খুঁজুন
                               
, ,
           

নিজের বাড়িতেই খাবার, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ তৈরি করেন সংগীত–কাব্যা দম্পতি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
নিজের বাড়িতেই খাবার, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ তৈরি করেন সংগীত–কাব্যা দম্পতি

ভারতের কেরালার সংগীত ও কাব্যা দম্পতি নিজেদের বাড়িকে গড়ে তুলেছেন প্রায় স্বনির্ভর এক জীবনব্যবস্থায়। বাড়ির বাগান থেকে আসে সবজি, গরু ও মুরগি থেকে মেলে দুধ ও ডিম। রান্নার জ্বালানি তৈরি হয় গোবর ও রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য থেকে। আর ঘরের বিদ্যুতের বড় অংশ আসে সৌরশক্তি থেকে।

দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণের পর চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্স কাজ শুরু করেন সংগীত ও কাব্যা। ভ্রমণের সময় কম জিনিস নিয়ে চলা, নিজের খাবার নিজে তৈরি করা এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপনের অভ্যাস তৈরি হয়েছিল তাঁদের। পরে বাড়িতে থিতু হয়ে সেই জীবনধারাকেই আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করেন তাঁরা।

বাগান থেকেই খাবারের জোগান

বাড়ির জমিতে নানা ধরনের সবজি চাষের পাশাপাশি মাছ, ধান, মাশরুম ও ফলমূল উৎপাদনের চেষ্টা করছেন তাঁরা। রয়েছে গরু ও মুরগি। গরু থেকে দুধ, মুরগি থেকে ডিম পাওয়ায় বাজারের ওপর নির্ভরতা কমেছে।

মাশরুম চাষের জন্যও বড় জমির প্রয়োজন হচ্ছে না। নির্দিষ্ট পরিবেশ বজায় রেখে বাড়ির একটি অংশেই তাঁরা মাশরুম উৎপাদন করেন এবং প্রায় ২৫ দিন পরপর তা সংগ্রহ করেন।

গোবর ও বর্জ্য থেকে রান্নার জ্বালানি

সংগীত–কাব্যার বাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হলো বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। গরুর গোবর ও রান্নাঘরের পচনশীল বর্জ্য সেখানে ব্যবহার করা হয়। অণুজীবের মাধ্যমে জৈব পদার্থ ভেঙে তৈরি হওয়া বায়োগ্যাস রান্নার কাজে ব্যবহার করেন তাঁরা।

শুধু গ্যাস উৎপাদনেই বিষয়টি শেষ নয়। বায়োগ্যাস তৈরির পর অবশিষ্ট পদার্থ কৃষিকাজে সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে কৃষি, পশুপালন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রান্নার জ্বালানির মধ্যে তৈরি হয়েছে একটি ছোট চক্র।

সূর্যের আলো থেকেই বিদ্যুৎ

বাড়ির ছাদে বসানো সৌরপ্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ঘরের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি সেচের কাজেও কাজে লাগান তাঁরা। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলে তা থেকে আয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।

মধু থেকে প্রসাধনপণ্য

বাড়ির চারপাশে মৌমাছির বাক্সও রয়েছে। সেখান থেকে মধু পাওয়ার পাশাপাশি মৌমাছি ফুলের পরাগায়নে ভূমিকা রাখে। এতে বাগানের ফসল উৎপাদনেও সহায়তা হয়।

স্বনির্ভরতার এই উদ্যোগ শুধু খাবার ও জ্বালানিতে সীমাবদ্ধ নয়। নারকেল, কমলা ও আমলকীর মতো বাড়িতে পাওয়া উপকরণ ব্যবহার করে কাজল, ময়েশ্চারাইজার ও ফেসওয়াশের মতো কিছু প্রসাধনপণ্যও তৈরি করেন তাঁরা।

গাছ লাগানোর উদ্যোগ

প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর অংশ হিসেবে ভ্রমণের সময়ও গাছ লাগিয়েছেন সংগীত ও কাব্যা। গত দেড় বছরে তাঁরা ১০ হাজারের বেশি গাছের চারা লাগিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লাগানো গাছগুলোর অবস্থান জিপিএসের মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় সেগুলোতে পানি দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছেন। আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের।

সংগীত–কাব্যার বাড়ির পুরো ব্যবস্থাটি মূলত একটি চক্রাকার জীবনযাপনের উদাহরণ—বাগান থেকে খাবার, গরু থেকে দুধ ও গোবর, গোবর থেকে বায়োগ্যাস, বায়োগ্যাসের অবশিষ্টাংশ থেকে কৃষির উপকরণ, আর সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ। অর্থাৎ একটি ব্যবস্থার বর্জ্য অন্য ব্যবস্থার সম্পদ হিসেবে আবার কাজে লাগছে।

