খুঁজুন
                               
, ,
           

দেবদাস থেকে শ্রীকান্ত, ১৫০ বছরেও কেন ফুরোয়নি শরৎচন্দ্রর গল্প?

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
দেবদাস থেকে শ্রীকান্ত, ১৫০ বছরেও কেন ফুরোয়নি শরৎচন্দ্রর গল্প?

দেবদাস প্রেমে ব্যর্থ হন, পার্বতীকে হারান। শ্রীকান্ত পথে বেরিয়ে পড়েন, ললিতা আবার দাঁড়ান শেখরের সামনে। সময় বদলায়, পর্দার ভাষা বদলায়, অভিনেতাদের মুখ বদলে যায়—কিন্তু শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গল্প যেন শেষ হয় না।

দেবদাস কখনো প্রমথেশ বড়ুয়া, কখনো কুন্দনলাল সায়গল, দিলীপ কুমার, শাহরুখ খান কিংবা শাকিব খান। পার্বতীর চরিত্রেও এসেছেন যমুনা বড়ুয়া, সুচিত্রা সেন, কবরী, ঐশ্বরিয়া রাই ও অপু বিশ্বাস। ‘পরিণীতা’র ললিতা হয়েছেন মীনা কুমারী, অঞ্জনা, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় ও বিদ্যা বালান। অর্থাৎ মুখ বদলেছে, কিন্তু চরিত্রগুলো হারিয়ে যায়নি।

আজ ১৫ সেপ্টেম্বর কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৭৬ সালের এই দিনে হুগলির দেবানন্দপুরে জন্মেছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় এই কথাশিল্পী। প্রেম, বিরহ, দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, নারীর অবস্থান, পারিবারিক টানাপোড়েন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে সহজ ভাষায় গল্পে তুলে ধরেছিলেন তিনি।

সম্ভবত এ কারণেই চলচ্চিত্রের শুরু থেকেই নির্মাতারা বারবার ফিরে গেছেন শরৎচন্দ্রের কাছে। ‘দেবদাস’, ‘পরিণীতা’, ‘শ্রীকান্ত’, ‘দত্তা’, ‘চরিত্রহীন’, ‘গৃহদাহ’, ‘পথের দাবী’, ‘পল্লীসমাজ’, ‘দেনা-পাওনা’, ‘মেজদিদি’সহ তাঁর বহু রচনা সিনেমা ও পরবর্তী সময়ে ওয়েব সিরিজে রূপ পেয়েছে।

সিনেমার শুরুতেই শরৎচন্দ্র

শরৎচন্দ্রের সঙ্গে চলচ্চিত্রের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল সবাক সিনেমারও আগে। ১৯২৮ সালে নরেশ মিত্র ‘দেবদাস’কে নির্বাক চলচ্চিত্রে রূপ দেন। এরপর ১৯৩১ সালে আসে ‘দেনা-পাওনা’। বাংলা চলচ্চিত্রের শুরুর যুগেই শরৎচন্দ্র হয়ে ওঠেন নির্মাতাদের অন্যতম নির্ভরতার জায়গা।

১৯৩৫ সালে প্রমথেশ বড়ুয়া নির্মাণ করেন ‘দেবদাস’। বাংলায় দেবদাসের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি নিজেই। একই বছর হিন্দি সংস্করণেও দেবদাস হন কুন্দনলাল সায়গল। এরপর গল্পটি বাংলা-হিন্দির গণ্ডি পেরিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন ভাষায় ছড়িয়ে পড়ে।

যে দেবদাসের মৃত্যু নেই

উপন্যাসে দেবদাসের মৃত্যু হয়েছে বহু আগেই। কিন্তু সিনেমার পর্দায় তাঁর মৃত্যু নেই। এক প্রজন্মের দেবদাস বিদায় নিয়েছেন, আরেক প্রজন্মে অন্য অভিনেতা এসে চরিত্রটির নতুন রূপ দিয়েছেন।

