গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, জার্মান প্রতিনিধিদলকে স্পিকার
বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে জার্মানির একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার বাংলাদেশ ও জার্মানির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই জার্মান সরকার বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করে আসছে। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্যও জার্মানি।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হলেও দীর্ঘদিন কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, পরপর তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করে গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করেছিল।
তিনি আরও বলেন, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বিতর্কিত নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এর পর দেশে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্পিকার বাংলাদেশের নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমান সংসদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছয়জন নারী সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন।
বৈঠকে জার্মানি-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, সংসদীয় কূটনীতির প্রসার এবং বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও মতবিনিময় হয়।
জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্দেস্ট্যাগের সদস্য নিকলাস কাপের নেতৃত্বে গেরোল্ড ওটেন, জোহান সাথফ, উলে শাউস এবং ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বৈঠকে অংশ নেন। এ সময় জার্মান দূতাবাস ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/এম/এসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array