খুঁজুন
                               
, ,
           

মেসির মাথা খুলেছে মায়ামিতে, বাড়ছে হেডে গোল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
মেসির মাথা খুলেছে মায়ামিতে, বাড়ছে হেডে গোল

শিরোনামটি পড়ে অদ্ভুত লাগতেই পারে—লিওনেল মেসির আবার মাথা খোলার কী আছে! আসলে মেসির মাথা বরাবরই ছিল, তবে গোল করার ক্ষেত্রে ক্যারিয়ারের বড় একটা সময় সেটির ব্যবহার ছিল তুলনামূলক কম। কিন্তু ইন্টার মায়ামিতে এসে সেই চিত্রে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

প্রায় দুই দশকের পেশাদার ক্যারিয়ারে বার্সেলোনার মূল দলে ১৭ বছর খেলেছেন মেসি। এরপর পিএসজিতে কাটিয়েছেন দুই মৌসুম। সর্বশেষ চার মৌসুম ধরে খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও দুই দশকের বেশি সময় ধরে খেলছেন তিনি।

দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান বলছে, মায়ামিতে এসেই হেডে গোল করার হার বেড়েছে মেসির।

বার্সায় ৬৭২ গোলে হেড মাত্র ২৪

বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মেসি করেছেন ৬৭২ গোল। এর মধ্যে হেড থেকে এসেছে মাত্র ২৪টি। অর্থাৎ বার্সার হয়ে তাঁর প্রতি ১০০ গোলের মধ্যে হেডে ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৫৭টি।

বিপরীতে বাঁ পায়ের ব্যবহার ছিল তাঁর গোলের প্রধান অস্ত্র। বার্সেলোনার হয়ে করা ৬৭২ গোলের ৫৫৭টিই এসেছে বাঁ পায়ে, যা মোট গোলের প্রায় ৮২ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

পিএসজিতেও চিত্রটা খুব একটা বদলায়নি। প্যারিসের ক্লাবটির হয়ে দুই মৌসুমে ৩২ গোলের ২৮টিই করেছেন বাঁ পায়ে। হেডে গোল ছিল শূন্য।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও ১২৫ গোল করেছেন মেসি। এর মধ্যে ১১১টি বাঁ পায়ে, আর হেডে মাত্র দুটি।

মায়ামিতে বদলে গেল চিত্র

ইন্টার মায়ামির হয়ে বৃহস্পতিবার ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে করা গোলটি ছিল মেসির শততম গোল। আর এই শতকের মধ্যে হেড থেকে এসেছে ছয়টি গোল। অর্থাৎ মায়ামির হয়ে মেসির মোট গোলের ৬ শতাংশ এসেছে মাথা দিয়ে।

বার্সেলোনা বা পিএসজির তুলনায় সংখ্যাটি খুব বড় না হলেও মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনটি চোখে পড়ার মতো।

বার্সেলোনায় হেডে গোল কম কেন?

মেসির হেডে গোলের সংখ্যা বুঝতে হলে তাঁর খেলার ধরনও বিবেচনায় নিতে হয়। বার্সেলোনার সোনালি সময়ে দলের আক্রমণ গড়ে উঠত ছোট পাস, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক বিল্ডআপের ওপর।

জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও সার্জিও বুসকেতসদের সঙ্গে দ্রুত পাস আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙাই ছিল বার্সার অন্যতম প্রধান অস্ত্র। সেই ব্যবস্থায় বল বেশির ভাগ সময় মাটিতেই থাকত।

মেসিও অনেক সময় নিচে নেমে বল নিতেন, ড্রিবল করে রক্ষণ ভাঙতেন কিংবা সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দিতেন। ফলে ক্রস থেকে বক্সে উঠে মাথা দিয়ে গোল করার পরিস্থিতি তাঁর খেলায় তুলনামূলক কম তৈরি হতো।

মায়ামিতে ভূমিকা বদলেছে

ইন্টার মায়ামিতে এসে মেসির ভূমিকায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। তিনি এখনো দলের প্রধান সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়, তবে আগের মতো প্রতিটি আক্রমণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একইভাবে যুক্ত থাকেন না।

