খুঁজুন
                               
, ,
           

শব্দদূষণ কমাতে গাজীপুরে ৫৫০ বাসে হর্ন পরিবর্তনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
শব্দদূষণ কমাতে গাজীপুরে ৫৫০ বাসে হর্ন পরিবর্তনের উদ্যোগ

গাজীপুরকে শব্দদূষণমুক্ত করতে গণপরিবহনে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলার গণপরিবহনে ব্যবহৃত সাড়ে পাঁচশর বেশি বাস থেকে হাইড্রোলিক হর্ন খুলে সহনীয় মাত্রার মিউজিক হর্ন স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পরিবহন মালিক ও চালকেরা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া।

জেলা প্রশাসক বলেন, গাজীপুরকে শব্দদূষণমুক্ত করার অন্যতম উপায় হলো গাড়ির হর্ন, বিশেষ করে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধ করা। এ বিষয়ে পর্যায়ক্রমে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, গণপরিবহনের চালকসহ শব্দদূষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের সঙ্গে আলোচনায় তারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সাড়ে পাঁচশর বেশি বাস হাইড্রোলিক হর্নমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসব বাসে মানুষের কানের জন্য সহনীয় ও শ্রুতিমধুর হর্ন ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া হর্ন না বাজানোর বিষয়েও তারা সম্মত হয়েছেন।

নুরুল করিম ভূঁইয়া জানান, গত দুই মাসে শব্দদূষণবিরোধী কর্মসূচির সময় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ প্রায় ৯০০ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করেছে। জেলা পুলিশও এ বিষয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের একটাই উদ্দেশ্য—মানুষকে স্বস্তি দেওয়া এবং একটি শান্ত ও শব্দদূষণমুক্ত গাজীপুর গড়ে তোলা।’

সভায় গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, জিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম আশরাফুল আলম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজিরসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে মশাবাহিত এ রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৪২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একজন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় একজন এবং রাজশাহী বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ৩৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায়। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৩০১, খুলনা বিভাগে ২৬৪, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৯, বরিশাল বিভাগে ২১৩, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭৮, রাজশাহী বিভাগে ১৭৯, ময়মনসিংহ বিভাগে ১২০, রংপুর বিভাগে ৫৬ এবং সিলেট বিভাগে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের দুই সিটি করপোরেশনসহ মোট ১১৩ জন মারা গেছেন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৪৫, ময়মনসিংহে ২০, চট্টগ্রামে ২৩, বরিশালে ১৮, রাজশাহীতে ১৪, রংপুরে পাঁচ এবং সিলেট বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বিএসটিআইয়ের অভিযানে রাজশাহীতে অনুমোদনহীন পণ্য জব্দ

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
বিএসটিআইয়ের অভিযানে রাজশাহীতে অনুমোদনহীন পণ্য জব্দ

রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় ভেজালবিরোধী অভিযানে অনুমোদনহীন অলিভ অয়েল ও ব্রেড জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রি বন্ধ রাখতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় বিজ্ঞ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল তারেকের নেতৃত্বে এবং বিএসটিআই বিভাগীয় অফিস, রাজশাহীর সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের শুরুতে শালবাগানের মেসার্স আলম ফিলিং স্টেশনে অকটেন ও ডিজেল ডিসপেন্সিং ইউনিটের তেল পরিমাপ করা হয়। পরিমাপে সঠিকতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানানো হয়।

পরে শালবাগান বিজিবি গেট এলাকার কনক কনফেকশনারিতে বিভিন্ন পণ্য যাচাই করা হয়। এ সময় অনুমোদনবিহীন অলিভ অয়েল ও ব্রেড পাওয়া গেলে সেগুলো জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের সরবরাহকারীকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে বিএসটিআই, রাজশাহী কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনুমোদনহীন সব পণ্য বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া শালবাগান কাঁচাবাজারের মাছ, মাংস, ফলমূল ও সবজির দোকানে ব্যবহৃত ওজনযন্ত্র পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ওজনযন্ত্রগুলোতে সঠিক পরিমাপ পাওয়া যায়। এ কারণে ব্যবসায়ীদের ধন্যবাদ জানানো হয় এবং ভোক্তাদের সঠিক ওজন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বাজারের দোকানগুলোতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনবিহীন পণ্য বিক্রি না করার বিষয়েও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।