১৯৫৫ সালে বিমল রায়ের ‘দেবদাস’-এ নামভূমিকায় দিলীপ কুমার। পার্বতী সুচিত্রা সেন, চন্দ্রমুখী বৈজয়ন্তীমালা। সংযত অভিনয় ও বিষণ্ন আবহে তৈরি এই ছবি দেবদাস চরিত্রকে নতুন মাত্রা দেয়। ছবিটির জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতার পুরস্কারও পান দিলীপ কুমার।

প্রায় পাঁচ দশক পর ২০০২ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালি আবার ফিরিয়ে আনেন ‘দেবদাস’। এবার দেবদাস শাহরুখ খান, পার্বতী ঐশ্বরিয়া রাই এবং চন্দ্রমুখী মাধুরী দীক্ষিত। বিমল রায়ের সংযত বিষণ্নতার বদলে বানসালির ছবিতে দেখা যায় বিশাল সেট, ঝলমলে পোশাক, গান ও নাচের জমকালো আয়োজন।

এর সাত বছর পর অনুরাগ কশ্যপের ‘দেব.ডি’ একই গল্পকে নিয়ে যায় সমকালীন ভারতের বাস্তবতায়। অভয় দেওলের দেব হয়ে ওঠে আধুনিক শহুরে তরুণ, পারো ও চন্দাও পায় নতুন পরিচয়।

বাংলাদেশেও ‘দেবদাস’ দুইবার বড় পর্দায় এসেছে। ১৯৮২ সালে চাষী নজরুল ইসলামের ছবিতে দেবদাস ছিলেন বুলবুল আহমেদ, পার্বতী কবরী এবং চন্দ্রমুখী আনোয়ারা। তিন দশকের বেশি সময় পর ২০১৩ সালে একই পরিচালক আবার নির্মাণ করেন ‘দেবদাস’। এবার দেবদাস শাকিব খান, পার্বতী অপু বিশ্বাস ও চন্দ্রমুখী মৌসুমী।

তাই ‘দেবদাস’-এর ইতিহাস শুধু একটি উপন্যাসের বারবার চলচ্চিত্রায়ণের ইতিহাস নয়; বরং প্রতিটি প্রজন্ম কীভাবে একই গল্পকে নিজেদের সময়ের মতো করে নিয়েছে, তারও ইতিহাস।

ললিতাও বদলেছেন, গল্প বদলায়নি

শরৎচন্দ্রের ‘পরিণীতা’ও বারবার ফিরেছে পর্দায়। ১৯৫৩ সালে বিমল রায়ের হিন্দি ছবিতে ললিতা হন মীনা কুমারী, শেখর অশোক কুমার। পরে বাংলা ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও চরিত্রটি নতুন রূপ পেয়েছে।

২০০৫ সালে প্রদীপ সরকারের ‘পরিণীতা’য় ললিতা হন বিদ্যা বালান। পুরোনো কলকাতার আবহে শরৎচন্দ্রের গল্প নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে আবার পৌঁছে যায়।

ললিতার বয়স যেন বাড়ে না—শুধু তাঁকে পর্দায় ধারণ করা অভিনেত্রীরা বদলে যান।

উত্তম-সুচিত্রার শরৎচন্দ্র

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি উত্তমকুমার ও সুচিত্রা সেনও একাধিকবার শরৎচন্দ্রের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

‘চন্দ্রনাথ’, ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’, ‘গৃহদাহ’ ও ‘কমললতা’য় তাঁদের দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্ক ও চরিত্রে। ফলে শরৎচন্দ্রের গল্পে তাঁদের জনপ্রিয় রোমান্টিক জুটির পরিচিত রূপের বাইরে আরও পরিণত ও জটিল সম্পর্কও দর্শক দেখেছেন।

উত্তমকুমারের শরৎচন্দ্র-যাত্রায় ‘সব্যসাচী’ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ‘পথের দাবী’ অবলম্বনে নির্মিত ছবিতে তিনি প্রেমিক নায়ক নন, বিপ্লবী সব্যসাচী।

