খুঁজুন
                               
, ,
           

অপরিশোধিত বর্জ্যে বিপন্ন সান্তাহারের কৃষি ও জলজ পরিবেশ

বগুড়া সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
অপরিশোধিত বর্জ্যে বিপন্ন সান্তাহারের কৃষি ও জলজ পরিবেশ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে পরিবেশগত নিয়মনীতি না মেনে কয়েকটি অটোমেটিক চালকল পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব মিলের সিদ্ধ ও ধোয়া সেকশন থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধযুক্ত তরল বর্জ্য পরিশোধন না করেই খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে পানির উৎস দূষিত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি ও জলজ পরিবেশ।

স্থানীয়রা জানান, আদমদীঘির অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও মাছ চাষের ওপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্য ও অপরিশোধিত তরল পদার্থের কারণে দিন দিন কৃষি ও জলজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে সান্তাহার এলাকায় কয়েকটি অটোরাইস মিলের বর্জ্য সরাসরি খাল ও ফসলি জমিতে পড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বুশরা অটো রাইস মিল, সুন্দরী অটো রাইস মিল, ইছামতী, ফুলজান, সালমান, এমবি, বৈশাখীসহ প্রায় ১৪টি অটোরাইস মিলের সিদ্ধ ও ধোয়া সেকশন থেকে নির্গত তরল বর্জ্য সরাসরি খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। বর্জ্য পানি পরিশোধনের জন্য ইটিপি স্থাপনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানে তা দৃশ্যমান নয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুশরা অটো রাইস মিলের বর্জ্য পানি রেলের জায়গা দিয়ে ফসলি জমির পাশ দিয়ে ইরামতি খালে গিয়ে পড়ছে। এমবি এগ্রো ফুডস ও সালমান অটো রাইস মিলের বর্জ্য পানি ড্রেনের মাধ্যমে ফসলি জমি পেরিয়ে খাড়িতে গিয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্যান্য চালকলেও একইভাবে অপরিশোধিত বর্জ্য পানি খাল ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মিলের বর্জ্য পানি ও খালের পানির নমুনা সংগ্রহ করে সান্তাহার মৎস্য গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় মিলের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও) পাওয়া গেছে প্রতি লিটারে ১ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম এবং খালের পানিতে ১ দশমিক ২ মিলিগ্রাম। স্বাভাবিক মাত্রা হিসেবে ৩ থেকে ৬ মিলিগ্রাম উল্লেখ করা হয়েছে।

পানির পিএইচের স্বাভাবিক মাত্রা ৭ দশমিক ৫ থেকে ৮ দশমিক ৫ হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষায় মিলের পানিতে তা পাওয়া গেছে ৭ দশমিক ৩ এবং খালের পানিতে ৬ দশমিক ৮। অ্যামোনিয়ার স্বাভাবিক মাত্রা শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম হলেও মিলের পানিতে এর পরিমাণ ১০ মিলিগ্রামের বেশি এবং খালের পানিতে ১২ মিলিগ্রামের বেশি পাওয়া গেছে। অ্যালকালিনিটির স্বাভাবিক মাত্রা ২০ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম হলেও মিলের পানিতে তা শূন্য দশমিক ৩ এবং খালের পানিতে শূন্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কৃষক লতিফুর রহমান বলেন, খাড়ির দুর্গন্ধে এখন আশপাশে যাওয়া যায় না। জমিতে ফসলের ফলন কমেছে। পচা পানিতে মাছও বাঁচে না। একসময় খালের মাছেই পরিবারের আমিষের চাহিদা মিটলেও এখন মাছ কিনে খেতে হচ্ছে।

তবে বর্জ্য খালে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বুশরা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী হাফেজ বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের পেছনের একটি পুকুরে বর্জ্য পানি ফেলা হয়। তবে ড্রেন দিয়ে খালে যে পানি পড়ে, সেটি পরিষ্কার। অন্য মিল মালিকরাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

সান্তাহার নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এস রোশদানী বলেন, একসময় খাল-বিলের মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু ছিল। কলকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য পানিতে ইরামতি খালের পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ভরাট ও কচুরিপানায় খালটি এখন মৃতপ্রায়। বর্জ্য পানি ফেলা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সান্তাহার মৎস্য গবেষণাগারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শিশির কুমার দে বলেন, নমুনা পরীক্ষায় মিল ও ইরামতি খালের পানি প্রকৃতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে দেখা গেছে। নমুনায় ছাই ও ধাতব উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। হেভি মেটাল পরীক্ষা করা হলে ক্ষতিকর ধাতুর উপস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান জানান, উল্লেখ করা ছয়টি মিলের মধ্যে বুশরা অটো রাইস মিলের ছাড়পত্র নবায়ন করা রয়েছে। তবে মিলের দুর্গন্ধযুক্ত ও দূষিত তরল বর্জ্য ড্রেন দিয়ে সরাসরি খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে পড়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ছেলেকে নিয়ে সুইমিংপুলে পরীমণি