অভিযান শেষে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল তারেক সাংবাদিকদের বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যবসায়ীরা যাতে অসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার মুখে না পড়েন, সে জন্য আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অভিযানে বিএসটিআই বিভাগীয় অফিস, রাজশাহীর সহকারী পরিচালক (মেট্রোলজি) মো. আজিজুল হাকিমের নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দক্ষতার ময়দানে তরুণ নেতৃত্ব, লড়াইয়ের প্রস্তুতির ডাক এলজিআরডি মন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
দক্ষতার ময়দানে তরুণ নেতৃত্ব, লড়াইয়ের প্রস্তুতির ডাক এলজিআরডি মন্ত্রীর

যে প্রজন্মের হাতে ভবিষ্যৎ, তাদের অপেক্ষায় বসে থাকার সুযোগ নেই। দেশের আগামী দিনের রূপরেখা কেবল নীতিনির্ধারকদের টেবিলে আঁকা হবে না; তার বড় অংশ নির্ধারিত হবে তরুণদের দক্ষতা, নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধে। সেই বাস্তবতার কথাই মনে করিয়ে দিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান তরুণদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন—একটি ভিন্ন ধরনের যুদ্ধে নামার জন্য। তার ভাষায়, ‘এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাওয়ার সময় তার।’

  • ক্লাসরুমের নেতৃত্ব এবার বাস্তবের ময়দানে
  • ডিগ্রির পাশাপাশি নেতৃত্ব ও দক্ষতার ওপর জোর
  • উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা

তবে এই যুদ্ধ অস্ত্রের নয়; উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণের। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করাই তরুণদের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের ‘গ্র্যাজুয়েশন সিরিমনি-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

যুদ্ধের অস্ত্র যখন জ্ঞান
ড.মঈন খানের বক্তব্যে ‘যুদ্ধ’ শব্দটি এসেছে একটি রূপক অর্থে—যে লড়াইয়ের ময়দান অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, নেতৃত্ব ও জনকল্যাণ; আর যার অস্ত্র জ্ঞান ও দক্ষতা। তরুণদের সেই লড়াইয়ের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপরই জোর দিয়েছেন তিনি। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে কেবল কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যানে আটকে না রেখে জাতীয় সম্পদে পরিণত করার প্রয়োজনীয়তাও তার বক্তব্যে স্পষ্ট। দক্ষতা অর্জন, নেতৃত্বের সক্ষমতা তৈরি এবং দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা—এই তিনটিকেই তিনি ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি হিসেবে সামনে এনেছেন।

সনদ নয়, শুরু হচ্ছে আসল যাত্রা
গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে সনদ হাতে নেওয়া তরুণদের জন্য মন্ত্রীর বার্তাও ছিল প্রচলিত অভিনন্দনের বাইরে। তার মতে, প্রশিক্ষণ শেষ হওয়া মানে কোনো পথের সমাপ্তি নয়; এটি বাস্তব জীবনের কঠিন পরীক্ষায় প্রবেশ। ক্লাসরুমে শেখা নেতৃত্ব তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা মানুষের প্রয়োজনে কাজে লাগবে। ব্যক্তিগত সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার পাশাপাশি সমাজের জন্য কিছু করার দায়ও তরুণদের নিতে হবে—মন্ত্রীর বক্তব্যে এমন প্রত্যাশাই উঠে এসেছে।

অতীতের তরুণ, আগামীর নির্মাতা
বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর সঙ্গে তরুণদের অবদানের সম্পর্কও তুলে ধরেন মন্ত্রী। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন পর্যায়ে তরুণদের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণেও একই উদ্যম প্রত্যাশা করেন। তবে সময় বদলেছে, বদলেছে চ্যালেঞ্জের ধরনও। ফলে অতীতের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যতের নতুন বাস্তবতায় রূপান্তর করাই এখন তরুণদের বড় পরীক্ষা। আত্মত্যাগের ইতিহাসকে দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের শক্তিতে পরিণত করার আহ্বান তাই তার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

নেতৃত্বের পাঠ এবার বাস্তবের মাঠে
বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে উল্লেখ করেন ড.মঈন খান। তার বক্তব্যে স্পষ্ট—দ্রুত বদলে যাওয়া পৃথিবীতে শুধু ডিগ্রি দিয়ে পথ চলা কঠিন; প্রয়োজন সমস্যা বোঝার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস এবং মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নেতৃত্ব। গ্র্যাজুয়েটদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী দেশের জন্য, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে