খুঁজুন
                               
, ,
           

কালো ধোঁয়ার গাড়িতে এবার ডিএমপির কড়া নজর

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
কালো ধোঁয়ার গাড়িতে এবার ডিএমপির কড়া নজর

রাজধানীর সড়কে কালো ধোঁয়া ছড়ানো যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী কোনো গাড়ি চোখে পড়লেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, শুধু মামলা ও জরিমানা নয়, দূষণ কমাতে গাড়ির মালিকদের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান জানান, গত জুলাই মাসে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ৯১৫টি মামলা করা হয়েছে। এসব গাড়ির বড় অংশ বাস ও কাভার্ডভ্যান। তার ভাষ্য, কালো ধোঁয়া নির্গমন দৃশ্যমান হওয়ায় তা শনাক্ত করতে আলাদা কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না। সড়কে কোনো গাড়িকে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া ছাড়তে দেখা গেলেই সড়ক পরিবহন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে এখানেই সমস্যার মূল সমাধান হচ্ছে না। কারণ, অনেক গাড়ির বিরুদ্ধে একাধিকবার মামলা হলেও মালিকরা যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করছেন না। ফলে জরিমানা দেওয়ার পরও একই গাড়ি আবার দূষণ ছড়াচ্ছে। এমনকি কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করার পর সেটি পুনরায় একই অপরাধ করতে দেখা গেলে দ্বিগুণ জরিমানার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

ডিএমপির বক্তব্যে উঠে এসেছে সমস্যাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—দায়িত্বের বিভাজন। গাড়ির ফিটনেস বা মান নিশ্চিত করা ট্রাফিক পুলিশের সরাসরি দায়িত্ব নয়। যানবাহনগুলো প্রতি বছর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছ থেকে ফিটনেস সনদ নেয়। কিন্তু বাস্তবে ফিটনেস সনদ পাওয়ার পরও কোনো কোনো গাড়ি রাস্তায় কালো ধোঁয়া ছড়াচ্ছে। এতে ফিটনেস পরীক্ষার কার্যকারিতা, গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং মালিকদের দায়বদ্ধতা—তিনটিই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

সাধারণত ইঞ্জিনে ত্রুটি থাকলে কালো ধোঁয়া তৈরি হয়। নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারেও ইঞ্জিন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দূষণ বাড়তে পারে। অর্থাৎ সড়কে একটি কালো ধোঁয়ার গাড়ি ধরা পড়া মূলত বৃহত্তর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতারও ইঙ্গিত দেয়।

পরিবেশের পাশাপাশি এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। সাধারণ মানুষ কিছু সময় পর দূষিত সড়ক থেকে সরে যেতে পারলেও দায়িত্ব পালনের কারণে ট্রাফিক পুলিশকে দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকতে হয়। কালো ধোঁয়ার কারণে চোখে জ্বালাপোড়া এবং শ্বাসের সঙ্গে দূষিত কণা ফুসফুসে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি বিআরটিএ ও পরিবেশ অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ চেকপোস্টও পরিচালনা করছে। কিন্তু এখানেও রয়েছে বাস্তব সমস্যা। চেকপোস্টের খবর পেয়ে অনেক দূষণকারী যানবাহন সাময়িকভাবে রাস্তায় চলাচল বন্ধ রেখে আড়ালে চলে যায়। অভিযান শেষ হলে আবার সড়কে নামে। পুলিশের প্রতিদিন প্রতিটি গাড়ি পরীক্ষা বা মামলা করার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতাও নেই।

তাই ডিএমপির এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার মান বাড়ানো, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা, নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারের বিরুদ্ধে নজরদারি এবং মালিক-শ্রমিকদের জবাবদিহির আওতায় আনা—সবকিছুকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।

কালো ধোঁয়ার মতো দৃশ্যমান দূষণ শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশের প্রশ্ন। ফলে মামলা-জরিমানার পাশাপাশি দূষণের উৎস বন্ধ করাই এখন ডিএমপি, বিআরটিএ ও পরিবেশ অধিদফতরের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

একই সঙ্গে অতিরিক্ত হর্ন ও শব্দদূষণের বিরুদ্ধেও অভিযান চালাচ্ছে ডিএমপি। রাজধানীর নীরব এলাকায় সাইনবোর্ড থাকলেও তা অমান্য করে নিয়মিত হর্ন বাজানোর অভিযোগ রয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। উন্নত বিশ্বে ব্যবহৃত ‘হর্ন পি’ প্রযুক্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত হর্ন বাজানো যান শনাক্ত করার উদ্যোগ ভবিষ্যতে ঢাকার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

মধুপুরে চুরির অপবাদে ৮ বছরের শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ

টাংগাইল সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
মধুপুরে চুরির অপবাদে ৮ বছরের শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চুরির অভিযোগ তুলে আট বছরের এক শিশুকে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শিশুটির নানি মোছা. বকুলি বেগম জানান, জিহাদ এতিম। তার বাবা-মা কেউ নেই। গত ছয় বছর ধরে তারা তাকে লালন-পালন করছেন। জিহাদ গুবুদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নানার কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে দোকানে যায় জিহাদ। সেখানে কাউকে না পেয়ে সে ডাকাডাকি করে। পরে গুবুদিয়া গ্রামের মৃত তুফাইনা ফকিরের ছেলে মফেজ উদ্দিন সেখানে এসে শিশুটির বিরুদ্ধে দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে অন্য দুই শিশুর মাধ্যমে জিহাদকে ডেকে আনা হয়। পরে চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে বেঁধে রাখা হয় এবং মারধর করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো শিশুর ওপর এ ধরনের শারীরিক নির্যাতন যেন না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মফেজ উদ্দিনের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি পরিবারসহ পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক জানান, ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত মফেজ উদ্দিন পরিবারসহ পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

একটি অটার, একটি ড্যাকোটা, একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার আর ৫৭ জন বাঙালি। ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে এই সীমিত শক্তি নিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর। নাম—‘কিলো ফ্লাইট’। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই ছোট্ট বহরই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশযুদ্ধের প্রথম সংগঠিত ভিত্তি। এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, বীর উত্তমের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘কিলো ফ্লাইট’ ৫০টির বেশি বিমান অভিযান চালায়। সামরিক সরঞ্জাম ও জনবলের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এসব অভিযান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিরোধকে নতুন মাত্রা দেয়। ৫৫ বছর পর সেই সূচনালগ্নের দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়—বিমান বাহিনীর জন্ম কোনো স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ফল ছিল না। এটি ছিল যুদ্ধের প্রয়োজন থেকে উঠে আসা একটি জরুরি সামরিক সক্ষমতা, যা স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

  • মুক্তিযুদ্ধের আকাশে যে অভিযাত্রার শুরু, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেই ইতিহাস স্মরণ
  • গৌরবের সঙ্গে ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরলেন বিমান বাহিনী প্রধান
  • সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কঠোর শৃঙ্খলার তাগিদ

একাত্তরের উত্তরাধিকার 

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ ত্যাগ করে বাঙালি বৈমানিক ও বিমানসেনাদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান ছিল সেই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত। এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল করিম খন্দকার (মরহুম), বীর উত্তম মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিমান বাহিনীর সদস্যরা শুধু আকাশ অভিযানেই অংশ নেননি। তাঁরা যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন। অর্থাৎ, বিমান বাহিনীর ৫৫ বছরের ইতিহাস কেবল উড়োজাহাজ, ঘাঁটি কিংবা প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিবরণ নয়। এর ভিত তৈরি হয়েছে যুদ্ধ, আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজন থেকে।

৫৫ বছরে বদলে গেছে দায়িত্বের পরিধি

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিমান বাহিনী দিবসে ঢাকা সেনানিবাসের বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেই দীর্ঘ পথচলাই তুলে ধরা হয় বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রে। আয়োজনটি ছিল একদিকে অতীতের স্মরণ, অন্যদিকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকে তাকানোর উপলক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন দেশের আকাশসীমা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন।

তার বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই—৫৫ বছর আগে যে বাহিনীর প্রধান কাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনে সীমিত সামর্থ্যে আকাশ অভিযান পরিচালনা করা, আজ তার দায়িত্ব অনেক বিস্তৃত। রাষ্ট্রের আকাশসীমা সুরক্ষা এখন শুধু যুদ্ধবিমান পরিচালনার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা।

‘পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা’ কেন সামনে আনলেন বিমান বাহিনী প্রধান

বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়াকে কেবল আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র বা প্রযুক্তিতে নির্ভর করে না। এটি প্রশিক্ষিত জনবল, কমান্ড কাঠামো, দায়িত্ববোধ এবং নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেশাদারিত্বের সঙ্গে কঠোর শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতিকেই সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা’ রক্ষার প্রসঙ্গটি বিমান বাহিনীর মৌলিক সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। অর্থাৎ, ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে অতীতের গৌরবের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকটিও ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস থেকে ভবিষ্যতের দিকে

বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিট এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কন্টিনজেন্টগুলোতে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং বিভিন্ন মেসে প্রীতিভোজেরও আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাহিনীর ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সদস্যদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারও স্মরণ করা হয়েছে। তবে ৫৫ বছরের এই উদযাপনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সম্ভবত অতীত ও ভবিষ্যতের এই সংযোগ।

ডিমাপুরের তিনটি আকাশযান দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাহিনীর সক্ষমতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দায়িত্বের পরিধিও। ‘কিলো ফ্লাইট’ বাংলাদেশের বিমান শক্তির জন্মের গল্প। আর বিমান বাহিনী প্রধানের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের বার্তা সেই গল্পের পরবর্তী অধ্যায়ের ইঙ্গিত—যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং আধুনিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় তা রক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও একই সঙ্গে বহন করতে হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নওশেল আহম্মেদ অনি (৩২) আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, গতরাতে ময়মনসিংহ নগরীর কাশর এলাকা থেকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ জানায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় অনির নাম রয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নওশেল আহম্মেদ অনি ময়মনসিংহ নগরীর পিয়নপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হুমায়ন কবীরের ছেলে। পুলিশ তাকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন র‌্যাব সদস্যরা। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মামলায় তিনি প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি