খুঁজুন
                               
, ,
           

লাইসেন্সের ফাঁসে থমকে গেছে দেশের প্রথম কুমির খামার

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
লাইসেন্সের ফাঁসে থমকে গেছে দেশের প্রথম কুমির খামার

ময়মনসিংহের ভালুকায় দেশের প্রথম বাণিজ্যিক কুমির খামারে বর্তমানে হাজারো কুমির থাকলেও লাইসেন্স জটিলতায় বন্ধ রয়েছে চামড়া ও মাংস রপ্তানি। ফলে কুমিরের খাবার, পরিচর্যা, কর্মীদের বেতন ও সরকারি ফি পরিশোধসহ খামার পরিচালনার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। খামারে নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যার ঘাটতির অভিযোগও উঠেছে।

ভালুকার হাতিবেড় গ্রামে ১৩ দশমিক ৪০ একর জমির ওপর ২০০৪ সালে মালয়েশিয়া থেকে ৭৫টি কুমির এনে ‘রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড’ নামে খামারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। উদ্যোক্তা ছিলেন লেখক ও ব্যবসায়ী মুশতাক আহমেদ এবং মেজবাউল হক।

খামারটি চালুর প্রায় এক দশক পর কুমিরের চামড়া রপ্তানি শুরু হয়। প্রথম চালানে প্রায় ৪৫০টি চামড়া বিদেশে রপ্তানি করে আড়াই লাখ ডলার আয় করে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে ৪৩০টি, ২০১৫ সালে ৪০০টি, ২০১৬ সালে ২০০টি, ২০১৮ সালে ২২৬টি এবং ২০১৯ সালে ২৫১টি কুমিরের চামড়া জাপানে রপ্তানি করা হয়। প্রথম পাঁচ বছরে মোট ১ হাজার ৫০৭টি চামড়া রপ্তানি হয়, প্রতিটির দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার।

তবে ২০২০ সালের পর কুমিরের চামড়া রপ্তানির আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ সময় খামারে অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার অভিযোগও ওঠে।

মালিকানা নিয়ে জটিলতার পর ২০২২ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে কুমির খামার পরিচালনায় ছয় সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। পরে ২০২৩ সালে নিলামের মাধ্যমে খামারের জমি ও কুমির ৩৮ কোটি ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। খামারটি কিনে নেয় বেসরকারি সংস্থা উদ্দীপন।

উদ্দীপন কর্তৃপক্ষের দাবি, খামার কেনার পর নতুন করে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হলেও এখনো লাইসেন্স নবায়ন বা নতুন লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। ফলে কুমিরের চামড়া ও মাংস রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না।

খামার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি কুমির রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০০টি কুমিরের চামড়া রপ্তানির উপযোগী। কুমিরের খাবার বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা খরচ হয়। পাশাপাশি কর্মীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয়ও রয়েছে। বর্তমানে ১০ জন কর্মী দিয়ে বিশাল খামারটি পরিচালনা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে খামারের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। কুমিরের পুকুরের পাড়ের বিভিন্ন অংশও ভেঙে গেছে। নিয়মিত খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে খামারের কর্মীরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া কুমির পালন, খামার স্থাপন কিংবা কুমিরের আমদানি-রপ্তানি করা যায় না। পাশাপাশি পজিশন সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো খামারি নিজের মালিকানায় বা দখলে কুমির রাখতে পারেন না। বন বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি কুমিরের জন্য বছরে ১ হাজার টাকা পজিশন ফি নির্ধারিত রয়েছে।

কুমির প্রকল্পের ব্যবস্থাপক চিকিৎসক আবু সাইম মো. আরিফ বলেন, কুমিরের চামড়া, মাংস ও দাঁত—সবকিছুরই বাণিজ্যিক মূল্য রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এসব পণ্যের চাহিদা রয়েছে। বন বিভাগের অনুমতি পাওয়া গেলে ৪০০ কুমিরের চামড়া রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।

উদ্দীপনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইস্তেয়াক হাসান বলেন, তারা জমিসহ কুমিরগুলো কিনে নিয়েছেন। আগের মালিকের নামে লাইসেন্স ছিল। তারা নতুন করে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। লাইসেন্স পাওয়া গেলে কুমিরের চামড়া ও মাংস রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

