খুঁজুন
                               
, ,
           

ফেসবুকে ফ্রি ভেরিফায়েড ব্যাজ পাবেন যেভাবে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ফেসবুকে ফ্রি ভেরিফায়েড ব্যাজ পাবেন যেভাবে

ফেসবুকে বিনামূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করছে মেটা। নতুন এই সুবিধা পেতে ব্যবহারকারীদের কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। তবে ভেরিফিকেশন পেতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

ভেরিফায়েড ব্যাজের জন্য ব্যবহারকারীকে প্রথমে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেই আবেদন করতে হবে। এরপর একটি ছোট সেলফি ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। মেটা সেই ভিডিও প্রোফাইলের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করবে। সবকিছু সঠিক থাকলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে ভেরিফায়েড ব্যাজ।

এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। পাশাপাশি অ্যাকাউন্টে প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার বা কমিউনিটি নীতিমালা লঙ্ঘনের কোনো রেকর্ড থাকা যাবে না। আপাতত শুধু ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। ফেসবুক পেজ এবং প্রো মোড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না।

পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর ভেরিফায়েড ব্যাজ ফেসবুকের বিভিন্ন স্থানে দেখা যাবে। শুরুতে এটি প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, গ্রুপ এবং ডেটিং সেবায় প্রদর্শিত হবে। পরে ধাপে ধাপে ফিডের পোস্টেও ব্যাজটি দেখানো হবে।

মেটা জানিয়েছে, এই ভেরিফায়েড ব্যাজের উদ্দেশ্য হলো অ্যাকাউন্টটির পেছনে একজন প্রকৃত ব্যক্তি রয়েছেন-এটি নিশ্চিত করা। তবে এটি কোনো ব্যবহারকারীকে বিশেষভাবে অনুমোদিত বা শতভাগ বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করে না। সব ব্যবহারকারীকে আগের মতোই ফেসবুকের কমিউনিটি নীতিমালা মেনে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে হবে।

প্রাথমিকভাবে বিশ্বের নির্বাচিত কয়েকটি দেশে এই সুবিধা চালু করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে অন্যান্য দেশেও এটি সম্প্রসারণ করা হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কোনো আপডেট আমার কাছে নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কোনো আপডেট আমার কাছে নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নি‌য়ে কোনো হালনাগাদ তথ‌্য না থাকার বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবা‌দিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তি‌নি।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের অগ্রগতি জান‌তে চাই‌লে প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে কোনো আপডেট আমার কাছে নাই। প্রধানমন্ত্রীর সফর যখন যে দেশে ঠিক হবে, তার অফিস থেকে আপনারা জানতে পারবেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। চল‌তি মা‌সে সরকারপ্রধা‌নের দি‌ল্লি সফর নিয়ে দুই দেশের ম‌ধ্যে আলোচনা চল‌ছিল। ত‌বে প্রধানমন্ত্রীর সফ‌রের পূ‌র্বে দি‌ল্লি‌কে অনুকূল পরিবেশ তৈ‌রির তা‌গিদ দি‌য়ে‌ছে বাংলা‌দেশ।

ঢাকার চাওয়া, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যাবর্তন চুক্তির মাধ্যমে ফেরত এবং সন্দেহভাজন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকারীদের প্রত‌্যার্প‌ন কর‌বে ভারত।

তা‌রেক রহমানের সফর নিয়ে ভারতকে যে বার্তা দিয়েছে, তার উত্তরের জন‌্য অপেক্ষা করছে ঢাকা।

এ ছাড়া, আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রীকে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারত। ব্রিকসে যোগ দিতে ভারত যে আমন্ত্রণ পা‌ঠি‌য়েছে তাতে তা‌রেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী উ‌ল্লেখ না করে শুধুমাত্র বিমস‌টেক চেয়ার বলা হ‌য়ে‌ছে, যা পছন্দ হয়‌নি বাংলাদে‌শের।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাতে ঘুমানোর আগে হঠাৎ পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
রাতে ঘুমানোর আগে হঠাৎ পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে কেন?

সারাদিনের ব্যস্ততায় কত কিছুই না ঘটে। কাজ, পড়াশোনা, ফোনকল, মানুষের সঙ্গে কথা বলা- সব মিলিয়ে মাথায় যেন চিন্তার ভিড় লেগেই থাকে। কিন্তু রাতে বিছানায় যাওয়ার পর যখন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে আসে, তখনই হঠাৎ মনে পড়ে যেতে পারে বহুদিন আগের কোনো ঘটনা, প্রিয় মানুষের কথা কিংবা জীবনের কোনো পুরোনো মুহূর্ত। কখনো আবার এমন স্মৃতিও ফিরে আসে, যেটি নিয়ে দিনের বেলায় একবারও ভাবা হয়নি।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা ও অভিজ্ঞতার স্মৃতিকে autobiographical memory বলা হয়। কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ মনে পড়ে যাওয়াকে বলা হয় involuntary retrieval-অর্থাৎ স্মৃতিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা না করলেও তা হঠাৎ চেতনায় চলে আসে।

রাতে কেন বেশি মনে হয়?

