যুক্তরাজ্য অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসে নিয়ম বদলের ইঙ্গিত যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যে বিদেশিদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে অপেক্ষার সময় বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে ভাবার ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। লেবার পার্টির ভেতরে এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে আপত্তি ওঠার পর তিনি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার কিছু অংশ নিয়ে ন্যায্যতার প্রশ্ন থাকায় সরকার বিভিন্ন পক্ষের মতামত বিবেচনা করছে।
পাঁচ বছর থেকে ১০ বছরের প্রস্তাব
যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি ‘ইনডেফিনিট লিভ টু রেইমেন’ বা আইএলআর নামে পরিচিত। বর্তমানে অনেক দক্ষ কর্মী এবং স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাতের নির্দিষ্ট ভিসাধারীরা পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন।
সরকারের প্রস্তাবিত পরিবর্তনে অধিকাংশ অভিবাসীর ক্ষেত্রে এই সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কম বেতন ও নির্দিষ্ট কিছু পেশায় কর্মরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক পরিচর্যা খাতের কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত বেসলাইন সময় ১৫ বছর হতে পারে।
লেবার পার্টির ভেতরেই আপত্তি
প্রস্তাবটি নিয়ে লেবার পার্টির মধ্যেই বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। সাবেক ডেপুটি লেবার নেতা ও হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার বিশেষ করে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকা পরিচর্যা কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়ম পরিবর্তনের সমালোচনা করেছেন।
ট্রেড ইউনিয়ন ইউনিসনও প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। সংগঠনটির মহাসচিব আন্দ্রেয়া ইগান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি পরিচর্যা কর্মীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে এবং কর্মী সংকটে থাকা এই খাত থেকে অভিজ্ঞ কর্মীরা চলে যেতে পারেন।
‘ন্যায্যতার ভারসাম্য’ চান মাহমুদ
লেবার পার্টির সম্মেলনে শাবানা মাহমুদ বলেন, বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে এসে নতুন জীবন শুরু করা মানুষের প্রতি যেমন ন্যায্যতা থাকতে হবে, তেমনি ব্রিটিশ নাগরিকদের স্বার্থও বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি জানান, পরামর্শ প্রক্রিয়ায় অনেকে প্রস্তাবের কিছু অংশকে অন্যায্য বলেছেন এবং সরকার এসব মতামত বিবেচনা করেই চূড়ান্ত অবস্থান নেবে।
এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাব নিয়ে পাওয়া বিপুলসংখ্যক মতামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
পরিচর্যা কর্মীদের নিয়ে বিশেষ বিতর্ক
প্রস্তাবের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো বিদেশি পরিচর্যা কর্মীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা। বর্তমান ব্যবস্থায় যারা পাঁচ বছরের রুটে রয়েছেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ওই সময়ের পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। নতুন ব্যবস্থায় সামাজিক পরিচর্যা খাতের কর্মীদের ক্ষেত্রে ১৫ বছরের বেসলাইন প্রস্তাব করা হয়েছে।
এরই মধ্যে বিদেশি পরিচর্যা কর্মীদের সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলো নিয়ম পরিবর্তনের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। অন্যদিকে সরকার অভিবাসন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ ও স্থায়ী বসবাসের অধিকার অর্জনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বাকি
শাবানা মাহমুদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, স্থায়ী বসবাসের নতুন নিয়মের কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ করে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকা বৈধ অভিবাসী ও পরিচর্যা কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পরিবর্তন কীভাবে কার্যকর হবে, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে।
ফলে পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর বা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ১৫ বছর অপেক্ষার প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত কোন কাঠামোয় বাস্তবায়িত হবে, তা সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array