খুঁজুন
                               
, ,
           

দেবদাস থেকে শ্রীকান্ত, ১৫০ বছরেও কেন ফুরোয়নি শরৎচন্দ্রর গল্প?

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
দেবদাস থেকে শ্রীকান্ত, ১৫০ বছরেও কেন ফুরোয়নি শরৎচন্দ্রর গল্প?

দেবদাস প্রেমে ব্যর্থ হন, পার্বতীকে হারান। শ্রীকান্ত পথে বেরিয়ে পড়েন, ললিতা আবার দাঁড়ান শেখরের সামনে। সময় বদলায়, পর্দার ভাষা বদলায়, অভিনেতাদের মুখ বদলে যায়—কিন্তু শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গল্প যেন শেষ হয় না।

দেবদাস কখনো প্রমথেশ বড়ুয়া, কখনো কুন্দনলাল সায়গল, দিলীপ কুমার, শাহরুখ খান কিংবা শাকিব খান। পার্বতীর চরিত্রেও এসেছেন যমুনা বড়ুয়া, সুচিত্রা সেন, কবরী, ঐশ্বরিয়া রাই ও অপু বিশ্বাস। ‘পরিণীতা’র ললিতা হয়েছেন মীনা কুমারী, অঞ্জনা, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় ও বিদ্যা বালান। অর্থাৎ মুখ বদলেছে, কিন্তু চরিত্রগুলো হারিয়ে যায়নি।

আজ ১৫ সেপ্টেম্বর কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৭৬ সালের এই দিনে হুগলির দেবানন্দপুরে জন্মেছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় এই কথাশিল্পী। প্রেম, বিরহ, দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, নারীর অবস্থান, পারিবারিক টানাপোড়েন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে সহজ ভাষায় গল্পে তুলে ধরেছিলেন তিনি।

সম্ভবত এ কারণেই চলচ্চিত্রের শুরু থেকেই নির্মাতারা বারবার ফিরে গেছেন শরৎচন্দ্রের কাছে। ‘দেবদাস’, ‘পরিণীতা’, ‘শ্রীকান্ত’, ‘দত্তা’, ‘চরিত্রহীন’, ‘গৃহদাহ’, ‘পথের দাবী’, ‘পল্লীসমাজ’, ‘দেনা-পাওনা’, ‘মেজদিদি’সহ তাঁর বহু রচনা সিনেমা ও পরবর্তী সময়ে ওয়েব সিরিজে রূপ পেয়েছে।

সিনেমার শুরুতেই শরৎচন্দ্র

শরৎচন্দ্রের সঙ্গে চলচ্চিত্রের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল সবাক সিনেমারও আগে। ১৯২৮ সালে নরেশ মিত্র ‘দেবদাস’কে নির্বাক চলচ্চিত্রে রূপ দেন। এরপর ১৯৩১ সালে আসে ‘দেনা-পাওনা’। বাংলা চলচ্চিত্রের শুরুর যুগেই শরৎচন্দ্র হয়ে ওঠেন নির্মাতাদের অন্যতম নির্ভরতার জায়গা।

১৯৩৫ সালে প্রমথেশ বড়ুয়া নির্মাণ করেন ‘দেবদাস’। বাংলায় দেবদাসের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি নিজেই। একই বছর হিন্দি সংস্করণেও দেবদাস হন কুন্দনলাল সায়গল। এরপর গল্পটি বাংলা-হিন্দির গণ্ডি পেরিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন ভাষায় ছড়িয়ে পড়ে।

যে দেবদাসের মৃত্যু নেই

উপন্যাসে দেবদাসের মৃত্যু হয়েছে বহু আগেই। কিন্তু সিনেমার পর্দায় তাঁর মৃত্যু নেই। এক প্রজন্মের দেবদাস বিদায় নিয়েছেন, আরেক প্রজন্মে অন্য অভিনেতা এসে চরিত্রটির নতুন রূপ দিয়েছেন।

১৯৫৫ সালে বিমল রায়ের ‘দেবদাস’-এ নামভূমিকায় দিলীপ কুমার। পার্বতী সুচিত্রা সেন, চন্দ্রমুখী বৈজয়ন্তীমালা। সংযত অভিনয় ও বিষণ্ন আবহে তৈরি এই ছবি দেবদাস চরিত্রকে নতুন মাত্রা দেয়। ছবিটির জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতার পুরস্কারও পান দিলীপ কুমার।

