খুঁজুন
                               
, ,
           

শীর্ষ রাজনীতিকদের চোখে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
শীর্ষ রাজনীতিকদের চোখে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

রাইসুল ইসলাম খান/আমান উল্লাহ খান, কালের আলো:

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হয়েছে বীরোচিত। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন তার সমীপে। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির জন্য যেমন সুযোগ। তেমনি দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ভিত্তি দিতেও রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। রাজনীতিতে অনেক পরিণত তারেক রহমান ফেরার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী হওয়ার পথ সুগম হবে। ফিরে আসবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা-এমন প্রত্যাশা তাদের।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান লিখেন, ‘জনাব তারেক রহমান, সপরিবারে সুস্বাগতম!’ দলটির আমির শফিকুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তার একজন রাজনৈতিক সহকর্মী দীর্ঘ ১৭ বছর পর সরাসরি রাজনীতির মাঠে ফিরছেন, এটিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। একইসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঐক্যের ব্যাপারে তারেক রহমান কী ভূমিকা রাখেন অথবা কী পরিকল্পনা আছে তার এবং বাস্তবায়ন কীভাবে করবেন- এসব বিষয়ে জামায়াত নজর রাখবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও বিবিসিকে বলেছেন, তিনিও ইতিবাচক হিসেবে দেখেন তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘটনাটিকে। তবে তিনিও মনে করেন, তারেক রহমান কীভাবে ভূমিকা রাখেন, তার ওপর নির্ভর করে জাতীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান তৈরি হবে।

একই দিন সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একপোস্টে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘একজন বাংলাদেশি নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতার নিজ ভূমিতে ফেরার এই অধিকারটি পুনরুদ্ধার হওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইয়েরই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।’

নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একজন বাংলাদেশি নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতার নিজ ভূমিতে ফেরার এই অধিকারটি পুনরুদ্ধার হওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইয়েরই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।’ তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনধারা নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘তারেক রহমান এবং তার পরিবার রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং তাকে দীর্ঘ সময় নির্বাসিত থাকতে হয়েছে। হাজারো শহীদের রক্তদানের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ফলে এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে যেখানে তিনি ও তার পরিবার দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন।’

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশ রাষ্ট্র চাই যেখানে ভবিষ্যতে ভিন্নমতের কারণে কোনো রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যাতে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। বিগত দেড় দশকের অবরুদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ ভেঙে আমরা আজ যে মুক্ত বাংলাদেশের পথে হাঁটছি, সেখানে প্রতিটি নাগরিকের আইনের শাসন ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ নতুন বাংলাদেশে তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও সুসংহত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহাবস্থান এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমানকে স্বদেশে স্বাগত জানাই। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তাঁর এই অংশগ্রহণ ফলপ্রসূ হোক।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তারেক রহমানের আগমন দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে আমরা আশা করি। কারণ দেশের রাজনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছিল। বিশেষ করে বিএনপির মতো বৃহৎ একটি দল সরাসরি নেতৃত্ব বঞ্চিত ছিল। তারেক রহমানের আগমনে সেই শুন্যতা পূরণ হবে বলে আশা করা যায়। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রেজাউল করীম এসব বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, ১৭ বছর পরে তারেক রহমানের আগমনের মর্মে আরেকটি নির্মম সত্য আছে, সেটা হলো সহিংস ও প্রতিহিংসার রাজনীতি। পতিত ফ্যাসিস্টের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে নির্বাসনে থাকতে হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে প্রতিহিংসা চিরতরে উৎখাত হোক সেই প্রচেষ্টা তারেক রহমানসহ আমাদের সবার চালিয়ে যেতে হবে। আশা করি তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সুস্থতায় অবদান রাখবেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, তারেক রহমান তার বক্তব্যে নিজস্ব প্লান থাকার কথা বলেছেন। সেই প্লানে ইতিবাচক সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিকাশ এবং ফ্যাসিবাদের চিরস্থায়ী বিলোপের বন্দোবস্ত থাকবে বলে আমরা আশা করি। রেজাউল করীম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরেও দীর্ঘদিন তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকার পেছনে কিছু অস্পষ্ট কারণের আভাষ দিয়েছেন। বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে আগমন অন্যকারো নিয়ন্ত্রণাধিন থাকবে এটা মেনে নেয়া যায় না। এমন কোন পরিস্থিতি আদতেও থেকে থাকলে সকলে মিলে তা প্রতিহত করতে হবে। সেই বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বিষয়টি পরিস্কার করা দরকার বলে মনে করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

নোয়াখালীর মাটির ঘর থেকে জর্জিয়ার সিনেটে নাবিলাহ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
নোয়াখালীর মাটির ঘর থেকে জর্জিয়ার সিনেটে নাবিলাহ

নোয়াখালীর এক গ্রামের মাটির ঘর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট—দূরত্বটা কেবল ভৌগোলিক নয়, এটি একটি অভিবাসী পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রাম ও প্রজন্মের পরিবর্তনের গল্প। সেই গল্পের অন্যতম মুখ নাবিলাহ ইসলাম পার্কস। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান নাবিলাহ ২০২২ সালে জর্জিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস তৈরি করেন। তিনি হন জর্জিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী।

তবে এই জায়গায় পৌঁছানো তাঁর জন্য সরল কোনো পথ ছিল না। কংগ্রেসে যাওয়ার প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। ২০২০ সালে জর্জিয়ার ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মাত্র ৩০ বছর বয়সে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত না হলেও সেই অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক পথচলা থামাতে পারেনি।

নোয়াখালী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বাবা-মায়ের সংগ্রাম

নাবিলাহর শিকড় বাংলাদেশের নোয়াখালীতে। তাঁর বাবা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আইআরএসে ফাইল ক্লার্ক হিসেবে কাজ করেন। মা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন শ্রমঘন কাজে যুক্ত ছিলেন; একসময় হার্ডিজে রান্নার কাজের পাশাপাশি ওয়্যারহাউসেও কাজ করেছেন। জর্জিয়ার সরকারি জীবনীতে তাঁর পরিবারকে বাংলাদেশ থেকে আসা ‘working-class immigrants’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের সেই সংগ্রাম নাবিলাহর রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাতেও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে তাঁর মায়ের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি ঘটনা তাঁকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করার দিকে নিয়ে যায়।

কাজ করার সময় তাঁর মায়ের দুটি ডিস্কে সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা ব্যয়ের স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। নাবিলাহ তখন পরিবারের হয়ে বিষয়টি মোকাবিলায় যুক্ত হন। ২০২০ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কিশোর বয়সেই মায়ের চিকিৎসা ও বীমা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করতে হয়েছিল।

কংগ্রেসের লড়াইয়ে প্রথম বড় পরীক্ষা

জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শেষ করার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনে কাজ শুরু করেন নাবিলাহ। ২০২০ সালে তিনি জর্জিয়ার ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে প্রার্থী হন।

তখন তাঁর বয়স ছিল ৩০ বছর। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে যাওয়ার এই প্রচেষ্টা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় নিয়ে আসে। সে সময় তিনি স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

তবে সেই নির্বাচনে তিনি জয়ী হননি। ২০২০ সালের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ছয়জনের মধ্যে তিনি তৃতীয় হন এবং প্রায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পান।

পরাজয়ের পর নতুন পথে যাত্রা

কংগ্রেস নির্বাচনের অভিজ্ঞতার পরও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন নাবিলাহ। জর্জিয়ায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটারদের নিয়ে সংগঠনের কাজ করেন। পরে ২০২২ সালে জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ৭ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে প্রার্থী হন।

সেবার তাঁর রাজনৈতিক যাত্রায় আসে বড় পরিবর্তন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি জর্জিয়া স্টেট সিনেটে প্রবেশ করেন এবং একই সঙ্গে তৈরি করেন ইতিহাস—প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ওই কক্ষে নির্বাচিত হন তিনি।

জর্জিয়া স্টেট সিনেটের সরকারি জীবনী অনুযায়ী, নাবিলাহ ২০২২ সালে নির্বাচিত হন এবং ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস, চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ভেটেরানস, মিলিটারি অ্যান্ড হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন।

ইতিহাস গড়া সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি

স্টেট সিনেটে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়ার পর নাবিলাহ ২০২৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তবে চলতি বছরের মার্চে তিনি সিনেট থেকে পদত্যাগ করেন। জর্জিয়া রেকর্ডার ও অন্যান্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে নির্বাচনী প্রচারে পূর্ণ সময় দেওয়ার জন্য তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

১৩ মার্চ ২০২৬ তাঁর সিনেট থেকে সরে দাঁড়ানোর দিন ছিল। এর আগে তিনি লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রার্থীতা দাখিল করেছিলেন।

বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের জন্য আলাদা তাৎপর্য

নাবিলাহর রাজনৈতিক পথচলায় বাংলাদেশের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কটি গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিচয়। জর্জিয়া স্টেট সিনেটের সরকারি জীবনীতে তাঁর বাবা-মাকে বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ছোটবেলায় তিনি বাবা-মাকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে এবং একাধিক চাকরি সামলাতে দেখেছেন।

তাঁর জীবনের পথচলায় তাই উঠে আসে অভিবাসী পরিবারের অর্থনৈতিক সংগ্রাম, স্বাস্থ্যসেবার অভিজ্ঞতা, রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন।

কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ব্যর্থতা থেকে শুরু করে স্টেট সিনেটে ইতিহাস তৈরি—নাবিলাহ ইসলামের যাত্রা দেখিয়েছে, একটি নির্বাচনে পরাজয় রাজনৈতিক পথচলার শেষ নয়। নোয়াখালীর শিকড় থাকা এক বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে তাঁর উত্থান এখন বাংলাদেশি-আমেরিকান রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের আলোচনায়ও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

কালের আলো/জেএন

জীবন সায়াহ্নে আড্ডায় খুঁজে পান বেঁচে থাকার আনন্দ

গাইবান্ধা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
জীবন সায়াহ্নে আড্ডায় খুঁজে পান বেঁচে থাকার আনন্দ

বয়স বাড়ে, কর্মজীবন থেমে যায়, কমে আসে ব্যস্ততা। যে মানুষটি একসময় পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের নানা কাজে ছুটে বেড়িয়েছেন, জীবনের এক পর্যায়ে তাকেই খুঁজতে হয় কথা বলার একজন মানুষ, একটু আড্ডা কিংবা পুরোনো দিনের গল্প শোনার কোনো আপন ঠিকানা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সেই ঠিকানাই নিজেদের জন্য তৈরি করেছেন একদল প্রবীণ। নাম দিয়েছেন ‘বেলা শেষের যাত্রী’।

সন্ধ্যা নামলেই উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চৈতন্য বাজারের একটি ছোট্ট টিনের ঘরে জড়ো হন তারা। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে চলে গল্প। কখনো মুড়িমাখা, কখনো চানাচুর-ঝাল। কেউ পত্রিকা পড়েন, কেউ প্রথম যৌবনের স্মৃতি মনে করে গান ধরেন। আবার কেউ নাটকের সংলাপ শুনিয়ে মাতিয়ে রাখেন সবাইকে। চাকরিজীবনের স্মৃতি, জীবনের পাওয়া-না পাওয়া কিংবা ফেলে আসা মানুষের গল্পও ফিরে আসে সেই আড্ডায়।

‘এসো বন্ধুরা, জীবনের পড়ন্ত বিকালে ফেলে আসা অতীত জীবনের গল্প করি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৯ সালে পাঁচজন সদস্য নিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সদস্যসংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে।

বিআরডিবির অবসরপ্রাপ্ত উপপরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মণ্ডল ও তাঁর কয়েকজন সমবয়সী বন্ধুর উদ্যোগে শুরু হয় এ পথচলা। কর্মজীবন শেষে তিনি উপলব্ধি করেন, অবসরের সঙ্গে শুধু অফিসের ব্যস্ততাই শেষ হয় না; অনেক সময় কমে যায় মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও।

সেই শূন্যতা থেকেই নিজেদের বয়সী মানুষদের নিয়ে একটি মিলনস্থল তৈরির উদ্যোগ নেন তিনি। এরপর একে একে যুক্ত হন শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য, চিকিৎসক, কৃষি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পেশার মানুষ।

সংগঠনের সবচেয়ে কম বয়সী সদস্যের বয়সও ষাটোর্ধ্ব। অধিকাংশ সদস্যের বয়স ৬৫ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে। এরই মধ্যে পাঁচজন সদস্য মারা গেছেন। তাদের অনুপস্থিতিও এখন আড্ডার গল্পের অংশ হয়ে আছে।

বিনয় কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে একাকিত্ব ও অবহেলার অনুভূতি দূরে সরে যায়। বেঁচে থাকার জন্য নতুন উদ্যম পাওয়া যায়। মনে হয়, ‘আছি তো আমরাও।’ আনন্দ ও মানসিক শক্তি পাওয়া যায়, ভালো লাগা তৈরি হয়।

এই আড্ডার গভীরতা হয়তো এখানেই। এখানে কেউ কারও কাছে বয়স লুকান না। বরং বয়সের সঙ্গে জমে থাকা স্মৃতিগুলোই পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেন। ব্যস্ত জীবনে যে কথাগুলো বলা হয়নি, যে গল্পগুলো শোনার মানুষ পাওয়া যায়নি, সেগুলোই সন্ধ্যার পর জায়গা করে নেয় ছোট্ট ঘরটিতে।

কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও সংগঠক কঙ্কন সরকার বলেন, প্রবীণ মানেই অবহেলার মানুষ নন। তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা সমাজের বড় সম্পদ। কর্মজীবন শেষ হলেও একজন মানুষের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় না। এই বয়সে তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কথা বলার জায়গা, আপনজনের সঙ্গ এবং নিজেদের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ।

তিনি বলেন, ‘বেলা শেষের যাত্রী’ সেই জায়গাটিই তৈরি করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়লে প্রবীণদের একাকিত্ব কমবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মও তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ পাবে।

