খুঁজুন
                               
, ,
           

১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার

দেশ-বিদেশ ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য রাজধানী ঢাকায় শুরু হচ্ছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (ATF) ২০২৬। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (ICCB) শুরু হয়ে তিন দিনব্যাপী এ মেলা চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।

মেলা উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন আয়োজন ও প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক ও এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।

আয়োজকেরা জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সার্বিক সহযোগিতায় এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। তিনটি হলে প্রায় ৩০০টি বুথে হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস, সরকারি-বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি দূতাবাস ও মিশনগুলো তাদের পর্যটন পণ্য ও সেবা তুলে ধরবে।

মেলায় থাকছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় ভ্রমণ প্যাকেজ ও বিশেষ অফার। পাশাপাশি ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ শোকেজ’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম শোকেজ’ এবং ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট শোকেজ’ থাকবে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে।

এ ছাড়া মেলায় অনুষ্ঠিত হবে বিটুবি সেশন, সেমিনার, ডেস্টিনেশন প্রেজেন্টেশন, প্যানেল আলোচনা, প্রোডাক্ট প্রমোশন ও নেটওয়ার্কিং সেশন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিলিপাইনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও থাকবে।

মহিউদ্দিন হেলাল বলেন, “এটিএফ ২০২৬ দেশি-বিদেশি পর্যটন অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক সংযোগ, পর্যটন পণ্যের প্রচার এবং বাংলাদেশে পর্যটন বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

প্রধান অতিথি মো. সামীমুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে এ ধরনের আন্তর্জাতিক মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে এ মেলা সহায়ক হবে।

এবারের মেলায় দেশের অঞ্চলভিত্তিক পর্যটনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাওর পর্যটন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন, নৌ পর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, কমিউনিটি ট্যুরিজম ও পরিবেশ পর্যটন। পাশাপাশি পর্যটন খাতে নারী উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হয়েছে।

আয়োজকেরা জানান, শিশু, শিক্ষার্থী, পর্যটন ব্যবসায়ী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখেই মেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শীত মৌসুম শুরুর আগেই তাদের বিশেষ ছাড় ও ভ্রমণ অফার দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরবে।

এবারের মেলার টাইটেল স্পন্সর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। প্লাটিনাম পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট, কো-স্পন্সর ছুটি গ্রুপ, হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান, ইনভেস্টমেন্ট পার্টনার ভাইয়া হোটেলস এবং অ্যাগ্রো ট্যুরিজম পার্টনার সুখের খামার।

এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কনভয় সার্ভিস ট্রান্সপোর্ট পার্টনার, এম৩৬০ আইসিটি পার্টনার, দ্য ট্রাভেল বাউন্ড অফিসিয়াল পাবলিকেশন, ঢাকা ডিনার ক্রুজ ক্রুজ পার্টনার এবং এনআরবি ভিস্তারা লিমিটেড অফিসিয়াল ট্রাভেল পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। গেস্ট অব অনার হিসেবে থাকবেন একই মন্ত্রণালয়ের সচিব। বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

মেলায় দর্শনার্থীদের প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা। প্রবেশ কুপনের মাধ্যমে র‌্যাফেল ড্রতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। বিজয়ীদের জন্য দেশ-বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ, এয়ার টিকিটসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার ও গিফট ভাউচার থাকবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আয়োজকেরা দেশ-বিদেশের ভ্রমণপ্রেমী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট সবাইকে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

কালের আলো/এসএ

‘লাইফ অব এম’–এর রহস্যময় অভিনেত্রী কে, জল্পনায় ন্যাটালি পোর্টম্যান

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
‘লাইফ অব এম’–এর রহস্যময় অভিনেত্রী কে, জল্পনায় ন্যাটালি পোর্টম্যান

ব্রিটিশ লেখক র‍্যাচেল কাস্কের নতুন উপন্যাস লাইফ অব এম প্রকাশের পর সাহিত্যজগতে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘এম’ একজন বিখ্যাত অভিনেত্রী। চরিত্রটির জীবনের সঙ্গে হলিউড অভিনেত্রী ন্যাটালি পোর্টম্যানের জীবনের বেশ কিছু মিল খুঁজে পাওয়ায় পাঠকদের একাংশের ধারণা, ‘এম’ চরিত্রটি হয়তো পোর্টম্যানকে ঘিরেই তৈরি।

কাস্ক আউটলাইন ট্রিলজি, সেকেন্ড প্লেসপ্যারেড–এর মতো প্রশংসিত বইয়ের লেখক। নতুন উপন্যাসে তিনি এমন এক অভিনেত্রীর গল্প বলেছেন, যিনি বাইরে থেকে সহজ-সরল ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও ভেতরে আত্মকেন্দ্রিক ও আত্মধার্মিক।