কখনো মাঝমাঠে নেমে আক্রমণ তৈরি করছেন, কখনো ডান দিকের হাফ স্পেসে অবস্থান নিচ্ছেন, আবার কখনো প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি গিয়ে শেষ পাস কিংবা ফিনিশিংয়ের অপেক্ষায় থাকছেন।

এমএলএসের ট্যাকটিক্যাল বিশ্লেষণেও মেসির এই স্বাধীন ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে। ডান দিকের হাফ স্পেসে তাঁকে তুলনামূলক স্বাধীনভাবে খেলানো হলে তিনি ভেতরে ঢুকতে কিংবা বাইরে গিয়ে জায়গা তৈরি করতে পারেন। এতে প্রতিপক্ষের বক্সে বিভিন্ন অবস্থান থেকে পৌঁছানোর সুযোগও বাড়ে।

বয়সের সঙ্গে বদলেছে মেসির খেলাও

বার্সেলোনার মেসি আর ইন্টার মায়ামির মেসি একই খেলোয়াড় হলেও তাঁদের বয়স ও শারীরিক চাহিদা এক নয়। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে এসে আগের মতো প্রতিটি আক্রমণে দীর্ঘ সময় দৌড়ানো কিংবা বল পায়ে নিয়ে পুরো মাঠ পাড়ি দেওয়ার পরিবর্তে নিজের অবস্থান, সময়জ্ঞান ও শক্তির ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সতীর্থদের ধরনও এখানে ভূমিকা রাখে। বার্সেলোনায় মেসির সঙ্গে জাভি, ইনিয়েস্তা ও বুসকেতসের মতো খেলোয়াড়দের বোঝাপড়া ছিল। মায়ামিতে লুইস সুয়ারেজ, রদ্রিগো দি পল ও জর্দি আলবার মতো পরিচিত মুখ থাকলেও দলের খেলার কাঠামো বার্সেলোনার তিকিতাকা যুগের মতো নয়।

মায়ামির আক্রমণে দ্রুত বল এগিয়ে নেওয়া, উইং ব্যবহার কিংবা দূর থেকে শট নেওয়ার মতো বৈচিত্র্য রয়েছে। ফলে মেসির সামনে এখন শুধু বল পায়ে নিয়ে আক্রমণ তৈরির সুযোগই নয়, বক্সে গিয়ে শেষ মুহূর্তে আক্রমণ শেষ করার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

আর সেই পরিবর্তনেরই একটি মজার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে তাঁর হেডে করা গোলের পরিসংখ্যানে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাঁ পা ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় অস্ত্র; মায়ামিতে এসে মাথাটাও যেন একটু বেশি কাজে লাগছে।

কালের আলো/এসএ

সবজির বাজার চড়া, কমেছে মুরগি-ইলিশের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
সবজির বাজার চড়া, কমেছে মুরগি-ইলিশের দাম

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির দাম বেড়েছে। সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে আগের সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দাম কমেছে। একইসঙ্গে সরবরাহ বাড়ায় ইলিশের দামও কমেছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তালতলা, আগারগাঁও ও শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

রাজধানীর এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম বেড়েছে।

সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। বাজারে বেগুন কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পটল, ঢেঁড়স, কাকরোল ও ঝিঙা মানভেদে প্রতিকেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, আলু ৩০ টাকা ও পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর মুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনেপাতা ৩০০ টাকা ও হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এ ছাড়া চাল কুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস ও ক্যাপসিকাম ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে শীতকালীন সবজি শিম প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা। এ ছাড়া ফুলকপি ৬০ থেকে ৮০ টাকা ও ছোট আকারে বাঁধাকপি ৮০ টাকা পিস দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহ ব্যবধানে সব ধরনের মুরগির দাম কমেছে। সোনালি কক মুরগি কেজিতে ২০ টাকা কমে ৩০০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৭০ টাকা ও দেশি মুরগি কেজিতে ৫০ টাকা কমে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে লাল শাক আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৫০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা ও ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

সরবরাহ বাড়ায় বাজারগুলোতে ইলিশের দাম কমেছে। বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ইলিশ মাছ ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা ও ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২০০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সরবরাহ বাড়লেও তুলনামূলক দাম কমেনি বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। তাদের মতে এখন ইলিশের সিজন। এখন দাম যে পরিমাণ কমার কথা সেটি কমেনি।