লাইসেন্সের বিষয়ে সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল) ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, ফাইল না দেখে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। উদ্দীপনের কর্মকর্তারা তার কাছে এসেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ফার্ম হস্তান্তরের সঠিক কাগজপত্রসহ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে তাদের বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উদ্দীপনের নামে লাইসেন্স না থাকলেও কুমিরগুলো অবৈধ নয়। কারণ কুমিরগুলো রেপটাইলস ফার্মের নামে থাকা লাইসেন্সের আওতায় রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দালালমুক্ত ও রোগীবান্ধব হাসপাতাল গড়তে রাজশাহীতে সিভিল সার্জনের তৎপরতা

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
দালালমুক্ত ও রোগীবান্ধব হাসপাতাল গড়তে রাজশাহীতে সিভিল সার্জনের তৎপরতা

রাজশাহী জেলার উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, দালালমুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম. রাজিউল করিমের নেতৃত্বে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী জেলায় দায়িত্ব নেওয়ার পর সিভিল সার্জন জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করছেন। নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবা, ওষুধ সরবরাহ, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, পানি ও বেড ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয় তদারকি করা হচ্ছে।

হাসপাতালগুলোতে দালাল চক্রের তৎপরতা বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীদের সেবা সহজ করা এবং বিনামূল্যের সরকারি ওষুধ যথাযথভাবে রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত কুমার সরকার বলেন, সিভিল সার্জনের নিয়মিত দিকনির্দেশনা ও পরামর্শে তাঁরা কাজ করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন। রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং হাসপাতালকে নিজের পরিবারের মতো দেখভালের বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দেন।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অসীম কুমার কর্মকার বলেন, সিভিল সার্জন দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের কাজের গতি বেড়েছে। হাসপাতালে আসা প্রতিটি রোগীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে সেবা দেওয়ার বিষয়ে তিনি চিকিৎসকদের উৎসাহিত করেন।

দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, সিভিল সার্জনের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে তাঁদের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখার পাশাপাশি রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন তাঁরা।

এদিকে অনিবন্ধিত ও মানহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহায়তায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন। তাঁর দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি কমছে। পাশাপাশি এনজিওগুলোর সহযোগিতায় স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডা. এস.আই.এম. রাজিউল করিম বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবার মান মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তাঁরা কাজ করছেন। জেলার উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত ও রোগীবান্ধব পরিবেশে পরিচালনার চেষ্টা চলছে। নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও একটি ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনিবন্ধিত ও মানহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা উন্নত হলে এর সরাসরি সুফল পাবেন সাধারণ রোগীরা। তবে এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সেবার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আনসারে ‘এক আইন, এক কমান্ড’

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
আনসারে ‘এক আইন, এক কমান্ড’

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোয় নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পৃথক তিনটি আইনের অধীনে পরিচালিত বাহিনীকে এবার একটি সমন্বিত আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ‘আনসার বাহিনী আইন’ বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলবে।

বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অডিটোরিয়ামে নবনির্মিত ‘অগ্রযাত্রা ভবন’, ‘প্রান্তিক সংযোগ’ পরিষেবা, ‘প্রান্তিক শক্তি’ ও ‘ভ্রাম্যমাণ আইটি প্রশিক্ষণ সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা জানান।

  • পৃথক তিন আইন বিলুপ্ত করে সমন্বিত কাঠামোর উদ্যোগ
  • তেজগাঁওয়ে হচ্ছে আধুনিক সদর দপ্তর
  • এক লাখ স্বেচ্ছাসেবককে আনা হচ্ছে ডিজিটাল ব্যবস্থায়

তিন আইন থেকে এক কাঠামো

বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘আনসার বাহিনী আইন, ১৯৯৫’, ‘আনসার ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৩’ এবং ‘গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইন, ১৯৯৫’—এই তিনটি পৃথক আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা হলো পৃথক এই আইনি কাঠামোগুলোকে একটি একক আইনের অধীনে নিয়ে আসা। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একাধিক আইনের পরিবর্তে একটি সমন্বিত ও একক আইন প্রণয়ন করে তার অধীনে আধুনিক বিধিমালা তৈরি করা হলে বাহিনীর সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের আইনিভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।’ এই উদ্যোগের মাধ্যমে পৃথক আইনের বদলে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি হলে বাহিনীর বিভিন্ন শাখার দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক নতুনভাবে নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে অভিন্ন নীতিমালা কার্যকর করার পথও সহজ হতে পারে।

