বিদ্যুৎ বিল কমাতে ফ্রিজ ব্যবহারে সতর্কতা
গৃহস্থালির বিদ্যুৎ খরচের একটি বড় অংশ আসে ফ্রিজ থেকে। কারণ অন্যান্য অনেক বৈদ্যুতিক যন্ত্রের মতো প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রিজ চালু বা বন্ধ করা হয় না; খাবার সংরক্ষণের জন্য এটি সাধারণত ২৪ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ সংযোগে থাকে। ফলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছোটখাটো কিছু ভুলও দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খরচ বাড়াতে পারে।
অনেকের ধারণা, পুরোনো ফ্রিজই শুধু বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। বাস্তবে ফ্রিজের বয়সের পাশাপাশি এর ব্যবহার, অবস্থান, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভেতরে খাবার রাখার ধরনও বিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু সহজ অভ্যাস পরিবর্তন করে ফ্রিজের কর্মক্ষমতা ঠিক রাখার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব।
ফ্রিজের ভেতর পরিকল্পনা করে সাজান
ফ্রিজে প্রয়োজনীয় খাবার ও পণ্যগুলো পরিকল্পনা করে সাজিয়ে রাখা ভালো। কোন জিনিস কোথায় রাখা আছে তা জানা থাকলে প্রয়োজনীয় খাবার বের করতে দরজা দীর্ঘ সময় খোলা রাখতে হয় না।
ফ্রিজের দরজা যত বেশি সময় খোলা থাকে, তত বেশি ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে যায়। ফলে ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে কুলিং সিস্টেমকে অতিরিক্ত কাজ করতে হতে পারে।
ফ্রিজ একেবারে খালি রাখবেন না
একেবারে খালি ফ্রিজের তুলনায় মাঝারি পরিমাণ খাবার থাকা ফ্রিজ তাপমাত্রা ধরে রাখতে তুলনামূলকভাবে কার্যকর হতে পারে। তবে অতিরিক্ত খাবার দিয়ে ফ্রিজ গাদাগাদি করে রাখাও ঠিক নয়।
ফ্রিজের ভেতরে বাতাস চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা রাখতে হবে। খাবার এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে ঠান্ডা বাতাস সহজে সব জায়গায় পৌঁছাতে পারে।
নন-ফ্রস্ট ফ্রিজে নিয়মিত ডিফ্রস্ট করুন
যেসব ফ্রিজে স্বয়ংক্রিয় ডিফ্রস্ট বা নন-ফ্রস্ট প্রযুক্তি নেই, সেগুলোর ফ্রিজারে অতিরিক্ত বরফ জমতে পারে। বরফের স্তর বেশি জমে গেলে ফ্রিজের কার্যক্ষমতা কমতে পারে এবং কুলিং সিস্টেমকে বেশি কাজ করতে হতে পারে।
তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রিজার পরিষ্কার করে অতিরিক্ত বরফ সরিয়ে ফেলা উচিত।
ভেন্ট বন্ধ করবেন না
ফ্রিজের ভেতরে ঠান্ডা বাতাস চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট ভেন্ট বা পথ থাকে। খাবার দিয়ে এসব জায়গা ঢেকে দিলে ঠান্ডা বাতাস সমানভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে না।
ফলে কুলিং সিস্টেমের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। তাই খাবার রাখার সময় ভেন্ট ও বাতাস চলাচলের পথ খোলা রাখা জরুরি।
বিদ্যুৎ চলে গেলে দরজা খুলবেন না
লোডশেডিং বা হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে অপ্রয়োজনে ফ্রিজের দরজা খোলা উচিত নয়। দরজা বন্ধ থাকলে ভেতরের ঠান্ডা তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে রাখা যায়।
বারবার দরজা খুললে ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে যায় এবং বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর ফ্রিজকে আবার প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় পৌঁছাতে বেশি কাজ করতে হতে পারে।
ফ্রিজের চারপাশে জায়গা রাখুন
ফ্রিজ দেয়াল বা আসবাবপত্রের সঙ্গে একেবারে লাগিয়ে রাখা উচিত নয়। ফ্রিজের পেছন ও চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে তাপ বের হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
অন্যদিকে একেবারে ঘেঁষে রাখলে তাপ অপসারণে সমস্যা হতে পারে এবং ফ্রিজের কুলিং সিস্টেমের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তাই প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্রিজের চারপাশে প্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গা রাখা ভালো।
পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রিজ কিনুন
পরিবারে সদস্যসংখ্যা ও প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক বড় ফ্রিজ ব্যবহার করলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। তাই নতুন ফ্রিজ কেনার সময় শুধু আকার বা ডিজাইন নয়, পরিবারের প্রয়োজন এবং যন্ত্রটির বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতাও বিবেচনা করা উচিত।
বিশেষ করে পুরোনো ফ্রিজে যদি ঘন ঘন সমস্যা দেখা দেয় বা সেটির কর্মক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, তাহলে আধুনিক ও বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী মডেলে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ছোট অভ্যাসেই হতে পারে সাশ্রয়
ফ্রিজ যেহেতু দিনের ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে, তাই এর ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে সামান্য সচেতনতাও দীর্ঘমেয়াদে পার্থক্য তৈরি করতে পারে। শুধু ফ্রিজ নয়, ঘরের অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় এড়িয়ে চলা জরুরি।
ফ্রিজের দরজা অযথা খোলা না রাখা, ভেতরে বাতাস চলাচলের সুযোগ রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষ্কার করা এবং যন্ত্রটির চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখার মতো সহজ অভ্যাস ফ্রিজের কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে একদিকে যেমন অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়, অন্যদিকে ফ্রিজের কর্মক্ষমতাও দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array