খুঁজুন
                               
, ,
           

তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সাড়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সাড়া

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশে ‘রাজসিক’ প্রত্যাবর্তন’ কেবল দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই। ব্যাপক সাড়া ফেলে আন্তর্জাতিক মহলেও। বিশ্বের বড় বড় সংবাদমাধ্যমগুলো তার ফিরে আসার খবর অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা তার এই ফিরে আসাকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তারা তাকে ‘সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন। বিশেষ করে ভারতীয় ও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের জনভিত্তি ও জনপ্রিয়তা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

বিএনপির দাবি, তারেক রহমানকে এক নজর দেখতে এবং বরণ করে নিতে সেদিন সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ৫০ লাখের বেশি মানুষ ঢাকার রাজপথে অবস্থান নিয়েছিল। এই বিশাল জনস্রোত সামাল দেওয়া ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত পুরোটা সড়ক ছিল লোকে লোকারণ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমানের প্রতি মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ মূলত দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু এই বিপুল জনসমাগম যখন কোনো নির্দিষ্ট প্রটোকল মানে না, তখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনো কোনো রাজনৈতিক নেতার জন্য এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যায়নি। বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে, এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে শুরু করে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসভবন পর্যন্ত প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ নজরদারিতে। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, ডগ স্কোয়াড, ডিএমপি, এপিবিএন এবং আনসারের সমন্বিত একটি শক্তিশালী দল। এছাড়া ছিল তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারপারসনস সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিএসএফ)।

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, কেবল পুলিশেরই ৪ হাজার ৬৪৯ জন সদস্য সরাসরি এই ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন। বিশেষ নজরদারিতে ছিল মিরপুর সেনানিবাসের এয়ার ডিফেন্স (এডি) আর্টিলারি ইউনিট এবং ৪৬ ব্রিগেডের সেনাসদস্যরা। এক্সপ্রেসওয়ের সুউচ্চ ভবনগুলোতে অবস্থান নিয়েছিলেন স্নাইপার ও বিশেষায়িত বাহিনীর সদস্যরা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে তারেক রহমানকে যে পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে, তা ইঙ্গিত দেয় যে তার জীবনের ওপর ঝুঁকির মাত্রা অত্যন্ত বেশি। বিশেষ করে এডি আর্টিলারি বা এয়ার ডিফেন্স ইউনিটের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে, ড্রোন বা আকাশপথের আক্রমণ থেকেও তাকে সুরক্ষার পরিকল্পনা ছিল। এটি কেবল একটি সংবর্ধনা ছিল না, এটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ সিকিউরিটি অপারেশন।

গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে নিয়ে যে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছিল, এই বিপুল জনসমর্থন সেই বয়ানকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ব সম্প্রদায় এখন দেখছে যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির চাবিকাঠি কার হাতে রয়েছে। এই বিপুল জনসমর্থন যেমন তাকে শক্তিশালী করছে, তেমনই আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারিতে থাকাও তার নিরাপত্তার জন্য একটি অতিরিক্ত রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে একই সঙ্গে বিরুদ্ধ শক্তির জন্য তিনি এখন প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

জীবন সায়াহ্নে আড্ডায় খুঁজে পান বেঁচে থাকার আনন্দ

গাইবান্ধা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
জীবন সায়াহ্নে আড্ডায় খুঁজে পান বেঁচে থাকার আনন্দ

বয়স বাড়ে, কর্মজীবন থেমে যায়, কমে আসে ব্যস্ততা। যে মানুষটি একসময় পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের নানা কাজে ছুটে বেড়িয়েছেন, জীবনের এক পর্যায়ে তাকেই খুঁজতে হয় কথা বলার একজন মানুষ, একটু আড্ডা কিংবা পুরোনো দিনের গল্প শোনার কোনো আপন ঠিকানা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সেই ঠিকানাই নিজেদের জন্য তৈরি করেছেন একদল প্রবীণ। নাম দিয়েছেন ‘বেলা শেষের যাত্রী’।

সন্ধ্যা নামলেই উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চৈতন্য বাজারের একটি ছোট্ট টিনের ঘরে জড়ো হন তারা। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে চলে গল্প। কখনো মুড়িমাখা, কখনো চানাচুর-ঝাল। কেউ পত্রিকা পড়েন, কেউ প্রথম যৌবনের স্মৃতি মনে করে গান ধরেন। আবার কেউ নাটকের সংলাপ শুনিয়ে মাতিয়ে রাখেন সবাইকে। চাকরিজীবনের স্মৃতি, জীবনের পাওয়া-না পাওয়া কিংবা ফেলে আসা মানুষের গল্পও ফিরে আসে সেই আড্ডায়।

‘এসো বন্ধুরা, জীবনের পড়ন্ত বিকালে ফেলে আসা অতীত জীবনের গল্প করি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৯ সালে পাঁচজন সদস্য নিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সদস্যসংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে।

