খুঁজুন
                               
, ,
           

ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাতে হাতে পরিচ্ছন্নতা, খাল পরিষ্কার করলেন হুইপ অপু

শরীয়তপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাতে হাতে পরিচ্ছন্নতা, খাল পরিষ্কার করলেন হুইপ অপু

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজ হাতে খালের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন তিনি। এ সময় হুইপ অপু নিজ হাতে খালের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন।

কর্মসূচির শুরুতে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দাসহ অংশগ্রহণকারীদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার শপথ পাঠ করান হুইপ অপু।

এ সময় তিনি ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে বাড়ির আশপাশ ও বিভিন্ন জলাশয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানান।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বার্তা দেওয়া হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি 

মালিবাগে পরপর ককটেল বিস্ফোরণ, ঘটনাস্থলে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
মালিবাগে পরপর ককটেল বিস্ফোরণ, ঘটনাস্থলে পুলিশ

রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচের সড়কে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। ওই সময় দোকানপাট বন্ধ থাকায় এবং সড়কে লোকজন না থাকায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম জানান, দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে সড়কে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, জার্মান প্রতিনিধিদলকে স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, জার্মান প্রতিনিধিদলকে স্পিকার

বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে জার্মানির একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে স্পিকার বাংলাদেশ ও জার্মানির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই জার্মান সরকার বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করে আসছে। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্যও জার্মানি।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হলেও দীর্ঘদিন কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, পরপর তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করে গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করেছিল।

তিনি আরও বলেন, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বিতর্কিত নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এর পর দেশে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্পিকার বাংলাদেশের নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমান সংসদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছয়জন নারী সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন।

বৈঠকে জার্মানি-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, সংসদীয় কূটনীতির প্রসার এবং বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও মতবিনিময় হয়।

জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্দেস্ট্যাগের সদস্য নিকলাস কাপের নেতৃত্বে গেরোল্ড ওটেন, জোহান সাথফ, উলে শাউস এবং ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বৈঠকে অংশ নেন। এ সময় জার্মান দূতাবাস ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এসআইপি

মাথায় হেলমেট, তবু মৃত্যু-ঝুঁকি!

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
মাথায় হেলমেট, তবু মৃত্যু-ঝুঁকি!

রাজধানীর সড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে হেলমেটের ব্যবহারও বেড়েছে। কিন্তু মাথায় হেলমেট থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না। রাজধানীর কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে বিক্রি হওয়া হেলমেটের একটি অংশ এতটাই নিম্নমানের যে দুর্ঘটনার সময় সেগুলো আদৌ কতটা সুরক্ষা দিতে পারবে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। মাত্র ১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে প্লাস্টিকের পাতলা আবরণ ও ভেতরে গেঞ্জির কাপড়ের মতো স্তরযুক্ত এসব ‘হেলমেট’। দেখতে হেলমেট হলেও কার্যকারিতার দিক থেকে এগুলো অনেকটা প্লাস্টিকের টুপির মতো।

নিরাপত্তার চেয়ে মামলা এড়ানোর তাগিদ
অনেক মোটরসাইকেল আরোহীর কাছে হেলমেট এখন নিরাপত্তার চেয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণের উপকরণ হয়ে উঠেছে। রাজধানীতে রাইড শেয়ারিং অ্যাপে বাইক চালানো আরিফুজ্জামান শাওন বলেন, হেলমেট না থাকলে পুলিশ মামলা দেয়। অনেক যাত্রী হেলমেট পরতে চান না। তাই পুলিশ ও মামলা এড়াতেই চালকেরা হালকা হেলমেট রাখেন।

এই বাস্তবতা হেলমেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। দুর্ঘটনার সময় মাথা রক্ষার জন্য যে সরঞ্জাম অপরিহার্য, সেটি যদি কেবল পুলিশের মামলা এড়ানোর আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে আইন মানা হলেও নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণ হয় না।