তেজগাঁওয়ে আধুনিক সদর দপ্তর

আইনি সংস্কারের পাশাপাশি আনসার বাহিনীর অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তেজগাঁওয়ে ৩ দশমিক ৪২৮ একর পরিত্যক্ত জমি আইনানুগভাবে হস্তান্তরের মাধ্যমে আধুনিক আনসার সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হবে। পরিকল্পিত বহুতল ভবনের সঙ্গে থাকবে আধুনিক কমান্ড সেন্টার। এখান থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত তথ্য বিনিময়, সেন্ট্রাল অপারেশন মনিটরিং এবং সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক সদর দপ্তর ও কমান্ড সেন্টার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত তথ্য বিনিময়, সেন্ট্রাল অপারেশন মনিটরিং এবং সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা পরিচালনা করা সম্ভব হবে।’ এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে আনসারের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী কাঠামোর কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়তে পারে।

নিরাপত্তায় বাড়ছে আনসারের ভূমিকা 

জাতীয় নির্বাচন, ধর্মীয় উৎসব, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথ নিরাপত্তা কার্যক্রম, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, উচ্ছেদ অভিযান, অপরাধ দমন, নিখোঁজ শিশু উদ্ধার এবং দালালবিরোধী কার্যক্রমেও তাদের সম্পৃক্ততার কথা বলেন তিনি। বাহিনীটির দায়িত্বের পরিধি যে শুধু প্রথাগত নিরাপত্তা সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা স্পষ্ট। জননিরাপত্তার বিভিন্ন স্তরে আনসার সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন, ধর্মীয় উৎসব, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।’

এক লাখ স্বেচ্ছাসেবককে ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনা 

মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, এক লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবককে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে একটি শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এক লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবককে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।’

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ এবং ‘প্রান্তিক সংযোগ’ ও ‘প্রান্তিক শক্তি’র মতো সামাজিক ও অর্থনৈতিক সেবা কার্যক্রম। মন্ত্রীর মতে, এসব উদ্যোগ দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। এতে আনসার-ভিডিপির প্রচলিত নিরাপত্তা ভূমিকার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও আরও গতি আসবে।

ইতিহাস থেকে আধুনিকায়নের পথে

অনুষ্ঠানে আনসার-ভিডিপির ঐতিহাসিক বিকাশও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে ১৯৭৬ সালে জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দর্শনের কথা উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালে পৃথক তিনটি আইন প্রণয়ন এবং ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদক প্রদানের মাধ্যমে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এখন প্রস্তাবিত একক আইন ও আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে সেই কাঠামোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, কেন্দ্রীয় মনিটরিং এবং প্রশিক্ষণভিত্তিক মানবসম্পদ উন্নয়ন বাহিনীটির প্রচলিত কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

একই সংস্কারধারার চারটি উদ্যোগ 

একটি একক আইন, আধুনিক সদর দপ্তর, কমান্ড সেন্টার এবং ডিজিটাল প্রশিক্ষণ—চারটি উদ্যোগকে একই সংস্কারধারার অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা ও তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং বাহিনীর সক্ষমতাকে প্রযুক্তিনির্ভর করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন সদর দপ্তরকে কেন্দ্র করে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচালনগত সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনার সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে।’ মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, উদ্ভাবন, জবাবদিহিতা ও সততার ভিত্তিতে নতুন সদর দপ্তরটি জনসেবার একটি আধুনিক মডেল হিসেবে গড়ে উঠবে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

দেশজুড়ে ডেঙ্গু কিট পাঠানোর নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
দেশজুড়ে ডেঙ্গু কিট পাঠানোর নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ডেঙ্গু রোগী দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য বাংলাদেশকে পাঁচ লাখ এনএস১ র‍্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত স্ট্রাইডজ কার্যক্রমের আওতায় এসব কিট সরবরাহ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে কিটগুলো হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) তৃষিতা মওলা।

কিট হস্তান্তরের পর এগুলো দ্রুত দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, হস্তান্তর করা সব কিট প্রথমে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) জমা হবে। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে এসব কিট বিতরণ করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যানজট ও যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। তবে কিট ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশের সব অঞ্চলের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন পাওয়া কিটের পাশাপাশি সরকারি খাতেও বর্তমানে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু অ্যান্টিজেন কিট ও আইভি স্যালাইন মজুত রয়েছে। ফলে দেশের কোনো অঞ্চলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন চালুর বিষয়েও সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভ্যাকসিনের ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সঙ্গে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে ভ্যাকসিন চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমানসহ মার্কিন দূতাবাস ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড ও রোগনির্ণয় পরীক্ষাগার পরিদর্শন করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি