একটি গানও স্বৈরতন্ত্রের ভিত কাঁপাতে পারে: রিজভী
রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সফল করতে সাংস্কৃতিক কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সাংস্কৃতিক শক্তি কখনো কখনো পরমাণু বোমার চেয়েও শক্তিশালী হয়ে স্বৈরতন্ত্রের ভিত কাঁপিয়ে দিতে পারে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘একজন নেতার কথা বলছি’ শীর্ষক নতুন গানের সিডির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, কোনো রাজনৈতিক বা গণতান্ত্রিক আন্দোলন সাংস্কৃতিক বাহিনী ছাড়া চূড়ান্ত সফলতা পেতে পারে না। একটি গান বা গানের কয়েকটি চরণও সমাজ ও রাষ্ট্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঢেউ তুলতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবের ইতিহাসেও সাংস্কৃতিক কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রসেনানী। তারা সুসংগঠিত না থাকলে কোনো আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন।
ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে কয়েকজন শিল্পীর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, শিল্পী হলেই কেউ মানবতাবাদী বা উদার মনের হবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। ইতিহাসে স্বৈরশাসক ও ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকের সম্পৃক্ততার উদাহরণ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ যার মধ্যে রয়েছে, তিনিই প্রকৃত শিল্পী। অন্যথায় শিল্পীর পরিচয়ের আড়ালেও কেউ ফ্যাসিবাদের সহযোগীতে পরিণত হতে পারেন।
অনুষ্ঠানে জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক ইথুন বাবুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, শাম্মী আক্তার এমপি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিনসহ জাসাসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array