গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন, এড়িয়ে চলুন যেসব ভুল
তীব্র গরমে শরীরে পানিশূন্যতা, হিট এক্সহসশন ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, বাইরে কাজ করা মানুষ এবং হৃদ্রোগ, কিডনি বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাম্প্রতিক পরামর্শেও গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখা ও পর্যাপ্ত পানি পান করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। তাই তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। বাইরে বের হলে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন। অতিরিক্ত চিনি, অ্যালকোহল ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে পানি ও প্রয়োজন অনুযায়ী ইলেকট্রোলাইটযুক্ত পানীয় বেছে নেওয়া ভালো।
রোদের সময় বাইরে যাওয়া কমান
দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়াই ভালো। বাইরে যেতে হলে ছায়াযুক্ত পথ ব্যবহার করুন এবং দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে থাকা এড়িয়ে চলুন। তীব্র গরমে ভারী শারীরিক পরিশ্রমও যতটা সম্ভব কমাতে হবে।
পোশাকেও নজর দিন
গরমের সময় ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের পোশাক পরুন। বাইরে গেলে ছাতা, টুপি বা ক্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। শরীর ঠান্ডা রাখতে প্রয়োজন হলে ঠান্ডা পানিতে গোসল করা কিংবা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে নেওয়াও উপকারী হতে পারে।
ঘর ঠান্ডা রাখুন
দিনের বেলায় জানালা দিয়ে সরাসরি সূর্যের আলো ঢোকা কমাতে পর্দা বা ব্লাইন্ড ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে রাতের তুলনামূলক ঠান্ডা বাতাস ঘরে ঢোকার ব্যবস্থা করুন। অতিরিক্ত গরমে দিনের কিছু সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা জায়গায় থাকা যেতে পারে।
শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি নজর
গরমে শিশু, বয়স্ক এবং একা বসবাসকারী ব্যক্তিদের নিয়মিত খোঁজ নেওয়া জরুরি। কোনো অবস্থাতেই শিশু বা পোষা প্রাণীকে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে রেখে যাওয়া উচিত নয়, কারণ অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় উঠতে পারে।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন
অতিরিক্ত গরমে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, প্রচণ্ড তৃষ্ণা, বমি বমি ভাব বা মাথাব্যথা দেখা দিলে দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় চলে গিয়ে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। তবে বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি বা খুব গরম শরীরের সঙ্গে ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সেটি হিটস্ট্রোকের জরুরি সংকেত হতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব ঠান্ডা পরিবেশে নিয়ে শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা করতে হবে।
অসুস্থতা থাকলে আরও সতর্ক
হৃদ্রোগ, কিডনি, ফুসফুসের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে গরমের প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে নিজের মতো করে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন না করে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—গরমকে হালকাভাবে না নেওয়া। পর্যাপ্ত পানি পান, রোদ এড়িয়ে চলা, শরীর ঠান্ডা রাখা এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে গরমজনিত নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array