এ ব্যাপারে তালতলা বাজারে বাজার করতে আসা ইলিয়াস হোসেন বলেন, ছোট ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় গত বছরের তুলনায় দাম তেমন কমেনি। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে প্রচুর ইংলিশ আসছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে দাম আরও কিছুটা কমবে বলে তারা উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে বাজারগুলোতে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, প্রতিকেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা ও পাঁচ মিশালি মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে এক ডজন মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা, হাঁসের ডিম এক ডজন ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

৬১ গোলের মৌসুম, এবার ব্যালন ডি’অরের স্বপ্ন কেইনের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
৬১ গোলের মৌসুম, এবার ব্যালন ডি’অরের স্বপ্ন কেইনের

হ্যারি কেইন কি তাহলে ওয়াইনের মতো? বয়স যত বাড়ছে, যেন ততই বাড়ছে তাঁর গোলের স্বাদ। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে ইংল্যান্ডের এই স্ট্রাইকার গোল করার ক্ষেত্রে বরং আরও ধারালো হয়ে উঠেছেন।

টটেনহামে থাকাকালে এক মৌসুমে কেইনের সর্বোচ্চ গোল ছিল ৪১টি। ২০১৭–১৮ মৌসুমে ২৫ বছর বয়সে এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। এরপর ২০২৩ সালে ৩০ বছর বয়সে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর যেন গোলের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। বায়ার্নের হয়ে প্রথম তিন মৌসুমে তাঁর গোলসংখ্যা যথাক্রমে ৪৪, ৪১ ও ৬১।

ইংল্যান্ডের হয়ে গত মৌসুমে আরও ১২ গোল যোগ করলে ৬৫ ম্যাচে কেইনের গোল দাঁড়ায় ৭৩টি। এমন পরিসংখ্যানই তাঁকে এবারের ব্যালন ডি’অরের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী করে তুলেছে।

গত মৌসুমের ৬১ গোলও বিশেষ এক কীর্তি। ২০১১–১২ মৌসুমে ৬৯ ম্যাচে লিওনেল মেসির ৮২ গোলের পর ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে গত মৌসুমে কেইনের গোলসংখ্যাই ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ—প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী।

বায়ার্নের হয়ে গত মৌসুমে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জিতেছেন কেইন। বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে ছয় গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন। ফলে ইংলিশ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যালন ডি’অর নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।

এমবাপ্পে-ইয়ামালের সঙ্গে লড়াই

তবে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কেইনের প্রতিদ্বন্দ্বীও কম নয়। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামাল নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় আছেন।

এমবাপ্পে বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড গড়েছেন এবং ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে তোলার পথে গোল্ডেন বুট জিতেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে করেছেন ৪২ গোল। অন্যদিকে ইয়ামাল বার্সেলোনার হয়ে ২৪ গোলের পাশাপাশি ১৮টি গোল বানিয়েছেন এবং দলকে লা লিগা ও বিশ্বকাপ জয়ে সহায়তা করেছেন।

তাঁরা দুজনই নিজেদের ব্যালন ডি’অর সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। সেই তুলনায় কেইন নিজের প্রচারে অনেকটাই সংযত।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেইন বলেছেন, গত মৌসুম ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুমগুলোর একটি। তবে ব্যালন ডি’অর তাঁর হাতে নেই এবং পুরস্কারটি ভোটদাতাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ৭৩ গোলই তাঁর পারফরম্যান্সের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

নিজের শহরে ব্যালন ডি’অর

এবারের ব্যালন ডি’অরের আসর আরও বিশেষ কেইনের জন্য। প্রথমবারের মতো লন্ডনে বসতে যাচ্ছে এই পুরস্কারের আয়োজন। কেইনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই শহরেই।

নিজের শহরে ব্যালন ডি’অরের অনুষ্ঠান হওয়াকে বিশেষ অনুভূতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন কেইন। তবে শেষ পর্যন্ত কী হবে, সেটি দেখার বিষয় বলেই জানিয়েছেন তিনি।

বয়স কেন বাধা হচ্ছে না?