বিএসটিআইয়ের সিল, তবু প্রশ্ন থেকেই যায়
বাংলাদেশে আমদানি করা হেলমেটের বড় অংশ ভারতীয়। এ ছাড়া চীন, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়া থেকেও বিভিন্ন ধরনের হেলমেট আসে। ব্র্যান্ড ও মানভেদে এসব পণ্যের দাম সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৭২ হাজার টাকা পর্যন্ত। বাজারজাত করার আগে এসব হেলমেটের বিএসটিআই নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। বাজারে থাকা আমদানি করা হেলমেটের বেশির ভাগের গায়েই বিএসটিআই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সিল রয়েছে।

তবে পরীক্ষার ফল বলছে, সিল থাকলেই বাজারের সব হেলমেট মানসম্পন্ন—এমন নিশ্চয়তা নেই। গত ছয় মাসে বিএসটিআই ৪৯টি হেলমেটের নমুনা পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ৩৭টি গুণগত মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ১২টি ব্যর্থ হয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষিত নমুনার প্রায় ২৪ দশমিক ৫ শতাংশই মান পরীক্ষায় অকৃতকার্য। হেলমেট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভালকানের সহকারী বিপণন কর্মকর্তা ফারাবী আহমেদ অবশ্য তাঁদের সব হেলমেট বিএসটিআই অনুমোদিত বলে দাবি করেছেন। আমদানির সময় প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআইয়ের শর্ত অনুসরণ করে বলেও জানান তিনি।

মোটরসাইকেল বাড়ছে, সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি
হেলমেটের মানের প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে দেশের মোটরসাইকেলের সংখ্যা ও দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান দেখলে। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৬৬ লাখ। এর মধ্যে মোটরসাইকেল প্রায় ৪৮ লাখ ৭১ হাজার, যা মোট যানবাহনের প্রায় ৭৪ শতাংশ।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৭২ জন। ওই বছর সড়কে মোট মৃত্যুর ৩৬ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতদের। ফলে মোটরসাইকেল আরোহীদের মাথার সুরক্ষা এখন নিছক ব্যক্তিগত সতর্কতার বিষয় নয়; এটি সড়ক নিরাপত্তার বড় একটি অংশ।

মানসম্মত হেলমেটেই কমে মৃত্যুঝুঁকি
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, মানসম্মত হেলমেট মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুঝুঁকি ৪৮ শতাংশ কমায়। তাই শুধু হেলমেট ব্যবহারে সচেতনতা তৈরি করলেই হবে না, মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহারের নিশ্চয়তাও দিতে হবে। তাঁর মতে, পুলিশ চাইলে সড়কে মানহীন হেলমেট যাচাই করে জরিমানা করতে পারে। প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও বলেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামানও বিষয়টিকে উৎস পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর মতে, আমদানি ও উৎপাদনের সময় কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানুষকে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমেই মানহীন পণ্যের ব্যবহার কমানো সম্ভব।

নিয়ন্ত্রণের আওতা বাড়াতে হবে
মানহীন হেলমেট বন্ধের দায়িত্ব শুধু মোটরসাইকেল চালকের ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। আমদানি থেকে শুরু করে পরীক্ষা, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি—প্রতিটি ধাপে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে সড়কে আইন প্রয়োগের সময় শুধু হেলমেট আছে কি না, তা নয়; সেটি নির্ধারিত নিরাপত্তামান পূরণ করছে কি না, সেটিও বিবেচনায় আনা দরকার।
কারণ দুর্ঘটনার মুহূর্তে হেলমেটের দাম, ব্র্যান্ড কিংবা গায়ে থাকা সিল নয়—তার প্রকৃত মানই নির্ধারণ করবে মাথাটি কতটা সুরক্ষিত থাকবে। তাই সড়ক নিরাপত্তায় এখন মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত, মাথায় হেলমেট আছে কি না নয়; যে হেলমেটটি আছে, সেটি জীবন রক্ষার মতো মানসম্পন্ন কি না।

কালের আলো/এম/এএইচ