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
ছেলেকে নিয়ে সুইমিংপুলে পরীমণি

তারকাখ্যাতির ঝলমলে জীবন, শুটিংয়ের ব্যস্ততা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা ব্যস্ততা—সবকিছুর বাইরে পরীমণির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাঁর সন্তানরা। কাজের ফাঁকে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেলেই তা উপভোগ করেন ঢাকাই সিনেমার এই অভিনেত্রী। এবার সেই সময়েরই কিছু বিশেষ মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি।

ছেলে শাহীম মুহাম্মদ পূণ্যকে নিয়ে সুইমিংপুলে জলকেলিতে মেতে উঠেছেন পরীমণি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা ছবিগুলোতে মা-ছেলের হাসি-খুনসুটি আর আনন্দের মুহূর্ত ধরা পড়েছে। ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই ভক্ত-অনুরাগীদের নজর কেড়েছে।

সন্তানই এখন পরীমণির আনন্দের বড় জায়গা

রুপালি পর্দায় নানা চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাওয়া পরীমণির ব্যক্তিজীবনের বড় একটি অংশজুড়ে এখন সন্তানরা। বড় ছেলে শাহীম মুহাম্মদ পূণ্যর পাশাপাশি দত্তক নেওয়া ছেলে ও কন্যাসন্তান সাফিয়া সুলতানা প্রিয়মকে ঘিরেই তাঁর পারিবারিক ব্যস্ততা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন মুহূর্ত ভাগ করে নিতে দেখা যায় তাঁকে। কখনো তাদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, কখনো খেলাধুলা কিংবা ঘরোয়া আনন্দের ছবি—মাতৃত্বের নানা মুহূর্তই ভক্তদের সামনে তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী।

পানিতে মায়ের সঙ্গে পূণ্যর খুনসুটি

সাম্প্রতিক প্রকাশ করা ছবিগুলোতে দেখা যায়, ছেলে পূণ্যকে সঙ্গে নিয়ে সুইমিংপুলে সময় কাটাচ্ছেন পরীমণি। কখনো পানিতে দুজনের খুনসুটি, আবার কখনো মায়ের সঙ্গে ছেলের হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্ত—সব মিলিয়ে ছবিগুলোতে ফুটে উঠেছে স্বতঃস্ফূর্ত এক পারিবারিক আবহ।

মা-ছেলের এই আনন্দঘন মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর নেটিজেনদের কাছ থেকেও প্রশংসা পেয়েছে। অনেকেই তাঁদের এই সুন্দর সময়ের প্রশংসা করেছেন।

পর্দার বাইরে অন্য এক পরীমণি

অভিনয়ের কারণে আলোচনায় থাকা পরীমণির ব্যক্তিজীবনের একটি বড় পরিচয় এখন তাঁর মাতৃত্ব। ক্যামেরার সামনে যেমন নানা চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করেন, ক্যামেরার বাইরে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় তাঁকে দেখা যায় একেবারেই অন্য রূপে।

শুটিং ও পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের জন্য সময় বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলোতেও বারবার উঠে আসে সন্তানদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত।

নতুন করে জীবন গুছিয়েছেন সন্তানদের ঘিরে

অভিনেতা শরীফুল রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ব্যক্তিগত জীবনের নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে পরীমণিকে। তবে পরবর্তী সময়ে সন্তানদের ঘিরেই নিজের জীবনকে নতুনভাবে সাজিয়েছেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনের নানা অধ্যায় পেরিয়ে এখন সন্তানদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্তগুলোই বেশি করে সামনে আনছেন এই অভিনেত্রী। আর সুইমিংপুলে পূণ্যকে নিয়ে সাম্প্রতিক এই ছবি যেন সেই গল্পেরই আরেকটি ছোট্ট অধ্যায়—তারকা পরীমণির আড়ালে থাকা মমতাময়ী মায়ের একান্ত মুহূর্ত।

কালের আলো/জেএন

লাইসেন্সের ফাঁসে থমকে গেছে দেশের প্রথম কুমির খামার

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
লাইসেন্সের ফাঁসে থমকে গেছে দেশের প্রথম কুমির খামার

ময়মনসিংহের ভালুকায় দেশের প্রথম বাণিজ্যিক কুমির খামারে বর্তমানে হাজারো কুমির থাকলেও লাইসেন্স জটিলতায় বন্ধ রয়েছে চামড়া ও মাংস রপ্তানি। ফলে কুমিরের খাবার, পরিচর্যা, কর্মীদের বেতন ও সরকারি ফি পরিশোধসহ খামার পরিচালনার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। খামারে নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যার ঘাটতির অভিযোগও উঠেছে।

