক্ষের একেবারে পেছনের সারিতে আলোকচিত্রীদের কাছে গিয়েও হাত মেলান তিনি।

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

 

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে মামলাটির রায় অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ফলে যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ সিদ্ধান্ত দেন। মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।

এর আগে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। শুনানিতে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। পাশাপাশি আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশও চাওয়া হয়।

মামলার সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন—ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ও আসামিপক্ষের বক্তব্যসহ মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা শেষে এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষা। রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ না হওয়ায় যেকোনো দিন তা প্রকাশ হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

প্রবাসীদের সরকারি নথি সত্যায়নে জটিলতা নিরসনে রুল জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রবাসীদের সরকারি নথি সত্যায়নে জটিলতা নিরসনে রুল জারি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্মসনদ, শিক্ষাগত সনদসহ বিভিন্ন সরকারি নথি সত্যায়নে বিদ্যমান জটিলতা ও ভোগান্তি নিরসনে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেটগুলোতে নথি সত্যায়নের ক্ষেত্রে ‘ডাবল লেজিসলেশন’ বা বারবার সত্যায়নের প্রক্রিয়া কেন বেআইনি হবে না, একইসঙ্গে ‘হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন’(উদ্দেশ্য নথি সত্যায়নের জটিলতা দূর করতে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি) অনুযায়ী কেন একটি অভিন্ন নীতিমালা জারি করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নূরে আলম জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান।

রুলের জবাব দিতে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পররাষ্ট্র সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

শুনানিতে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ‘সাধারণত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে জন্মসনদ, বিবাহ সনদ বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মতো নথিগুলো আইন অনুযায়ী নোটারাইজড ও অ্যাপোস্টিল করার পরও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো পুনরায় অথেন্টিকেশন বা সত্যায়ন করতে বাধ্য করে। এর ফলে একই নথি নিয়ে মানুষকে একাধিক দফতর ও মিশনে ঘুরতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘অনেক দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাসস্থান থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে। সেখানে যাতায়াত, আবাসন ব্যয় এবং কর্মস্থল থেকে ছুটি নেওয়ার ফলে প্রবাসীরা চরম আর্থিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময়সীমা পার হয়ে যায় এবং চাকরিতে যোগদান বিলম্বিত হয়।’

আদালতে জানানো হয়, আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আগেই প্রজ্ঞাপন বা সার্কুলার জারি করা হলেও দূতাবাসগুলো তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না। একেক দূতাবাসে একেক নিয়ম চালু থাকায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে।

শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে- বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোকে অভিন্ন নির্দেশনা না দিয়ে পাবলিক ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে পুনরায় লেজিসলেশন বা সত্যায়ন করার চলমান নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন অনুযায়ী একটি অভিন্ন নীতিমালা কেন জারি করা হবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন প্রতিটি মিশনকে একই নিয়মের আওতায় আনতে নির্দেশনা দেবে না এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বরের এসআরওগুলোর ইমপ্লিমেন্টেশন বা বাস্তবায়ন কেন নিশ্চিত করা হবে না।

একইসঙ্গে দূতাবাসগুলোর ওয়েবসাইট, ম্যানুয়াল এবং পাবলিক নোটিশগুলো হালনাগাদ করে সঠিক তথ্য প্রচারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো নথি একবার অ্যাপোস্টিল করা হলে তা ওই কনভেনশনভুক্ত দেশগুলোতে পুনরায় সত্যায়ন ছাড়াই গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা। বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার পদক্ষেপ নিলেও মাঠ পর্যায়ে বিশেষ করে বিদেশের মিশনগুলোতে এর সুফল মিলছে না- এমন অভিযোগে রিটটি করা হয়েছিল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শ্যামল দত্তসহ ৩ সাংবাদিককে নতুন মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
শ্যামল দত্তসহ ৩ সাংবাদিককে নতুন মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

জুলাই আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৪ আগস্ট সশরীরে তাদের হাজির করতে ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ ইস্যু করেছেন আদালত।

সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।

তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত টকশো বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে উস্কানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ আরও জানান, এ ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তে এরই মধ্যে তদন্ত সংস্থা এই তিন সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং সুষ্ঠু বিচারের প্রয়োজনে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আবশ্যক। এজন্য আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন জানিয়েছিলাম।

শুনানি শেষে আদালত প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং কারাবন্দি এই তিন সাংবাদিককে আগামী ২৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন।

গত জুলাই আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো ও গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠে এই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে।

ওই সময়ে ঘটা হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনায় করা একাধিক মামলায় তাদের নাম আসায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়েরের ধারাবাহিকতায় এবার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