প্রায় পাঁচ দশক পর ২০০২ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালি আবার ফিরিয়ে আনেন ‘দেবদাস’। এবার দেবদাস শাহরুখ খান, পার্বতী ঐশ্বরিয়া রাই এবং চন্দ্রমুখী মাধুরী দীক্ষিত। বিমল রায়ের সংযত বিষণ্নতার বদলে বানসালির ছবিতে দেখা যায় বিশাল সেট, ঝলমলে পোশাক, গান ও নাচের জমকালো আয়োজন।

এর সাত বছর পর অনুরাগ কশ্যপের ‘দেব.ডি’ একই গল্পকে নিয়ে যায় সমকালীন ভারতের বাস্তবতায়। অভয় দেওলের দেব হয়ে ওঠে আধুনিক শহুরে তরুণ, পারো ও চন্দাও পায় নতুন পরিচয়।

বাংলাদেশেও ‘দেবদাস’ দুইবার বড় পর্দায় এসেছে। ১৯৮২ সালে চাষী নজরুল ইসলামের ছবিতে দেবদাস ছিলেন বুলবুল আহমেদ, পার্বতী কবরী এবং চন্দ্রমুখী আনোয়ারা। তিন দশকের বেশি সময় পর ২০১৩ সালে একই পরিচালক আবার নির্মাণ করেন ‘দেবদাস’। এবার দেবদাস শাকিব খান, পার্বতী অপু বিশ্বাস ও চন্দ্রমুখী মৌসুমী।

তাই ‘দেবদাস’-এর ইতিহাস শুধু একটি উপন্যাসের বারবার চলচ্চিত্রায়ণের ইতিহাস নয়; বরং প্রতিটি প্রজন্ম কীভাবে একই গল্পকে নিজেদের সময়ের মতো করে নিয়েছে, তারও ইতিহাস।

ললিতাও বদলেছেন, গল্প বদলায়নি

শরৎচন্দ্রের ‘পরিণীতা’ও বারবার ফিরেছে পর্দায়। ১৯৫৩ সালে বিমল রায়ের হিন্দি ছবিতে ললিতা হন মীনা কুমারী, শেখর অশোক কুমার। পরে বাংলা ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও চরিত্রটি নতুন রূপ পেয়েছে।

২০০৫ সালে প্রদীপ সরকারের ‘পরিণীতা’য় ললিতা হন বিদ্যা বালান। পুরোনো কলকাতার আবহে শরৎচন্দ্রের গল্প নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে আবার পৌঁছে যায়।

ললিতার বয়স যেন বাড়ে না—শুধু তাঁকে পর্দায় ধারণ করা অভিনেত্রীরা বদলে যান।

উত্তম-সুচিত্রার শরৎচন্দ্র

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি উত্তমকুমার ও সুচিত্রা সেনও একাধিকবার শরৎচন্দ্রের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

‘চন্দ্রনাথ’, ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’, ‘গৃহদাহ’ ও ‘কমললতা’য় তাঁদের দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্ক ও চরিত্রে। ফলে শরৎচন্দ্রের গল্পে তাঁদের জনপ্রিয় রোমান্টিক জুটির পরিচিত রূপের বাইরে আরও পরিণত ও জটিল সম্পর্কও দর্শক দেখেছেন।

উত্তমকুমারের শরৎচন্দ্র-যাত্রায় ‘সব্যসাচী’ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ‘পথের দাবী’ অবলম্বনে নির্মিত ছবিতে তিনি প্রেমিক নায়ক নন, বিপ্লবী সব্যসাচী।

৭২ বছর পরও ফিরে এলেন বিজয়া

শরৎচন্দ্রের ‘দত্তা’ও দীর্ঘ সময় ধরে পর্দায় ফিরে এসেছে। ১৯৫১ সালে প্রথম চলচ্চিত্ররূপের পর ১৯৭৬ সালে অজয় কর নির্মাণ করেন নতুন ‘দত্তা’; বিজয়ার চরিত্রে অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন।

এরও প্রায় অর্ধশতাব্দী পর ২০২৩ সালে আবার ‘দত্তা’ নির্মিত হয়। এবার বিজয়া চরিত্রে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।

অর্থাৎ ১৯৫১ থেকে ২০২৩—৭২ বছরের ব্যবধানে একই চরিত্র নতুন অভিনেত্রী, নতুন নির্মাতা ও নতুন দর্শকের সামনে হাজির হয়েছে।