এর একটি বড় কারণ হতে পারে নিরিবিলি পরিবেশ। দিনের ব্যস্ত সময়ে বাইরের নানা উদ্দীপনা আমাদের মনোযোগ ধরে রাখে। কিন্তু রাতে কাজের চাপ ও চারপাশের ব্যস্ততা কমে গেলে নিজের চিন্তার দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ বাড়ে। তখন অবচেতনভাবে পুরোনো ঘটনা বা ব্যক্তিগত স্মৃতি মনে পড়ে যেতে পারে।

কোনো গন্ধ, গান, ছবি, জায়গা কিংবা কথাও আবার পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারে। মনোবিজ্ঞানে এমন অনিচ্ছাকৃত স্মৃতি ফিরে আসার ঘটনাকে ‘Proust phenomenon’-এর সঙ্গে ব্যাখ্যা করা হয়।

আবেগের সঙ্গে যুক্ত স্মৃতি বেশি ফিরে আসে

সব স্মৃতি সমানভাবে মনে থাকে না। কোনো ঘটনা যদি আমাদের কাছে আবেগপূর্ণ হয়- যেমন প্রথম প্রেম, বিচ্ছেদ, প্রিয় মানুষের সঙ্গে কাটানো সময়, অপমান, সাফল্য কিংবা কোনো বিশেষ দিনের ঘটনা- তাহলে সেটি দীর্ঘদিন মনে থাকার সম্ভাবনা থাকে।

ঘুমের সময় মস্তিষ্ক স্মৃতি সংরক্ষণ ও আবেগ প্রক্রিয়াজাত করার বিভিন্ন কাজ করে। বিশেষ করে NREM ও REM ঘুমের পর্যায় স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

‘অসমাপ্ত’ বিষয়ও মাথায় ঘুরতে পারে

কখনো কোনো পুরোনো ঘটনা মনে পড়ার পেছনে বর্তমান জীবনের কোনো অনুভূতিও কাজ করতে পারে। ধরুন, দিনের কোনো ঘটনা আপনাকে পুরোনো কোনো অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। ব্যস্ততার কারণে তখন সেটি নিয়ে ভাবার সুযোগ হয়নি। রাতে যখন চারপাশ শান্ত, তখন সেই চিন্তাটি আবার সামনে চলে আসতে পারে।

এ কারণেই অনেকের কাছে ঘুমানোর আগের সময়টা হয়ে ওঠে ‘নিজের সঙ্গে নিজের কথা বলার সময়’।

তাহলে কি এটা অস্বাভাবিক?

সবসময় নয়। মাঝেমধ্যে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়া মানুষের স্বাভাবিক মানসিক অভিজ্ঞতার অংশ। বরং স্মৃতি, আবেগ ও ঘুমের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

তবে যদি রাতে চিন্তা বা পুরোনো স্মৃতি এত বেশি ফিরে আসে যে নিয়মিত ঘুমাতে সমস্যা হয়, দীর্ঘসময় উদ্বেগ তৈরি করে বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ঘুমের আগে মনকে ধীরে ধীরে শান্ত করার জন্য কিছু সময় স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা, শিথিল হওয়ার অভ্যাস এবং মাথায় ঘুরতে থাকা বিষয়গুলো লিখে রাখা সহায়ক হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, রাতে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়া মানেই আপনি অতীতে আটকে আছেন-এমন নয়। দিনের কোলাহল থেমে গেলে মস্তিষ্কের ভেতরের গল্পগুলোই তখন একটু বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর সেই গল্পের পাতায় কখনো কখনো বহুদিন আগের কোনো মানুষ, কোনো বিকেল কিংবা ভুলে যাওয়া একটি মুহূর্ত আবার ফিরে আসে।

তথ্যসূত্রঃ আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ও স্লিপ ফাউন্ডেশন

কালের আলো/এসএ

গ্রামীণ জীবনের গল্পে কেন এতটা আপন হয়ে উঠেছিলেন ফারুক

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
গ্রামীণ জীবনের গল্পে কেন এতটা আপন হয়ে উঠেছিলেন ফারুক

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অনেক নায়ক এসেছেন, জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন। তবে গ্রামীণ মানুষের আবেগ, জেদ, প্রতিবাদ আর ভালোবাসাকে পর্দায় এতটা সহজ-স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন—এমন শিল্পীর সংখ্যা খুবই কম। তাঁদের মধ্যে আকবর হোসেন পাঠান ফারুক ছিলেন অন্যতম।

