নিজের বাড়িতেই খাবার, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ তৈরি করেন সংগীত–কাব্যা দম্পতি
ভারতের কেরালার সংগীত ও কাব্যা দম্পতি নিজেদের বাড়িকে গড়ে তুলেছেন প্রায় স্বনির্ভর এক জীবনব্যবস্থায়। বাড়ির বাগান থেকে আসে সবজি, গরু ও মুরগি থেকে মেলে দুধ ও ডিম। রান্নার জ্বালানি তৈরি হয় গোবর ও রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য থেকে। আর ঘরের বিদ্যুতের বড় অংশ আসে সৌরশক্তি থেকে।
দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণের পর চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্স কাজ শুরু করেন সংগীত ও কাব্যা। ভ্রমণের সময় কম জিনিস নিয়ে চলা, নিজের খাবার নিজে তৈরি করা এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপনের অভ্যাস তৈরি হয়েছিল তাঁদের। পরে বাড়িতে থিতু হয়ে সেই জীবনধারাকেই আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করেন তাঁরা।
বাগান থেকেই খাবারের জোগান
বাড়ির জমিতে নানা ধরনের সবজি চাষের পাশাপাশি মাছ, ধান, মাশরুম ও ফলমূল উৎপাদনের চেষ্টা করছেন তাঁরা। রয়েছে গরু ও মুরগি। গরু থেকে দুধ, মুরগি থেকে ডিম পাওয়ায় বাজারের ওপর নির্ভরতা কমেছে।
মাশরুম চাষের জন্যও বড় জমির প্রয়োজন হচ্ছে না। নির্দিষ্ট পরিবেশ বজায় রেখে বাড়ির একটি অংশেই তাঁরা মাশরুম উৎপাদন করেন এবং প্রায় ২৫ দিন পরপর তা সংগ্রহ করেন।
গোবর ও বর্জ্য থেকে রান্নার জ্বালানি
সংগীত–কাব্যার বাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হলো বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। গরুর গোবর ও রান্নাঘরের পচনশীল বর্জ্য সেখানে ব্যবহার করা হয়। অণুজীবের মাধ্যমে জৈব পদার্থ ভেঙে তৈরি হওয়া বায়োগ্যাস রান্নার কাজে ব্যবহার করেন তাঁরা।
শুধু গ্যাস উৎপাদনেই বিষয়টি শেষ নয়। বায়োগ্যাস তৈরির পর অবশিষ্ট পদার্থ কৃষিকাজে সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে কৃষি, পশুপালন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রান্নার জ্বালানির মধ্যে তৈরি হয়েছে একটি ছোট চক্র।
সূর্যের আলো থেকেই বিদ্যুৎ
বাড়ির ছাদে বসানো সৌরপ্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ঘরের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি সেচের কাজেও কাজে লাগান তাঁরা। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলে তা থেকে আয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
মধু থেকে প্রসাধনপণ্য
বাড়ির চারপাশে মৌমাছির বাক্সও রয়েছে। সেখান থেকে মধু পাওয়ার পাশাপাশি মৌমাছি ফুলের পরাগায়নে ভূমিকা রাখে। এতে বাগানের ফসল উৎপাদনেও সহায়তা হয়।
স্বনির্ভরতার এই উদ্যোগ শুধু খাবার ও জ্বালানিতে সীমাবদ্ধ নয়। নারকেল, কমলা ও আমলকীর মতো বাড়িতে পাওয়া উপকরণ ব্যবহার করে কাজল, ময়েশ্চারাইজার ও ফেসওয়াশের মতো কিছু প্রসাধনপণ্যও তৈরি করেন তাঁরা।
গাছ লাগানোর উদ্যোগ
প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর অংশ হিসেবে ভ্রমণের সময়ও গাছ লাগিয়েছেন সংগীত ও কাব্যা। গত দেড় বছরে তাঁরা ১০ হাজারের বেশি গাছের চারা লাগিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লাগানো গাছগুলোর অবস্থান জিপিএসের মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় সেগুলোতে পানি দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছেন। আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের।
সংগীত–কাব্যার বাড়ির পুরো ব্যবস্থাটি মূলত একটি চক্রাকার জীবনযাপনের উদাহরণ—বাগান থেকে খাবার, গরু থেকে দুধ ও গোবর, গোবর থেকে বায়োগ্যাস, বায়োগ্যাসের অবশিষ্টাংশ থেকে কৃষির উপকরণ, আর সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ। অর্থাৎ একটি ব্যবস্থার বর্জ্য অন্য ব্যবস্থার সম্পদ হিসেবে আবার কাজে লাগছে।
তথ্যসূত্র: ইনস্টাগ্রাম, টাইমস লাইফ ও দ্য বেটার ইন্ডিয়া
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array