শ্রীকান্তের পথচলাও থামেনি

শরৎচন্দ্রের ‘শ্রীকান্ত’ যেন নিজেই এক দীর্ঘ যাত্রা। রাজলক্ষ্মী, অন্নদাদিদি, অভয়া, কমললতা—একেক পর্বে একেক সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন শ্রীকান্ত।

১৯৫৮ সালে ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’-এ উত্তমকুমার ও সুচিত্রা সেন এই চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর ‘ইন্দ্রনাথ শ্রীকান্ত ও অন্নদাদিদি’, ‘অভয়া ও শ্রীকান্ত’, ‘কমললতা’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে শ্রীকান্তের ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায় উঠে এসেছে।

বাংলাদেশেও ১৯৮৭ সালে বুলবুল আহমেদের পরিচালনায় ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ নির্মিত হয়। শ্রীকান্তের ভূমিকায় ছিলেন বুলবুল আহমেদ, রাজলক্ষ্মী শাবানা।

২০০৪ সালে অঞ্জন দাস নির্মাণ করেন ‘ইতি শ্রীকান্ত’। পরে এই চরিত্র সিনেমা পেরিয়ে পৌঁছে যায় টেলিভিশন ও ওটিটিতেও।

ওটিটিতেও নতুন শরৎচন্দ্র

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের যুগেও শরৎচন্দ্রের গল্প থেমে নেই। বরং নতুন নির্মাতারা অনেক সময় মূল গল্পকে হুবহু অনুসরণ না করে চরিত্র ও সম্পর্কগুলোকে সমকালীন জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে নিচ্ছেন।

‘চরিত্রহীন’ ওয়েব সিরিজে শতবর্ষের বেশি পুরোনো গল্প নতুন প্রজন্মের ভাষা পেয়েছে। একইভাবে ‘শ্রীকান্ত’ও ওটিটিতে এসে সমকালীন সময়ের মানুষের গল্পে রূপ নিয়েছে। ফলে শরৎচন্দ্র এখন শুধু অতীতের সাহিত্যিক নন; তাঁর চরিত্রগুলো নতুন সময়ের সঙ্গেও কথা বলছে।

কেন ফুরোয় না শরৎচন্দ্র?

শরৎচন্দ্রের গল্প বারবার পর্দায় ফিরে আসার সবচেয়ে বড় কারণ সম্ভবত তাঁর চরিত্রগুলোর মানবিক সংকট।

প্রেম আছে, কিন্তু তার সঙ্গে আছে অভিমান। সম্পর্ক আছে, কিন্তু আছে সামাজিক বাধা। ভালোবাসা আছে, কিন্তু আছে আত্মমর্যাদার প্রশ্ন। পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিস্বাধীনতার দ্বন্দ্ব আছে। সমাজ বদলেছে, জীবনযাপন বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে—কিন্তু মানুষের এই অনুভূতিগুলো বদলায়নি।

এ কারণেই দেবদাসকে আজকের দর্শকও বুঝতে পারেন। ললিতার অভিমান আজও অচেনা নয়। রাজলক্ষ্মীর আত্মপরিচয়ের লড়াই, বিজয়ার আত্মমর্যাদা কিংবা অচলার মানসিক দ্বন্দ্বও নতুন প্রজন্মের কাছে অর্থহীন হয়ে যায়নি।

শরৎচন্দ্রের গল্পের শক্তি এখানেই—সময়ের সঙ্গে তার বাইরের পৃথিবী বদলালেও ভেতরের মানুষটি বদলায় না।

দেড় শ বছরেও পর্দা ছাড়েননি

১৮৭৬ সালে জন্ম, ১৯৩৮ সালে মৃত্যু। অথচ শরৎচন্দ্রের চরিত্রেরা এখনো জীবন্ত। ১৯২৮ সালের নির্বাক ‘দেবদাস’ থেকে ২০২৩ সালের ‘দত্তা’, সিনেমা হল থেকে টেলিভিশন, কম্পিউটার থেকে স্মার্টফোন—মাধ্যম বদলেছে, বদলেছে দর্শকও।