জল্পনার শুরু মূলত ‘এম’-এর শৈশবের গল্প থেকে। উপন্যাসে বলা হয়েছে, তিনি ছোট বয়সে অভিনয়ে আসেন এবং একটি সিনেমায় অভিনয়ের পর তাঁর শৈশব কঠিন হয়ে ওঠে। পাঠকেরা এর সঙ্গে পোর্টম্যানের জীবনের মিল খুঁজে পেয়েছেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে লিও: দ্য প্রফেশনাল সিনেমার জন্য নির্বাচিত হন পোর্টম্যান এবং ১৩ বছর বয়সে সিনেমাটির শুটিং করেন।

উপন্যাসের ‘এম’ আরও জানান, তাঁর বাবা-মা সিনেমাটির কিছু দৃশ্য বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সিনেমাটি মুক্তির পর স্কুলেও তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হয়। পোর্টম্যান তাঁর নিজের জীবনেও এ ধরনের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন।

‘ব্ল্যাক সোয়ান’-এর সঙ্গেও মিল

জল্পনা আরও বাড়িয়েছে উপন্যাসের আরেকটি অংশ। সেখানে ‘এম’ এমন একটি সিনেমায় অভিনয়ের কথা বলেন, যেখানে এক তরুণী ব্যালে নৃত্যের জন্য নির্বাচিত হন। পাঠকদের অনেকে এটিকে পোর্টম্যান অভিনীত ব্ল্যাক সোয়ান সিনেমার সঙ্গে মিলিয়েছেন।

ব্ল্যাক সোয়ান–এ অভিনয়ের জন্য পোর্টম্যান সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জিতেছিলেন। ফলে ‘এম’ চরিত্রটির সঙ্গে তাঁর জীবনের মিল নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

পোর্টম্যান কি অসন্তুষ্ট?

এসব মিলের ভিত্তিতে এমন খবরও ছড়িয়েছে যে, উপন্যাসে নিজের যে প্রতিচ্ছবি দেখানো হয়েছে, তাতে পোর্টম্যান অসন্তুষ্ট। ডেইলি মেইল-এর কাছে পোর্টম্যানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দেওয়া একটি বেনামি সূত্র এমন দাবি করেছে।

তবে পোর্টম্যান নিজে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

কাস্কের সঙ্গে পোর্টম্যানের পুরোনো পরিচয়

জল্পনার আরেকটি কারণ তাঁদের পুরোনো পরিচয়। পোর্টম্যান আগে তাঁর অনলাইন বুক ক্লাবে কাস্কের একটি বই নির্বাচন করেছিলেন। ২০২২ সালে একটি আলোচনাতেও কাস্ককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি।

উপন্যাসে শহরের নাম সরাসরি উল্লেখ করা না হলেও সেটিকে প্যারিস বলে মনে করছেন অনেকে। কাস্ক ও পোর্টম্যান—দুজনেরই প্যারিসে থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তবে কাস্ক ‘এম’ চরিত্রটি পোর্টম্যানকে ভিত্তি করে লেখা কি না, তা নিশ্চিত করেননি। নিউইয়র্ক টাইমস-কে তিনি বলেছেন, ‘এম’ কে—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ট্যাবলয়েডনির্ভর আলোচনা তাঁর জন্য চাপের হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, চরিত্রটির পরিচয় নিয়ে অতিরিক্ত অনুসন্ধান করলে উপন্যাসের মূল অর্থ ও সাহিত্যিক দিক আড়ালে পড়ে যেতে পারে।

ফলে ‘এম’ আদৌ ন্যাটালি পোর্টম্যান কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে পরিচিত অভিনেত্রীর জীবনের সঙ্গে চরিত্রটির একাধিক মিলের কারণে লাইফ অব এম ইতিমধ্যেই আলোচিত হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ

প্রাইম ব্যাংকে সিনিয়র ম্যানেজার নিয়োগ, বেতন ১ লাখ ১০ হাজার

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রাইম ব্যাংকে সিনিয়র ম্যানেজার নিয়োগ, বেতন ১ লাখ ১০ হাজার

বেসরকারি ব্যাংক প্রাইম ব্যাংক পিএলসিতে সিনিয়র ম্যানেজার পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ‘কার্ডস, কনজ্যুমার ও এসএমই ব্যাংকিং’ বিভাগে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিনিয়র ম্যানেজার পদে আবেদন করতে প্রার্থীর ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক (বিবিএ) ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে কমপক্ষে পাঁচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৩২ বছর হতে হবে। নির্বাচিত প্রার্থীকে মাসিক ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হবে। কর্মস্থল হবে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে।

আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

পদের তথ্য

  • পদের নাম: সিনিয়র ম্যানেজার (কার্ডস, কনজ্যুমার ও এসএমই ব্যাংকিং)
  • পদসংখ্যা:
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক (বিবিএ)
  • অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ৫ বছর, ব্যাংকিং খাতে
  • বয়স: কমপক্ষে ৩২ বছর
  • বেতন: মাসিক ১,১০,০০০ টাকা
  • কর্মস্থল: বাংলাদেশের যেকোনো স্থান
  • আবেদনের শেষ তারিখ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রার্থীদের প্রাইম ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

কালের আলো/এসএ

দেনমোহর কি শুধু কাবিনে লেখার অঙ্ক, নাকি স্বামীর ওপর ঋণ?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
দেনমোহর কি শুধু কাবিনে লেখার অঙ্ক, নাকি স্বামীর ওপর ঋণ?

বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ নিয়ে অনেক সময় সামাজিক মর্যাদা ও আভিজাত্য প্রদর্শনের প্রবণতা দেখা যায়। কনেপক্ষ লাখ লাখ বা কোটি টাকা দেনমোহর দাবি করে, আবার বরপক্ষও অনেক ক্ষেত্রে মনে করে, কাবিনে বড় অঙ্ক লেখা হলেও তা বাস্তবে পরিশোধ করতে হবে না। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে দেনমোহর কি নিছক আনুষ্ঠানিকতা, নাকি এটি স্বামীর ওপর বাধ্যতামূলক আর্থিক দায়?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, দেনমোহর স্ত্রীর একান্ত অধিকার। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তাদেরকে তাদের নির্ধারিত মোহর ফরজ দায়িত্ব হিসেবে প্রদান করো।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ২৪)

দেনমোহরের অর্থ পুরোপুরি স্ত্রীর সম্পত্তি। তাঁর বাবা-মা, অভিভাবক বা অন্য কোনো আত্মীয়ের এই অর্থের ওপর অধিকার নেই। স্ত্রী নিজের ইচ্ছায়, কোনো ধরনের চাপ ছাড়া দেনমোহরের কোনো অংশ ক্ষমা করলে তবেই স্বামী সেই অংশের দায় থেকে মুক্ত হতে পারেন।

কাবিনে স্বাক্ষরের পর দায় থাকে

অনেকের ধারণা, সামাজিক মর্যাদা দেখানোর জন্য কাবিনে বড় অঙ্কের দেনমোহর লেখা হলে সেটি বাস্তবে পরিশোধের প্রয়োজন নেই। ইসলামি ফিকহের আলোচনায় এমন ধারণাকে গ্রহণযোগ্য মনে করা হয় না।

বিবাহচুক্তিতে নির্দিষ্ট অঙ্কের দেনমোহরে সম্মতি দিয়ে স্বাক্ষর করলে তা স্বামীর ওপর আর্থিক দায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুধু ‘লোকদেখানোর জন্য লেখা হয়েছিল’—এমন দাবি করে দায় এড়ানো যায় না।

ইসলামি সূত্রে দেনমোহরকে স্বামীর ওপর ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে কাবিনে বড় অঙ্কের দেনমোহর নির্ধারণ করার আগে তা পরিশোধের সক্ষমতা ও বাস্তবতা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশোধের নিয়ত না থাকলে কী হবে?

দেনমোহর পরিশোধের কোনো ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও বড় অঙ্কে সম্মতি দিয়ে বিয়ে করা প্রতারণার শামিল বলে ইসলামি হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।

মুসনাদে আহমাদের একটি হাদিসে এমন ব্যক্তির ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে, যে নারীকে দেনমোহর দেওয়ার অঙ্গীকার করে কিন্তু মনে মনে তা পরিশোধের নিয়ত রাখে না এবং দেনমোহর না দিয়েই মারা যায়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৮৯৩৩)

বাকি দেনমোহরও পরিশোধযোগ্য

দেনমোহরের পুরো অর্থ বিয়ের সময় পরিশোধ করা সম্ভব না হলে এর একটি অংশ পরে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা যায়। তবে বাকি রাখার অর্থ দেনমোহর মাফ হয়ে যাওয়া নয়।

স্ত্রী পরবর্তী সময়ে তাঁর বকেয়া দেনমোহর দাবি করতে পারেন। স্বামী জীবদ্দশায় তা পরিশোধ না করলে তাঁর মৃত্যুর পরও এই পাওনা বহাল থাকে। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনের আগে তাঁর দেনমোহরের মতো ঋণ পরিশোধ করতে হয়।

বড় অঙ্ক নয়, সহজ দেনমোহরের তাগিদ

ইসলামে দেনমোহরকে স্ত্রীর অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলেও অযথা বড় অঙ্ক নির্ধারণে উৎসাহ দেওয়া হয়নি। বরং বিয়েকে সহজ ও সহনীয় রাখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মুসনাদে আহমাদের একটি বর্ণনায় সহজ ও কম ব্যয়ের বিয়েকে বরকতময় বলা হয়েছে। তাই সামাজিক মর্যাদা বা লোকদেখানোর জন্য এমন অঙ্কের দেনমোহর নির্ধারণ করা উচিত নয়, যা বাস্তবে পরিশোধ করা কঠিন।

দেনমোহর তাই কেবল কাবিননামায় লেখা একটি সংখ্যা নয়। এটি স্ত্রীর অধিকার এবং স্বামীর ওপর আর্থিক দায়। সে কারণে দেনমোহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে সামাজিক প্রদর্শনীর বদলে বাস্তব সক্ষমতা, পারস্পরিক সম্মতি এবং ইসলামি বিধানের প্রতি দায়িত্বশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কালের আলো/এসএ