৭২ বছর পরও ফিরে এলেন বিজয়া

শরৎচন্দ্রের ‘দত্তা’ও দীর্ঘ সময় ধরে পর্দায় ফিরে এসেছে। ১৯৫১ সালে প্রথম চলচ্চিত্ররূপের পর ১৯৭৬ সালে অজয় কর নির্মাণ করেন নতুন ‘দত্তা’; বিজয়ার চরিত্রে অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন।

এরও প্রায় অর্ধশতাব্দী পর ২০২৩ সালে আবার ‘দত্তা’ নির্মিত হয়। এবার বিজয়া চরিত্রে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।

অর্থাৎ ১৯৫১ থেকে ২০২৩—৭২ বছরের ব্যবধানে একই চরিত্র নতুন অভিনেত্রী, নতুন নির্মাতা ও নতুন দর্শকের সামনে হাজির হয়েছে।

শ্রীকান্তের পথচলাও থামেনি

শরৎচন্দ্রের ‘শ্রীকান্ত’ যেন নিজেই এক দীর্ঘ যাত্রা। রাজলক্ষ্মী, অন্নদাদিদি, অভয়া, কমললতা—একেক পর্বে একেক সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন শ্রীকান্ত।

১৯৫৮ সালে ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’-এ উত্তমকুমার ও সুচিত্রা সেন এই চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর ‘ইন্দ্রনাথ শ্রীকান্ত ও অন্নদাদিদি’, ‘অভয়া ও শ্রীকান্ত’, ‘কমললতা’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে শ্রীকান্তের ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায় উঠে এসেছে।

বাংলাদেশেও ১৯৮৭ সালে বুলবুল আহমেদের পরিচালনায় ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ নির্মিত হয়। শ্রীকান্তের ভূমিকায় ছিলেন বুলবুল আহমেদ, রাজলক্ষ্মী শাবানা।

২০০৪ সালে অঞ্জন দাস নির্মাণ করেন ‘ইতি শ্রীকান্ত’। পরে এই চরিত্র সিনেমা পেরিয়ে পৌঁছে যায় টেলিভিশন ও ওটিটিতেও।

ওটিটিতেও নতুন শরৎচন্দ্র

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের যুগেও শরৎচন্দ্রের গল্প থেমে নেই। বরং নতুন নির্মাতারা অনেক সময় মূল গল্পকে হুবহু অনুসরণ না করে চরিত্র ও সম্পর্কগুলোকে সমকালীন জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে নিচ্ছেন।

‘চরিত্রহীন’ ওয়েব সিরিজে শতবর্ষের বেশি পুরোনো গল্প নতুন প্রজন্মের ভাষা পেয়েছে। একইভাবে ‘শ্রীকান্ত’ও ওটিটিতে এসে সমকালীন সময়ের মানুষের গল্পে রূপ নিয়েছে। ফলে শরৎচন্দ্র এখন শুধু অতীতের সাহিত্যিক নন; তাঁর চরিত্রগুলো নতুন সময়ের সঙ্গেও কথা বলছে।

কেন ফুরোয় না শরৎচন্দ্র?

শরৎচন্দ্রের গল্প বারবার পর্দায় ফিরে আসার সবচেয়ে বড় কারণ সম্ভবত তাঁর চরিত্রগুলোর মানবিক সংকট।

প্রেম আছে, কিন্তু তার সঙ্গে আছে অভিমান। সম্পর্ক আছে, কিন্তু আছে সামাজিক বাধা। ভালোবাসা আছে, কিন্তু আছে আত্মমর্যাদার প্রশ্ন। পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিস্বাধীনতার দ্বন্দ্ব আছে। সমাজ বদলেছে, জীবনযাপন বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে—কিন্তু মানুষের এই অনুভূতিগুলো বদলায়নি।

