খুঁজুন
                               
, ,
           

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান, প্রজ্ঞাপন জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান, প্রজ্ঞাপন জারি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা এক প্রজ্ঞাপন সূত্র এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১)-এর বিধান অনুযায়ী নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং কমিশনার হিসেবে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান এবং ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হলো।

এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১)-এর বিধান অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আর দুদক আইন, ২০০৪-এর ধারা ১৩-এর বিধান অনুযায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের এবং কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে আজ বিকেলে সার্চ কমিটি তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি দীর্ঘকাল হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ থেকে অবসরে যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আসাদুজ্জামান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থেকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

১৯৫৯ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন বিচারপতি আসাদুজ্জামান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ১৯৮৩ সালে তিনি জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগের এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।

এছাড়া কমিশনার হিসেবে নাম চূড়ান্ত হওয়া ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

অপর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সচিব। তিনি ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন বলে জানা গেছে।

গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার পদত্যাগ করার পর নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরপর নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। সার্চ কমিটি ছয় দফা বৈঠক করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতা পর্যালোচনা করে। পরে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার হিসেবে এ কে আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার নাম চূড়ান্ত করে।

২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন দুদকের প্রথম চেয়ারম্যান বিচারপতি সুলতান হোসেন খান থেকে সর্বশেষ মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন পর্যন্ত মোট সাতটি কমিশন দায়িত্ব পালন করে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা জটিলতায় মাত্র তিনটি কমিশন পুরো মেয়াদ পূর্ণ করতে পেরেছিল। বাকি চার কমিশন মেয়াদ পূর্ণ করার আগে বিদায় নিতে হয়। সর্বশেষ মোমেন কমিশন মেয়াদ পূরণ না করেই বিদায় নিয়েছে।

চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদ শূন্য থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুদকের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়। কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন এমন অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে আছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নিলে এসব কার্যক্রমে গতি ফেরার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে স্থায়ী হন তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সরকারি প্লট আত্মসাৎ

সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের মামলায় সাক্ষ্য শুরু হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের মামলায় সাক্ষ্য শুরু হয়নি

আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি। বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে এদিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য ছিল।

তবে এদিন কোনো সাক্ষী আদালতে না আসায় দুদক সময় আবেদন করে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ৬ জুলাই একই আদালত আসামিদের করা অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একইসঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৯ জুলাই দিন ধার্য করেন।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন– রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম, প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক সদস্য লে. কর্নেল (অব.) এম নুরুল হক, সাবেক পরিচালক আবদুর রহমান ভূঁঞা, সাবেক উপপরিচালক মো. আজহারুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, সাবেক শাখা সহকারী মো. মাহবুবুল হক, মোহাম্মদ আব্দুল মঈন, ইফফাত হক এবং কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান ও তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার।

আসামিদের মধ্যে সালাম মুর্শেদী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

এদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে পলাতক আছেন মীর মোহাম্মদ হাসান ও তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান। বাকিরা জামিনে আছেন।
এদিন দুদকের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর শামীম হোসেন। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী, বোরহান উদ্দিন, অ্যাডভোকেট খাদেমুল ইসলাম প্রমুখ।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি কর্মচারী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং অসৎ উদ্দেশ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে ‘খ’ তালিকাভুক্ত গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি) ২৭ নং, হোল্ডিং নং-২৯, রোড নং-১০৪ প্লটটি পরিত্যক্ত ২৭ কাঠা সম্পত্তির তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও অবমুক্তকরণ ছাড়াই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা রেকর্ড তৈরি করেন।

পরে হস্তান্তর অনুমতি ও নামজারি অনুমোদন করার মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সালাম মুর্শেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

কালের আলো/এমএসআইপি

শেষ একনেক সভায় মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:০৮ অপরাহ্ণ
শেষ একনেক সভায় মির্জা ফখরুল

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় শেষবারের মতো অংশ নিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের সভা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মির্জা ফখরুল অংশ নেন।

