‘লাইফ অব এম’–এর রহস্যময় অভিনেত্রী কে, জল্পনায় ন্যাটালি পোর্টম্যান
ব্রিটিশ লেখক র্যাচেল কাস্কের নতুন উপন্যাস লাইফ অব এম প্রকাশের পর সাহিত্যজগতে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘এম’ একজন বিখ্যাত অভিনেত্রী। চরিত্রটির জীবনের সঙ্গে হলিউড অভিনেত্রী ন্যাটালি পোর্টম্যানের জীবনের বেশ কিছু মিল খুঁজে পাওয়ায় পাঠকদের একাংশের ধারণা, ‘এম’ চরিত্রটি হয়তো পোর্টম্যানকে ঘিরেই তৈরি।
কাস্ক আউটলাইন ট্রিলজি, সেকেন্ড প্লেস ও প্যারেড–এর মতো প্রশংসিত বইয়ের লেখক। নতুন উপন্যাসে তিনি এমন এক অভিনেত্রীর গল্প বলেছেন, যিনি বাইরে থেকে সহজ-সরল ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও ভেতরে আত্মকেন্দ্রিক ও আত্মধার্মিক।
জল্পনার শুরু মূলত ‘এম’-এর শৈশবের গল্প থেকে। উপন্যাসে বলা হয়েছে, তিনি ছোট বয়সে অভিনয়ে আসেন এবং একটি সিনেমায় অভিনয়ের পর তাঁর শৈশব কঠিন হয়ে ওঠে। পাঠকেরা এর সঙ্গে পোর্টম্যানের জীবনের মিল খুঁজে পেয়েছেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে লিও: দ্য প্রফেশনাল সিনেমার জন্য নির্বাচিত হন পোর্টম্যান এবং ১৩ বছর বয়সে সিনেমাটির শুটিং করেন।
উপন্যাসের ‘এম’ আরও জানান, তাঁর বাবা-মা সিনেমাটির কিছু দৃশ্য বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সিনেমাটি মুক্তির পর স্কুলেও তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হয়। পোর্টম্যান তাঁর নিজের জীবনেও এ ধরনের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন।
‘ব্ল্যাক সোয়ান’-এর সঙ্গেও মিল
জল্পনা আরও বাড়িয়েছে উপন্যাসের আরেকটি অংশ। সেখানে ‘এম’ এমন একটি সিনেমায় অভিনয়ের কথা বলেন, যেখানে এক তরুণী ব্যালে নৃত্যের জন্য নির্বাচিত হন। পাঠকদের অনেকে এটিকে পোর্টম্যান অভিনীত ব্ল্যাক সোয়ান সিনেমার সঙ্গে মিলিয়েছেন।
ব্ল্যাক সোয়ান–এ অভিনয়ের জন্য পোর্টম্যান সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জিতেছিলেন। ফলে ‘এম’ চরিত্রটির সঙ্গে তাঁর জীবনের মিল নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
পোর্টম্যান কি অসন্তুষ্ট?
এসব মিলের ভিত্তিতে এমন খবরও ছড়িয়েছে যে, উপন্যাসে নিজের যে প্রতিচ্ছবি দেখানো হয়েছে, তাতে পোর্টম্যান অসন্তুষ্ট। ডেইলি মেইল-এর কাছে পোর্টম্যানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দেওয়া একটি বেনামি সূত্র এমন দাবি করেছে।
তবে পোর্টম্যান নিজে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
কাস্কের সঙ্গে পোর্টম্যানের পুরোনো পরিচয়
জল্পনার আরেকটি কারণ তাঁদের পুরোনো পরিচয়। পোর্টম্যান আগে তাঁর অনলাইন বুক ক্লাবে কাস্কের একটি বই নির্বাচন করেছিলেন। ২০২২ সালে একটি আলোচনাতেও কাস্ককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি।
উপন্যাসে শহরের নাম সরাসরি উল্লেখ করা না হলেও সেটিকে প্যারিস বলে মনে করছেন অনেকে। কাস্ক ও পোর্টম্যান—দুজনেরই প্যারিসে থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
তবে কাস্ক ‘এম’ চরিত্রটি পোর্টম্যানকে ভিত্তি করে লেখা কি না, তা নিশ্চিত করেননি। নিউইয়র্ক টাইমস-কে তিনি বলেছেন, ‘এম’ কে—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ট্যাবলয়েডনির্ভর আলোচনা তাঁর জন্য চাপের হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, চরিত্রটির পরিচয় নিয়ে অতিরিক্ত অনুসন্ধান করলে উপন্যাসের মূল অর্থ ও সাহিত্যিক দিক আড়ালে পড়ে যেতে পারে।
ফলে ‘এম’ আদৌ ন্যাটালি পোর্টম্যান কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে পরিচিত অভিনেত্রীর জীবনের সঙ্গে চরিত্রটির একাধিক মিলের কারণে লাইফ অব এম ইতিমধ্যেই আলোচিত হয়ে উঠেছে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array