বদলেছে দেবদাসের মুখ, পার্বতীর মুখ, ললিতার মুখ, শ্রীকান্তের মুখ। কিন্তু তাঁদের প্রেম, বিরহ, আকাঙ্ক্ষা, অভিমান ও আত্মমর্যাদার গল্প রয়ে গেছে।

দেড় শ বছর পরও তাই শরৎচন্দ্র পর্দা ছাড়েননি। বরং প্রতিটি নতুন প্রজন্ম তাঁকে নিজেদের মতো করে নতুন করে আবিষ্কার করছে।

কালের আলো/এসএ

কলম্বিয়ার জার্সিতে ১৫ বছরের অধ্যায়ের ইতি, জাতীয় দলকে বিদায় রদ্রিগেজের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৪ অপরাহ্ণ
কলম্বিয়ার জার্সিতে ১৫ বছরের অধ্যায়ের ইতি, জাতীয় দলকে বিদায় রদ্রিগেজের

কলম্বিয়া জাতীয় দলের সঙ্গে ১৫ বছরের পথচলার ইতি টেনেছেন তারকা মিডফিল্ডার হামেস রদ্রিগেজ। ৩৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।

২০১১ সালে বলিভিয়ার বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই গোল করে জাতীয় দলে যাত্রা শুরু করেছিলেন রদ্রিগেজ। এরপর কলম্বিয়ার হয়ে ১৩১ ম্যাচে ৩১ গোল ও ৪৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার পাশাপাশি গোলসংখ্যায়ও তাঁর অবস্থান দ্বিতীয়। কলম্বিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ গোল করেছেন রাদামেল ফালকাও।

রদ্রিগেজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় ২০১৪ বিশ্বকাপ। সেই আসরে পাঁচ ম্যাচে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন তিনি। উরুগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোয় তাঁর করা ভলিতে গোলটি বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে আছে। পরে ওই পারফরম্যান্সের পর তিনি যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে।

কলম্বিয়ার হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন রদ্রিগেজ—২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৬। ২০২৬ বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচটিই হয়ে থাকে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর শেষ ম্যাচ। পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নেয় কলম্বিয়া।

জাতীয় দলের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরার পাশাপাশি অধিনায়কত্বও করেছেন রদ্রিগেজ। তাঁর নেতৃত্বে ২০২৪ কোপা আমেরিকার ফাইনালে ওঠে কলম্বিয়া। তবে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শিরোপা জিততে পারেনি দলটি।

জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও এখনই ফুটবল ছাড়ছেন না রদ্রিগেজ। সম্প্রতি কলম্বিয়ার ক্লাব আতলেতিকো নাসিওনালের সঙ্গে চুক্তি করেছেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।

কালের আলো/এসএ

‘তখন জানতাম না’, পুরোনো ভিডিওর বিতর্কে দুঃখ প্রকাশ লিসার

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ
‘তখন জানতাম না’, পুরোনো ভিডিওর বিতর্কে দুঃখ প্রকাশ লিসার

ব্ল্যাকপিংকের সদস্য লিসার এক দশকের বেশি পুরোনো একটি ভিডিও নিয়ে গত বছর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ভিডিওতে কৃষ্ণাঙ্গদের উদ্দেশে ব্যবহৃত একটি বর্ণবাদী শব্দ শোনা যায়। এবার সেই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন লিসা। তিনি জানিয়েছেন, তখন ওই শব্দের অর্থ ও এর বর্ণবাদী ইতিহাস সম্পর্কে তিনি জানতেন না।

লিসার নতুন তথ্যচিত্র ‘অলওয়েজ লালিসা’য় ঘটনাটি উঠে এসেছে। টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তথ্যচিত্রটির প্রিমিয়ারের পর মার্কিন সাময়িকী ভ্যারাইটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি। লিসা বলেন, থাইল্যান্ডে বেড়ে ওঠার কারণে ওই বিষয়ে তাঁর কোনো শিক্ষা ছিল না। তাই তখন শব্দটির অর্থ তিনি জানতেন না।

ভিডিওগুলো ধারণ করা হয়েছিল এক দশকেরও বেশি আগে, যখন লিসা ও ব্ল্যাকপিংকের অন্য সদস্যরা কিশোরী ছিলেন। তাঁরা অন্য শিল্পীদের গান অনুশীলন করছিলেন, যেসব গানের কথায় ওই বর্ণবাদী শব্দটি ছিল। ২০২৫ সালে লিসার প্রথম একক কোচেলা পরিবেশনের প্রস্তুতির সময় ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

লিসা বলেন, এখন তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছেন এবং এ নিয়ে শিক্ষা নিয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলেও জানান তিনি। বিতর্কের সময় তাঁর প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেছিল বলেও তথ্যচিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

১১ সেপ্টেম্বর টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘অলওয়েজ লালিসা’র প্রিমিয়ার হয়। তথ্যচিত্রটিতে ব্ল্যাকপিংক থেকে দূরে থাকার সময় লিসার একক ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহ ও আইম্যাক্সে তথ্যচিত্রটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। পরে চলতি বছর ইউটিউব প্রিমিয়ামেও এটি দেখা যাবে।

লিসা, জেনি, জিসু ও রোজে বর্তমানে নিজেদের একক কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তবে ব্ল্যাকপিংকের সঙ্গে ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন লিসা। তিনি বলেছেন, তাঁর বয়স ৫০ হলেও তিনি ব্ল্যাকপিংকের সঙ্গে কাজ করতে চান।

কালের আলো/এসএ

যে ৫ লক্ষণ বলে দেবে, সঙ্গীর সঙ্গে আপনার ‘ইমোশনাল কম্প্যাটিবিলিটি’ আছে কি না

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
যে ৫ লক্ষণ বলে দেবে, সঙ্গীর সঙ্গে আপনার ‘ইমোশনাল কম্প্যাটিবিলিটি’ আছে কি না

সম্পর্কে দুজন মানুষ একে অপরের জন্য কতটা মানানসই, তা বোঝার ক্ষেত্রে ‘ইমোশনাল কম্প্যাটিবিলিটি’ বা আবেগগত সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। দুজন মানুষই ভালো হলেও তাঁদের আবেগ, প্রয়োজন ও যোগাযোগের ধরন একে অপরের সঙ্গে মানানসই নাও হতে পারে। তাই সম্পর্কের আবেগগত নিরাপত্তা বোঝার জন্য কয়েকটি লক্ষণ খেয়াল করা যেতে পারে।

কঠিন বিষয়েও সহজে কথা বলা: অর্থ, পরিবার, ঈর্ষা, ব্যক্তিগত সীমারেখা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্বস্তিকর কথাও যদি সঙ্গীর সঙ্গে স্বচ্ছন্দে বলা যায় এবং তিনি তা বোঝার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি আবেগগত সামঞ্জস্যের একটি লক্ষণ।

অনুভূতির পরিবর্তন খেয়াল রাখা: সঙ্গী মনের কথা পড়ে ফেলবেন—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। তবে আচরণে পরিবর্তন, কখন আশ্বাস প্রয়োজন কিংবা কখন কিছুটা একা থাকতে চান—এসব সঙ্গী খেয়াল করেন কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ।

মতভেদ হলেও সম্পর্ক নিরাপদ থাকা: সম্পর্কে মতবিরোধ থাকতেই পারে। দুজনের রাগ প্রকাশের ধরনও আলাদা হতে পারে। তবে ঝগড়ার সময় অপমান, হুমকি বা ইচ্ছাকৃত আঘাতের পরিবর্তে পরে আলোচনায় ফিরে এসে সমাধানের চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ।

দুর্বলতা প্রকাশে স্বস্তি থাকা: ভয়, অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা কিংবা খারাপ সময়ের কথা সঙ্গীর কাছে বলতে পারা এবং এ নিয়ে বিচার বা অপমানের ভয় না থাকা আবেগগত নিরাপত্তার বড় লক্ষণ।

আবেগগত প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া: কারও ভালোবাসা প্রকাশের ধরন কথায়, কারও কাজে। কেউ বেশি যোগাযোগ চান, আবার কেউ ব্যক্তিগত পরিসর পছন্দ করেন। প্রয়োজন আলাদা হলেও দুজন যদি একে অপরের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে মাঝামাঝি জায়গায় আসার চেষ্টা করেন এবং প্রয়োজনের সময়ে মানসিক সমর্থন দেন, তাহলে সম্পর্কের আবেগগত সামঞ্জস্যের ভিত্তি তৈরি হয়।

সব মিলিয়ে, একটি সম্পর্কের বড় স্বস্তি হলো—সঙ্গীর কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য নিজেকে বদলে ফেলতে না হয়ে নিজের মতো করেই নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ বোধ করা।

কালের আলো/এসএ