ভালুকার হাতিবেড় গ্রামে ১৩ দশমিক ৪০ একর জমির ওপর ২০০৪ সালে মালয়েশিয়া থেকে ৭৫টি কুমির এনে ‘রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড’ নামে খামারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। উদ্যোক্তা ছিলেন লেখক ও ব্যবসায়ী মুশতাক আহমেদ এবং মেজবাউল হক।

খামারটি চালুর প্রায় এক দশক পর কুমিরের চামড়া রপ্তানি শুরু হয়। প্রথম চালানে প্রায় ৪৫০টি চামড়া বিদেশে রপ্তানি করে আড়াই লাখ ডলার আয় করে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে ৪৩০টি, ২০১৫ সালে ৪০০টি, ২০১৬ সালে ২০০টি, ২০১৮ সালে ২২৬টি এবং ২০১৯ সালে ২৫১টি কুমিরের চামড়া জাপানে রপ্তানি করা হয়। প্রথম পাঁচ বছরে মোট ১ হাজার ৫০৭টি চামড়া রপ্তানি হয়, প্রতিটির দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার।

তবে ২০২০ সালের পর কুমিরের চামড়া রপ্তানির আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ সময় খামারে অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার অভিযোগও ওঠে।

মালিকানা নিয়ে জটিলতার পর ২০২২ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে কুমির খামার পরিচালনায় ছয় সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। পরে ২০২৩ সালে নিলামের মাধ্যমে খামারের জমি ও কুমির ৩৮ কোটি ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। খামারটি কিনে নেয় বেসরকারি সংস্থা উদ্দীপন।

উদ্দীপন কর্তৃপক্ষের দাবি, খামার কেনার পর নতুন করে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হলেও এখনো লাইসেন্স নবায়ন বা নতুন লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। ফলে কুমিরের চামড়া ও মাংস রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না।

খামার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি কুমির রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০০টি কুমিরের চামড়া রপ্তানির উপযোগী। কুমিরের খাবার বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা খরচ হয়। পাশাপাশি কর্মীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয়ও রয়েছে। বর্তমানে ১০ জন কর্মী দিয়ে বিশাল খামারটি পরিচালনা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে খামারের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। কুমিরের পুকুরের পাড়ের বিভিন্ন অংশও ভেঙে গেছে। নিয়মিত খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে খামারের কর্মীরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া কুমির পালন, খামার স্থাপন কিংবা কুমিরের আমদানি-রপ্তানি করা যায় না। পাশাপাশি পজিশন সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো খামারি নিজের মালিকানায় বা দখলে কুমির রাখতে পারেন না। বন বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি কুমিরের জন্য বছরে ১ হাজার টাকা পজিশন ফি নির্ধারিত রয়েছে।

কুমির প্রকল্পের ব্যবস্থাপক চিকিৎসক আবু সাইম মো. আরিফ বলেন, কুমিরের চামড়া, মাংস ও দাঁত—সবকিছুরই বাণিজ্যিক মূল্য রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এসব পণ্যের চাহিদা রয়েছে। বন বিভাগের অনুমতি পাওয়া গেলে ৪০০ কুমিরের চামড়া রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।

উদ্দীপনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইস্তেয়াক হাসান বলেন, তারা জমিসহ কুমিরগুলো কিনে নিয়েছেন। আগের মালিকের নামে লাইসেন্স ছিল। তারা নতুন করে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। লাইসেন্স পাওয়া গেলে কুমিরের চামড়া ও মাংস রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

লাইসেন্সের বিষয়ে সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল) ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, ফাইল না দেখে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। উদ্দীপনের কর্মকর্তারা তার কাছে এসেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ফার্ম হস্তান্তরের সঠিক কাগজপত্রসহ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে তাদের বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উদ্দীপনের নামে লাইসেন্স না থাকলেও কুমিরগুলো অবৈধ নয়। কারণ কুমিরগুলো রেপটাইলস ফার্মের নামে থাকা লাইসেন্সের আওতায় রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

নোয়াখালীর মাটির ঘর থেকে জর্জিয়ার সিনেটে নাবিলাহ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
নোয়াখালীর মাটির ঘর থেকে জর্জিয়ার সিনেটে নাবিলাহ

নোয়াখালীর এক গ্রামের মাটির ঘর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট—দূরত্বটা কেবল ভৌগোলিক নয়, এটি একটি অভিবাসী পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রাম ও প্রজন্মের পরিবর্তনের গল্প। সেই গল্পের অন্যতম মুখ নাবিলাহ ইসলাম পার্কস। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান নাবিলাহ ২০২২ সালে জর্জিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস তৈরি করেন। তিনি হন জর্জিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী।