৩৩ বছর বয়সে যেখানে অনেক ফুটবলারের পারফরম্যান্স কমতে শুরু করে, সেখানে কেইনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। তাঁর এই ধারাবাহিকতার পেছনে ব্যক্তিগত ক্রীড়া চিকিৎসক আলেহান্দ্রো এলোরিয়াগার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ইংলিশ তারকা।

প্রায় সাড়ে ছয় বছর ধরে এলোরিয়াগার সঙ্গে কাজ করছেন কেইন। তাঁর মতে, পর্দার আড়ালে দীর্ঘদিনের এই কাজই তাঁকে এত বেশি ম্যাচ খেলতে এবং ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে সাহায্য করেছে।

কেইনের ভাষায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে তাঁর পারফরম্যান্স কমার বদলে উন্নতি করেছে—আর এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়।

গোল করার আনন্দও এখনো আগের মতোই উপভোগ করেন কেইন। তাঁর কাছে গোল করার মুহূর্ত এখনো ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অনুভূতিগুলোর একটি। বরং ফুটবল ছাড়ার পর এই অনুভূতিটিই সবচেয়ে বেশি মিস করবেন বলে মনে করেন তিনি।

বয়সের সঙ্গে থেমে না গিয়ে আরও ধারালো হয়ে ওঠা কেইনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—এই অসাধারণ গোলসংখ্যা কি তাঁকে এনে দেবে কাঙ্ক্ষিত ব্যালন ডি’অর!

কালের আলো/এসএ

এসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ২৩ জনের দলে থাকছেন কারা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ
এসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ২৩ জনের দলে থাকছেন কারা

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে ফিফা এসিয়ান কাপ। ইন্দোনেশিয়া ও হংকংয়ে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ খেলবে ইন্দোনেশিয়া পর্বে। আসরকে সামনে রেখে ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল প্রস্তুত করেছেন কোচ টমাস ডুলি। আজ অথবা আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে স্কোয়াড ঘোষণা হতে পারে।

জাতীয় দলের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের প্রাধান্য দিয়েই দল সাজিয়েছেন ডুলি। দীর্ঘ সময় পর জাতীয় দলে ফিরতে পারেন সেন্টারব্যাক মঞ্জুরুর রহমান। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল তাঁর।

প্রবাসী ফুটবলারদের মধ্যে ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ইয়াসার তাহমিদ ও দেবজিৎ সরকার ইতিমধ্যে ক্যাম্প থেকে বাদ পড়েছেন। বাকি চারজনের মধ্যে শুকি ইতোফুসা ও জিদান ইউসুফ চূড়ান্ত দলে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। ইংল্যান্ডের বোরহ্যাম উড এফসিতে খেলা ফারহান আলীকেও দলে দেখা যেতে পারে।

ঢাকার ক্যাম্পে না থাকলেও ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন হামজা চৌধুরী ও শমিত সোম। তাঁদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের মাঝমাঠে অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্য বাড়াতে পারে।

তবে ভিসা জটিলতার কারণে বাংলাদেশ দলের ইন্দোনেশিয়া যাত্রা এক-দুই দিন পিছিয়ে যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে আগামীকাল দেশ ছাড়ার কথা রয়েছে দলের।

এসিয়ান কাপে বাংলাদেশ খেলবে ডিভিশন-১-এর ‘এ’ গ্রুপে। গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট অভিযান। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। তিনটি ম্যাচই হবে জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য স্কোয়াড

গোলকিপার: মিতুল মারমা, মেহেদী হাসান শ্রাবণ, সুজন হোসেন।

ডিফেন্ডার: তারিক কাজী, তপু বর্মন, শাকিল আহাদ, সাদ উদ্দিন, জায়ান আহমেদ, শাকিল হোসেন/জিদান ইউসুফ, মঞ্জুরুর রহমান, রহমত মিয়া।

মিডফিল্ডার: জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, মোহাম্মদ সোহেল রানা, মোহাম্মদ হৃদয়, হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, শেখ মোরছালিন।

ফরোয়ার্ড: ফাহামিদুল ইসলাম, শুকি ইতোফুসা, রাকিব হোসেন, ফারহান আলী, ফয়সাল আহমেদ/মিনহাজুল করিম।

গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর ডিভিশন-১-এর প্রতিটি দলের আরও একটি ম্যাচ থাকবে। ‘এ’ ও ‘বি’ গ্রুপে দলগুলোর অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে সেই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ।

কালের আলো/এসএ