বিআরডিবির অবসরপ্রাপ্ত উপপরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মণ্ডল ও তাঁর কয়েকজন সমবয়সী বন্ধুর উদ্যোগে শুরু হয় এ পথচলা। কর্মজীবন শেষে তিনি উপলব্ধি করেন, অবসরের সঙ্গে শুধু অফিসের ব্যস্ততাই শেষ হয় না; অনেক সময় কমে যায় মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও।

সেই শূন্যতা থেকেই নিজেদের বয়সী মানুষদের নিয়ে একটি মিলনস্থল তৈরির উদ্যোগ নেন তিনি। এরপর একে একে যুক্ত হন শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য, চিকিৎসক, কৃষি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পেশার মানুষ।

সংগঠনের সবচেয়ে কম বয়সী সদস্যের বয়সও ষাটোর্ধ্ব। অধিকাংশ সদস্যের বয়স ৬৫ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে। এরই মধ্যে পাঁচজন সদস্য মারা গেছেন। তাদের অনুপস্থিতিও এখন আড্ডার গল্পের অংশ হয়ে আছে।

বিনয় কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে একাকিত্ব ও অবহেলার অনুভূতি দূরে সরে যায়। বেঁচে থাকার জন্য নতুন উদ্যম পাওয়া যায়। মনে হয়, ‘আছি তো আমরাও।’ আনন্দ ও মানসিক শক্তি পাওয়া যায়, ভালো লাগা তৈরি হয়।

এই আড্ডার গভীরতা হয়তো এখানেই। এখানে কেউ কারও কাছে বয়স লুকান না। বরং বয়সের সঙ্গে জমে থাকা স্মৃতিগুলোই পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেন। ব্যস্ত জীবনে যে কথাগুলো বলা হয়নি, যে গল্পগুলো শোনার মানুষ পাওয়া যায়নি, সেগুলোই সন্ধ্যার পর জায়গা করে নেয় ছোট্ট ঘরটিতে।

কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও সংগঠক কঙ্কন সরকার বলেন, প্রবীণ মানেই অবহেলার মানুষ নন। তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা সমাজের বড় সম্পদ। কর্মজীবন শেষ হলেও একজন মানুষের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় না। এই বয়সে তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কথা বলার জায়গা, আপনজনের সঙ্গ এবং নিজেদের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ।

তিনি বলেন, ‘বেলা শেষের যাত্রী’ সেই জায়গাটিই তৈরি করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়লে প্রবীণদের একাকিত্ব কমবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মও তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ পাবে।

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু বলেন, প্রবীণরা আমাদের সমাজের অভিজ্ঞতার বাতিঘর। তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ নতুন প্রজন্মকে অনেক কিছু শেখাতে পারে। ‘বেলা শেষের যাত্রী’র মতো উদ্যোগ তাদের একাকিত্ব দূর করার পাশাপাশি পারস্পরিক বন্ধনও শক্তিশালী করছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে।

পাঁচজনকে নিয়ে শুরু হওয়া ছোট্ট উদ্যোগটি এখন ৪০ জনের বেশি প্রবীণের মিলনস্থল। তাদের চাওয়া খুব বেশি নয়—দিনের শেষে কয়েকটি পরিচিত মুখ, কিছু গল্প, একটু হাসি আর মন খুলে কথা বলার সুযোগ।

জীবনের বেলা হয়তো পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। কিন্তু তাদের আড্ডায় এখনো সন্ধ্যা নামে গল্প, গান আর হাসি নিয়ে। ‘বেলা শেষের যাত্রী’ তাই শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়; বয়সের শেষ প্রান্তেও মানুষ যে সঙ্গ, ভালোবাসা ও বেঁচে থাকার আনন্দ ভাগ করে নিতে চায়, এটি তারই এক জীবন্ত গল্প।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বাউফলে নদীভাঙনে বিলীনের পথে গ্রাম, ঝুঁকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
বাউফলে নদীভাঙনে বিলীনের পথে গ্রাম, ঝুঁকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তেঁতুলিয়া ও লোহালিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ধুলিয়া, নাজিরপুর, কারখানা ও কাছিপাড়া ইউনিয়নের একের পর এক এলাকা বিলীন হওয়ার পথে। বর্ষা ও জোয়ারের পানির তীব্র স্রোতে বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের শত শত মানুষ।

কাছিপাড়া ইউনিয়নে কারখানা নদীর ভাঙনে যেকোনো সময় বিলীন হতে পারে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে চররঘুনাথদ্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নদীর তীর থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব এখন মাত্র ২০ থেকে ২৫ ফুট। এছাড়া হিসাজাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীর তীর থেকে বিদ্যালয় দুটির দূরত্ব যথাক্রমে ৭০ থেকে ৮০ ফুট।

স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে যেভাবে নদীভাঙন বাড়ছে, তাতে বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পশ্চিম কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের প্রায় ৫০ ফুট জায়গা গত এক মাসেই নদীতে বিলীন হয়েছে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নোমান বলেন, নদীভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত বিদ্যালয় রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সে।

কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল চন্দ্র দাস বলেন, বিদ্যালয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত বছর বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন কিছুটা ঠেকানো হলেও প্রায় এক মাস আগে আবার ৫০ ফুট জায়গা নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি একটি মসজিদ ও বাজারও হুমকির মুখে পড়বে। বিদ্যালয়টি সরিয়ে নেওয়ার মতো আশপাশে কোনো জায়গা নেই বলেও জানান তিনি।

এদিকে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে ধুলিয়া ইউনিয়নের আয়তনও ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। ধুলিয়া লঞ্চঘাট, স্থানীয় লঞ্চঘাট বাজার, হাজারো একর ফসলি জমি ও শত শত বসতবাড়ি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে সাইক্লোন শেল্টারসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও সেতু নির্মাণের দাবিতে ধুলিয়ায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধনও হয়েছে। ইউএনও সালেহ আহমেদ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে টেকসই ব্লক দিয়ে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোতে নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা, নিমদী, কচুয়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বসতভিটা, আবাদি জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কাঁচা-পাকা সড়ক ও বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে বহু পরিবার অন্যত্র চলে যাচ্ছে।

নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদী পয়েন্টসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভাঙন রোধে সম্প্রতি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ইউএনও সালেহ আহমেদ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদও এলাকা পরিদর্শন করে টেকসই বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।

নদীভাঙনে যোগাযোগব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একের পর এক বসতঘর নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ভাঙনকবলিত মানুষের অভিযোগ, বছরের পর বছর জিও ব্যাগ ফেলা ও অস্থায়ী প্রতিরক্ষার আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থায়ী সিসি ব্লক বাঁধ নির্মাণের দাবিতে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হলে এসব এলাকা বাউফলের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহানেওয়াজ তালুকদার বলেন, নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাঙনকবলিত এলাকায় বার্জের মাধ্যমে বালুর বস্তা ফেলা হবে। এতে বস্তাগুলো পরিকল্পিতভাবে একটির ওপর আরেকটি বসানো সম্ভব হবে এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি স্থায়ী হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ঢেউয়ের প্রেমে যেন অন্যরকম এক পারশা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
ঢেউয়ের প্রেমে যেন অন্যরকম এক পারশা

সংগীত ও অভিনয়ে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন তরুণ শিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণী। কাজের ব্যস্ততার বাইরে এবার মালদ্বীপের নীল সমুদ্র আর স্বচ্ছ জলের পুলে দেখা মিলেছে তার একেবারে ভিন্ন আবহের।

মালদ্বীপ ভ্রমণের বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন পারশা। কখনো সমুদ্রের নীল জলের মাঝে, কখনো সাগরের ঢেউয়ের পাশে, আবার কখনো সুইমিংপুলে—বিভিন্ন মুহূর্তে ক্যামেরাবন্দী হয়েছেন এই তরুণ গায়িকা ও অভিনেত্রী।

ঢেউয়ের প্রেমে মুগ্ধ পারশা

প্রকাশিত ছবিগুলোর একটিতে পানিতে দাঁড়িয়ে ক্যামেরার দিকে মৃদু হাসিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় পারশাকে। অন্য একটি ছবিতে কালো সাঁতারের পোশাকে সানগ্লাস পরা অবস্থায় সুইমিংপুলে ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছেন তিনি।

সমুদ্রের নীল জল, আকাশ আর পারশার সাবলীল উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ছবিগুলোতে তৈরি হয়েছে ছুটির দিনের এক নির্মল আবহ। একটি ছবির ক্যাপশনে পারশা লিখেছেন, ‘ঢেউয়ের প্রেমে মুগ্ধ!’

নতুন লুকেই নজর কাড়লেন

মালদ্বীপের অবকাশযাপনের এসব ছবিতে পারশার পোশাক, চুলের স্টাইল ও স্বাভাবিক অভিব্যক্তি আলাদা করে নজর কেড়েছে। বিশেষ করে পানিতে তোলা ছবিগুলো প্রকাশের পর তার নতুন লুক নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে অনুরাগীদের মধ্যে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যঘরেও ভক্তদের প্রশংসা চোখে পড়ছে। কেউ তার লুকের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ মালদ্বীপের সৌন্দর্যের সঙ্গে পারশার উপস্থিতির সমন্বয়কে দারুণ বলে মন্তব্য করেছেন।

গান থেকে অভিনয়—বহুমুখী পারশা

শুধু গানের জগতেই নয়, অভিনয়েও নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছেন পারশা মাহজাবীন। সংগীত ও অভিনয়—দুই অঙ্গনেই কাজের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের পরিচিতি বাড়াচ্ছেন তিনি।

আর এবার কাজের খবরের বাইরে মালদ্বীপের নীল জলরাশির মাঝে তার এই ভিন্নধর্মী উপস্থিতি ভক্তদের সামনে তুলে ধরল পারশার অন্য এক অবকাশযাপনের মুহূর্ত। ছবিগুলো প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেগুলো নিয়ে চলছে আলোচনা।

কালের আলো/জেএন