আধুনিকতার ছোঁয়াবিহীন এক অন্যরকম গ্রাম হারিয়াকোনা
শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তে গারো পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অপরূপ সৌন্দর্যের এক জনপদ—হারিয়াকোনা। ঝর্ণার বুকে জেগে ওঠা বালুচর, সবুজে ঢাকা উঁচুনিচু টিলা আর পাহাড়ি প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা এ গ্রামটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
শ্রীবরদী শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে হারিয়াকোনা। এর মধ্যে ১৫ কিলোমিটার সড়ক পাকা হলেও বাকি পাঁচ কিলোমিটার পথ কাঁচা। শেষের প্রায় আড়াই কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হয়। কোনো যানবাহন চলাচল না করায় প্রকৃতির খুব কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ মেলে এখানে।
গারো পাহাড়ের শেষ প্রান্তের এ গ্রামে প্রায় ১৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার বসবাস করে। তাদের মধ্যে গারো, কোচ ও হাজং সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দাই খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। পাহাড়ি টিলার ওপর গড়ে উঠেছে তাদের ঘরবাড়ি। কৃষিকাজই তাদের প্রধান জীবিকা।
গ্রামের উত্তর ও পূর্বে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পোড়াকাশিয়া এলাকা। দুই দেশের সীমান্ত পিলার রয়েছে ১০৯৩ ও ১০৯৪ নম্বরে। পশ্চিমে দিঘলাকোনা এবং দক্ষিণে বাবেলাকোনা। প্রায় আড়াই কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এ গ্রামে রয়েছে অর্ধশতাধিক টিলা।
হারিয়াকোনার মাঝখানে রয়েছে একটি গির্জা, জিবিসি পরিচালিত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুটবল খেলার মাঠ, কয়েকটি মুদি দোকান ও চায়ের দোকান। প্রতি রবিবার গ্রামের বাসিন্দারা গির্জায় উপাসনা শেষে একত্রিত হন। ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি চলে নানা আলোচনা ও সামাজিক যোগাযোগ। এদিনটি যেন পুরো গ্রামের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
গ্রামের পশ্চিম থেকে পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সড়কের দুই পাশ গাছপালা, লতাপাতা ও সবুজে আচ্ছাদিত। ঝর্ণার দুই পাশে পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি আর টিলার ওপর ছোট ছোট ঘরবাড়ি দূর থেকে তৈরি করে ভিন্ন এক দৃশ্য। আধুনিকতার ছোঁয়া এখনো পুরোপুরি পৌঁছায়নি এ জনপদে।
তবে প্রকৃতির এই সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে নানা দুর্ভোগও। ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা বন্য হাতির দল প্রায়ই সীমান্তবর্তী এলাকায় তাণ্ডব চালায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানুষের ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। ফলে প্রকৃতির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহাবস্থানের মাঝেও হাতির আতঙ্কে অনিশ্চয়তায় কাটে অনেক পরিবারের জীবন।
তবু পাহাড়, ঝর্ণা, সবুজ আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ণিল জীবনধারায় হারিয়াকোনা হয়ে উঠেছে শ্রীবরদীর অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক জনপদ। প্রকৃতির নির্জন সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে এ গ্রাম হয়ে উঠতে পারে ভিন্নধর্মী এক গন্তব্য।
কালের আলো/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array