এ কারণেই দেবদাসকে আজকের দর্শকও বুঝতে পারেন। ললিতার অভিমান আজও অচেনা নয়। রাজলক্ষ্মীর আত্মপরিচয়ের লড়াই, বিজয়ার আত্মমর্যাদা কিংবা অচলার মানসিক দ্বন্দ্বও নতুন প্রজন্মের কাছে অর্থহীন হয়ে যায়নি।

শরৎচন্দ্রের গল্পের শক্তি এখানেই—সময়ের সঙ্গে তার বাইরের পৃথিবী বদলালেও ভেতরের মানুষটি বদলায় না।

দেড় শ বছরেও পর্দা ছাড়েননি

১৮৭৬ সালে জন্ম, ১৯৩৮ সালে মৃত্যু। অথচ শরৎচন্দ্রের চরিত্রেরা এখনো জীবন্ত। ১৯২৮ সালের নির্বাক ‘দেবদাস’ থেকে ২০২৩ সালের ‘দত্তা’, সিনেমা হল থেকে টেলিভিশন, কম্পিউটার থেকে স্মার্টফোন—মাধ্যম বদলেছে, বদলেছে দর্শকও।

বদলেছে দেবদাসের মুখ, পার্বতীর মুখ, ললিতার মুখ, শ্রীকান্তের মুখ। কিন্তু তাঁদের প্রেম, বিরহ, আকাঙ্ক্ষা, অভিমান ও আত্মমর্যাদার গল্প রয়ে গেছে।

দেড় শ বছর পরও তাই শরৎচন্দ্র পর্দা ছাড়েননি। বরং প্রতিটি নতুন প্রজন্ম তাঁকে নিজেদের মতো করে নতুন করে আবিষ্কার করছে।

কালের আলো/এসএ

শাড়ির আড়ালে ৪ কেজি কুশ, শাহজালালে ভারতীয় নাগরিক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৭ পূর্বাহ্ণ
শাড়ির আড়ালে ৪ কেজি কুশ, শাহজালালে ভারতীয় নাগরিক আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ মাদকসহ অভিজিৎ দাস (৪০) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। শাড়ির আড়ালে ট্রলিতে লুকিয়ে এসব মাদক আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) শাহজালাল বিমানবন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেয়। দুপুর ১টার দিকে ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের TG321 ফ্লাইটে আসা যাত্রী অভিজিৎ দাসকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।

পরে সাক্ষী ও বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তার ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করা হয়। এ সময় তিনটি ভারতীয় শাড়ির আড়ালে লুকানো ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট, ২ হাজার ১৬০ ভারতীয় রুপি, ৭০ থাই বাথ, একটি স্মার্টফোন, তিনটি ভারতীয় শাড়ি ও একটি বোর্ডিং কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে কর্মকর্তারা জানান, অভিজিৎ দাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা। তিনি বনগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে কুলির কাজ করেন বলে জানা গেছে।

ডিএনসির কর্মকর্তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক ও ত্রিদেশীয় একটি মাদক চোরাচালান চক্র ভারতের নিম্নআয়ের মানুষদের ব্যবহার করে মাদক পাচার করছে। চক্রটি প্রথমে তাদের কলকাতা থেকে ব্যাংককে নিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে তাদের মাধ্যমে মাদক বাংলাদেশে আনা হয়। বাংলাদেশে কুশের নতুন বাজার তৈরির উদ্দেশ্যে চক্রটি কাজ করছে বলেও প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে দুই থেকে তিন দিন অবস্থান করে মাদকের চালান হস্তান্তরের পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল অভিজিৎ দাসের।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

ডিএনসির উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বিমানের নতুন সচিব ড. নুরুন্নাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
বিমানের নতুন সচিব ড. নুরুন্নাহার

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব চালিয়ে আসা ফাহমিদা আখতার বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাচ্ছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

 

যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে পোশাকের বাইরে নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে পোশাকের বাইরে নজর