সভায় স্বাস্থ্য, নৌপরিবহন, সড়ক, পানি সম্পদ, স্থানীয় সরকার, প্রাণিসম্পদ ও বিদ্যুৎ খাতের নতুন ও সংশোধিত মিলিয়ে মোট ১১টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৪৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮ হাজার ৭৭৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ হাজার ৩৬১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। একটি প্রকল্পে সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নও রয়েছে।

উপস্থাপিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা মেডিকেল কলেজের অনুপযোগী স্থাপনা পুনর্নির্মাণ, ১০টি মেডিকেল কলেজে ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণের সংশোধনী, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জন্য দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার কেনা, গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ, ধরলা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ, সীতাকুণ্ডে উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ এবং তুরাগ নদ ও গোড়ানচটবাড়ী রিটেনশন পন্ড সংরক্ষণ প্রকল্প।

এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সক্ষমতা জোরদারকরণ, জামালপুরে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ডেসকোর এলাকায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো সম্প্রসারণ প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাবও সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

সভায় প্রকল্পগুলোর ব্যয়, অর্থায়ন কাঠামো ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণ হবে।

গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর ৬ আগস্ট শূন্য পদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বোরহাম উডের হয়ে অভিষেকেই আলো ছড়ালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহান

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
বোরহাম উডের হয়ে অভিষেকেই আলো ছড়ালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহান

বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ইংল্যান্ড থেকে এল দারুণ এক খবর। বোরহাম উডের হয়ে প্রথমবার একাদশে সুযোগ পেয়েই গোল ও অ্যাসিস্ট করে আলো কেড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলার ফারহান আলী ওয়াহিদ।

ন্যাশনাল লিগের ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে লিডস ইউনাইটেড অনূর্ধ্ব-২১ দলকে ৫–২ গোলে হারিয়েছে বোরহাম উড। ম্যাচে ফারহান করেছেন দলের হয়ে একটি গোল, পাশাপাশি আরেকটি গোলে সহায়তা করেছেন।

৪১ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে বোরহামের হয়ে নিজের প্রথম গোল করেন ১৯ বছর বয়সী এই লেফট উইঙ্গার। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তাঁর তৈরি করা সুযোগ থেকেই তারান আল্লারাখিয়া গোল করেন।

তবে ফারহানের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সবচেয়ে নজরকাড়া মুহূর্ত আসে ৮২ মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দৌড় শুরু করে লিডসের এক ডিফেন্ডারকে দুর্দান্ত ফুটওয়ার্কে দুবার কাটিয়ে শট নেন তিনি। তবে লিডস গোলরক্ষক কুক অসাধারণ রিফ্লেক্সে সেই শট ঠেকিয়ে দেন।

ম্যাচ শেষে বোরহাম উডের ওয়েবসাইটে ফারহানের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, প্রথম ম্যাচেই তিনি দারুণ চমক দেখিয়েছেন। বল পায়ে তাঁর সাবলীল দৌড়, বুদ্ধিদীপ্ত ছোট পাস এবং বল হারানোর পর দ্রুত তা পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইংল্যান্ডে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফারহান মাত্র ১২ বছর বয়সে ফুলহামের একাডেমিতে যোগ দেন। অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে ১৭ ম্যাচে ৭ গোল করার পর অনূর্ধ্ব-২১ দলেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন।

২০২৫ সালে ফুলহামের সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তি করেন তিনি। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ-২-এ ফুলহামের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে ২১ ম্যাচে ৬ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট করেন। এমন পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে মাসের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

চলতি মাসের শুরুতে ফুলহাম থেকে ধারে ইংল্যান্ডের পঞ্চম স্তরের ক্লাব বোরহাম উডে যোগ দেন ফারহান। ২০২৬–২৭ মৌসুমের পুরোটা তিনি এই ক্লাবেই খেলবেন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণের জন্য তাই বোরহাম উডের অভিষেকটা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়—বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও হতে পারে আশাবাদের নতুন গল্প।

কালের আলো/এসএ