মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক গত সোমবার মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান। তাঁর এই ঘোষণার পর মহাকাশে মোতায়েন করা অস্ত্রের ধরন ও এর সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ট্রয় মেইঙ্ক বলেন, শত্রুর সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে কক্ষপথে এই অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। তবে অস্ত্রটির ধরন, সক্ষমতা কিংবা ঠিক কখন এটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
যুক্তরাজ্যের ডারহাম ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোপলিটিকসের সহযোগী অধ্যাপক ব্লেডিন বোয়েনের ধারণা, এটি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা রেডিও জ্যামিংয়ের কাজে ব্যবহৃত কোনো প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা সরাসরি কোনো স্যাটেলাইট ধ্বংস না করেও তার রেডিও যোগাযোগ ব্যাহত করতে সক্ষম।
মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার কর্মকাণ্ড নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। চীন এমন প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে, যার মাধ্যমে একটি মহাকাশযান অন্য স্যাটেলাইটের কাছে গিয়ে সেটিকে অন্য কক্ষপথে সরিয়ে নিতে পারে। একই প্রযুক্তি মহাকাশের বর্জ্য বা ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব।
তবে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের সঙ্গে বড় ধরনের ঝুঁকিও রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কাইনেটিক কিল ভেহিকেল ব্যবহার করে কোনো স্যাটেলাইটকে সরাসরি আঘাত করে ধ্বংস করা হলে বিপুল পরিমাণ মহাকাশবর্জ্য তৈরি হতে পারে। আবার ক্লোজ-ইন্সপেকশন ও গ্র্যাপলিং প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্য স্যাটেলাইটকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ বা ধরে ফেলার সক্ষমতাও সামরিক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
জার্মানির বিজ্ঞান ও রাজনীতি ফাউন্ডেশনের গবেষক জুলিয়ানা সুয়েসের মতে, রাশিয়া অতীতে কো-অরবিটাল অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। রাশিয়া ও চীন দীর্ঘদিন ধরে রেনডেভু ও প্রক্সিমিটি অপারেশন (আরপিও) পরিচালনা করে আসছে।
কিংস কলেজ লন্ডনের রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষক রড থর্নটন জানিয়েছেন, এ ধরনের কিছু স্যাটেলাইট অন্য স্যাটেলাইটকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো সক্ষমতা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা নতুন কোনো প্রযুক্তির বড় অগ্রগতির চেয়ে বেশি একটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা। চীনের সামরিক আধুনিকায়ন এবং মহাকাশে তাদের স্যাটেলাইট সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মহাকাশ কার্যক্রম পরস্পরের ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় মহাশূন্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array