তথ্যসূত্র: ইনস্টাগ্রাম, টাইমস লাইফ ও দ্য বেটার ইন্ডিয়া

কালের আলো/এসএ

রংপুর মেডিকেলে সিন্ডিকেট বন্ধে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে: রাশেদ খান

রংপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
রংপুর মেডিকেলে সিন্ডিকেট বন্ধে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে: রাশেদ খান

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আর কোনো সিন্ডিকেট ও দৌরাত্ম্য থাকবে না। এসব বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় হাসপাতালে পুলিশের ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান বলেন, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশ সদস্যদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারলে আগামীকাল থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে কমিশনার তাকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, হাসপাতাল ক্যাম্পাসের সীমানার আশপাশে মাদকের ব্যবহার ও সিন্ডিকেট বন্ধে পুলিশ কাজ করবে। আরও সহযোগিতার প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরও কেউ হাসপাতালকে জিম্মি করে বা সিন্ডিকেট তৈরি করে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি করতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাশেদ খান বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। এ দুটি খাতে সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কাজ করছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবায় মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বেড়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাবে, যাতে রংপুর বিভাগের মানুষকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে না হয়। এই অঞ্চলের মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেই পাবেন।

এ সময় রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত এবং তিনি যেখানে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, সেই স্থান পরিদর্শনের কথা রয়েছে। একই সঙ্গে বিকেলে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বেগম জিয়ার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছি: এ্যানি

লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
বেগম জিয়ার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছি: এ্যানি

পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। দল-মতনির্বিশেষে সবাই এসব কাজকে অগ্রাধিকার দিলে অর্থনৈতিক রূপান্তরের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা সম্ভব হবে। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই আমরা কাজগুলো অব্যাহত রেখেছি।’

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুরের রহমতখালী খালে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে জেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে পুকুরে অবমুক্ত করার জন্য সরকারি-বেসরকারি ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ করা হয়।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এর মধ্যে বৃক্ষরোপণ অভিযান রয়েছে। সারাদেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এসব খাল পুনঃখনন করা হবে। মাছের পোনা অবমুক্তকরণও এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় দূরদর্শী চিন্তা থেকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। সেটি ছিল একটি আন্দোলন ও বিপ্লব।

এ্যানি আরও বলেন, ‘আমরা গ্রামীণ অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। সামাজিকভাবে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে কর্মসূচিগুলো পালন করছি। পাশাপাশি সবকিছুর সঙ্গে পরিবেশের সম্পর্ক রয়েছে। রহমতখালী খাল লক্ষ্মীপুরের প্রাণ। ইতোমধ্যে খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ অব্যাহত রয়েছে। প্রচুর কচুরিপানা ছিল, সেগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে। এখন পানির প্রবাহও যথেষ্ট রয়েছে। আজ খালে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। সবাই মিলে এই সামাজিক উদ্যোগকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।’

এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ-জামান খান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান ও বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী প্রমুখ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মেসির মাথা খুলেছে মায়ামিতে, বাড়ছে হেডে গোল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
মেসির মাথা খুলেছে মায়ামিতে, বাড়ছে হেডে গোল

শিরোনামটি পড়ে অদ্ভুত লাগতেই পারে—লিওনেল মেসির আবার মাথা খোলার কী আছে! আসলে মেসির মাথা বরাবরই ছিল, তবে গোল করার ক্ষেত্রে ক্যারিয়ারের বড় একটা সময় সেটির ব্যবহার ছিল তুলনামূলক কম। কিন্তু ইন্টার মায়ামিতে এসে সেই চিত্রে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

প্রায় দুই দশকের পেশাদার ক্যারিয়ারে বার্সেলোনার মূল দলে ১৭ বছর খেলেছেন মেসি। এরপর পিএসজিতে কাটিয়েছেন দুই মৌসুম। সর্বশেষ চার মৌসুম ধরে খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও দুই দশকের বেশি সময় ধরে খেলছেন তিনি।

দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান বলছে, মায়ামিতে এসেই হেডে গোল করার হার বেড়েছে মেসির।

বার্সায় ৬৭২ গোলে হেড মাত্র ২৪

বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মেসি করেছেন ৬৭২ গোল। এর মধ্যে হেড থেকে এসেছে মাত্র ২৪টি। অর্থাৎ বার্সার হয়ে তাঁর প্রতি ১০০ গোলের মধ্যে হেডে ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৫৭টি।

বিপরীতে বাঁ পায়ের ব্যবহার ছিল তাঁর গোলের প্রধান অস্ত্র। বার্সেলোনার হয়ে করা ৬৭২ গোলের ৫৫৭টিই এসেছে বাঁ পায়ে, যা মোট গোলের প্রায় ৮২ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