১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ফারুকের। তবে দর্শকের বড় পরিসরে পরিচিতি পান খান আতাউর রহমানের ‘সুজন সখী’ দিয়ে। ১৯৭৫ সালের এই সিনেমায় ‘সুজন’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়।

এরপর আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমনি’ সিনেমায় ‘নয়ন’ চরিত্রে অভিনয় করে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। গ্রামীণ এক তরুণের আবেগ, সরলতা ও প্রতিবাদী মানসিকতাকে এমনভাবে পর্দায় তুলে ধরেছিলেন, যা তাঁকে দর্শকের আরও কাছে নিয়ে যায়।

সত্তর ও আশির দশকে ফারুক অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা বাংলা চলচ্চিত্রে বিশেষ জায়গা করে নেয়। ‘লাঠিয়াল’, ‘নয়নমনি’, ‘সুজন সখী’, ‘সারেং বউ’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘লাল কাজল’-এসব সিনেমায় তাঁর চরিত্রগুলো মূলত গ্রামীণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের জীবনকে ঘিরে।

১৯৭৮ সালের ‘সারেং বউ’ সিনেমায় ‘কদম সারেং’ চরিত্রে তাঁর অভিনয়ও দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে। আর ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ সিনেমার শেষদিকে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত মিলনের যন্ত্রণা ফুটিয়ে তোলার দীর্ঘ দৃশ্যটি তাঁর অভিনয় প্রতিভার অন্যতম উদাহরণ হয়ে আছে।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষক ও নির্মাতা মতিন রহমানের মতে, ফারুক গ্রামীণ মানুষের জেদ, তাড়না ও প্রতিবাদের ভাষা খুব সহজাতভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। তাঁর অভিনয়ের এই স্বাভাবিক ভঙ্গিই তাঁকে সমসাময়িক অনেক শিল্পীর থেকে আলাদা করেছে।

ফারুক শুধু পর্দার নায়ক ছিলেন না, দর্শকের কাছে হয়ে উঠেছিলেন পরিবারের একজনের মতো। তাঁর আচরণ, কথা বলার ধরন ও চরিত্র ধারণের স্বাভাবিকতার কারণেই দর্শক তাঁকে ভালোবেসে ‘মিয়া ভাই’ নামে ডাকতে শুরু করেন।

চাষী নজরুল ইসলাম তাঁকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘মিয়া ভাই’ সিনেমা। সময়ের সঙ্গে ডাকনামটিও যেন তাঁর জনপ্রিয় পরিচয়ের অংশ হয়ে যায়।

মজার বিষয় হলো, ফারুকের জন্ম মানিকগঞ্জের ঘিওরের একটি গ্রামে হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা মূলত পুরান ঢাকায়। সেখানে নাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী-নির্মাতাদের সংস্পর্শে আসেন তিনি।

পুরান ঢাকার লালকুঠির সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা তাঁর অভিনয়জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন এলাকার মানুষের কথাবার্তা, আচরণ ও জীবনযাপন কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সিনেমার গ্রামীণ চরিত্রগুলোতে সেই অভিজ্ঞতার ছাপ দেখা যায়।

আশির দশকের শেষদিকে বাংলাদেশের সিনেমায় গ্রামীণ গল্পের সংখ্যা কমতে শুরু করে। ধীরে ধীরে শহুরে জীবন, চাকচিক্য ও আধুনিকতার গল্প জায়গা নেয় পর্দায়।

ফলে ফারুকের মতো শিল্পীদের জন্য যে ধরনের চরিত্র তৈরি হতো, সেসবও কমে যায়। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ গল্পের সংখ্যা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ধরনের স্বতন্ত্র নায়ক তৈরির সুযোগও কমেছে।

ফারুকের ক্যারিয়ারের বড় অংশজুড়ে থাকা গ্রামীণ চরিত্রগুলো তাই শুধু তাঁর অভিনয়জীবনের স্মৃতি নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ সময়েরও প্রতিচ্ছবি।

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ‘লাঠিয়াল’ সিনেমার জন্য ১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার পান ফারুক। পরে ২০১৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন এই অভিনেতা।

২০২৩ সালের ১৫ মে ৭৪ বছর বয়সে মারা যান ফারুক। কিন্তু তাঁর অভিনীত নয়ন, সুজন, কদম সারেং কিংবা মিলনের মতো চরিত্রগুলো এখনো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে জীবন্ত।

ফারুকের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো এখানেই—তিনি শুধু সিনেমায় গ্রামের মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেননি, বরং সেই মানুষগুলোর আবেগকে দর্শকের নিজের জীবনের গল্প করে তুলেছিলেন।

কালের আলো/এসএ