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বড় সম্ভাবনা দেখছেন বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, দেশটির মোট আমদানির বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যাবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিপণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল এবং প্লাস্টিকসহ সম্ভাবনাময় খাতের রপ্তানি বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, পণ্যের সনদায়ন প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন, সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের উন্নয়ন এবং শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে ‘যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি: তৈরি পোশাক ব্যতীত অন্যান্য খাতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলা হয়। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

১০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যে বহুমুখীকরণ

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর প্রায় ৯৪ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অর্থাৎ, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়লেও পণ্যভিত্তিক বৈচিত্র্য এখনো সীমিত।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য বছরে প্রায় ৯৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। বিপুল এই বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ। বক্তাদের মতে, বাংলাদেশের রপ্তানি অংশীদারত্ব ১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে দেশটিতে রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু তৈরি পোশাকের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বরং যুক্তরাজ্যের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন পণ্য তৈরি, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং বিভিন্ন খাতের রপ্তানিযোগ্য সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

পোশাকের বাইরে যেসব খাতে সম্ভাবনা

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ। তিনি যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিজাত পণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল এবং প্লাস্টিক খাতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের এসব খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো গেলে যুক্তরাজ্যের বাজারে নতুন ক্রেতা তৈরি এবং পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য পণ্যের গুণগত মান, উৎপাদনব্যবস্থা, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়মকানুন মেনে চলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) রপ্তানিমুখী উৎপাদনে যুক্ত করতে অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।

আন্তর্জাতিক মান ও সনদায়নে ঘাটতি দূর করার তাগিদ

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির সিংহভাগ তৈরি পোশাকনির্ভর। অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গুণগত মান, সনদায়ন, সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ অনুসরণযোগ্য করা, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং কমপ্লায়েন্স পরিপালনে আরও উন্নতি করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেই চলে না; ক্রেতাদের নির্ধারিত মান, নিরাপত্তা, পরিবেশগত শর্ত এবং শ্রমসংক্রান্ত বিধিবিধানও মেনে চলতে হয়। এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে নতুন বাজারে প্রবেশ কিংবা বিদ্যমান বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়ে।

এ কারণে আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার ও টেস্টিং সুবিধা বাড়ানো, পণ্যের সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এলডিসি উত্তরণের পরও বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগানোর সুযোগ

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা ধরে রাখা এবং নতুন শর্তের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য অংশীদারত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে অব্যাহত সুবিধা ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে নিশ্চয়তা দেবে।

কর্মশালায় ব্রিটিশ সরকারের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ (ডিসিটিএস)-এর সুবিধা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ স্কিমের আওতায় প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা কীভাবে গ্রহণ করা যায়, তা নিয়ে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের বাণিজ্য উন্নয়নবিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা এলি পার্কার কর্মশালায় ডিসিটিএস নিয়ে একটি কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন। এতে এলডিসি উত্তরণের পরও প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা গ্রহণের ব্যবহারিক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।

শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর জোর

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতার পাশাপাশি অশুল্ক বাধাও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। পণ্যের মান যাচাই, সনদায়ন, আমদানি বিধিবিধান এবং বাজারের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে গিয়ে রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় বহন করতে হতে পারে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাধা নিরসনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বাজারসংক্রান্ত নীতি সম্পর্কে রপ্তানিকারকদের গভীর ধারণা অর্জন এবং সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

কর্মশালার আলোচনায় কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট-চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক অমৃতা মাকিন ইসলাম, হরটেক্স ফাউন্ডেশনের পরিচালক খুরশিদ আহমদ ফারহাদ, মেঘনা গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাক আহমেদ তানভীর, কাপকেক এক্সপোর্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াসির ওবায়েদ, এম ইউ সি ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস এবং বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর বক্তব্য দেন।

রপ্তানি বহুমুখীকরণই বড় চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা থাকলেও লক্ষ্য অর্জনে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো, উৎপাদনব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়ম মেনে চলার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন খাতে বিনিয়োগ, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি সক্ষমতা সম্প্রসারণ জরুরি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি