খুঁজুন
                               
, ,
           

গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘সেপারেশন’ দিয়ে পরীমনির প্রত্যাবর্তন

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘সেপারেশন’ দিয়ে পরীমনির প্রত্যাবর্তন

দেড় বছরের বেশি সময় পর আবারও অভিনয়ে ফিরেছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি। ‘সেপারেশন’ নামের নতুন একটি ওয়েব ফিকশনের মাধ্যমে ওটিটিতে পর্দায় ফিরছেন তিনি। ওয়েব ফিকশনটি পরিচালনা করছেন নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় শুরু হয়েছে ‘সেপারেশন’-এর শুটিং। শুটিংয়ের একটি ছবি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করে নতুন কাজের খবরটি জানান পরীমনি। ছবিতে ‘বিসমিল্লাহ’ লিখে ওয়েব ফিকশনটির নাম ও পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

‘সেপারেশন’-এ পরীমনির বিপরীতে অভিনয় করছেন অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ। বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে নায়ক নিরবকেও। এর মধ্য দিয়ে ইমতিয়াজ বর্ষণ ও পরীমনির নতুন জুটি দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

ওয়েব ফিকশনটিতে পরীমনিকে ভিন্নধর্মী একটি চরিত্রে দেখা যাবে বলে জানা গেছে। তবে গল্প কিংবা চরিত্র নিয়ে নির্মাতা বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

‘সেপারেশন’ মুক্তি পাবে আইসক্রিন প্ল্যাটফর্মে। তবে মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। রাজধানীর ৩০০ ফিটসহ বিভিন্ন লোকেশনে পর্যায়ক্রমে চলছে এর শুটিং।

অভিনয়ে ফিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পরীমনি বলেন, ‘আবার কাজে ফিরতে পেরে আমি সত্যিই অনেক খুশি। দেশের মানুষ আমাকে ভালোবেসেছে। তাদের সেই ভালোবাসার প্রতিদান আমি কাজের মাধ্যমে দিতে চাই।’

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

জনকল্যাণে উন্নয়ন বরাদ্দে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
জনকল্যাণে উন্নয়ন বরাদ্দে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার অঙ্গীকার

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সাধারণ খাতের বরাদ্দের চেক বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব চেক বিতরণ করা হয়। জেলা পরিষদের অর্থায়নে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। প্রধান অতিথি ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার রোকন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ কামরুল হুদা ও নির্বাহী কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাস। বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রেখে সরকার জনগণের চাহিদা পূরণে জনকল্যাণে কাজ করছে।

রোকনুজ্জামান সরকার রোকন বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জেলা পরিষদের অর্থ জনগণের অর্থ। তাই এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের চেক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প কমিটির সভাপতি, প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি/এসকে 

পাঁচ বিভাগে বেশি বৃষ্টি, কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
পাঁচ বিভাগে বেশি বৃষ্টি, কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণ

দেশের পাঁচটি বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

সোমবারের পূর্বাভাস

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এদিন সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

পরবর্তী দিনগুলোতে বৃষ্টির প্রবণতা

সোমবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্ধিত পাঁচ দিনে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সৌদি-হুতি সংঘাতের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ণ
সৌদি-হুতি সংঘাতের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ

ইয়েমেনে হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত যত দ্রুত আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিচ্ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে পাকিস্তানের অবস্থান। একদিকে রিয়াদের সঙ্গে গভীর সামরিক সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে সীমান্ত, কূটনীতি ও নিরাপত্তার বাস্তব সম্পর্ক-এই দুই সমীকরণের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ইসলামাবাদকে এখন এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যার প্রভাব ইয়েমেনের গণ্ডি ছাড়িয়ে পুরো উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় পড়তে পারে।

এই প্রেক্ষাপটেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রধান প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির ফোনালাপ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। একই রাতে আরাঘচি কথা বলেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গেও। একই সময়ে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সৌদি ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ফলে ইসলামাবাদের তৎপরতাকে কেবল সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না।

লোহিত সাগরে নতুন ঝুঁকি
ইয়েমেনের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাওয়ায় সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়ছে। হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি ভূখণ্ডে হতাহতের পাশাপাশি জ্বালানি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের খবর এসেছে। একই সময়ে মোখা বন্দরসহ লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় হুতিদের অগ্রযাত্রা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাব আল-মান্দেব।

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলের এই প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এর ওপর সামরিক চাপ বাড়লে শুধু সৌদি আরব নয়, ইউরোপ-এশিয়ার বাণিজ্যপথও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত এখন আর কেবল সৌদি-হুতি দ্বন্দ্ব নয়; এটি ধীরে ধীরে বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকটের প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

সৌদির পাশে থাকার চাপ
সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামোও গড়ে উঠেছে। এর ফলে রিয়াদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে ইসলামাবাদের ওপর রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও বলেছেন, ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি ভূখণ্ডে আরও ছড়িয়ে পড়লে প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রশ্ন আসতে পারে। কিন্তু এর অর্থ সরাসরি যুদ্ধে নামা নয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, সৌদি আরবের হয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এই বক্তব্যই ইসলামাবাদের কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে-নিরাপত্তা সহযোগিতা থাকবে, কিন্তু যুদ্ধের সরাসরি অংশীদার হওয়ার বিষয়ে সতর্কতা থাকবে।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন?
পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে কঠিন সমীকরণটি ইরানকে ঘিরে। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, জঙ্গিবাদ দমন, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন। ফলে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া পাকিস্তানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই কারণেই আসিম মুনিরের সঙ্গে আরাঘচির যোগাযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মুনিরের ইরানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় এবারের ফোনালাপ আরও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি একই সঙ্গে ইরানকে পাকিস্তানের অবস্থান বোঝানোর এবং সম্ভাব্য উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে যোগাযোগের একটি চ্যানেল ধরে রাখার প্রচেষ্টা হতে পারে।

আগের অভিজ্ঞতা এবারও পথ দেখাবে
ইয়েমেন ইস্যুতে পাকিস্তানের দ্বিধা নতুন নয়। ২০১৫ সালে সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে পাকিস্তানের কাছে সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান চেয়েছিল। পাকিস্তানের পার্লামেন্ট তখন যুদ্ধে সরাসরি অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন ইসলামাবাদের যুক্তি ছিল, সংঘাতে পক্ষ না নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করাই পাকিস্তানের স্বার্থে বেশি কার্যকর।

এবার অবশ্য পরিস্থিতি আলাদা। সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ। ফলে ২০১৫ সালের মতো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকা আগের তুলনায় কঠিন। তবে সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে প্রতিরক্ষা সহায়তা, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং কূটনৈতিক তৎপরতার সমন্বিত পথ পাকিস্তানের জন্য বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে।

ইসলামাবাদ কি ‘সেতু’ হতে পারে?
পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সম্পদ সম্ভবত তার এই দ্বৈত যোগাযোগ সক্ষমতা। সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক আস্থা এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ-দুটিই ইসলামাবাদের হাতে রয়েছে। এই অবস্থান পাকিস্তানকে একটি সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কঠিন হয়ে পড়লে ইসলামাবাদ পর্দার আড়ালে বার্তা আদান-প্রদান, উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব জওহর সালিমও মনে করছেন, ইসলামাবাদ হয়তো এই যোগাযোগের পথটি কাজে লাগাতে চাইছে।

ভারসাম্যই শক্তি পাকিস্তানের
ইয়েমেনের সংঘাত যদি সৌদি ভূখণ্ডে আরও বিস্তৃত হয়, পাকিস্তানের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ বাড়বে। তবে ইসলামাবাদের সামনে শুধু ‘সৌদির পক্ষে’ অথবা ‘ইরানের বিপক্ষে’-এমন সরল কোনো সমীকরণ নেই। বরং পাকিস্তান একই সঙ্গে সৌদি নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বজায় রেখে সরাসরি যুদ্ধে না জড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। আর যদি দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ কাজে লাগানো যায়, তাহলে মধ্যস্থতাই হয়ে উঠতে পারে ইসলামাবাদের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

কালের আলো/এম/এএইচ