পিএসজিতেও চিত্রটা খুব একটা বদলায়নি। প্যারিসের ক্লাবটির হয়ে দুই মৌসুমে ৩২ গোলের ২৮টিই করেছেন বাঁ পায়ে। হেডে গোল ছিল শূন্য।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও ১২৫ গোল করেছেন মেসি। এর মধ্যে ১১১টি বাঁ পায়ে, আর হেডে মাত্র দুটি।

মায়ামিতে বদলে গেল চিত্র

ইন্টার মায়ামির হয়ে বৃহস্পতিবার ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে করা গোলটি ছিল মেসির শততম গোল। আর এই শতকের মধ্যে হেড থেকে এসেছে ছয়টি গোল। অর্থাৎ মায়ামির হয়ে মেসির মোট গোলের ৬ শতাংশ এসেছে মাথা দিয়ে।

বার্সেলোনা বা পিএসজির তুলনায় সংখ্যাটি খুব বড় না হলেও মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনটি চোখে পড়ার মতো।

বার্সেলোনায় হেডে গোল কম কেন?

মেসির হেডে গোলের সংখ্যা বুঝতে হলে তাঁর খেলার ধরনও বিবেচনায় নিতে হয়। বার্সেলোনার সোনালি সময়ে দলের আক্রমণ গড়ে উঠত ছোট পাস, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক বিল্ডআপের ওপর।

জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও সার্জিও বুসকেতসদের সঙ্গে দ্রুত পাস আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙাই ছিল বার্সার অন্যতম প্রধান অস্ত্র। সেই ব্যবস্থায় বল বেশির ভাগ সময় মাটিতেই থাকত।

মেসিও অনেক সময় নিচে নেমে বল নিতেন, ড্রিবল করে রক্ষণ ভাঙতেন কিংবা সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দিতেন। ফলে ক্রস থেকে বক্সে উঠে মাথা দিয়ে গোল করার পরিস্থিতি তাঁর খেলায় তুলনামূলক কম তৈরি হতো।

মায়ামিতে ভূমিকা বদলেছে

ইন্টার মায়ামিতে এসে মেসির ভূমিকায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। তিনি এখনো দলের প্রধান সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়, তবে আগের মতো প্রতিটি আক্রমণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একইভাবে যুক্ত থাকেন না।

কখনো মাঝমাঠে নেমে আক্রমণ তৈরি করছেন, কখনো ডান দিকের হাফ স্পেসে অবস্থান নিচ্ছেন, আবার কখনো প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি গিয়ে শেষ পাস কিংবা ফিনিশিংয়ের অপেক্ষায় থাকছেন।

এমএলএসের ট্যাকটিক্যাল বিশ্লেষণেও মেসির এই স্বাধীন ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে। ডান দিকের হাফ স্পেসে তাঁকে তুলনামূলক স্বাধীনভাবে খেলানো হলে তিনি ভেতরে ঢুকতে কিংবা বাইরে গিয়ে জায়গা তৈরি করতে পারেন। এতে প্রতিপক্ষের বক্সে বিভিন্ন অবস্থান থেকে পৌঁছানোর সুযোগও বাড়ে।

বয়সের সঙ্গে বদলেছে মেসির খেলাও

বার্সেলোনার মেসি আর ইন্টার মায়ামির মেসি একই খেলোয়াড় হলেও তাঁদের বয়স ও শারীরিক চাহিদা এক নয়। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে এসে আগের মতো প্রতিটি আক্রমণে দীর্ঘ সময় দৌড়ানো কিংবা বল পায়ে নিয়ে পুরো মাঠ পাড়ি দেওয়ার পরিবর্তে নিজের অবস্থান, সময়জ্ঞান ও শক্তির ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সতীর্থদের ধরনও এখানে ভূমিকা রাখে। বার্সেলোনায় মেসির সঙ্গে জাভি, ইনিয়েস্তা ও বুসকেতসের মতো খেলোয়াড়দের বোঝাপড়া ছিল। মায়ামিতে লুইস সুয়ারেজ, রদ্রিগো দি পল ও জর্দি আলবার মতো পরিচিত মুখ থাকলেও দলের খেলার কাঠামো বার্সেলোনার তিকিতাকা যুগের মতো নয়।

মায়ামির আক্রমণে দ্রুত বল এগিয়ে নেওয়া, উইং ব্যবহার কিংবা দূর থেকে শট নেওয়ার মতো বৈচিত্র্য রয়েছে। ফলে মেসির সামনে এখন শুধু বল পায়ে নিয়ে আক্রমণ তৈরির সুযোগই নয়, বক্সে গিয়ে শেষ মুহূর্তে আক্রমণ শেষ করার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

আর সেই পরিবর্তনেরই একটি মজার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে তাঁর হেডে করা গোলের পরিসংখ্যানে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাঁ পা ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় অস্ত্র; মায়ামিতে এসে মাথাটাও যেন একটু বেশি কাজে লাগছে।

কালের আলো/এসএ