এক জমিতে মাছ-সবজি চাষ, বদলে গেছে ওয়ালি উল্লাহর সংসার
কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্দি গ্রামে অল্প জমিতে সমন্বিত চাষের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মো. ওয়ালি উল্লাহ। ১৬ শতাংশ জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষের পাশাপাশি পুকুরপাড় ও সংলগ্ন জমিতে বিষমুক্ত শাকসবজি চাষ করছেন তিনি। এতে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কমেছে দৈনন্দিন বাজার খরচ।
ওয়ালি উল্লাহর বাড়ির দক্ষিণ পাশে তৈরি করা পুকুরে কার্প, সরপুঁটি, তেলাপিয়া ও বাটা প্রজাতির প্রায় চার হাজার পোনা রয়েছে। নিয়মিত সম্পূরক খাবার দেওয়ায় মাছগুলো বর্তমানে প্রায় ছয় ইঞ্চি লম্বা হয়েছে। পুকুরের মাছের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঝেমধ্যে কিছু মাছ ধরেও পরিবারের চাহিদা মেটান তিনি।
পুকুরের পাড়ের খালি জায়গাও ফেলে রাখেননি ওয়ালি উল্লাহ। সেখানে লাউ, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, শিম, বেগুন, পুঁইশাক ও মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন। পাশাপাশি পেঁপে, আম ও কলার চারাও লাগিয়েছেন। পুকুরসংলগ্ন প্রায় এক বিঘা জমিতেও রয়েছে বিভিন্ন সবজির বাগান।
ওয়ালি উল্লাহ জানান, কয়েক বছর ধরে তিনি সমন্বিত পদ্ধতিতে মাছ ও সবজি চাষ করছেন। এতে পরিবারের আমিষ ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজার খরচও অনেক কমেছে।
স্থানীয় সাংবাদিক মো. কামাল হোসেন বলেন, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ওয়ালি উল্লাহর উদ্যোগটি অনুকরণীয়। অল্প জায়গাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে এমন সমন্বিত চাষ অন্যদেরও উৎসাহিত করতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ওয়ালি উল্লাহর সমন্বিত চাষ নিরাপদ খাদ্য ও সবজি উৎপাদনে অন্যদের উৎসাহিত করবে। তাকে কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের সবজি চাষে সহযোগিতা এবং সরকারি কৃষক কার্ডের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বলেন, ১৬ শতাংশ পুকুরে মাছ চাষের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তবে ভালো ফলনের জন্য পুকুরের আয়তন অনুযায়ী মাছের অনুপাত ঠিক রাখা জরুরি। এ বিষয়ে ওয়ালি উল্লাহকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হবে।
নতুন সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষেরও নজর কাড়ছে তার এই সমন্বিত খামার। অল্প জমিতে পরিকল্পিতভাবে মাছ, সবজি ও ফল চাষ করে পারিবারিক পুষ্টি ও সাশ্রয়ের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় একটি কৃষি মডেল গড়ে তুলেছেন তিনি।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি


আপনার মতামত লিখুন
Array