তবে এই জায়গায় পৌঁছানো তাঁর জন্য সরল কোনো পথ ছিল না। কংগ্রেসে যাওয়ার প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। ২০২০ সালে জর্জিয়ার ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মাত্র ৩০ বছর বয়সে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত না হলেও সেই অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক পথচলা থামাতে পারেনি।

নোয়াখালী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বাবা-মায়ের সংগ্রাম

নাবিলাহর শিকড় বাংলাদেশের নোয়াখালীতে। তাঁর বাবা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আইআরএসে ফাইল ক্লার্ক হিসেবে কাজ করেন। মা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন শ্রমঘন কাজে যুক্ত ছিলেন; একসময় হার্ডিজে রান্নার কাজের পাশাপাশি ওয়্যারহাউসেও কাজ করেছেন। জর্জিয়ার সরকারি জীবনীতে তাঁর পরিবারকে বাংলাদেশ থেকে আসা ‘working-class immigrants’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের সেই সংগ্রাম নাবিলাহর রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাতেও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে তাঁর মায়ের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি ঘটনা তাঁকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করার দিকে নিয়ে যায়।

কাজ করার সময় তাঁর মায়ের দুটি ডিস্কে সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা ব্যয়ের স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। নাবিলাহ তখন পরিবারের হয়ে বিষয়টি মোকাবিলায় যুক্ত হন। ২০২০ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কিশোর বয়সেই মায়ের চিকিৎসা ও বীমা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করতে হয়েছিল।

কংগ্রেসের লড়াইয়ে প্রথম বড় পরীক্ষা

জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শেষ করার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনে কাজ শুরু করেন নাবিলাহ। ২০২০ সালে তিনি জর্জিয়ার ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে প্রার্থী হন।

তখন তাঁর বয়স ছিল ৩০ বছর। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে যাওয়ার এই প্রচেষ্টা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় নিয়ে আসে। সে সময় তিনি স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

তবে সেই নির্বাচনে তিনি জয়ী হননি। ২০২০ সালের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ছয়জনের মধ্যে তিনি তৃতীয় হন এবং প্রায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পান।

পরাজয়ের পর নতুন পথে যাত্রা

কংগ্রেস নির্বাচনের অভিজ্ঞতার পরও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন নাবিলাহ। জর্জিয়ায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটারদের নিয়ে সংগঠনের কাজ করেন। পরে ২০২২ সালে জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ৭ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে প্রার্থী হন।

সেবার তাঁর রাজনৈতিক যাত্রায় আসে বড় পরিবর্তন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি জর্জিয়া স্টেট সিনেটে প্রবেশ করেন এবং একই সঙ্গে তৈরি করেন ইতিহাস—প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ওই কক্ষে নির্বাচিত হন তিনি।

জর্জিয়া স্টেট সিনেটের সরকারি জীবনী অনুযায়ী, নাবিলাহ ২০২২ সালে নির্বাচিত হন এবং ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস, চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ভেটেরানস, মিলিটারি অ্যান্ড হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন।

ইতিহাস গড়া সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি

স্টেট সিনেটে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়ার পর নাবিলাহ ২০২৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তবে চলতি বছরের মার্চে তিনি সিনেট থেকে পদত্যাগ করেন। জর্জিয়া রেকর্ডার ও অন্যান্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে নির্বাচনী প্রচারে পূর্ণ সময় দেওয়ার জন্য তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

১৩ মার্চ ২০২৬ তাঁর সিনেট থেকে সরে দাঁড়ানোর দিন ছিল। এর আগে তিনি লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রার্থীতা দাখিল করেছিলেন।

বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের জন্য আলাদা তাৎপর্য

নাবিলাহর রাজনৈতিক পথচলায় বাংলাদেশের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কটি গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিচয়। জর্জিয়া স্টেট সিনেটের সরকারি জীবনীতে তাঁর বাবা-মাকে বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ছোটবেলায় তিনি বাবা-মাকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে এবং একাধিক চাকরি সামলাতে দেখেছেন।

তাঁর জীবনের পথচলায় তাই উঠে আসে অভিবাসী পরিবারের অর্থনৈতিক সংগ্রাম, স্বাস্থ্যসেবার অভিজ্ঞতা, রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন।

কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ব্যর্থতা থেকে শুরু করে স্টেট সিনেটে ইতিহাস তৈরি—নাবিলাহ ইসলামের যাত্রা দেখিয়েছে, একটি নির্বাচনে পরাজয় রাজনৈতিক পথচলার শেষ নয়। নোয়াখালীর শিকড় থাকা এক বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে তাঁর উত্থান এখন বাংলাদেশি-আমেরিকান রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের আলোচনায়ও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

কালের আলো/জেএন