শীর্ষ রাজনীতিকদের চোখে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
রাইসুল ইসলাম খান/আমান উল্লাহ খান, কালের আলো:
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হয়েছে বীরোচিত। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন তার সমীপে। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির জন্য যেমন সুযোগ। তেমনি দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ভিত্তি দিতেও রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। রাজনীতিতে অনেক পরিণত তারেক রহমান ফেরার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী হওয়ার পথ সুগম হবে। ফিরে আসবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা-এমন প্রত্যাশা তাদের।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান লিখেন, ‘জনাব তারেক রহমান, সপরিবারে সুস্বাগতম!’ দলটির আমির শফিকুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তার একজন রাজনৈতিক সহকর্মী দীর্ঘ ১৭ বছর পর সরাসরি রাজনীতির মাঠে ফিরছেন, এটিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। একইসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঐক্যের ব্যাপারে তারেক রহমান কী ভূমিকা রাখেন অথবা কী পরিকল্পনা আছে তার এবং বাস্তবায়ন কীভাবে করবেন- এসব বিষয়ে জামায়াত নজর রাখবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও বিবিসিকে বলেছেন, তিনিও ইতিবাচক হিসেবে দেখেন তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘটনাটিকে। তবে তিনিও মনে করেন, তারেক রহমান কীভাবে ভূমিকা রাখেন, তার ওপর নির্ভর করে জাতীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান তৈরি হবে।
একই দিন সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একপোস্টে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘একজন বাংলাদেশি নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতার নিজ ভূমিতে ফেরার এই অধিকারটি পুনরুদ্ধার হওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইয়েরই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।’
নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একজন বাংলাদেশি নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতার নিজ ভূমিতে ফেরার এই অধিকারটি পুনরুদ্ধার হওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইয়েরই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।’ তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনধারা নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘তারেক রহমান এবং তার পরিবার রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং তাকে দীর্ঘ সময় নির্বাসিত থাকতে হয়েছে। হাজারো শহীদের রক্তদানের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ফলে এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে যেখানে তিনি ও তার পরিবার দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন।’
ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশ রাষ্ট্র চাই যেখানে ভবিষ্যতে ভিন্নমতের কারণে কোনো রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যাতে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। বিগত দেড় দশকের অবরুদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ ভেঙে আমরা আজ যে মুক্ত বাংলাদেশের পথে হাঁটছি, সেখানে প্রতিটি নাগরিকের আইনের শাসন ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ নতুন বাংলাদেশে তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও সুসংহত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহাবস্থান এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমানকে স্বদেশে স্বাগত জানাই। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তাঁর এই অংশগ্রহণ ফলপ্রসূ হোক।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তারেক রহমানের আগমন দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে আমরা আশা করি। কারণ দেশের রাজনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছিল। বিশেষ করে বিএনপির মতো বৃহৎ একটি দল সরাসরি নেতৃত্ব বঞ্চিত ছিল। তারেক রহমানের আগমনে সেই শুন্যতা পূরণ হবে বলে আশা করা যায়। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রেজাউল করীম এসব বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, ১৭ বছর পরে তারেক রহমানের আগমনের মর্মে আরেকটি নির্মম সত্য আছে, সেটা হলো সহিংস ও প্রতিহিংসার রাজনীতি। পতিত ফ্যাসিস্টের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে নির্বাসনে থাকতে হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে প্রতিহিংসা চিরতরে উৎখাত হোক সেই প্রচেষ্টা তারেক রহমানসহ আমাদের সবার চালিয়ে যেতে হবে। আশা করি তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সুস্থতায় অবদান রাখবেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, তারেক রহমান তার বক্তব্যে নিজস্ব প্লান থাকার কথা বলেছেন। সেই প্লানে ইতিবাচক সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিকাশ এবং ফ্যাসিবাদের চিরস্থায়ী বিলোপের বন্দোবস্ত থাকবে বলে আমরা আশা করি। রেজাউল করীম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরেও দীর্ঘদিন তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকার পেছনে কিছু অস্পষ্ট কারণের আভাষ দিয়েছেন। বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে আগমন অন্যকারো নিয়ন্ত্রণাধিন থাকবে এটা মেনে নেয়া যায় না। এমন কোন পরিস্থিতি আদতেও থেকে থাকলে সকলে মিলে তা প্রতিহত করতে হবে। সেই বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বিষয়টি পরিস্কার করা দরকার বলে মনে করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন



আপনার মতামত লিখুন
Array