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু বলেন, প্রবীণরা আমাদের সমাজের অভিজ্ঞতার বাতিঘর। তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ নতুন প্রজন্মকে অনেক কিছু শেখাতে পারে। ‘বেলা শেষের যাত্রী’র মতো উদ্যোগ তাদের একাকিত্ব দূর করার পাশাপাশি পারস্পরিক বন্ধনও শক্তিশালী করছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে।

পাঁচজনকে নিয়ে শুরু হওয়া ছোট্ট উদ্যোগটি এখন ৪০ জনের বেশি প্রবীণের মিলনস্থল। তাদের চাওয়া খুব বেশি নয়—দিনের শেষে কয়েকটি পরিচিত মুখ, কিছু গল্প, একটু হাসি আর মন খুলে কথা বলার সুযোগ।

জীবনের বেলা হয়তো পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। কিন্তু তাদের আড্ডায় এখনো সন্ধ্যা নামে গল্প, গান আর হাসি নিয়ে। ‘বেলা শেষের যাত্রী’ তাই শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়; বয়সের শেষ প্রান্তেও মানুষ যে সঙ্গ, ভালোবাসা ও বেঁচে থাকার আনন্দ ভাগ করে নিতে চায়, এটি তারই এক জীবন্ত গল্প।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বাউফলে নদীভাঙনে বিলীনের পথে গ্রাম, ঝুঁকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
বাউফলে নদীভাঙনে বিলীনের পথে গ্রাম, ঝুঁকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তেঁতুলিয়া ও লোহালিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ধুলিয়া, নাজিরপুর, কারখানা ও কাছিপাড়া ইউনিয়নের একের পর এক এলাকা বিলীন হওয়ার পথে। বর্ষা ও জোয়ারের পানির তীব্র স্রোতে বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের শত শত মানুষ।

কাছিপাড়া ইউনিয়নে কারখানা নদীর ভাঙনে যেকোনো সময় বিলীন হতে পারে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে চররঘুনাথদ্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নদীর তীর থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব এখন মাত্র ২০ থেকে ২৫ ফুট। এছাড়া হিসাজাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীর তীর থেকে বিদ্যালয় দুটির দূরত্ব যথাক্রমে ৭০ থেকে ৮০ ফুট।

স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে যেভাবে নদীভাঙন বাড়ছে, তাতে বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পশ্চিম কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের প্রায় ৫০ ফুট জায়গা গত এক মাসেই নদীতে বিলীন হয়েছে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নোমান বলেন, নদীভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত বিদ্যালয় রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সে।

কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল চন্দ্র দাস বলেন, বিদ্যালয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত বছর বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন কিছুটা ঠেকানো হলেও প্রায় এক মাস আগে আবার ৫০ ফুট জায়গা নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি একটি মসজিদ ও বাজারও হুমকির মুখে পড়বে। বিদ্যালয়টি সরিয়ে নেওয়ার মতো আশপাশে কোনো জায়গা নেই বলেও জানান তিনি।

এদিকে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে ধুলিয়া ইউনিয়নের আয়তনও ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। ধুলিয়া লঞ্চঘাট, স্থানীয় লঞ্চঘাট বাজার, হাজারো একর ফসলি জমি ও শত শত বসতবাড়ি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে সাইক্লোন শেল্টারসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও সেতু নির্মাণের দাবিতে ধুলিয়ায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধনও হয়েছে। ইউএনও সালেহ আহমেদ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে টেকসই ব্লক দিয়ে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোতে নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা, নিমদী, কচুয়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বসতভিটা, আবাদি জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কাঁচা-পাকা সড়ক ও বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে বহু পরিবার অন্যত্র চলে যাচ্ছে।

নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদী পয়েন্টসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভাঙন রোধে সম্প্রতি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ইউএনও সালেহ আহমেদ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদও এলাকা পরিদর্শন করে টেকসই বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।

নদীভাঙনে যোগাযোগব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একের পর এক বসতঘর নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ভাঙনকবলিত মানুষের অভিযোগ, বছরের পর বছর জিও ব্যাগ ফেলা ও অস্থায়ী প্রতিরক্ষার আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থায়ী সিসি ব্লক বাঁধ নির্মাণের দাবিতে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হলে এসব এলাকা বাউফলের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহানেওয়াজ তালুকদার বলেন, নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাঙনকবলিত এলাকায় বার্জের মাধ্যমে বালুর বস্তা ফেলা হবে। এতে বস্তাগুলো পরিকল্পিতভাবে একটির ওপর আরেকটি বসানো সম্ভব হবে এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি স্থায়ী হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি